عن أبي شُريح خُويلد بن عمرو الخزاعي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ كَان يُؤمِن بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِم ضَيفَه جَائِزَتَه»، قَالوا: وما جَائِزَتُهُ؟ يَا رسول الله، قال: «يَومُهُ ولَيلَتُهُ، والضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلك فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيه».
وفي رواية: «لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يؤْثِمَهُ» قالوا: يَا رَسول الله، وَكَيفَ يُؤْثِمَهُ؟ قال: «يُقِيمُ عِندَهُ ولاَ شَيءَ لَهُ يُقرِيهِ بهِ».
আবূ শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনে আমর আল খুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।” লোকেরা বলল, ‘তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেহমানের ওপর সাদকাহ স্ব¦রূপ।” মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের নিকট এতটা থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গোনাহগার করে ফেলে।” লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কিভাবে গোনাহগার করে ফেলে?’ উত্তরে তিনি বললেন, “মেহমান মেযবানের কাছে অবস্থান করতে থাকে, অথচ ওর এমন কিছু থাকে না, যার দ্বারা সে মেহমানের খাতির করতে পারে।”
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবূ শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনে আমর আল খুযায়ী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস মেহমানের সম্মান ও মেহমানদারি করার প্রমাণ। তার থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।” এটি মেহমানের সম্মান করার ওপর উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করনের পদ্ধতি থেকে। অর্থাৎ, মেহমানের সম্মান করা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানের আলামত এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানের পরিপূর্ণতা। যে সব কর্ম দ্বারা মেহমানের সম্মান করা হয় যেমন: হাসি মুখ, সুন্দর কথা, তিনদিন খাওয়ানো। প্রথম দিন তার সাধ্য অনুযায়ী। আর বাকী দিন কোন প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়া যা উপস্থিত থাকে তা দ্বারা যাতে তার ওপর এবং আত্মার ওপর বোঝা না হয়ে যায়। আর তিনদিন পর হবে সাদকা স্বরূপ, ইচ্ছা করলে করবে না হয় করবে না। আর তার বাণী: “সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে। আর মেহমানদারি তিনদিন।” উলামাগণ পারিতোষিকের অর্থ সম্পর্কে বলেন, একদিন এক রাত মেহমানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সম্ভাব্য কল্যাণকামি পদর্শন ও সৎ ব্যবহার করা। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন তাকে তাই খেতে দেবে যা তার জন্য সহজ হয়। তার সাধারণ খাদ্যের ওপর বাড়তি করতে হবে না। আর তিনদিন পর তা হবে সাদকাহ স্বরূপ ও হিতকামনা, যদি চায় করবে আর যদি না চায় করবে না। মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: “কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের নিকট এতটা থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গোনাহগার করে ফেলে”। এর অর্থ, মেহমানের জন্য তার নিকট তিনদিনের বেশি অবস্থান করা ঠিক হবে না যাতে তাকে গুনাহে ফেলে দেয়। কারণ, অনেক সময় সে লম্বা সময় অবস্থানের কারণে তার সমালোচনা করবে, তার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাবে যা তাকে কষ্ট দেয় অথবা তার প্রতি এমন ধারণা করবে যা অবৈধ। এ গুলো সবই তখন হয় যখন মেজবানের আকাংখা ছাড়া তিনদিনের বেশি অবস্থান করে। জানা থাকা দরকার যে, মেহমানের অবস্থা অনুযায়ী তার সম্মান করা বিভিন্ন হয়ে থাকে। কতক মানুষ আছে কাওমের সরদার এবং মুখপাত্র, তখন তার মেহমানদারি তার অবস্থান অনুযায়ী হবে। আবার কতক আছে মধ্যবৃত্ত তখন তার মেহমাদারি তার অবস্থান অনুযায়ী আবার কতক আছে নিম্ন তাকে তার অবস্থান অনুযায়ী।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423 هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
رياض الصالحين، للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ.
فتح رب البرية بتلخيص الحموية، لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض.
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ.
