ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে একত্রিত করবেন, তখন প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে: 'এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।'"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানান যে, যখন আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে হিসাব গ্রহণের জন্য একত্রিত করবেন, তখন তিনি প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি নিদর্শন স্থাপন করবেন যারা আল্লাহর সাথে বা মানুষের সাথে করা তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যা তার বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ করবে এবং সেই দিন তাকে ডাকা হবে: এটা অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা; সমবেত লোকদের কাছে তার খারাপ কাজগুলো প্রকাশের জন্য।
শিক্ষা
বিশ্বাসঘাতকতা হারাম করা এবং এটি একটি কবীরা পাপ; কারণ এতে এই গুরুতর হুমকি রয়েছে।
যে বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে শাসানো হয়েছে তার মধ্যে এমন সবাই অন্তর্ভুক্ত, যে তোমাকে রক্ত, সম্মান, গোপন তথ্য বা অর্থের ব্যাপারে আস্থাশীল করেছে, কিন্তু তুমি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো এবং তোমার আমানতের ব্যাপারে তার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছো।
আল্লামা কুরতুবী বলেন: এটি আরবদের প্রতি তাঁর একটি সম্বোধন, যা তারা যা করত তার অনুরূপ। কারণ তারা বিশ্বাসঘাতককে তিরস্কার ও বদনাম করার জন্য আস্থার একটি সাদা পতাকা আর বিশ্বাসঘাতকতার একটি কালো পতাকা উত্তোলন করতেন, তাই হাদীস বিশ্বাসঘাতকের সাথেও একই ঘটনা ঘটার দাবি করল; যাতে কিয়ামতের দিন নিজ বদনামে সে বিখ্যাত হয় এবং সমবেত লোকেরা তার নিন্দা করে।
ইবনু হাজার বলেন: এতে বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন মানুষকে তাদের পিতার নামে ডাকা হবে। কারণ তিনি এ সম্পর্কে বলেছেন: "এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।"
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 104) (3188)
صحيح مسلم (3/ 1359) (1735).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص745).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 188).
عن أبي بكرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟» ثَلَاثًا، قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ» وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا، فَقَالَ: «أَلَا وَقَوْلُ الزُّورِ»، قَالَ: فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا: لَيْتَهُ سَكَتَ.
আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?” তিনবার বললেন, তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, “আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া”। তিনি হেলান দিয়েছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসলেন আর বললেন, “সাবধান! মিথ্যা কথা বলা”। তিনি বলেন, তিনি তা বারবার বলতে থাকলেন অবশেষে আমরা বললাম, যদি তিনি চুপ করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন, তার প্রেক্ষিতে এই তিনটি উল্লেখ করেছেন:
১- আল্লাহর সাথে শির্ক করা: আর তা হলো ইবাদতের প্রকারসমূহ থেকে কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর ইবাদতের একত্বে, তাঁর একক প্রভুত্বে এবং নাম ও সিফাতসমূহে তাঁর সমকক্ষ করা।
২- পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া: পিতা-মাতার জন্য কষ্টদায়ক যাবতীয় আচরণ অবাধ্য হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। সেটি কথা হোক বা কর্ম হোক এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা ছেড়ে দেওয়া।
