ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একইভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ(সামিয়াল্লাহু লিমান হামেদাহ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদু) বলতেন। কিন্তু সাজদার সময় তিনি এমন করতেন না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে তিন স্থানে কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করতেন, কাঁধ হচ্ছে: গলার পাশের হাড় ও বাহুর সংযোগস্থল।
প্রথম স্থান: সালাতের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা(আল্লাহু আকবার) বলার সময়।
দ্বিতীয় স্থান: রুকুর জন্য”আল্লাহু আকবার” বলার সময়।
তৃতীয় স্থান: রুকু থেকে মাথা উঠানোর সাথে سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد (সামিয়াল্লাহু লিমান হামেদাহ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদু)বলার সময়।
সিজদা শুরু করার সময় এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তাঁর উভয় হাত উঠাতেন না।
শিক্ষা
রফ‘উল ইয়াদাইন তথা দুই হাত উত্তোলনের তাৎপর্েযর অন্যতম হচ্ছে: এটা সালাতের সৌন্দর্য্য এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য সম্মান প্রদর্শন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চতুর্থ আরেকটি স্থানেও দুই হাত উত্তোলন করা সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন আবু হুমাইদ আস-সা‘ঈদী রদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে আবূ দাঊদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। সে স্থানটি হচ্ছে- চতুর্থ অথবা তৃতীয় রাকাত বিশিষ্ট সালাতের প্রথম তাশাহ্হুদ থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো সাব্যস্ত হয়েছে , তিনি তাঁর দুই হাত দ্বারা স্পর্শ না করেই কান পর্যন্ত উঠাতেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমে মালিক ইবনুল হুয়াইরিছ রদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর বলতেন, তখন তাঁর দুই হাত স্বীয় কান বরাবর উঠাতেন।”
সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ এবং রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ একত্রে বলার ব্যাপারটি ইমাম এবং একক সলাত আদায়কারীর জন্য খাস। আর মুক্তাদী রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রুকুর পরে ”রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” চারভাবে বলা প্রমাণিত, আর এটি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে একটি। সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি এভাবে একবার বলবে, অন্যভাবে আরেকবার বলবে এবং এভাবে অন্যান্যগুলোও একেকবার বলবে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 148) (735).
صحيح مسلم (1/ 292) (390).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 122).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص151).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 192).
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত তাঁর উভয় হতের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন,তা হলো :
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا
وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্রতা-উত্তমতা আল্লাহরই জন্য। হে নবী ! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।বর্ষিত হোক সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অপর বর্ণনায় বর্ণিত,
«إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ، فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ».
আল্লাহর নামই হলো সালাম। সকল বড়ত্ব-প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্র-উত্তম আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।” যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আসমানে ও জমিনের আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়। (পরে সে বলবে:) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” এরপর তার যা মন চায় দু’আ করবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যা সালাতে পড়া হয়। তিনি শিক্ষা দেওয়ার সময় তাঁর হাত ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর দু হাতের মধ্যে রেখেছিলেন, যাতে ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মনোযোগ সেদিকে থাকে, যেভাবে তিনি তাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন। এ দ্বারা তাশাহুদের শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রমাণ করে। অতঃপর তিনি বলেন: "التَّحِيَّات لله"সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা আল্লাহরই জন্য । আর তা হলো: সকল কথা ও কাজ যা আল্লাহর মহত্ত্ব প্রমাণ করে। সবই আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। "الصَّلَوَاتُ": সালাতসমূহ এ হলো প্রচলিত ফরয ও নফল সালাতসমূহ(এমনকি যাবতিয় ইবাদত) একমাত্র আল্লাহর জন্যে। "الطَّيِّبَاتُ": সকল পবিত্রতা-উত্তমতা। তা হলো: সকল উত্তম কথা, কাজ ও গুণ যা আল্লাহর পরিপূর্ণতার উপর প্রমাণ করে, একমাত্র আল্লাহই এসব কিছুর উপযুক্ত। "السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته":