شرح رياض الصالحين، للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة، (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: "ما السماوات السبع والأرضون السبع في كَفِّ الرحمن إلا كَخَرْدَلَةٍ في يد أحدكم".
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সাত আসমান ও সাত যমীন রহমানের হাতের তালুতে, তোমাদের কারো হাতে একটি শস্য দানার মতোই তুচ্ছ।
ইবন জারীর এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি আয-যাহাবী “আল-উলু” কিতাবে বর্ণনা করেছেন - এটি আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানআলবানী ইবনু তাইমিয়াহ কর্তৃক হাদীসটিকে সহীহ বলার হুকুম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তার ত্রুটি ধরেননি।
ব্যাখ্যা
এ আসরটিতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমাদের সংবাদ দেন যে, রহমানের হাতে সাত আসমান ও যমীনের তুলনা সু-বিশাল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কারো হাতের তালুতে একটি ছোট শস্য দানার মতো। আর এটি একটি আপেক্ষিকতার উদাহরণ। অন্যথায় এখানে হাতের তালুকে হাতের তালুর সাথে তুলনা করা হয় নি। কারণ, কোনো কিছুই তার সিফাতের সদৃশ হতে পারে না যেমনিভাবে কোনো কিছু তার সত্ত্বার সদৃশ হতে পারে না।
সূত্র
1- فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر، الطبعة: السابعة، 1377هـ - 1957م.
2- القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية, محرم، 1424ه.
3- الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة الرياض، الطبعة: الأولى 1422هـ - 2001م.
4- الجديد في شرح كتاب التوحيد، مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م.
5- التمهيد لشرح كتاب التوحيد، دار التوحيد، تاريخ النشر: 1424هـ.
6- جامع البيان في تأويل القرآن، المؤلف: محمد بن جرير أبو جعفر الطبري، المحقق: أحمد محمد شاكر، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1420هـ - 2000م.
‘উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মাবূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সেই কালেমা যা তিনি মারইয়ামের মধ্যে নিক্ষেপ করেছেন ও তাঁর সৃষ্ট রূহ। আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তার আমল যাই হোক না কেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাওহীদের কালিমার অর্থ বুঝে সাক্ষ্য দিবে এবং তদানুযায়ী আমল করবে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হওয়ার সাক্ষ্য দিবে, তাছাড়া ঈসা ‘আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হওয়ার স্বীকার করবে, আল্লাহ তাকে ‘কুন’ (হয়ে যাও) আদেশ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তিনি কুন বলার ফলে তিনি হয়ে গেছেন। তিনি আল্লাহর সৃষ্টি রূহসমূহের একটি রূহ। ইয়াহুদিরা তাঁর মাকে যে অপবাদ দিয়ে থাকে, তা থেকে তাকে মুক্ত ঘোষণা করে, তাছাড়া সে ঈমান আনে, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, এদুয়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান বিশ্বাস করে এবং এদুটি আল্লাহর নি‘আমত ও আযাব। সে এ বিশ্বাসের উপর মারা যায়, তবে তার স্থান হবে জান্নাত; যদিও তার আমলে ক্রটি থাকে, তার গুনাহ থাকে।
শিক্ষা
আল্লাহ তা‘আলা ঈসা ইবন মারইয়াম ‘আলাইহিস সালামকে পিতাবিহীন ‘কুন’ (হয়ে যাও) কালিমার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছন।
ঈসা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে সাদৃশ্য হল তারা উভয়ে আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল। সুতরাং তাঁরা উভয়ই রাসূল তাদের অস্বীকার করা যাবে না এবং তাঁরা উভয়ে বান্দাহ তাদের ইবাদত করা যাবে না।
হাদীসটিতে তাওহীদের ফযীলত ও তা গুনাহের কাফফারা প্রমাণিত।আরো প্রমাণিত, তাওহীদবাদীদের ঠিকানা জান্নাতে; যদিও তাদের থেকে কিছু গুনাহ সংঘটিত হয়ে থাকে।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 165) (3435).