৩- মিথ্যা কথা বলা; তার-ই প্রকার হলো মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া: আর তা হচ্ছে প্রত্যেক বানানো ও মিথ্যা কথা যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মিথ্যা যার বিপক্ষে যায় তার সম্পদ দখল করে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অথবা তার সম্মানের উপর সীমালঙ্ঘন করা অথবা তার মত কিছু করা।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা কথার অসারতা এবং সমাজে তার খারাপ প্রভাবের উপর সাবধান করে তার থেকে সতর্কীকরণ কে বারবার উচ্চারণ করেছেন, অবশেষে সাহাবীগণ বললেন: যদি তিনি চুপ করতেন, (তারা এটা বলেছেন) তার প্রতি করুনা করে এবং ওই জিনিসকে অপছন্দ করে যা তাকে বিরক্ত করছিল।
শিক্ষা
সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করা; কারণ তিনি তা কবিরা গুনাহসমূহের শির্ষে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে সবচেয়ে বড় সাব্যস্ত করেছেন। এই বক্তব্যকে শক্তিশালী করে আল্লাহর বাণী:{إن الله لا يَغْفِرُ أن يشرَكَ به وَيَغْفِرُ مَا دونَ ذلِكَ لِمَنْ يشَاء}. “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করবেন না; আর তার থেকে নিম্ন যে কোন গোনাহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দিবেন।”
পিতা-মাতার হকের গুরুত্ব; কারণ আল্লাহ তা‘আলা নিজের হকের সাথে তাদের হককে যুক্ত করেছেন।
গুনাহসমূহ সগিরা ও কবিরা দু’ভাগে ভাগ হয়: কবিরা হলো সেসব গুনাহ যার ব্যাপারে দুনিয়াবী শাস্তি রয়েছে, যেমন দন্ডাদেশ-সাজা ও লানত; অথবা পরকালীন কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে, যেমন জান্নামে প্রবেশ করার হুশিয়ারী। কবিরা গুনাহসমূহের অনেক স্তর রয়েছে। হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে কতক গুনাহ কতক গুনাহ থেকে গুরুতর। কবিরা গুনাহসমূহ ছাড়া বাকি সব গুনাহ সগিরা।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 172) (2654)، (8/ 4) (5976)، (8/ 62) (6273-6274).
صحيح مسلم (1/ 91) (87).
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم (ص257) (380).
شرح النووي على مسلم (2/ 81).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري (2/ 149).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام (ص703).
أعلام السنة المنشورة لاعتقاد الطائفة الناجية المنصورة، لحافظ بن أحمد الحكمي (ص111).
ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ”নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: “এদের ’আযাব দেয়া হচ্ছে; তবে কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী(একের কথা অন্যজন কে লাগান) করে বেড়াত।” তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেন: “আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব হালকা করা হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: এ কবরবাসী দু’জনকে অবশ্য ’আযাব দেয়া হচ্ছে; তবে তোমাদের দৃষ্টিতে কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না; যদিও তা আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ। তাদের একজন পেশাব হতে নিজের শরীর ও তার পোষাক পরিচ্ছেদকে হেফাযত করতো না। আর অপরজন মানুষের মাঝে চোগলখোরী করে বেড়াত। ফলে সে মানুষের মধ্যে ঝগড়া -বিবাদ ইত্যাদির দ্বারা ক্ষতির মানসে একজনের কথা অন্যের কাছে বর্ণনা করতো।
শিক্ষা
একের কথা অন্যজন কে লাগান(চোগলখোরী) ও পেশাব পায়খানা থেকে সতর্ক না থাকা কবীরাহ গুনাহ এবং কবরের আযাবের কারণ।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর নবুওয়াতের প্রমাণ প্রকাশের জন্যে কতিপয় গায়েব-যেমন কবরের আযাব হওয়া-প্রকাশ করেন।
কাঁচা খেজুরের দুটি ডাল ভেঙ্গে দু’ভাগ করে প্রত্যেক কবরের ওপর গেড়ে দেওয়ার এ কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যেই খাস ছিলো। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে উক্ত কবরবাসীর অবস্থা জানিয়েছেন। সুতরাং এর উপর অন্যদের তুলনা করা যাবে না। কেননা অন্যান্য লোকের কবরের অবস্থা কেউ জানে না।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 53) (218).
صحيح مسلم (1/ 240) (292).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص43).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص22).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 29).