হে নবী ! আপনার উপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সবধরনের নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে সমস্ত বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সমস্ত কল্যাণের বৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের জন্যে দু‘আ। "السلام علينا وعلى عباد الله ”
আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর প্রশান্তি ও সকল অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা বর্ষিত হোক। মুসল্লী ও আসমান ও জমিনে বিদ্যমান সকল নেক বান্দাহদের শান্তি-নিরাপত্তার জন্যে দু‘আ। "أشهد أن لا إله إلا الله":
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই অর্থাৎ আমি দৃঢ়ভাবে স্বীকার করি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই। "وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ":
এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি তার আল্লাহর বান্দাহ হওয়া এবং শেষ নবী হওয়া স্বীকার করি।
এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীকে ইচ্ছে মতো (হাদীসে বর্ণিত দু‘আ থেকে) দু‘আ করতে উৎসাহিত করেছেন।
শিক্ষা
তাশাহহুদ পড়ার সময় হলো প্রত্যেক সালাতের শেষ রাক‘আতের সিজদার পরে বসা অবস্থায় এবং তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে দ্বিতীয় রাক‘আত শেষ করে।
তাশাহহুদে আত্তাহিয়্যাতু পড়া ওয়াজিব। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত অন্যান্য শব্দাবলী দ্বারাও তাশাহহুদ পাঠ করা যায়।
সালাতে পছন্দমতো দু‘আ করা জায়েয; যতক্ষণ তা গুনাহের জন্যে না হবে।
দু‘আর ক্ষেত্রে নিজের জন্যে আগে শুরু করা মুস্তাহাব।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 59) (6265).
صحيح مسلم (1/ 301) (402).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 168).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص206).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص94).
عن أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة يُكَبِّرُ حين يقوم، ثم يُكَبِّرُ حين يركع، ثم يقول: سَمِعَ اللَّه لِمَنْ حَمِدَهُ، حين يَرْفَعُ صُلْبَهُ من الرَّكْعَةِ، ثم يقول وهو قائم: ربنا ولك الحمد، ثم يُكَبِّرُ حين يَهْوِي، ثم يُكَبِّرُ حين يَرْفَعُ رأسه، ثم يُكَبِّرُ حين يَسْجُدُ، ثم يُكَبِّرُ حين يَرْفَعُ رأسه، ثم يفعل ذلك في صلاته كلها حتى يقضيها، ويُكَبِّرُ حين يقوم من الثِّنْتَيْنِ بعد الجلوس، ثم يقول: أبو هريرة «إني لأشَبَهُكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়ানোর সময় তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর যখন রুকূতে যেতেন তাকবীর বলতেন। অতঃপর যখন রুকূ‘ হতে মেরু দন্ড সোজা করতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় ربنا ولك الحمد বলতেন। তারপর যখন ঝুঁকতেন তাকবীর বলতেন আবার যখন মাথা উঠাতেন তাকবীর বলতেন। অতঃপর সাজদাহ যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ না করা পর্যন্ত করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরায়রা বলেন, “আমি সালাত আদায়ে রাসূলুল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তোমাদের চেয়ে বেশি সাদৃশ রাখি”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সালাত পুরোটাই কথা ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্ব প্রকাশ করার নাম। এ হাদীস শরীফে সালাতের একটি নির্দশনের বর্ণনা রয়েছে। আর তা হলো আল্লাহর জন্যে বড়ত্ব ও মহত্বকে সাব্যস্ত করা। বস্তুত সালাতকে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করার জন্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেই তাকবীরকে তার একটি নিদর্শন ও আলামত সাব্যস্ত করা হয়েছে।
অতএব যখন সালাতে প্রবেশ করবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমাহ বলবে, ক্বিরাত থেকে ফারেগ হয়ে যখন রুকুতে ঝুঁকবে তখন তাকবীর বলবে। আর যখন রুকু থেকে দাঁড়াবে, তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে সম্পূর্ণরূপে দাঁড়াবে। তারপর দাঁড়ানো অবস্থায় আল্লাহর প্রসংশা করবে।
অতঃপর সেজদার জন্যে ঝুঁকাতে তাকবীর বলবে। তারপর যখন সেজদা থেকে মাথা উঠাবে তাকবীর বলবে। এভাবে সে তার পুরো সালাত থেকে ফারেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত করে যাবে। দুই তাশাহুদওয়ালা সালাতে যখন সে প্রথম তাশাহুদ থেকে ফারেগ হবে তখন দাঁড়ানোর সময় তাকবীর বলবে। সুতরাং সালাতের প্রতিটি উঠবসকে তাকবীরের সাথে খাস করা হয়েছে তবে রুকু থেকে উঠার সময় ব্যতিত।
সূত্র
الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381ه
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ
تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426ه
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423 هـ.
