عن أبي واقد الحارث بن عوف رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما هو جالس في المسجد، والناس معه، إذ أقبل ثلاثَةُ نَفَرٍ، فأقبل اثنان إلى رسول الله، صلى الله عليه وسلم وذهب واحد، فوقفا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فأما أحدهما فرأى فُرْجَةً في الْحَلْقَةِ فجلس فيها، وأما الآخر فجلس خلفهم، وأما الثالث فأدْبَر ذاهبٍا، فلما فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ألا أُخْبِرُكُم عن النَّفَرِ الثلاثة: أما أحدهم فأَوَى إلى الله فآوَاهُ الله إليه، وأما الآخر فاسْتَحْيا فاسْتَحْيَا الله منه، وأما الآخر، فأعْرَضَ، فأعرضَ اللهُ عنه».
আবূ ওয়াক্বেদ হারেস ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কিছু লোকও ছিল। ইতোমধ্যে তিনজন লোক আগমন করল। তাদের মধ্যে দু’জন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হল এবং একজন চলে গেল। নবাগত দু’জন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের একজন সভার মধ্যে ফাঁক দেখে সেখানে বসে পড়ল। আর অপরজন সভার পিছনে বসে গেল। আর তৃতীয় ব্যক্তি পিঠ ঘুরিয়ে প্রস্থান করল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর পেলেন, তখন বললেন, ‘‘তোমাদেরকে তিন ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না কি? তাদের একজন তো আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করল, ফলে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দান করলেন। আর দ্বিতীয়জন সে [সভার মধ্যে ঢুকে বসতে] লজ্জাবোধ করল, বিধায় আল্লাহও তাঁর ব্যাপারে লজ্জাশীলতা প্রয়োগ [করে তাকে রহম] করলেন। আর তৃতীয়-জন মুখ ফিরিয়ে নিলো, বিধায় আল্লাহও তার দিক থেকে বিমুখ হয়ে গেলেন।’’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজন নিয়ে মসজিদে বসেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনজন লোক আসলেন। তন্মধ্যে দুজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে এলেন এবং একজন চলে গেলেন। তারা দুজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হালকায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। এরপর তাদের একজন হালকার মধ্যে কিছুটা জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন। আর হালকা হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে লোকজনের গোলাকার হয়ে বসা। অন্যজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষে সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে তিন ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব? তাদের একজন আল্লাহর দিকে এগিয়ে এসেছে, তাই আল্লাহ তাকে স্থান দিয়েছেন। অর্থাৎ সে আল্লাহর বাণী শুনতে খালি জায়গায় বসেছেন। ফলে এ বরকমতময় মজলিশের ফযীলত দ্বারা আল্লাহ তাকে মর্যাদাবান করেছেন। অন্যজন লজ্জাবোধ করেছেন। তাই আল্লাহও তার থেকে লজ্জাবোধ করেছেন অর্থাৎ সে ভীড় ঠেলে অগ্রসর হতে লজ্জাবোধ করেছেন, তাই সে হালকার পিছনে বসেছেন। ফলে সে মজলিশের বরকত থেকে বঞ্চিত হয় নি। আর অপরজন (মজলিসে হাজির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাই আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অর্থাৎ সে বিনা ওযরে মজলিশে না বসে চলে গেছে, ফলে সে মজলিশের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، دار طوق النجاة، ط: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي – بيروت.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق -بيروت، ط: الأولى 1428هـ.
نزهة المتقين، لمجموعة من المؤلفين، مؤسسة الرسالة، ط: الرابعة عشر،1407هـ.
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، بإشراف مؤسسة الشيخ، دار الوطن للنشر، الرياض، ط: 1426هـ.
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي، دار ابن الجوزي، السعودية، ط: الثالثة 1418هـ.
تطريز رياض الصالحين، تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبد العزيز آل حمد، دار العاصمة -الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة: علوي بن عبد القادر السَّقَّاف، دار الهجرة الطبعة: الثالثة ، 1426هـ - 2006م.