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «أتدرون من المفلس؟» قالوا: المُفْلِس فينا من لا دِرهَمَ له ولا مَتَاع، فقال: «إن المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة، ويأتي وقد شَتَمَ هذا، وقذف هذا، وأكل مال هذا، وسَفَكَ دم هذا، وضرب هذا، فيعطى هذا من حسناته، وهذا من حسناته، فإن فنيت حسناته قبل أن يُقْضَى ما عليه، أخذ من خطاياهم فَطُرِحتْ عليه، ثم طُرِحَ في النار».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোনো আসবাব-পত্র নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে (আসল) নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাতের (নেকী) নিয়ে হাযির হবে। (কিন্তু এর সাথে সাথে সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষণ করেছে। কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে মেরেছে। অতঃপর এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী দেওয়া হবে, এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী দেওয়া হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেছেন যে, তোমরা কি জানো মুফলিস তথা অভাবী কে? তারা তাকে সেভাবেই সংবাদ দিল, যা মানুষের ভেতর প্রসিদ্ধ ছিল। তারা বলল, যার নিকট টাকা ও সামগ্রী নেই সেই অভাবী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সংবাদ দিলেন, এই উম্মতের মুফলিস হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন আসবে বড় সাওয়াব ও অনেক সৎকর্ম নিয়ে, যেমন সালাত, সিয়াম ও যাকাত। সে আসবে ঠিকই অথচ একে গালি দিয়েছে, একে প্রহার করেছে, তার সম্পদ ভক্ষণ করেছে, তাকে অপবাদ দিয়েছে, তার রক্ত প্রবাহিত করেছে, আর মানুষেরা তাদের হক নিতে চাইবে, যা তারা দুনিয়ায় নিতে পারেনি সেটা তারা আখিরাতে নিবে। আল্লাহ তাদের জন্য তার থেকে বদলা নিবেন, ফলে এ তার সাওয়াব নিবে, এ তার সাওয়াব নিবে এবং এ তার সাওয়াব নিবে ইনসাফের সাথে এবং বদলা নিবে যুলুম ব্যতীত। এভাবে যদি তার সাওয়াব শেষ হয়ে যায়, তাদের পাপ নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে এবং তাকে জাহান্নামে ফেলা হবে।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه .
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: «الشِّرْكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে।” সাহাবীগণ বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন: “(১) আল্লাহর সাথে শিরক করা। (২) যাদু (৩) আল্লাহ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধ থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করলেন:
প্রথম: আল্লাহর সাথে শিরক করা: যে কোন দিক বিবেচনায় আল্লাহর সাথে তাঁর কোন সমকক্ষ বা অনুরূপ সমমর্যাদাবান সাব্যস্ত করা। যে কোন ইবাদাত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা। তিনি শিরক এর দ্বারা বর্ণনা শুরু করেছেন; কেননা এটি সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ।
দ্বিতীয়: যাদু: গিরা লাগানো, মন্ত্র, অসমর্থিত চিকিৎসা এবং ধোঁয়া প্রয়োগ ইত্যাদি, যা হত্যা, রোগ-ব্যাধি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলাদা করার জন্য যাদুগ্রস্তের শরীরে প্রভাব ফেলে। এটি একটি শয়তানী কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শিরক এবং খবিশ আত্মা যা পছন্দ করে সেগুলোর মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
তৃতীয়: আল্লাহ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে যা বিচারক বাস্তবায়ন করে থাকে, এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা।
চতুর্থ: সুদ খাওয়া: সুদ খাওয়া বা অন্য কোন উপায়ে সুদের দ্বারা উপকৃত হওয়া।
পঞ্চম: যার নাবালেগ অবস্থায় পিতা মারা যায় এমন ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা।
ষষ্ঠ: কাফিরদের বিরুদ্ধে চলমান রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া।
সপ্তম: স্বাধীন (সরল প্রকৃতির) স্বচ্চরিত্রের অধিকারী নারীদেরকে যিনার অপবাদ দেওয়া, এমনিভাবে পুরুষদের বিরুদ্ধেও অপবাদ দেওয়া।
শিক্ষা
কবীরা গুনাহ সাতটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাদীসে এ সাতটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো: এগুলো সর্বাধিক বড় ও মারাত্মক গুনাহ।
কাউকে হত্যা করা তখনই জায়েয হবে, যখন তা ন্যায়সঙ্গত কারণে হবে, যেমন: কিসাস, ধর্মত্যাগ, বিবাহিত নারী-পুরুষের যিনা ইত্যাদি এবং এটি শরী‘আহসম্মত বিচারক বাস্তবায়ন করবেন।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 10) (2766).
