নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর উম্মতের তিনটি অবস্থায় গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন: প্রথমটি হল: ভুল (الخطأ) —যা মানুষ থেকে ইচ্ছা ছাড়াই প্রকাশ পায়। যেমন কোন মুসলিম একটি বিষয়কে উদ্দেশ্য করল, কিন্তু ভুল করে তার কর্ম দ্বারা আরেকটি বিষয় সংঘটিত হল। দ্বিতীয়টি: ভুলে যাওয়া (النسيان)— এটি হলো এমন অবস্থা, যেখানে একজন মুসলিম কোনো বিষয় মনে রাখে, কিন্তু কাজ করার সময় সেটা ভুলে যায়। এ ক্ষেত্রেও তার কোনো গুনাহ হয় না। তৃতীয়টি: বাধ্য করা (الإكراه)—এটি সেই অবস্থা, যখন কাউকে এমন কোনো কাজ করতে জোর করা হয়, যা সে নিজে করতে চায় না এবং সে সেই জোরজবরদস্তি ঠেকাতেও অক্ষম থাকে। এই পরিস্থিতিতে তার উপর কোনো গুনাহ বা পাপ আরোপ করা হয় না। এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই কথাটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার কোনো নিষিদ্ধ কাজ (গুনাহ) করে ফেলা প্রসঙ্গে। কিন্তু কোন আদেশ পালন করতে ভুলে গেলে তা রহিত হয় না। আর যদি তার ঐ কর্মের উপর কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে বান্দার হক রহিত হবে না, যেমন যদি সে ভুল করে হত্যা করে, তাহলে তাকে রক্তপণ দিতে হবে, অথবা যদি সে ভুল করে কোন গাড়ির ক্ষতি করে, তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও বান্দাদের প্রতি তাঁর কোমলতা এই বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছে, এই তিন অবস্থায় কেউ গুনাহ করলে — আল্লাহ তাদের থেকে গুনাহের বোঝা উঠিয়ে নিয়েছেন।
- নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এবং তাঁর উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
- গুনাহ মাফ করে দেওয়া মানে এই নয় যে শরয়ী বিধান বা ক্ষতিপূরণ উঠে যাবে। যেমন: কেউ যদি অজু করতে ভুলে যায় এবং মনে করে সে অজু অবস্থায় আছে— এই অবস্থায় সে সালাত পড়ে ফেলে, তাহলে এর জন্য তার কোনো গুনাহ নেই। তবে তাকে অজু করতে হবে এবং সালাতটি আবার আদায় করতে হবে।
- জোরপূর্বক সংঘটিত হওয়া গুনাহ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন— বাধ্যকারী ব্যক্তিটি তার হুমকি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হতে হবে।
الأربعون النووية (ص127) (ح39). سنن ابن ماجه (3/ 200) (2045). السنن الكبرى للبيهقي (7/ 584) (15094). التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص89). شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص382).