‘উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের পিতা-পিতামহের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন।” উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি সেচ্ছায় বা ভুলক্রমে কখনোই তাদের নামে কসম করিনি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে জানিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পিতা-পিতামহের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং কারো কসম করতে হলে সে যেন মহান আল্লাহর নামে কসম করে। তিনি ব্যতীত অন্য কারো নামে যেন কসম না করে। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উল্লেখ করেন, তিনি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা থেকে নিষেধ করতে শুনেছেন, তখন থেকে সেচ্ছায় বা কেও আল্লাহ ছাড়া অন্যের কসম করেছেন আর তা তিনি মুখ দিয়ে বর্ণনা করেছেন এমনটি হয়নি।
শিক্ষা
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা হারাম। হাদীসে বিশেষভাবে পিতৃপুরুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ জাহেলী যুগে এটি তাদের অভ্যাস ছিলো।
কসম হলো: আল্লাহর নামের দ্বারা বা তাঁর অন্যান্য নামসমূহের দ্বারা অথবা তাঁর সিফাতসমূহের দ্বারা শপথ করে কোন ব্যাপারে তাগিদ আরোপ করা।
হাদীসে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে, যেহেতু তিনি তাৎক্ষণিক ব্যাপারটি আমল করেছেন, উত্তমরূপে বুঝেছেন এবং বিষয়টি নিজে পরিহার করেছেন।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 132) (6647).
صحيح مسلم (3/ 1266) (1646).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص684).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 134).
عن عائشة أم المؤمنين وعبد الله بن عباس رضي الله عنهما قالا: لَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ بِهَا كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ: «لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى اليَهُودِ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا.
আয়িশাহ ও ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত,তাঁরা উভয়ে বলেছেন , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদর নিজ মুখমন্ডলের ওপর নিক্ষেপ করতে থাকেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হয়, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দেন। এই অবস্থায় তিনি বললেনঃ “ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে”। (এ বলে) তারা যে কার্যকলাপ করত তা হতে সতর্ক করেছিলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
‘আয়িশা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হাজির হলো তখন তিনি একটি কাপড়ের অংশ তার মুখমন্ডলের ওপর রাখছিলেন। মৃত্যু যন্ত্রণার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করা কঠিন হলে তা নিজ চেহারা থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি এই কঠিন অবস্থায় বললেন, আল্লাহ ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ওপর লানত করুন এবং তাদেরকে তার রহমত থেকে বঞ্চিত করুন। কারণ, তারা তাদের নবীদের কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করেছে। বিষয়টি ভয়ঙ্কর না হলে এই অবস্থায় তা উল্লেখ করতেন না। একারণেই তাঁর উম্মাতকে ঐ কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আমল করা থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ, তা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কর্ম। অধিকন্তু তা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরকের উকরণ যা সেদিকেই নিয়ে যায়।
শিক্ষা
নবী ও সৎব্যক্তিদের কবরকে সালাত আদায়ের মসজিদ বানানো নিষিদ্ধ। কারণ, তা শিরকের উপকরণ।
তাওহীদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কঠিন যত্ন ও গুরুত্বারোপ করা। কারণ, তা শিরকের দিকে ধাবিতকারী।
ইহুদী খৃষ্টান এবং যারা তাদের মতো কবরের উপর পাকা করে মাজার নির্মান ও ওলীর কবরস্থানে মসজিদ বানায় তাদেরকে অভিশাপ করা বৈধ।
কবরসমূহের ওপর সৌধ-মাজার নির্মাণ করা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের রীতি।হাদীসটিতে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
কবরের নিকট ও কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় কবরকে মসজিদ বানানোর শামিল, যদিও মসজিদ নির্মান না করা হয়।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 95) (435)، (2/ 102) (1390).