صحيح مسلم (1/ 92) (89).
شرح صحيح البخارى لابن بطال (8/ 489).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان (ص201).
সুলাইমান ইবন সুরাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের এক জনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি এ লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তান’’-আমি শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তবে তার রাগ চলে যাবে” তখন তারা তাকে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও”। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি?
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
দু'জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একে অপরকে অভিশাপ ও গাল-মন্দ করছিল, ইতোমধ্যে তাদের একজনের মুখ রাগে-ক্ষোভে লাল হয়ে গেল এবং তার গলার শিরাগুলো ফুলে গেল।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি যদি তা এই রাগান্বিত ব্যক্তি বলে তার গোস্বা অবশ্যই চলে যাবে, যদি সে বলে: أعوذ بالله من الشيطان الرجيم (আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই)।
তারা তাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: তুমি শয়তান থেকে পানাহ চাও।
তখন সে বলল, আমি কী পাগল?! সে ধারনা করেছিল যে, পাগল ছাড়া কেউ শয়তান থেকে পানাহ চায় না।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ ও নসিহত করার উপলক্ষ্য সামনে আসলেই তা প্রদান করতেন।
গোস্বা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়।
গোস্বার সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (وإما ينزغنك من الشيطان نزغ فاستعذ بالله..) الآيةَ. [আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও...]
গাল-মন্দ ও অভিশম্পাত থেকে সতর্ক করা এবং এসব থেকে দূরে রাখা; কারণ এই দু’টি মানুষের মাঝে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে।
যে উপদেশ শুনতে পায়নি তার কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া, যাতে সেও তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোস্বা থেকে সতর্ক করেছেন, কারণ গোস্বা ক্ষতি ও লাগামহীনতার দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন না করা হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোস্বা করতেন না। তার গোস্বাটি ছিল প্রশংসিত গোস্বা।
ইমাম নববী তার কথা: "هل ترى بي مِن جنون" প্রসঙ্গে বলেন, এই ব্যক্তি মুনাফিকদের কেউ হতে পারেন, অথবা অভদ্র বেদুইন ছিল।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 124) (3282).
صحيح مسلم (4/ 2015) (2610).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 110).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص50).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 270).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 78).
عن وَاثِلَةَ بن الأَسْقَعِ ـ رضي الله عنه ـ مرفوعاً: «إن من أعظم الفِرَى أن يَدَّعِيَ الرجلُ إلى غير أبيه، أو يُرِي عَيْنَهُ ما لم تَرَ، أو يقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يَقْلْ».
ওয়াছেলা ইবনুল আছকা‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, “নিশ্চয় সবচেয়ে বড় মিথ্যাসমূহের অন্যতম হলো, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এমন কাউকে পিতা বলে দাবী করা যিনি তার পিতা নয়। অথবা আপন চক্ষু দিয়ে (স্বপ্নে) এমন কিছু দেখার দাবি করা যা দেখতে পায়নি। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এমন কথা বলার দাবি করা যা তিনি বলেন নি।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মহান আল্লাহর ওপর সবচেয়ে কঠোর মিথ্যাচার হলো, কোনো ব্যক্তি নিজে তার আসল পিতাকে বাদ দিয়ে অপর কাউকে পিতা হওয়ার দাবি করলো বা অন্য কেউ তাকে অপরের সন্তান বললো আর সে উক্ত কথা স্বীকার করে নিল। এটি একটি বড় ধরনের মিথ্যাচার। আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট ও কঠোর মিথ্যাচারের আরেকটি হলো, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্নে এমন কিছু দেখার দাবি করা যা সে মোটেও দেখেনি। আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট ও কঠোর মিথ্যাচারের আরেকটি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এমন কোনো কথা, কর্ম ও সমর্থনকে সম্পর্কযুক্ত করা যা তার থেকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- كنوز رياض الصالحين»، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة .