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أنَّ رَجُلاً كَانَ عِند النَبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ رَجُلٌ بِهِ، فقال: يا رسول الله، أنِّي لَأُحِبُّ هَذَا، فَقَال لَهُ النَبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «أَأَعْلَمْتَهُ؟» قال: لا. قال: «أَعْلِمْهُ»، فَلَحِقَهُ، فقال: إِنِّي أُحِبُّك فِي الله، فقال: أّحَبَّك الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (বসে) ছিল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। (যে বসেছিল) সে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! নিঃসন্দেহে আমি একে ভালবাসি।’ (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কি (এ কথা) তাকে জানিয়েছ?” সে বলল, ‘না।’ তিনি বললেন, “তাকে জানিয়ে দাও।” সুতরাং সে (দ্রুত) তার পিছনে গিয়ে (তাকে) বলল, ‘আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালবাসি।’ সে বলল, ‘যাঁর ওয়াস্তে তুমি আমাকে ভালবাস, তিনি তোমাকে ভালবাসুন।’
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ—কেউ যদি কাউকে ভালোবাসে সে যেন তা তাকে জানিয়ে দেয়—এর বাস্তবায়ন। এটি রাসূলুল্লাহ ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে কথোপকথন। তিনি যখন বললেন, আমি এ লোকটিকে ভালোবাসি, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি তাকে বিষয়টি জানিয়েছ? এটি প্রমাণ করে যে, সুন্নাত হলো যখন কোন মুসলিম কোন ব্যক্তিকে ভালোবাসে সে যেন তাকে বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসী। কারণ, এ বাক্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে তার অন্তরেও মহব্বত ডেলে দেওয়া। কারণ, যখন কোন মানুষ জানবে যে, তার কোন ভাই তাকে মহব্বত করে সেও তাকে মহব্বত করবে। যদিও মুখে কোন কিছু না বলা সত্বেও একটি অন্তর অপর অন্তরের প্রতি ভালোবাসা ও পরিচিতি রয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রুহসমূহ সংঘটিত সৈন্য দলের মতো। যাকে চিনবে তার সাথে মহব্বত সৃষ্টি হবে আর যাকে চিনবে না তার সাথে বিরোধ করবে। কিন্তু যদি মানুষ মুখে বলে, তখন তা অন্তরে মহব্বতকে বাড়িয়ে দেয়। তখন সে বলবে, আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসী।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ.
رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ.
سنن أبي داود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، بيروت.
السنن الكبرى للنسائي، تحقيق: حسن عبد المنعم شلبي، ط1، مؤسسة الرسالة، بيروت، 1421هـ.
شرح رياض الصالحين، للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ.
عون المعبود شرح سنن أبي داود، ومعه حاشية ابن القيم: تهذيب سنن أبي داود وإيضاح علله ومشكلاته للعظيم آبادي، ط3، دار الكتب العلمية، بيروت، 1415 هـ.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط1، مؤسسة الرسالة، 1421هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قال: قال رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ يَغَارُ، وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَغَارُ، وَغَيْرَةُ اللهِ أَنْ يَأْتِيَ الْمُؤْمِنُ مَا حَرَّمَ عَلَيْهِ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা তার আত্নমর্যাদাবোধ প্রকাশ করেন এবং মুমিনগণও আত্নমর্যাদাবোধ প্রকাশ করে। আল্লাহর আত্নমর্যাদাবোধ উজ্জীবিত হয় যখন মুমিন এমন কিছু করে যা তিনি হারাম করেছেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর আত্নমর্যাদাবোধ প্রকাশ করেন, তিনি ক্রোধান্বিত হন এবং অপছন্দ করেন, যেমনিভাবে মুমিনও আত্নমর্যাদাবোধ প্রকাশ করে, রাগ করে এবং কোন কিছু অপছন্দ করে। আর আল্লাহর আত্নমর্যাদাবোধে লাগার একটি কারণ হলো আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন, যেমন: যিনা, সমকামিতা, চুরি, মদ্যপান ইত্যাদি, মুমিন যখন তাতে লিপ্ত হয়।
শিক্ষা
হাদীসে আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে সাবধান করা হয়েছে, যখন মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত হয়।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 35) (5223).