عن أَنَس بن مالك رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اعْتَدِلُوا في السجود، ولا يَبْسُطْ أحدكم ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الكلب».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে না রাখে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ মুসল্লী সিজদায় সুন্দর আকৃতিতে হবে। সে তার দু‘হাতের তালু যমীনের উপর রাখবে, দু’বাহু আগলা করবে এবং বাহুদ্বয়কে দু’পার্শ্ব থেকে দূরে রাখবে। কেননা এ অবস্থা হলো উৎসাহ-উদ্দীপনার ও মনোযোগী হওয়ার আলামত যা সালাতে মুসল্লীদের থেকে কাম্য। এ ছাড়াও এ সুন্দর অবস্থার কারণে সিজদার সমস্ত অঙ্গগুলো তার ইবাদতের অংশ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
আর সিজদায় বাহুদ্বয় বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এটি অলসতা ও বিরক্তির প্রমাণ। এতে রয়েছে কুকুরের সাথে সাদৃশ্য। আর তা এমন একটি সাদৃস্য শোভাযোগ্য নয়।
সূত্র
- صحيح البخاري -الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري -مطبعة السعادة- الطبعة الثانية 1392ه.
- تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام -محمد بن صالح العثيمين -رحمه الله- مكتبة الصحابة -الشارقة- الإمارات العربية المتحدة، الطبعة الأولى، 1426هـ.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام -عبد الله البسام- تحقيق محمد صبحي حسن حلاق -مكتبة الصحابة- الشارقة، الطبعة العاشرة، 1426هـ.
عن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنهما قال: «رَمَقْتُ الصلاة مع محمد صلى الله عليه وسلم فوجدت قيامه، فَرَكْعَتَهُ، فاعتداله بعد ركوعه، فسجدته، فَجِلْسَتَهُ بين السجدتين، فسجدته، فَجِلْسَتَهُ ما بين التسليم والانصراف: قريبا من السَّوَاء».
وفي رواية: «ما خلا القيام والقعود، قريبا من السَّوَاءِ».
বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে তাঁর সালাত আদায় করার নিয়ম-কানুন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তাঁর দাঁড়ানো (কিয়াম), তাঁর রুকু এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাঁর সিজদা এবং দুই সিজদার মাঝে বসা, অত:পর তাঁর দ্বিতীয় সিজদা, তাঁর সালাম ফিরানো এবং সালাম ও সালাত শেষ করে চলে যাওয়ার মাঝখানে বসা এর সবই প্রায় সমান (ব্যবধানে) পেয়েছি।”
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “সালাতে দাঁড়ানো ও বসা ব্যতীত অন্যান্য আমলসমূহ প্রায় সমান ব্যবধানের ছিলো।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যবেক্ষণ করেছেন যাতে তাঁর সালাত আদায় পদ্ধতি জানেন ও তার অনুসরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালাতে তাঁর কাজসমূহ প্রায় সমান ব্যবধানের এবং সামাঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কেননা কিরাত পাঠ করার জন্য তাঁর দাঁড়ানো ও তাশাহহুদ পাঠ করার জন্য বসা রুকু, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ও সিজদার সাথে সমানুপাতিক ছিলো। যেমন তিনি রুকু সংক্ষিপ্ত করে সালাতে দাঁড়ানোর সময় খুব বেশি দীর্ঘ করতেন না অথবা সিজদা দীর্ঘ করে সালাতে দাঁড়ানো বা বসার সময় সংক্ষিপ্ত করতেন না। বরং প্রতিটি রুকুনই অন্য আরেকটি রুকুনের সাথে সমানুপাতিক ও সামাঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো।
এর অর্থ এ নয় যে, তাঁর কিরাত পাঠের জন্য দাঁড়ানো ও তাশাহহুদের জন্য বসা রুকু ও সিজদার সমান ছিলো। বরং হাদীসের অর্থ হলো, তিনি একটি কাজকে সংক্ষিপ্ত করে অন্যটি অতিদীর্ঘ করতেন না।
সূত্র
تيسير العلام، للبسام، الناشر: مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة العاشرة، 1426هـ - 2006 م.
تنبيه الأفهام، للعثيمين، طبعة مكتبة الصحابة الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة الأولى، 1426.
تهذيب اللغة, المؤلف: محمد بن أحمد بن الأزهري الهروي، المحقق: محمد عوض مرعب, الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت, الطبعة: الأولى، 2001م.
- تأسيس الأحكام، لأحمد بن يحيى النجمي, طبعة دار المنهاج.
صحيح البخاري، لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر، الناشر: دار طوق النجاة، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي - الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন একজন সহাবী এসে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলেন। তিনি বললেন: “ফিরে যাও ও সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।” তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলেন। তিনি বললেন: “ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।” এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন: সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: “যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থীরভাবে সাজাদহ করবে ও সাজদাহ্ হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তার পরে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে দ্রুত দু’রাকাত নামায পড়লেন। তিনি তাঁর কিয়াম, রুকু ও সিজদায় স্থির ছিলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামাযের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে সালাম দিলেন, তখন তিনি মসজিদের এক কোণে বসা ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিলেন এবং তাঁকে বললেন: ফিরে যাও এবং নামায পুনরায় পড়ো; কারণ তুমি নামায আদায় করনি। অতঃপর তিনি দ্রুততার সাথে সালাত আদায় করলেন, যেমনটি তিনি আগে সালাত আদায় করেছিলেন। এরপর তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করনি।" সাহাবী এই কাজটি তিনবার করলেন। লোকটি বললেন: সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে উত্তমভাবে নামায পড়তে জানি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীরে তাহরীমা (আল্লাহু আকবার) বলবে। এরপর সূরা ফাতিহা এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য কোনো সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করবে। এরপর রুকু করবে এবং রুকুতে পুরোপুরি স্থির হবে, অর্থাৎ তোমার হাত দুটি হাঁটুর উপর রাখবে, পিঠ সোজা করবে এবং রুকুতে পুরোপুরি স্থির হবে। এরপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, যাতে হাড়গুলো তাদের জোড়ায় ফিরে যায় এবং তুমি সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়াও। এরপর সিজদা করবে এবং সিজদায় পুরোপুরি স্থির হবে, অর্থাৎ কপাল ও নাক, দুটি হাত, দুটি হাঁটু এবং পায়ের আঙ্গুলের ডগা মাটিতে স্থিরভাবে রাখবে। এরপর সিজদা থেকে উঠে বসবে এবং দুই সিজদার মাঝে পুরোপুরি স্থির হবে। এরপর তোমার সালাতের প্রতিটি রাকাআতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে।