صحيح مسلم (1/ 377) (531)، (1/ 376) (529).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان (ص170).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي (ص185).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেন, আমি অংশীদারদের চেয়ে অংশীদারিত্ব [শির্ক] থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। কেউ যদি এমন কাজ করে, যাতে সে আমার সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করে, তাহলে আমি তাকে তার অংশীদারিত্ব [শির্ক] সহ বর্জন করে থাকি।’’ [1]
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেছেন: তিনি অংশীদারদের চেয়ে অংশীদারিত্ব [শির্ক] থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। তিনি সবকিছু থেকেই অমুখাপেক্ষী। মানুষ যখন কোন আনুগত্যের(নেকীর) কাজ করে এবং তাতে যদি সে আল্লাহ ও আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্য করে, তাহলে আল্লাহ তা বর্জন করেন, তিনি তার এ আমল কবুল করেন না এবং তিনি তা আমলকারীর দিকে ফিরিয়ে দেন। সুতরাং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল করা ফরয; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার উদ্দেশ্যে কৃত আমলসমূহ কবুল করেন।
শিক্ষা
শিরকের সকল প্রকারের থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এটি আমল কবুল না হওয়ার কারণ।
আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা ও তাঁর বড়ত্ব অনুভব করা, যা আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস আনায়ন করতে সাহায্য করে।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2289) (2985).
شرح النووي على مسلم (18/ 115).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص287).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص325).
জুনদুব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পাঁচদিন আগে তাঁকে বলতে শুনেছি, “তোমাদের কেউ আমার খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হওয়া থেকে আমি আল্লাহর কাছে নিষ্কৃতি চাইছি; কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাকে খলীলরূপে গ্রহণ করেছেন, যেমনিভাবে খলীলরূপে গ্রহণ করেছিলেন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামকে। আমি যদি আমার উম্মাতের মধ্যে কাউকে খলীলরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবূ বকরকেই খলীলরূপে গ্রহণ করতাম। সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককারদের কবরগুলোকে মাসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মাসজিদ বানিও না। আমি তোমাদের তা থেকে নিষেধ করছি।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে তার মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা ভালোবাসার সর্বোচ্চ শিখরে, যেমনিভাবে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তা অর্জন করেছিলেন। এ কারণে তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে
গ্রহণ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; কেননা তার অন্তর আল্লাহ তা‘আলার ভালোবাসা, সম্মান ও তাঁর পরিচয় দিয়ে পরিপূর্ণ। ফলে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানোর কোন স্থান নেই। সৃষ্টিজগতের কেউ যদি তার খলীল হতেন, তবে আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু ‘আনহুই হতেন। অতপর তিনি উম্মতকে তাঁর প্রতি ভালোবাসার শর‘ঈ সীমা লঙ্ঘন করতে সাবধান করেছেন, যেমনিভাবে ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা তাদের নবী ও নেককারদের কবরের সাথে করেছে, এমনকি তারা তাদের কবরকে শিরকের মাধ্যম করেছে, যেখানে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা হয়। তারা তাদের কবরকে মসজিদ ও উপাসনালয় বানিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে পূর্ববর্তী উম্মতের অনুরূপ (কবরকে মসজিদে পরিণত) করতে নিষেধ করেছেন।
শিক্ষা
হাদীসে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবী এবং তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর খিলাফতের ব্যাপারে তিনি সর্বোত্তম মানুষ ছিলেন।
কবর কেন্দ্রিক মসজিদ স্থাপন করা পূর্ববর্তী উম্মতের একটি নিকৃষ্ট কাজ ছিলো।
কবরকে ইবাদতের জায়গায় পরিণত করা, তাতে সালাত আদায় করা, এর উপরে মসজিদ নির্মাণ করা অথবা গম্বুজ বানানো, ইত্যাদি নিষিদ্ধ। এগুলোর কারণে শিরকে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
সালেহীনদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন থেকে সাবধান করা হয়েছে; কেননা এগুলো মানুষকে শিরকে পৌঁছায়।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা থেকে উম্মতকে সাবধান করেছেন সেগুলোর ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে। যেহেতু তিনি মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে এগুলোর ব্যাপারে কঠোরভাবে সাবধান করেছেন।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 377) (532).
شرح النووي على مسلم (5/ 13).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص188).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص172).