صحيح مسلم (4/ 2114) (2761).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص62).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 496).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 96).
صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة، لعلوي السَّقَّاف (ص267).
عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه رأى رجلا انْتَفَضَ لما سمع حديثا عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصفات -استنكارا لذلك– فقال: "ما فَرَقُ هؤلاء؟ يجدون رِقَّةً عند مُحْكَمِهِ، ويَهْلِكُونَ عند مُتَشَابِهِهِ" .
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি এক লোককে দেখলেন সে যখন সিফাত সম্পর্কীয় একটি হাদীস শুনে তার প্রতি বিরক্ত হয়ে লাপিয়ে উঠেন। তখন তিনি বললেন, এদেরকে কোন জিনিষটি বিভক্ত করল। তার সুস্পষ্ট বিষয়গুলোর সময় নমনীয় থাকে আর অস্পষ্ট বিষয়সমূহের সময় ধ্বংস হয়।
এটি ইবন আবী ‘আসেম বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুর রায্যাক বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সর্ব সাধারণ লোকদের থেকে যারা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মজলিসে উপস্থিত হয়, তাদের কতকের ওপর তিনি ক্ষিপ্ত হন। তারা যখন সিফাতের হাদীসসমূহ শোনে ভয় পায় ও বিরক্ত হয়ে কেঁপে ওঠে। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হাদীস এবং কুরআন থেকে তার অর্থ জানার পরও তার প্রতি তারা ঈমান আনেনি। অথচ তা সত্য কোন মু’মিন তাতে সন্দোহ পোষণ করতে পারে না। আর তাদের কতক তার এমন অর্থ করে যা আল্লাহর উদ্দেশ্য নয়, ফলে তারা এ কারণেই ধ্বংস হয়।
সূত্র
كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب ص252 ت: د. دغش العجمي . مكتبة أهل الأثر , الطبعة الخامسة , 1435ه
الجديد في شرح كتاب التوحيد لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد , مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه
الملخص في شرح كتاب التوحيد للشيخ صالح الفوزان , دار العاصمة , الطبعة الأولى 1422ه
كتاب السنة لابن أبي عاصم ومعه ظلال الجنة للألباني, المكتب الإسلامي, ط4 1419
عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: "جاء حَبْرٌ من الأحبار إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد، إنا نجد أن الله يجعل السماوات على إِصْبَعٍ، والأَرَضَينَ على إِصْبَعٍ، والشجر على إِصْبَعٍ، والماء على إِصْبَعٍ، والثَّرَى على إِصْبَعٍ، وسائر الخلق على إِصْبَعٍ، فيقول: أنا الملك، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بَدَتْ نَوَاجِذَهُ تَصْدِيقًا لقول الحبر، ثم قرأ: (وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ).
وفي رواية لمسلم: "والجبال والشجر على إِصْبَعٍ، ثم يَهُزُّهُنَّ فيقول: أنا الملك، أنا الله".
وفي رواية للبخاري: "يجعل السماوات على إِصْبَعٍ، والماء والثَّرَى على إِصْبَعٍ، وسائر الخلق على إِصْبَعٍ".
