হাদীসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় নিষিদ্ধ জিনিস থেকে উম্মতকে সতর্ক করেছেন, যেগুলো মুসলিমদের মধ্যে মতবিরোধ ও শত্রুতার সৃষ্টি করে। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো: ধারণা করা: তা হলো, কোন দলীল ছাড়া অন্তরে কারো বিরুদ্ধে কোন অপবাদ পোষণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে সবোর্চ্চ মিথ্যা কথা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তথ্য তালাশ করা: তা হলো, চক্ষু বা কানের মাধ্যমে মানুষের গোপনিয়তা অনুসন্ধান করা। গোয়েন্দাগিরি করা: তা হলো, যেসব জিনিস গোপন থাকে, সেগুলো অনুসন্ধান করা, সাধারণত তা মন্দ ও খারাপ বিষয়ে বলা হয়। হিংসা-বিদ্বেষ করা: তা হলো, অন্য কেউ নি‘আমতপ্রাপ্ত হলে তা অপছন্দ করা। পরস্পর পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা হলোঃ কেও কারো থেকে বিমূখ হওয়া। ফলে সে তার মুসলিম ভাইকে সালাম না দেওয়া ও তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ না করা। পরষ্পরে ঘৃণা পোষণ করা হলোঃ কাউকে অপছন্দ ও ঘৃণা করা। যেমন অন্যকে কষ্ট দেওয়া, ভ্রুকুটি করা এবং কারো সাথে খারাপভাবে সাক্ষাৎ করা। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি পরিপূর্ণ অর্থবহ কথা বলেছেন, যা মুসলিমদের পরস্পরের অবস্থা সংশোধনের জন্যে যথেষ্ট। তিনি বলেছেন: তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হয়ে থাকো। ভ্রাতৃত্ব এমন একটি বন্ধন, যা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে পরস্পর ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে।
- কারো মধ্যে খারাপ কাজের আলামত পাওয়া গেলে তার প্রতি খারাপ ধারণা করলে তাতে কোন দোষ নেই। তবে মুমিনের উচিত বিচক্ষণ, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হওয়া, যাতে খারাপ ও ফাসিক লোকদের দ্বারা প্রতারিত না হয়।
- এখানে অপবাদমূলক ধারণা থেকে সতর্ক করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সে সব অপবাদমূলক ধারণা মনের মধ্যে গেঁথে যায় এবং যার উপর অটল থাকা হয়। কিন্তু যে সব ধারনা অন্তরে উদ্রেক হয়; তা ভুলে যায় ও বেশিক্ষণ থাকে না তা ধর্তব্য নয়।
- যেসব কারণে সমাজে মুসলিমদের মধ্যে ঘৃণা ও বিচ্ছেদের সৃষ্টি হয়, যেমন গোয়েন্দাগিরি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি সেগুলো হারাম।
- হাদীসে নসীহত পেশ ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের সাথে ভাইয়ের মতো আচরণ করাতে অসিয়ত করা হয়েছে।
صحيح البخاري (8/ 19) (6064). صحيح مسلم (4/ 1985) (2563). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 219). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 414). فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 363).