عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «أتدرون من المفلس؟» قالوا: المُفْلِس فينا من لا دِرهَمَ له ولا مَتَاع، فقال: «إن المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة، ويأتي وقد شَتَمَ هذا، وقذف هذا، وأكل مال هذا، وسَفَكَ دم هذا، وضرب هذا، فيعطى هذا من حسناته، وهذا من حسناته، فإن فنيت حسناته قبل أن يُقْضَى ما عليه، أخذ من خطاياهم فَطُرِحتْ عليه، ثم طُرِحَ في النار».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোনো আসবাব-পত্র নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে (আসল) নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাতের (নেকী) নিয়ে হাযির হবে। (কিন্তু এর সাথে সাথে সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষণ করেছে। কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে মেরেছে। অতঃপর এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী দেওয়া হবে, এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী দেওয়া হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেছেন যে, তোমরা কি জানো মুফলিস তথা অভাবী কে? তারা তাকে সেভাবেই সংবাদ দিল, যা মানুষের ভেতর প্রসিদ্ধ ছিল। তারা বলল, যার নিকট টাকা ও সামগ্রী নেই সেই অভাবী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সংবাদ দিলেন, এই উম্মতের মুফলিস হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন আসবে বড় সাওয়াব ও অনেক সৎকর্ম নিয়ে, যেমন সালাত, সিয়াম ও যাকাত। সে আসবে ঠিকই অথচ একে গালি দিয়েছে, একে প্রহার করেছে, তার সম্পদ ভক্ষণ করেছে, তাকে অপবাদ দিয়েছে, তার রক্ত প্রবাহিত করেছে, আর মানুষেরা তাদের হক নিতে চাইবে, যা তারা দুনিয়ায় নিতে পারেনি সেটা তারা আখিরাতে নিবে। আল্লাহ তাদের জন্য তার থেকে বদলা নিবেন, ফলে এ তার সাওয়াব নিবে, এ তার সাওয়াব নিবে এবং এ তার সাওয়াব নিবে ইনসাফের সাথে এবং বদলা নিবে যুলুম ব্যতীত। এভাবে যদি তার সাওয়াব শেষ হয়ে যায়, তাদের পাপ নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে এবং তাকে জাহান্নামে ফেলা হবে।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه .
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ আদায় করা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত, প্রত্যেক সপ্তাহে জুমু‘আ সালাত এবং প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন সেগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের সগীরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; তবে শর্ত হলো কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে কবীরা গুনাহ যেমন যিনা, মদ পান ইত্যাদি তাওবা ব্যতীত মাফ হয় না।
শিক্ষা
গুনাহসমূহ কবীরা ও সগীরা দু’প্রকারের হয়ে থাকে।
সগীরা গুনাহ তখনই কাফফারা হবে যখন কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকবে।
কবীরা গুনাহ হলো সেসব গুনাহ যেগুলোর ব্যাপারে দুনিয়াবী সাজার হুকুম বর্ণিত হয়েছে অথবা এসবের ব্যাপারে আযাব অথবা আল্লাহর অসন্তুষ্টি অথবা হুমকি অথবা এতে লিপ্তকারীকে লানত ইত্যাদি মাধ্যমে পরকালীন হুমকির কথা বলা হয়েছে। যেমন যিনা ও মদ্যপান ইত্যাদি।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 209) (233).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 183).
نزهة المتقين بشرح رياض الصالحين، لمصطفى سعيد الخن (1/ 158).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص108).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم بن عيد الهلالي (1/ 209).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: لَقَد رَأَيت سبعين من أهل الصُّفَّةِ، مَا مِنهُم رَجُل عَلَيه رِدَاء، إِمَّا إِزَار، وإِمَّا كِسَاء، قد رَبَطوا في أعناقِهم، فمنها ما يبلغُ نصف الساقين، ومنها ما يبلغ الكعبين، فَيَجْمَعُهُ بيده كَرَاهِيَةَ أن تُرى عورَتُه.