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: ইয়াহুদীদের একজন জ্ঞানী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ, আমরা পেলাম যে, আল্লাহ আসমানসমূহ একটি আঙ্গুলের উপর, যমীনসমূহ একটি আঙ্গুলের উপর, গাছ-পালা একটি আঙ্গুলের ওপর, পানি একটি আঙ্গুলের ওপর, মাটি একটি আঙ্গুলের ওপর এবং সমস্ত মাখলুক একটি আঙ্গুলের উপর রাখবেন। তারপর তিনি বলবেন, আমিই বাদশাহ। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী আলেমের কথাকে স্বীকার করে হেঁসে দিলেন, যাতে তার দাঁতগুলো প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন, তারা আল্লাহকে তার সম্মান অনুযায়ী সম্মান দিতে পারেনি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তার হাতের মুঠোর মধ্যে হবে। সহীহ মুসলিমের হাদিসে বর্ণিত: পাহাড়সমূহ ও গাছ-পালা এক আঙ্গুলের উপর থাকবে। তারপর তিনি এগুলোকে নাড়া দিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ আমিই আল্লাহ। সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় বর্ণিত: আসমানসমূহ এক আঙ্গুলের উপর, মাটি এক আঙ্গুলের ওপর এবং সমগ্র মাখলুক একটি আঙ্গুলের ওপর থাকবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সংবাদ দেন যে, ইয়াহুদীদের একজন জ্ঞানী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর নিকট এসে তাকে বলল, তারা তাদের কিতাবসমূহে পেয়েছে যে, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন আসমানসমূহ একটি আঙ্গুলের উপর, যমীনসমূহ একটি আঙ্গুলের উপর, গাছ-পালা একটি আঙ্গুলের ওপর এবং মাটি একটি আঙ্গুলের ওপর রাখবেন। অপর বর্ণনায় আছে পানি এবং তার সমগ্র মাখলুক তার আঙ্গুলসমূহের একটি আঙ্গুলের উপর থাকবে। আর তা হলো পাঁচটি। যেমনটি বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহে এসেছে। তবে তার আঙ্গুল মাখলুকের আঙ্গুলের মতো নয়। আর তিনি তার ক্ষমতা ও মহত্বের কিছু অংশ প্রকাশ করবেন। তিনি এ সবকে নাড়া দেবেন এবং তার সত্যিকার মালিকানা, পরিপূর্ণ ক্ষমতা এবং সত্যিকার উলুহিয়্যাতের ঘোষণা দেবেন। তারপর ইয়াহুদী আলেমের কথার সত্যতা স্বীকার করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন, যাতে তার দাঁতগুলো প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন, তারা আল্লাহকে তার সম্মান অনুযায়ী সম্মান দিতে পারেনি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তার হাতের মুঠোর মধ্যে হবে।
সূত্র
كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب ص252 ت: د. دغش العجمي - مكتبة أهل الأثر , الطبعة الخامسة , 1435هـ.
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد , مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424هـ.
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان, دار العاصمة , الطبعة الأولى 1422هـ.
صحيح البخاري, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار طوق النجاة, الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت.
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً: "يَطْوِي الله السماوات يوم القيامة، ثم يَأْخُذُهُنَّ بيده اليمنى، ثم يقول: أنا الملك أين الجبارون؟ أين المتكبرون؟ ثم يَطْوِي الأَرَضِينَ السبع، ثم يأخذهن بشماله، ثم يقول: أنا الملك، أين الجبارون؟ أين المتكبرون؟".
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর আকাশমণ্ডলীকে গুটিয়ে ফেলবেন। অতঃপর স্বীয় ডান দ্বারা তা ধরবেন। তারপর তিনি বলবেন, আমিই অধিপতি, প্রতাপশালীরা কোথায়? দাম্ভিকেরা কোথায়? তারপর সাত যমীনকে গুটিয়ে নিবেন। তারপর এগুলো বাম হাত দ্বারা তালুবদ্ধ করবেন। তারপর তিনি বলবেন, আমি অধিপতি, প্রতাপশালীরা কোথায়? দাম্ভিকেরা কোথায়?
