জাবের ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী সংবাদ দেন যে, তিনি জানতে পারছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস শুনেছেন যেটি তিনি শুনেননি। তাই তিনি একটি উট ক্রয় করলেন। তারপর তার ওপর তার সামানা রাখলেন এবং তার ওপর আরোহণ করে তার দিকে এক মাসের যাত্রা শুরু করেন। তারপর সিরিয়ায় গমন করে আব্দুল্লাহ ইবন উনাসের নিকট প্রবেশ করেন। তিনি দারোয়ানকে বললেন, তুমি তাকে বলো দরজায় জাবের। তখন আব্দুল্লাহ ইবন উনাইস বলল, ইবন আব্দুল্লাহ? জাবের বলল হ্যাঁ। তারপর সে কাপড় মাড়াতে মাড়াতে খুব দ্রূত বের হলো এবং দু্ই জন মু‘আনাকা করল। তখন জাবের তাকে বলল,আমি জানতে পারলাম যে, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিসাস বিষয়ে একটি হাদীস শুনেছ। তাই আমি আশঙ্কা করলাম যে, না জানি তা শোনার পূর্বে তুমি বা আমি মারা যাই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কিয়ামাতের দিন মানুষ বা বললেন বান্দাদের বিবস্ত্র, খাতনাবিহীন ও খালি হাতে একত্র করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বললাম খালি হাত কি? তিনি বললেন: তাদের হাতে কোন সম্পদ থাকবে না। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষকে তাদের হিসাবের জন্য এবং তাদের কৃত কর্মের প্রতিদান দেয়ার জন্য এক জায়গায় একত্র করবেন। তখন তারা হবেন লেংটা, খাতনাবিহীন যেমনটি তাদের মাতাগণ তাদের প্রশব করেন। তাদের হাতে তখন দুনিয়ার কোন কিছুই থাকবে না। অঃপর তিনি বলেন, “তিনি তাদের আওয়াজ দ্বারা আহ্বান করবেন”। বস্তুত আওয়াজ ছাড়া আহ্বান হয় না। আর মানুষ আওয়াজ ছাড়া আহ্বান চিনতে পারে না। তারপর আওয়াজের কথা উল্লেখ করা এখানে আহ্বানকে শক্তিশালী করার জন্য। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, আল্লাহ তা‘আলা কথা বলবেন যা আল্লাহ থেকে শোনা যাবে। আর তার জন্য রয়েছে আওয়াজ। তবে তার আওয়াজ মাখলুকের আওয়াজের সদৃশ নয়। এ কারণেই তিনি বলেছেন, আওয়াজটি যারা দূরে তারা এমনই শুনতে পাবে যেমন যারা কাছে তারা শুনতে পায়। এ সিফাতটি আল্লাহর আওয়াজের সাথে খাস। আর মাখলুকের আওয়াজ দুর্বল ও শক্তিশালী হওয়ার বিবেচনায় কেবল যারা কাছে তারা শুনতে পায়। একে প্রমাণকারী নস অনেক রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর তিনি তাদের দুইজনকে আহ্ববান করেন আমি কি তোমাদের দুইজনকে নিষেধ করিনি।” আর তার বাণী: আর আমরা তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে আহ্বান করি এবং তাকে আলাপচারিতার জন্য কাছে নিয়ে আসি। তার বাণী: আর যখন তোমার রব মূসাকে আহ্বান করল। তুমি যালেম সম্প্রদায়ের নিকট যাও। তারপর তিনি বলেন, আমি বাদশাহ, আমি তোমাদের আমলের হিসাব গ্রহণকারী এবং প্রতিদান দাতা। অর্থাৎ যে আহ্বান হাসরের মাঠে অবস্থানকারীগণ শুনবেন তা দূর থেকে শোনা যাবে যেমনটি শোনা যাবে কাছ থেকে। এ বলে আহ্বান করবেন, “আমি বাদশাহ আমিই প্রতিদান দাতা।” বস্তুত আল্লাহ তা‘আলাই হলেন বাদশাহ যার হাতে আসমানসমূহ ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা রয়েছে তাদের সবকিছুর ক্ষমতা। আর তিনি তার বান্দাদেরকে তাদের আমলের বিনিময় দানকারী। যে ব্যক্তি ভালো আমল করবে তাকে তার আমলের চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করবেন আর যে ব্যক্তি মন্দ আমল করবে তাকে উপযুক্ত বিনিময় দান করবেন। তারপর আল্লাহ বলবেন, কোন জাহান্নামীকে জাহান্নাতে প্রবেশ করানো উচিত হবে না অথচ সে কোন জান্নাতীর নিকট পাওনাদার। যতক্ষণ না তার থেকে তার বদলা নেওয়া হবে। অনুরূপভাবে কোনো জান্নাতীর জান্নাতে প্রবেশ করা উচিত হবে না অথচ তার নিকট কোনো জাহান্নামীর হক রয়েছে। এমনকি একটি থাপ্পড় পর্যন্ত। অর্থাৎ আল্লাহ তার বান্দাদের মাঝে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করবেন। তাই তিনি যালেম থেকে মাযলুমের হক আদায় করবেন। তাই কোন জাহান্নামী জাহান্নামে প্রবেশ করবে না অথচ তার জন্য কোন জান্নাতীর নিকট হক রয়েছে। যতক্ষণ না তাতে তার অধিকার গ্রহণ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এটি হলো পরিপূর্ণ ইনসাফ। কারণ, কাফির ও যালিম তারা দুইজন জাহান্নামে যাওয়া সত্বেও তাদের কোন প্রকার যুলুম করা হবে না। যদি কোন জান্নাতীর নিকট তাদের কোন পাওনা থাকে তারা তা গ্রহণ করবে। অনুরূপ অবস্থা হবে জান্নাতীদের ক্ষেত্রেও। সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, মানুষকে কীভাবে তাদের পাওনা পরিশোধ করবে অথচ তাদের সাথে দুনিয়ার কোন ধন-সম্পদ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেক আমলসমূহ ও মন্দ আমলসমূহ দ্বারা। অর্থাৎ সেদিন অধিকার আদায় করা সংঘটিত হবে এভাবে যে, মাযলুম ব্যক্তি যালেম ব্যক্তির নেকীসমূহ নিয়ে নিবে। যখন যালিম ব্যক্তির নেকীসমূহ শেষ হয়ে যাবে তখন মাযলুম ব্যক্তির বদীসমূহ নেওয়া হবে এবং তা যালিম ব্যক্তি বদীর ওপর রাখা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যেমনটি হাদীসে এসেছে।
مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م. النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير، تحقيق: طاهر أحمد الزاوى - محمود محمد الطناحي، نشر: المكتبة العلمية - بيروت، 1399هـ - 1979م. صحيح البخاري، حقق أحاديثه وعلق عليه: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: دار الصديق للنشر والتوزيع، الطبعة: الرابعة، 1418 هـ - 1997 م. مختار الصحاح، لزين الدين أبو عبد الله محمد الحنفي الرازي، تحقيق: يوسف الشيخ محمد، نشر: المكتبة العصرية - الدار النموذجية، بيروت – صيدا، لطبعة: الخامسة، 1420هـ / 1999م. شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري، لعبد الله بن محمد الغنيمان، الناشر: مكتبة الدار، المدينة المنورة، الطبعة: الأولى، 1405 هـ. معجم اللغة العربية المعاصرة، للدكتور أحمد مختار عبد الحميد عمر بمساعدة فريق عمل، الناشر: عالم الكتب، الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م.