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, আমি আসহাবে সুফ্ফার সত্তরজনকে দেখেছি, তাদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল তহবন্দ (ইজার) কিংবা ছোট চাদর (কিসা), যা তারা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। (নিচের দিকে) কারো নিসফে সাক বা অর্ধ হাঁটু পর্যন্ত আবার কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তারা লজ্জা-স্থান দেখা যাওয়ার ভয়ে কাপড় হাতে ধরে একত্র করে রাখতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আহলে সুফ্ফা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হিজরত করে আসা দরিদ্র সাহাবীগণ, যারা মক্কা থেকে তাদের ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পদ ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন, যে মক্কা ছিল তাদের কাছে সর্বাধিক প্রিয় দেশ। সুফ্ফার অধিবাসীগণ প্রায় সত্তরের অধিক ছিলেন। সুফ্ফা হলো মসজিদে নববীর পিছনের দিকে ছায়াময় ছাদযুক্ত স্থান, যার নিচে দরিদ্র মুহাজিরগণ ঘুমাতেন। শীত কিংবা গ্রীষ্মে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন, তিনি নিজেও একজন আহলে সুফফার অধিবাসী ছিলেন, “তাঁদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল তহবন্দ (ইজার) কিংবা ছোট চাদর (কিসা)”। কেননা চাদর পরিধান করলে এর নিচে ইজার তথা সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান করার দরকার ছিল। ‘রিদা’ বা চাদরকে বর্তমানে ‘বদলা’ বা কোট বলা হয়। তখন একে ‘হুল্লা’ বা জামাও বলা হত। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তাদের কারো এ ধরণের কাপড় ছিল না; বরং তাদের একটি মাত্র কাপড় ছিল যা দ্বারা তারা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরো শরীর আবৃত করতেন। বর্তমানে যাকে ছোট গাউন বলা হয়। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “যা তারা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন।” অর্থাৎ বাচ্চারা যেভাবে তাদের কাপড় ঘাড়ে বেঁধে রাখে তেমনিভাবে তারা তাদের কাপড় ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। কেননা তাদের কাপড় এতো ছোট ছিল যে, তা তাদের শরীরের মাপমত তৈরী করা ও পরিধান করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। বরং সে চাদরের এক অংশই কেবল ঘাড়ের উপর ছিল। অতঃপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “কারো কাপড় নিসফে সাক বা পিণ্ডলীর অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছেছিল।” অর্থাৎ কাপড়ের দৈর্ঘ্য ঘাড় থেকে পিণ্ডলীর অর্ধেক পর্যন্ত ছিল, যা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছত না। অতঃপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “আবার কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তাঁরা লজ্জাস্থান দেখা যাওয়ার ভয়ে কাপড় হাতে ধরে একত্র করে রাখতেন। অর্থাৎ সালাতে রুকু‘ বা সাজদাহ’র সময় লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে কাপড় গুটিয়ে ধরে রাখতেন। আল্লাহ সকল সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। মূলত অধিকাংশ সাহাবীরই এ ধরনের অবস্থা ছিল। তারা দারিদ্র ও অভাবের মধ্যেই বসবাস করতেন এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও চাকচিক্যে নিমজ্জিত ছিলেন না। এমনকি আল্লাহ যখন তাদের জন্য দুনিয়ার বিজয় দান করেছিলেন তখনও তারা মৃত্যু পর্যন্ত স্বল্পে তুষ্টি ও দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ পোষণ করেছেন।
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ليس الغِنَى عن كَثرَة العَرَض، ولكن الغِنَى غنى النفس».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “সম্পদের আধিক্য ধনাঢ্যতা নয়, প্রকৃত ধনাঢ্যতা হল অন্তরের ধনাঢ্যতা।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন, প্রকৃত ধনাঢ্যতা ধন-সম্পদের আধিক্য দ্বারা নয়। প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার ধনাঢ্যতা। ব্যক্তিকে যা দেওয়া হয়েছে তাতে যদি সে সন্তুষ্ট থাকে ও যথেষ্ট মনে করে আর সম্পদ বাড়ানোর লোভ না করে এবং পীড়াপীড়ি করে না চায় তবে সে সবচেয়ে বেশী ধনী।
সূত্র
1-شرح صحيح مسلم (140/7).
2-فتح الباري (272/11).
3-كنوز رياض الصالحين (5/8).
عن خَولة الأنصاريةِ رضي الله عنها قالت: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
খাওলা আনসারিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে থাকে। কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে মুসলিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা ও তা নাহকভাবে গ্রহণ করা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এটি অন্যায়ভাবে সম্পদ জমা করা ও অর্জন করা ও অপাত্রে ব্যয় করা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ হাদীসে ইয়াতীমের সম্পদ, ওয়াকফকৃত সম্পদ ভক্ষণ, আমানত ফেরত দিতে অস্বীকার করা, জনসাধারণের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে।
অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান যে জাহান্নাম তার সংবাদ দিয়েছেন।
শিক্ষা
মানুষের কাছে যেসব সম্পদ রয়েছে তা মূলত আল্লাহর সম্পদ। তিনি তাদেরকে প্রতিনিধি বানিয়েছেন তারা যেন উক্ত সম্পদ শারী‘য়ত সম্মত উপায়ে ব্যয় করে ও অন্যায়ভাবে ব্যয় করা থেকে বিরত থাকে ।
সর্বসাধারণের সম্পদের ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আহ কঠোরতা দেখিয়েছে। তাদের মধ্যে যারাই এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে কিয়ামতের দিন এসব সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যয়ের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
যারা নিজের বা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে অর্জন ও ব্যয় করে তারাও এ হুশিয়ারীর অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 85) (3118).
فتح ذي الجلال والاكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 372).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 231).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 424).
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ».