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানান যে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সাত আকাশ ঘুটিয়ে দিবেন এবং তার ডান হাত দ্বারা পাকড়াও করবেন। আর সপ্ত যমীন ঘুটিয়ে দিবেন এবং তা তার বাম হাতে নিবেন। আর তিনি যখনই একটি ঘুটাবেন তখন তিনি ঐ সব স্বৈরাচারী ও অহংকারীদের অপমানের সাথে প্রকাশ্যে বলবেন। তিনি প্রকৃত ও পরিপূর্ণ অধিপতি যিনি দুর্বল নন এবং শেষ হওয়ার নন। আর তিনি ছাড়া সব মুনীব, দাস, বিচারক ও অত্যাচারী নিঃশেষ এবং আল্লাহ সামনে অপধস্থ। তিনি যা করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার কেউ নেই। আর তারা সবাই জিজ্ঞাসিত হবে।
সূত্র
كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب ص252 ت: د. دغش العجمي . مكتبة أهل الأثر , الطبعة الخامسة , 1435ه
الجديد في شرح كتاب التوحيد لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد , مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه
صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت.
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সব ব্যাপারে নিকটবর্তী ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ আমলের দ্বারা নাজাত লাভ করতে পারবে না। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও না? তিনি বলেন, আমিও না, তবে আল্লাহ যদি স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে আবৃত করে নিয়েছেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সীমালঙ্ঘন ও ত্রুটি করা ছাড়া যতটুকু সম্ভব সাহাবীদের আমল ও তাকওয়া অর্জন করতে এবং আল্লাহর প্রতি ইখলাস ও সুন্নাহ অনুসরণ করে তাদের আমলের বিশুদ্ধতার নিয়ত করতে উৎসহ প্রদান করেছেন, যাতে তাদের আমল গ্রহণ করা হয় এবং তা তাদের উপর রহমত নাযিল হওয়ার কারণ হয়।
তারপর তাদের বললেন যে, তোমাদের কাউকে শুধু তার আমল নাজাত দিবে না, বরং আল্লাহর রহমত আবশ্যক।
তারা বললেন, আপনিও না হে আল্লাহর রাসূল, আপনার এতো আমলও আপনাকে মুক্তি দিবে না?
তিনি বললেন, আমিও না, তবে আল্লাহ আমাকে তার রহমতের অনুগ্রহে ঢেকে নিয়েছেন।
শিক্ষা
ইমাম নববী (سدِّدوا وقاربوا) প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং তার উপর আমল, আর যদি তা করতে অপারগ হও, তার কাছাকাছি থাক; অর্থাৎ তার নিকটবর্তী হও। السداد শব্দের অর্থ হল সঠিক। এটি হল অতিরিক্ত ও অপরিমিতের মাঝামাঝি, কাজেই সীমালঙ্ঘন ও সীমাহ্রাস কর না।
ইবনু বায বলেন: নেক আমল হলো জান্নাতে প্রবেশ করার উপায়, যেমন খারাপ আমল জাহান্নামে প্রবেশ করার উপায়। হাদীসটি বলছে যে, তাদের জান্নাতে প্রবেশ স্রেফ আমলের বদৌলতে নয়, বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালার ক্ষমা ও রহমত অবশ্যই জরুরি। তারা তাদের আমলের উপায়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু এটাকে ওয়াজিব করেছে আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও মাগফিরাত।
বান্দার আমল যত বেশি হোক তার ফলে সে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারে এবং ধোকায় নিমোযিত হতে পারে না, কারণ আল্লাহর প্রাপ্য তার আমলের চেয়ে অনেক বড়। কাজেই বান্দার জন্য ভয় ও আশা উভয় থাকা জরুরি।
বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত তাদের আমলের চেয়ে অধিক প্রশস্ত।