صحيح مسلم (1/ 57) (28).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص25).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص36).
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক যা করানো হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।”
এটি ইবনে মাজাহ, বায়হাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।মানইমাম নববী বলেছেন: হাদীসটি হাসান।
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর উম্মতের তিনটি অবস্থায় গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন: প্রথমটি হল: ভুল (الخطأ) —যা মানুষ থেকে ইচ্ছা ছাড়াই প্রকাশ পায়। যেমন কোন মুসলিম একটি বিষয়কে উদ্দেশ্য করল, কিন্তু ভুল করে তার কর্ম দ্বারা আরেকটি বিষয় সংঘটিত হল। দ্বিতীয়টি: ভুলে যাওয়া (النسيان)— এটি হলো এমন অবস্থা, যেখানে একজন মুসলিম কোনো বিষয় মনে রাখে, কিন্তু কাজ করার সময় সেটা ভুলে যায়। এ ক্ষেত্রেও তার কোনো গুনাহ হয় না। তৃতীয়টি: বাধ্য করা (الإكراه)—এটি সেই অবস্থা, যখন কাউকে এমন কোনো কাজ করতে জোর করা হয়, যা সে নিজে করতে চায় না এবং সে সেই জোরজবরদস্তি ঠেকাতেও অক্ষম থাকে। এই পরিস্থিতিতে তার উপর কোনো গুনাহ বা পাপ আরোপ করা হয় না। এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই কথাটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার কোনো নিষিদ্ধ কাজ (গুনাহ) করে ফেলা প্রসঙ্গে। কিন্তু কোন আদেশ পালন করতে ভুলে গেলে তা রহিত হয় না। আর যদি তার ঐ কর্মের উপর কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে বান্দার হক রহিত হবে না, যেমন যদি সে ভুল করে হত্যা করে, তাহলে তাকে রক্তপণ দিতে হবে, অথবা যদি সে ভুল করে কোন গাড়ির ক্ষতি করে, তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
শিক্ষা
আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও বান্দাদের প্রতি তাঁর কোমলতা এই বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছে, এই তিন অবস্থায় কেউ গুনাহ করলে — আল্লাহ তাদের থেকে গুনাহের বোঝা উঠিয়ে নিয়েছেন।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এবং তাঁর উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
গুনাহ মাফ করে দেওয়া মানে এই নয় যে শরয়ী বিধান বা ক্ষতিপূরণ উঠে যাবে। যেমন: কেউ যদি অজু করতে ভুলে যায় এবং মনে করে সে অজু অবস্থায় আছে— এই অবস্থায় সে সালাত পড়ে ফেলে, তাহলে এর জন্য তার কোনো গুনাহ নেই। তবে তাকে অজু করতে হবে এবং সালাতটি আবার আদায় করতে হবে।
জোরপূর্বক সংঘটিত হওয়া গুনাহ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন— বাধ্যকারী ব্যক্তিটি তার হুমকি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হতে হবে।
সূত্র
الأربعون النووية (ص127) (ح39).
سنن ابن ماجه (3/ 200) (2045).
السنن الكبرى للبيهقي (7/ 584) (15094).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص89).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص382).
عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عُمَر رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ».