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللهُ وَشَاءَ فُلَانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ شَاءَ فُلَانٌ
‘তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়। বরং তোমরা বলো, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়।’
সুনানে আবূ দাউদ, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও মুসনাদে আহমদমানহাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্রের সমন্বয়ে সহীহ।
ব্যাখ্যা
মুসলিমকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তায় এমন কথা বলতে নিষেধ করেছেন: ”আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়”। অথবা আল্লাহ ও অমুক যা চান। কারণ আল্লাহর ইচ্ছা ও চাওয়া মুতলাক (সর্ব ব্যাপক), আল্লাহর চাওয়ার সাথে কেউ অংশীদার নেই। উপরিউক্ত বাক্যে হরফে আতফ (অব্যয় সূচক বর্ণ) ওয়াও (واو) এর ব্যবহার অন্য কারো ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে অংশীদার ও সমতা বুঝায়। বরং বলতে হবে, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়। এখানে ওয়াও-এবং (واو) এর পরিবর্তে ছুম্মা-অতপর (ثم) এর ব্যবহার করার ফলে বান্দাহর চাওয়া ও ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন করা হয়েছে। কেননা ছুম্মা দ্বারা কোন কিছুকে কারো পশ্চাতে ও কোন কাজের পরে হওয়া বুঝায়(যার ফলে সেখানে কোন অংশীদারিত্ব ও সমতা থাকে না)।
শিক্ষা
‘আল্লাহ এবং তুমি যা চাও’ বলা হারাম। এছাড়াও এ ধরনের বাক্য যা হরফে আতফ ওয়াও ইত্যাদি দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তা হারাম। কেননা এতে শব্দে ও কথার মাধ্যমে (ছাট) শিরক হয়।
‘আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়’ এবং এ জাতীয় শব্দ যা আল্লাহ শব্দের পরে হরফে আতফ ”ছুম্মা”-অতপর দ্বারা সংযুক্ত হয়, বলা জায়েয। কেননা এতে যা থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তা আর থাকে না।
এখানে আল্লাহর ইচ্ছা এবং বান্দাহর ইচ্ছা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে বান্দাহর ইচ্ছা অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সৃষ্টি কে অংশীদার করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে; যদিও তা শব্দের মাধ্যমে হোক।
কোন ব্যক্তি যদি বিশ্বাস করে যে, বান্দাহর ইচ্ছা মহান আল্লাহর ইচ্ছার মতোই ব্যাপক ও সর্বব্যাপী অথবা বান্দাহর স্বতন্ত্র ইচ্ছা রয়েছে, এমন ধারণা পোষণ করা বড় শিরক। তবে বান্দাহর ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার চেয়ে ছোট বলে ধারণা করে তবে তা ছোট শিরক।
সূত্র
السنن الكبرى للنسائي (9/ 361) (10755).
سنن أبي داود (7/ 334) (4980).
مسند أحمد (38/ 299) (23265)، (38/ 364) (23339).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص368).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص329).
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: "لأن أحلف بالله كاذبًا أحب إليَّ من أن أحلف بغيره صادقًا".
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা আমার কাছে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে সত্য শপথ করার চেয়ে উত্তম।
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুর রায্যাক বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো একটি মিথ্যা বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম খাওয়া আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে সত্য কসম খাওয়ার চেয়ে উত্তম। তিনি আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করাকে অন্য কারো নামে সত্য শপথ করার উপর প্রধান্য দিয়েছেন। কেননা এখানে আল্লাহর নামে শপথের মাধ্যমে তাওহীদের সাওয়াব পাওয়া যাবে, যদিও এখানে মিথ্যার গুনাহ রয়েছে। অন্য কারো নামে সত্য শপথ করার মধ্যে সত্যবাদীতার কল্যাণ রয়েছে। কিন্তু তাতে রয়েছে শির্কের গুনাহ। তবে তাওহীদের ছাওয়াব সত্যবাদিতার ছাওয়াবের চেয়ে বেশি। আর মিথ্যাবাদিতার গুনাহ শির্কের গুনাহর চেয়ে সহজতর।
সূত্র
كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب ص252 ت: د. دغش العجمي . مكتبة أهل الأثر , الطبعة الخامسة , 1435ه
الجديد في شرح كتاب التوحيد لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد , مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه
الملخص في شرح كتاب التوحيد للشيخ صالح الفوزان , دار العاصمة , الطبعة الأولى 1422ه
