নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধের সফরে ছিলেন, তাঁর সঙ্গে মুহাজির ও আনসার রাদিয়াল্লাহু আনহুম সাহাবাগণ ছিলেন। তখন একজন মুহাজির সাহাবী তাঁর হাত দিয়ে এক আনসার সাহাবীর নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী বললেন, আমাকে সাহায্য করো, হে আনসারগণ! আর মুহাজির বললেন, আমাকে সাহায্য করো, হে মুগিরগণ! এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুনলেন এবং বললেন, এ কী? তারা বলল: একজন মুহাজির সাহাবী তাঁর হাতে এক আনসারী সাহাবীর নিতম্বে আঘাত করেছে, তখন আনসারী বলল, আমাকে সাহায্য করো, হে আনসারগণ! আর মুহাজির বলল, আমাকে সাহায্য করো, হে মুহাজিরগণ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: জাহিলি যুগের এই কুসংস্কার পরিত্যাগ করো, কারণ এটি ঘৃণ্য, অপ্রীতিকর এবং ক্ষতিকর; এটি হলো যখন কেউ পরাজিত হয়, তখন সে তার কওমকে ডাক দেয় এবং তারা তাড়াতাড়ি এসে তার পক্ষে লড়াই করে—এতে সে অত্যাচারী হোক, বা নির্যাতিত, তাদের মূর্খতা ও পক্ষপাতের কারণে। জাবির বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় মুহাজির হিসেবে আগমন করেন, তখন আনসারগণের সংখ্যা বেশি ছিল; পরে মুহাজিরদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল বলল: আবস্থা কি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে?! আল্লাহর কসম! যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই, তাহলে সম্মানিতরা — অর্থাৎ আমি ও আমার সহকর্মীরা — লাঞ্ছিতদের মদীনা থেকে বের করে দিবে— অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাথীদের। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এই মুনাফিকের গলা কেটে দিব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাকে ছেড়ে দাও, যাতে মানুষ না বলে যে, মুহাম্মদ নিজের অনুসারীদের খুন করেছে, যদিও সে বাহ্যিক অনুসারী।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাহিলি যুগের কুসংস্কার ও রীতি-নীতিগুলো পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা হোক কথা কিংবা কর্ম। ইসলাম এসেছে মানুষকে এসব থেকে দূরে রাখতে এবং তাদেরকে সঠিক ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে।
- বাতিল দলবাজি হতে সতর্ক থাকা এবং তার থেকে পরহেজ করা, যেমন কোনো ঘৃণিত বস্তু থেকে সতর্ক থাকা।
- যে সব জিনিস শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, তা থেকে নিষেধ করা।
- আন-নববী বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে ‘যাহিলি আহ্বান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তা তাঁর কাছে ঘৃণিত ও অপছন্দনীয়। কারণ, যাহিলি যুগে দুনিয়া ও দুনিয়াবী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গোত্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল। যাহিলি যুগে নিজেদের অধিকার গোত্র ও বংশের ভিত্তিতে দাবি করা হত। ইসলাম এসে তা বাতিল করে দিয়েছে এবং শরীয়তের বিধান মতে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্দেশ দিয়েছে। যদি কেউ অন্য কারো ওপর অবিচার করে, তবে বিচারক তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন এবং অপরাধীকে অপকর্মের জন্য উপযুক্ত শাস্তি দিবেন, যা ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী নির্ধারিত।
- আস-সিন্দী বলেছেন: তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যাহিলি যুগের মতো গোত্রভিত্তিক সহায়তা করা অবৈধ। কাজেই প্রতিটি ব্যক্তিকে তার গোত্রের প্রতি আহ্বান করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সত্যের পক্ষে সহায়তা করা অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য, সে তার গোত্রের সদস্য হোক বা না হোক।
- মুনাফিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি যে ধরনের অশ্লীল ভাষা ও সাহসিকতা পদর্শন করত, তা ছিল অত্যন্ত ঘৃণিত।
- মুনাফিকদের পক্ষ থেকে যে আঘাত, কটূক্তি এবং অবমাননা আসত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তার উপর অতি ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু।
- এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা মানুষের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রতি অস্বস্তি বা বাধা সৃষ্টি করে। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদের হত্যা থেকে বিরত থেকেছিলেন, যাতে মানুষ বলা না শুরু করে যে, মুহাম্মদ তার সহকর্মীদের হত্যা করে।
صحيح البخاري (6/ 154) (4907). صحيح مسلم (4/ 1998) (2584). النهاية في غريب الحديث والأثر (801) (899). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (19/ 241). المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (6/ 560). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (40/ 596).