মুসলিমকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তায় এমন কথা বলতে নিষেধ করেছেন: ”আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়”। অথবা আল্লাহ ও অমুক যা চান। কারণ আল্লাহর ইচ্ছা ও চাওয়া মুতলাক (সর্ব ব্যাপক), আল্লাহর চাওয়ার সাথে কেউ অংশীদার নেই। উপরিউক্ত বাক্যে হরফে আতফ (অব্যয় সূচক বর্ণ) ওয়াও (واو) এর ব্যবহার অন্য কারো ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে অংশীদার ও সমতা বুঝায়। বরং বলতে হবে, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়। এখানে ওয়াও-এবং (واو) এর পরিবর্তে ছুম্মা-অতপর (ثم) এর ব্যবহার করার ফলে বান্দাহর চাওয়া ও ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন করা হয়েছে। কেননা ছুম্মা দ্বারা কোন কিছুকে কারো পশ্চাতে ও কোন কাজের পরে হওয়া বুঝায়(যার ফলে সেখানে কোন অংশীদারিত্ব ও সমতা থাকে না)।
- ‘আল্লাহ এবং তুমি যা চাও’ বলা হারাম। এছাড়াও এ ধরনের বাক্য যা হরফে আতফ ওয়াও ইত্যাদি দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তা হারাম। কেননা এতে শব্দে ও কথার মাধ্যমে (ছাট) শিরক হয়।
- ‘আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়’ এবং এ জাতীয় শব্দ যা আল্লাহ শব্দের পরে হরফে আতফ ”ছুম্মা”-অতপর দ্বারা সংযুক্ত হয়, বলা জায়েয। কেননা এতে যা থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তা আর থাকে না।
- এখানে আল্লাহর ইচ্ছা এবং বান্দাহর ইচ্ছা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে বান্দাহর ইচ্ছা অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
- আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সৃষ্টি কে অংশীদার করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে; যদিও তা শব্দের মাধ্যমে হোক।
- কোন ব্যক্তি যদি বিশ্বাস করে যে, বান্দাহর ইচ্ছা মহান আল্লাহর ইচ্ছার মতোই ব্যাপক ও সর্বব্যাপী অথবা বান্দাহর স্বতন্ত্র ইচ্ছা রয়েছে, এমন ধারণা পোষণ করা বড় শিরক। তবে বান্দাহর ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার চেয়ে ছোট বলে ধারণা করে তবে তা ছোট শিরক।
السنن الكبرى للنسائي (9/ 361) (10755). سنن أبي داود (7/ 334) (4980). مسند أحمد (38/ 299) (23265)، (38/ 364) (23339). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص368). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص329).