المصنف لابن أبي شيبة, ت: كمال يوسف الحوت, مكتبة الرشد, الطبعة: الأولى، 1409
إرواء الغليل للألباني , المكتب الإسلامي , ط2, 1405ه
‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমরা আমার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমনটি খৃস্টানরা ঈসা ইবনু মারইয়াম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি তো কেবল তাঁর (আল্লাহর) বান্দা। তাই তোমরা বল, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রশংসা এবং আল্লাহর গুণাবলী ও তাঁর সাথে নির্ধারিত কর্মসমূহের দ্বারা তার গুণাবলী বর্ণনা অথবা তিনি গায়েব জানেন অথবা তাকে আল্লাহর সাথে তাকে ডাকা যাবে ইত্যাদি ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও শরী‘আতের সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন, যেমনিভাবে খৃস্টানরা ঈসা ইবনু মারইয়াম ‘আলাইহিস সালামের ব্যাপারে করে থাকে। অতপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর একজন বান্দা। তিনি তাকে সম্বোধন করতে আদেশ করেছেন: ‘আল্লাহর বান্দা ও রাসূল’ বলে।
শিক্ষা
কারো সম্মান ও প্রশংসা করতে শরী‘আতের সীমারেখা অতিক্রম করতে সতর্ক করা হয়েছে। কেননা এটি শিরকের দিকে ধাবিত করে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা থেকে সতর্ক করেছেন, তা এ উম্মতের মধ্যে সত্যিকারেই সংঘটিত হয়েছে। একদল রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে। আবার আরেকদল আহলে বাইতের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে আরেকদল আউলিয়াদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে। ফলে তারা সকলেই শিরকে পতিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে ‘আল্লাহর বান্দা’ বলে বর্ণনা করেছেন; যাতে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি আল্লাহর প্রতিপালিত একজন গোলাম। সুতরাং রবের বৈশিষ্টসমূহ হতে কোন বৈশিষ্ট তার জন্য নির্ধারণ করা জায়েয নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে ‘আল্লাহর রাসূল’ বলে বর্ণনা করেছেন; যাতে স্পষ্ট হয়, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। সুতরাং তাঁকে বিশ্বাস করা ও তাঁর অনুসরণ করা ফরয।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 167) (3445).
عمدة القاري شرح صحيح البخاري، محمود بن أحمد بدر الدين العيني (16/ 37).
فتح الباري، لابن حجر (6/ 490).
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، حمزة محمد قاسم (4/ 208).
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ থেকে বেশি সৌভাগ্যশালী হবে আপনার শাফাআত দ্বারা কোন লোকটি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে তোমার আগে কেউ এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না। কারণ হাদীসের ব্যাপারে তোমার চেয়ে অধিক আগ্রহী আর কাউকে আমি দেখিনি। কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত দ্বারা সর্বাধিক সৌভাগ্যশালী ঐ ব্যক্তি হবে যে খালেস অন্তর বা মনথেকে বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ)।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন তাঁর শাফাআত দ্বারা সর্বাধিক সৌভাগ্যশালী ঐ ব্যক্তি হবে যে খালেস অন্তর থেকে বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত মাবূদ নেই এবং সে শিরক ও রিয়া থেকে মুক্ত থাকবে।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আখিরাতে শাফা‘আত করা প্রমাণিত। আর তিনি তাওহীদে বিশ্বাসীদের ব্যতীত অন্য কাউকে শাফা‘আত করবেন না।
তাওহীদপন্থীদের মধ্যে যারা জাহান্নামী হবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আতের কারণে তারা আর জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অন্যদিকে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, তাদেরকে সেখান থেকে বের করে আনা হবে।
হাদীসে আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ তাওহীদের ফযিলত ও এর মহান প্রভাব বর্ণিত হয়েছে।
তাওহীদের কালিমা সাব্যস্ত হবে তার অর্থ জানা ও সে অনুযাযী আমল করার মাধ্যমে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ফযিলত ও ইলমের ব্যাপারে তার আগ্রহ বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 31) (99).
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة محمد قاسم (1/ 197).
القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 343).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com