নেক আমলসমূহ জান্নাতে প্রবেশের উপায় ঠিকই, কিন্তু জান্নাত লাভ করে ধন্য হওয়া একমাত্র আল্লাহর রহমত ও দয়া দ্বারাই হয়ে থাকে।
কিরমানি বলেন, “সকল মানুষই যেখানে আল্লাহর রহমত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে না, সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হল তার জান্নাতে প্রবেশ করার বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল, তিনিও আল্লাহর রহমত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কাজেই অন্যরা এর উপযুক্ত আরও বেশী।
ইমাম নববী আল্লাহ তাআলার বাণী: ﴿ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ [النحل: 32]، (জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে।) [আল-নাহল:৩২] এবং ﴿وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ [الزخرف: 72] (আর এটিই জান্নাত, নিজদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে।) [আয-যুখরূপ:৭২৫] এর অর্থে বলেন, এই জাতীয় আয়াতসমূহ প্রমাণ করে যে, আমলের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করা হবে, এগুলো হাদীসসমূহের বিপরীত নয়; কারণ আয়াতগুলোর অর্থ হল আমলের উপায়ে জান্নাতে প্রবেশ করা হবে, কিন্তু আমলের তাওফিক এবং তাতে ইখলাসের হিদায়াত লাভ করা এবং তা গ্রহণ হওয়া আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের ফলে হয়। অতএব তিনি কেবল আমল দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করেননি কথাটি বলা যথাযথ হল। এটিই হাদীসের অর্থ। আবার এটিও বলা সহীহ হল যে, তিনি আমলের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, অর্থাৎ আমলের কারণে। আর এটি আল্লাহর রহমত।
ইবনুল জাওযী বলেন, এর থেকে চারটি উত্তর হাসিল হয়; প্রথম: আমলের তাওফিক আল্লাহর রহমতে হয়, যদি আগ থেকে আল্লাহর রহমত না হয়, ঈমান এবং যে আনুগত্যের ফলে নাজাত লাভ হয় তাও হত না। দ্বিতীয়: গোলামের উপার্জন তার মনিবের হক এবং তার কর্ম হল মনিবের পাওনা। কাজেই তিনি তাকে যত অনুগ্রহ দিবেন সেটা তার অনুগ্রহ। তৃতীয়: কতক হাদীসে এসেছে যে, জান্নাতে প্রবেশ করা হবে আল্লাহর রহমতের বদৌলতে, তবে মর্যাদার তারতম্য হবে আমলের কারণে। চতুর্থ: নেকির আমল একটি সংক্ষিপ্ত সময়কালে হয়, কিন্তু সাওয়াব অনন্তকাল ব্যাপী, কাজেই সীমিত আমলের বিনিময়ে অসীমিত পুরস্কার একটি বড় অনুগ্রহ, যা কোনো আমলের বিনিময়ে নয়।
রাফিয়ী বলেন, আমলকারী কখনো নাজাত লাভ ও মর্যাদা হাসিল করার ক্ষেত্রে তার আমলের উপর ভরসা করবে না, কারণ সে আল্লাহর তাওফিক পেয়েই আমল করেছে আর আল্লাহর সুরক্ষাদানের ফলে পাপ ছাড়তে সক্ষম হয়েছে, আর এসবই আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 121) (5673).
صحيح مسلم (4/ 2170) (2816).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 165).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 321).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 573).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 130).
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أتاه طالب حاجة أقبل على جُلسائِه، فقال: «اشْفَعُوا تُؤجَرُوا، ويَقْضِي الله على لسانِ نَبِيِّه ما أحب». وفي رواية: «ما شاء».