ইবন `উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»
“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। -এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযানের সাওম পালন করা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে সুদৃঢ় পাঁচটি ভিত্তির উপর তুলনা করেছেন, যা উক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো যেন উক্ত ভিত্তির পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। এসব রুকনের প্রথমটি হলো: দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল -এ কথার সাক্ষ্য দান করা। এ দুটি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া মূলত একটি রুকন। একাংশ আরেক অংশ থেকে আলাদা হয় না। আল্লাহর তাওহীদের-একত্বের স্বীকৃতি ও তিনি একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত ।এ স্বীকৃতি সহকারে বান্দাহ এ কালিমা তার মুখে উচ্চারণ করবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উপর ঈমান আনায়ন ও তাঁর আনুসরণ করবে । দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা। আর তা হলো দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সহকারে আদায় করা। সেগুলো হলো: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা। তৃতীয় রুকন: ফরয যাকাত দেয়া। এটি মূলত ধন-সম্পদের উপর ফরযকৃতএকটি ইবাদত।শরী‘আহ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকলে,যাকাত পাওয়ার হকদারদেরকে প্রদান করা ফরয করেছে। চতুর্থ রুকন: হজ করা। তা হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে হজের কার্যাবলি পালনের জন্যে মক্কায় গমন করা। পঞ্চম রুকন: রমযানের সাওম পালন করা। আর তা হলো ইবাদতের নিয়তে রমযান মাসে ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
শিক্ষা
দু’টি কালিমার সাক্ষ্য একত্রে দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং একটি বাদে অপরটি বিশুদ্ধ হবে না। এ কারণে দু’টি কালিমার সাক্ষ্যকে একটি রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দ্বীনের মূল। সুতরাং কারো কোন কথা ও আমল এ দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া ব্যতীত গ্রহণ করা হবে না।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 11) (8)، صحيح مسلم (1/ 45) (16)، و(1/ 88) (82)، فتح الباري لابن رجب (1/ 22)، جامع العلوم والحكم (1/147)، شرح الأربعين لابن العطّار (ص 62)، شرح الأربعين النووية لعبد الكريم الخضير (ص 87)، فتح القوي المتين في شرح الأربعين للعباد (ص 29)، شرح الأربعين النووية لصالح آل الشيخ (ص 91 - 95)، التحفة الربانية لإسماعيل الأنصاري (ص 12).
জাবির রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! দুটি আবশ্যককারী বিষয় কী কী? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি দুটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: প্রথমটি হচ্ছে: যা জান্নাতে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে: যা জাহান্নামে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন: যে গুণটি জান্নাতকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: মানুষ মারা যাবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা অবস্থায়। আর যে দোষ জাহান্নামকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: একজন মানুষ এমন অবস্থায় মারা যাবে যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে। ফলে সে আল্লাহর উলূহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত, সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও সাদৃশ্য নির্ধারণ করবে।
শিক্ষা
হাদীসে তাওহীদের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি মুমিন হিসেবে মারা যাবে এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
অনুরূ এতে শিরকের ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
তাওহীদপন্থীদের পাপী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার অধীন। তিনি যদি চান, তাহলে তাদেরকে আযাব দিবেন, আর যদি চান তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। সবশেষে তাদের স্থান হবে জান্নাতে।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 94) (93)، إكمال المعلم بفوائد مسلم (1/ 363)، شرح النووي على مسلم (2/96) المفهم للقرطبي (1/290)، تطريز رياض الصالحين (ص 281)، الكوكب الوهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج (3/63).
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য হতে একদল মানুষ এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমরা আমাদের অন্তরে এমন অনেক কিছুর উদ্রেক লক্ষ করি, যা মুখে আনা আমাদের যে কারো জন্যই প্রায় অসম্ভব। তিনি বললেন: “তোমরা এমনটি বোধ কর?” তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন: “তা হচ্ছে সুস্পষ্ট ঈমান।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী এসে তাকে তাদের অন্তরে জাগ্রত হওয়া ব্যাপারগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যেগুলো অত্যন্ত জঘন্য বা খারাপ হওয়া এবং তার প্রতি ঘৃণা থাকার কারণে তা মুখে আনাও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের এ অনুভূতি হচ্ছে সুস্পষ্ট ঈমান এবং এটা এমন দৃঢ়-বিশ্বাস যে, শয়তান তোমাদের অন্তরে যা নিক্ষেপ করে এবং তা তোমাদের মুখে উচ্চারণ করা ও তোমাদের অন্তরে খারাপ লাগার মাধ্যমে সেগুলোকে প্রতিহত করে। শয়তান তোমাদের অন্তরকে তাদের মত করে পরাভূত করতে পারেনি, এটি যাদের অন্তর শয়তান পরাভূত করেছে আর তাদের এগুলোকে প্রতিহত করার অনুভূতিও জাগ্রত হয় না তার বিপরিত।
শিক্ষা
হাদীসটিতে মুমিনদের কাছে শয়তানের দুর্বলতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে; যেহেতু শয়তান শুধুমাত্র ওয়াসওয়াসা দেওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোন কিছুই করতে পারে না।
অন্তরে যা কিছু ওয়াসওয়াসার উদ্রেক হয়, তা বিশ্বাস অথবা গ্রহণ করা যাবে না; কেননা তা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।
শয়তানের ওয়াসওয়াসা মুমিনের কোন ক্ষতি করতে পারে না। তবে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে মুমিন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তাতে সুযোগ দেওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
মুমিনের জন্য তার দীনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কোন সংশয় তৈরি হলে, সে ব্যাপারে নিরব থাকা উচিত নয়; বরং সে ব্যাপারে তার জিজ্ঞাসা করা উচিত।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 119) (132)، معالم السنن (4/174)، المفهم للقرطبي (1/344)، شرح النووي على مسلم (2/154)، البحر المحيط الثجاج (3/622).