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফুরী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুসলিমকে তার মুসলিম ভাইকে গালমন্দ ও অপমান করতে নিষেধ করেছেন এবং এটি এক ধরনের ফাসিকি, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং একজন মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে যুদ্ধ করা একটি কুফরী কাজ, তবে এটি ছোট কুফর।
শিক্ষা
মুসলিমদের ইজ্জত ও রক্তকে সম্মান করা ফরয।
বিনা অধিকারে কোনো মুসলিমকে গালিদাতার পরিণাম গুরুতর; কারণ বিনা অধিকারে যে গালি দেয়, সে ফাসিক (পাপী)।
একজন মুসলিমকে বকা দেওয়া এবং তার সাথে লড়াই করা ঈমানকে দুর্বল ও ক্ষুন্ন করে।
কিছু আমলকে কুফর বলা হয়; যদিও বড় কুফরী পর্যন্ত না পৌঁছায় যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
এখানে কুফর দ্বারা ছোট কুফর উদ্দেশ্য যা আহলুস সুন্নাহদের ঐকমত্যে দীন থেকে বের করে দেয় না; কারণ আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের পরস্পর যুদ্ধ ও ঝগড়ার সময় তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানকে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: (وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا) إلى قوله: ( إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ). (যদি মুমিনদের দু’টি গ্রুপ পরস্পর যুদ্ধ করে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দাও) থেকে তার বাণী (বস্তুত মুমিনগণ ভাই ভাই) পর্যন্ত।1
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 19) (48).
صحيح مسلم (1/ 81) (64).
فتح ذي الجلال والاكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 362).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 216).
توضِيحُ الأحكَامِ مِن بُلوُغ المَرَام، للبسام (7/ 412).
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : "إذا كنتم ثلاثة فلا يتناجى اثنان دون الآخَر، حتى تختلطوا بالناس؛ من أجل أن ذلك يحُزنه".
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হাদীসে বর্ণিত, “যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন একজনকে বাদ দিয়ে বাকী দু’জনে কানাঘুষা করবে না; যতক্ষণ না অন্যান্য মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছ। কারণ, এটি অপর ব্যক্তিকে চিন্তিত করে তুলবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইসলাম অন্তরের কষ্ট দূর করা, ভালো ব্যবহার ও সুন্দর কথা-বার্তা বলার নির্দেশ দেয়। আর যে সব কর্ম একজন মুসলিম ভাইকে কষ্ট দেয়, আতঙ্কিত করে এবং কু-ধারণা সৃষ্টি করে, সে সব কর্ম থেকে ইসলাম নিষেধ করে। এমন নিষিদ্ধ কর্মসমূহের একটি কর্ম হলো, যখন তিনজন একত্র হবে, তখন যদি একজনকে বাদ দিয়ে অপর দুইজন কানাকানি করে এবং চুপিসারে কথা বলে, তখন তৃতীয়জন যিনি তাদের সাথে রয়েছে সে কষ্ট পাবে, চিন্তিত হবে এবং সে কথার মধ্যে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার উপযুক্ত নন বলে নিজেকে ছোট ভাববে। ত্দ্রূপ সে নিজেকে একা ও নিঃসঙ্গ অনুভব করবে। তাই শরী‘আত এ ধরণের কানাঘুষা করা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সূত্র
صحيح البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, ط 1422.
صحيح مسلم, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان. دار ابن الجوزي. ط1 1428ه.
توضِيحُ الأحكَامِ مِن بُلوُغ المَرَام، للبسام. مكتَبة الأسدي، مكّة المكرّمة.الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق : ماهر الفحل. دار ابن كثير - بيروت. الطبعة الأولى 1428ه - 2007م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، للشيخ الفوزان. الناشر : الرسالة. الطبعة الأولى : 1427– 2006م.
عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا».
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মৃতদেরকে গালি দেওয়া ও তাদের সম্মানহানী করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আর এ ধরনের কাজ খারাপ চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তারা তাদের ইতিপূর্বে প্রেরিত ভালো বা মন্দ কর্মের ফলাফলে পৌঁছে গেছে। তাছাড়া এসব গালমন্দ তাদের কাছে পৌঁছে না; বরং এতে জীবিত মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়।
শিক্ষা
হাদীসটি মৃত ব্যক্তিদেরকে গালমন্দ করা হারাম হওয়ার দলিল।
মৃতদেরকে গালি দেওয়া বর্জন করাতে জীবিত লোকদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং কলহ এবং ঘৃণা থেকে সমাজকে মুক্ত রেখে হেফাযত করা যায়।
মৃতলোকদেরকে গালি দেওয়া নিষেধ হওয়ার হিকমত হলো, তারা যে আমল করেছে সে কর্মফলে তারা পৌঁছে গেছে, সুতরাং তাদেরকে গালি দিলে কোন লাভ হবে না; বরং মৃত ব্যক্তির জীবিত আত্মীয়কে কষ্ট দেওয়া হবে।
মানুষের যে কাজে কোন উপকার নেই তা বলা ও করা উচিত নয়।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 104) (1393).
فتح ذي الجلال والاكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (2/ 631).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (4/ 385).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (3/ 277).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com