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল, যখন তার নিকট কোনো প্রয়োজন প্রার্থী আসত, তিনি সাথীদের দিকে মুখ করে বলতেন, “তোমরা সুপারিশ কর তোমাদের সওয়াব দেওয়া হবে, তবে আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে তাই ফয়সালা করবেন, যা তিনি পছন্দ করেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে “যা তিনি ইচ্ছা করেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসটি বড় মূলনীতি ও মহান ফায়দার ধারক। আর তা হলো, বান্দার জন্য উচিৎ হচ্ছে কল্যাণকর কর্মে চেষ্টা করা। তাতে তার উদ্দেশ্য ও ফল পুরোপুরি লাভ হোক বা আংশিক হোক বা একেবারেই না হোক। আর সেটা হচ্ছে যেমন, প্রয়োজন প্রার্থীর জন্যে বাদশাহ ও বড়দের নিকট এবং যার সাথে তার প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট তাদের নিকট সুপারিশ করা। কারণ, অনেক মানুষ তার সুপারিশ কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকে। ফলে সে নিজের নফসকে অনেক কল্যাণ ও তার মুসলিম ভাইয়ের ওপর সহানুভুতি প্রকাশ থেকে বঞ্চিত করে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম সাহাবীগণকে অভাবীদের জন্য তার কাছে সুপারিশ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা আল্লাহর নিকট সাওয়াব প্রাপ্ত হয়। তিনি বলেন, “তোমরা সুপারিশ কর তোমাদের সাওয়াব দেওয়া হবে।” কারণ, ভালো সুপারিশ আল্লাহর নিকট প্রিয় ও তার সন্তুষ্টি বিধান করে। আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি ভালো সুপারিশ করবে, তার জন্য তা থেকে কিছু অংশ মিলবে।” [সূরা নিসা, আয়াত:৮৫] নগদ সাওয়াব লাভের সাথে সাথে সে তার ভাইয়ের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করল, ফলে তার সাথে তার একটি সহযোগিতার হাত স্থাপিত হলো। এ ছাড়াও হতে পারে সুপারিশকৃত ব্যক্তি হতে তার উদ্দেশ্য পূর্ণরুপে হাসিল হবে অথবা আংশিক; যা বাস্তবে দেখা যায়। সুতরাং ভালো ও কল্যাণকর কর্মে চেষ্টা করা, যা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আবার না হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে, এ তো নগদ নগদ কল্যাণ এবং তাতে নফসকেও কল্যাণকর কাজে অভ্যস্ত করতে সহযোগিতা করা হয়। আর তা হয়ে উঠে এমন সুপারিশের সূত্রপাত; যাতে কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে বা সম্ভাবনা থাকে। রাসূলের বাণী: “আর আল্লাহ তাঁর রাসূলের জবানে তাই চূড়ান্ত করবেন যা তিনি চান।” অর্থাৎ তিনি তাঁর পূর্ব জ্ঞানে সেটা ঘটা, অর্জন হওয়া বা না হওয়া সংক্রান্ত যা চেয়েছেন সেটা অনুযায়ীই তিনি ফয়সালা করবেন। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সুপারিশ করা আর তার সাওয়াব অবশ্যই সে পাবে। চাই সুপারিশকৃত বিষয়টি লাভ হোক বা তা লাভে কোনো বাধা এসে পড়ুক।
সূত্র
كنوز رياض الصالحين - حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار - دار كنوز اشبيليا- الطبعة الأولى: 1430 هـ
بهجة الناظرين - سليم بن عيد الهلالي - دار ابن الجوزي.
نزهة المتقين - مصطفى سعيد الخن، مصطفى البغا، محي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي - مؤسسة الرسالة ، بيروت - الطبعة الأولى : 1397 هـ 1977 م - الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ 1987م.
شرح رياض الصالحين - محمد بن صالح بن محمد العثيمين - الناشر: دار الوطن للنشر، الرياض - الطبعة: 1426 هـ.
دليل الفالحين - محمد بن علان - دار الكتاب العربي.
رياض الصالحين- د. ماهر بن ياسين الفحل - الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت - الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م.
صحيح البخاري - محمد بن إسماعيل البخاري - دار طوق النجاة - الطبعة : الأولى، 1422هـ
صحيح مسلم - مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري النيسابوري - المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي - الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت.
بهجة قلوب الأبرار وقرة عيون الأخيار في شرح جوامع الأخبار - المؤلف: أبو عبد الله، عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي المحقق: عبد الكريم بن رسمي ال الدريني دار النشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع الطبعة: الأولى 1422هـ - 2002م.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com