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, ‘আপনার জন্য সাফিয়ার এই এই হওয়া যথেষ্ট।’ (কোন কোন বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, সাফিয়া বেঁটে।) এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বললেন, “তুমি এমন কথা বললে, যদি তা সমুদ্রের পানিতে মিশানো হয়, তাহলে তা তার স্বাদ পরিবর্তন করে দেবে!” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা তাঁর নিকট একটি লোকের পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করলাম। তিনি বললেন, “কোন ব্যক্তির পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করি আর তার বিনিময়ে এত এত পরিমাণ ধনপ্রাপ্ত হই, এটা আমি আদৌ পছন্দ করি না।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: "সাফিয়্যা (রাযি.)-এর ব্যাপারে আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তার শারীরিক ত্রুটিগুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি খাটো।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা যদি সমুদ্রের পানির সাথে মিশ্রিত করা হয়, তবে তা সমুদ্রের পানিকে পরিবর্তন করে দেবে এবং তা নষ্ট করে দেবে।" আয়েশা (রাযি.) বললেন: "আমি এমন কাজ করেছি, যেমন একজন মানুষ অন্যকে ছোট করার জন্য করে থাকে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি কারো ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে বা তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার মতো কাজ করতে বা তার মতো কথা বলতে পছন্দ করি না, এমনকি যদি সেজন্য আমাকে দুনিয়ার অনেক কিছুও দেওয়া হয় তবুও না।”
শিক্ষা
গীবত থেকে সতর্কতা এবং এর প্রতি ভয় প্রদর্শন।
কাউকে ছোট বা হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, তার আচরণ বা চেহারার অনুকরণ করা গীবতের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি হারাম।
শারীরিক ত্রুটির বর্ণনা দেওয়াও গীবতের অন্তর্ভুক্ত।
কাযী আয়ায (রহ.) বলেন: المزج বা মিশ্রণ মানে অন্য কিছুকে তার সাথে মিশিয়ে পরিবর্তন করা। এর অর্থ হলো, এই গীবত যদি এমন কিছু হতো যা সমুদ্রের সাথে মিশিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তা সমুদ্রের অবস্থা পরিবর্তন করে দিত, তার প্রাচুর্য ও বিপুলতা সত্ত্বেও। তাহলে অল্প কিছু কাজের সাথে মিশে গেলে তার অবস্থা কী হবে?
স্ত্রীদের মধ্যে যেসব ঈর্ষা ঘটে তার একটি বর্ণনা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মন্দ কাজের অনুমোদন না দেওয়া।
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং তাঁর অসন্তুষ্ট না হওয়ার তুলনায় সমগ্র দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সবই যে তুচ্ছ, তা এখানে বুঝানো হয়েছে।
ইসলাম সুন্দর নৈতিকতার ধর্ম, এবং মানুষকে অপরের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে নির্দেশ দেয়, যাতে কথায় বা কাজে তা লঙ্ঘন না হয়; কারণ এটি মুসলিমদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।
সূত্র
سنن أبي داود (7/ 237) (4875).
سنن الترمذي (4/ 275) (2502).
مسند أحمد (41/ 433) (24964).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (3/ 25).
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للقاري (7/ 3046).
التيسير بشرح الجامع الصغير، للمناوي (2/ 339).
فيض القدير شرح الجامع الصغير، للمناوي (5/ 411).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com