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: جاءَ رجُلُ إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسولَ اللهِ، إن أحدنا يجدُ في نفسِهِ -يُعرِّضُ بالشَّيءِ- لأَن يكونَ حُمَمَةً أحَبُّ إليه من أن يتكلَّم بِهِ، فقال: «اللهُ أكبرُ، اللهُ أكبرُ، الحمدُ لله الذي ردَّ كيدَه إلى الوسوسَةِ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একজন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো অন্তরে এমন কিছুর উদ্রেক হয় -তিনি পরোক্ষভাবে জিজ্ঞাসা করলেন- যেগুলো মুখে উচ্চারণ করার থেকে তার কাছে (জ্বলন্ত) কয়লায় রূপান্তরিত হওয়া বেশি পছন্দনীয় মনে হয়। তখন তিনি বললেন: “আল্লাহই সবচেয়ে বড়, আল্লাহই সবচেয়ে বড়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শয়তানের ষড়যন্ত্রকে ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে দুর্বল করে দিয়েছেন।”
সুনানে আবূ দাউদ ও নাসায়ীর সুনানুল কুবরামানসহীহ
ব্যাখ্যা
জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আরয করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য হতে কারো কারো অন্তরে এমন বিষয় জাগ্রত হয়, যেগুলো সম্পর্কে কথা বলা এমন বড় ধরণের পাপ, যা উচ্চারণ করা থেকে তার কাছে ছাই হয়ে যাওয়া অধিকতর প্রিয়। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইবার তাকবীর পাঠ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন এ কারণে যে, তিনি শয়তানের ষড়যন্ত্রকে শুধুমাত্র ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
শিক্ষা
হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শয়তান মুমিনকে ওয়াসওয়াসা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে; যাতে করে তাদেরকে ঈমান থেকে কুফুরীর দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে।
এ হাদীসে মুমিনদের কাছে শয়তানের দুর্বলতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেহেতু শয়তান শুধুমাত্র ওয়াসওয়াসা দেওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোন কিছুই করতে পারে না।
মুমিনের জন্য আবশ্যক যে, সে শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে উপক্ষো করবে এবং তা প্রতিহত করবে।
পছন্দনীয়, আশ্চর্যজনক অথবা অনুরূপ কোন বিষয় উপস্থিত হলে তাকবীর বলা শরী‘আহসম্মত একটি কাজ।
দ্বিধা-সন্দেহ রয়েছে এমন প্রতিটি বিষয়েই মুসলিম ব্যক্তির আলিমের কাছে প্রশ্ন করা উচিত।
সূত্র
سنن أبي داود (7/ 435) (5112) السنن الكبرى للنسائي (9/ 249) (10435)، شرح سنن أبي داود للعباد (580/ 28)، صحيح مسلم (1/ 119) (132)، شرح سنن أبي داود لابن رسلان (19/370)، ومرقاة الصعود (3/1301).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com