শিক্ষা
সালাতের এই রুকনগুলো এমন অপরিহার্য বিষয়, যা ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশতও বাদ দেওয়া যায় না। এর প্রমাণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীকে শুধু শিক্ষা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে বলেছেন।
স্থিরতা (ইতমিনান) নামাযের একটি রুকন।
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, যদি কেউ নামাযের কোন ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তাহলে তার নামায সহীহ হবে না।
ইমাম নববী (রহ.) আরও বলেছেন: এতে শিক্ষার্থী ও অজ্ঞ ব্যক্তির প্রতি নম্রতা ও কোমলতা প্রদর্শন, তার জন্য বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা এবং মূল বিষয়গুলোর সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। তার অবস্থা বিবেচনা করে কেবল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপরই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হবে, এমন সব সম্পূরক বিষয় বাদ দেওয়া হবে যা সে সংরক্ষণ ও পালন করতে সক্ষম নয়।
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: এতে এ বিষয়টি রয়েছে যে, যদি কোনো মুফতীকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তির জন্য সেই বিষয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো বিষয় জানা প্রয়োজন হয়, যা সে জিজ্ঞাসা করেনি, তাহলে মুফতীর জন্য তা উল্লেখ করা মুস্তাহাব। এটি উপদেশের অন্তর্ভুক্ত হবে, অপ্রয়োজনীয় কথা বলার মধ্যে পড়বে না।
"আমি এর চেয়ে ভালোভাবে নামায পড়তে জানি না, আমাকে শিখিয়ে দিন"—এই কথাটির মাধ্যমে নিজের ত্রুটি স্বীকার করার ফযীলত প্রকাশ পায়।
ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: এতে ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার বিষয়টি রয়েছে, এবং শিক্ষার্থীর জন্য আলেমের কাছে শিক্ষা গ্রহণের আবেদন করার বিষয়টি রয়েছে।
সাক্ষাতের সময় সালাম দেওয়া মুস্তাহাব এবং এর জবাব দেওয়া ওয়াজিব। যদি বারবার সাক্ষাৎ হয়, তাহলে প্রতিবার সালাম দেওয়া মুস্তাহাব, এমনকি যদি দুই সাক্ষাতের মাঝে সময় কম হয়। আর প্রতিবার সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 152) (757).
صحيح مسلم (1/ 298) (397).
تيسير العلام، للبسام (ص167).
تنبيه الأفهام، للعثيمين (2/ 213).
الإفهام في شرح عمدة الأحكام، عبد العزيز بن باز (ص203).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 138).
عن أبي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه قال: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُصَلِّي وهو حامل أُمَامَةَ بنت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم ».
ولأبي العاص بن الربيع بن عبد شَمْسٍ رضي الله عنه : «فإذا سجد وضعها، وإذا قام حملها».
আবূ কাতাদাহ্ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবুল আস ইবন রাবী‘ ইবন আবদে শামছ -রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর মেয়ে উমামাহ বিনতে যয়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহন করে সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি সাজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন। আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতনী যয়নবের কন্যা উমামাহকে কাঁধে নিতেন যে অবস্থায় তিনি সালাত আদায় করছেন। যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তার কাঁধে তুলে নিতেন। আর তিনি যখন রুকূ বা সাজদায় যেতেন তখন তাকে মাটিতে রেখে দিতেন। এটি করতেন তার প্রতি ভালোবাসা এবং দয়া প্রদর্শনের জন্য।
সূত্র
تيسير العلام للبسام الناشر: مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة الطبعة- العاشرة، 1426 هـ - 2006 م .
تنبيه الأفهام للعثيمين -طبعة مكتبة الصحابة الامارات - مكتبة التابعين- القاهرة- الطبعة الأولى 1426.
صحيح البخاري -أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة الجعفي البخاري، تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر - الناشر : دار طوق النجاة -الطبعة : الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي - الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
تأسيس الأحكام -أحمد بن يحيى النجمي- دار المنهاج- القاهرة- مصر -الطبعة الأولى.
عن أَنَس بن مالك رضي الله عنه «أنّ النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر وعمر رضي الله عنهما : كانوا يَسْتَفْتِحُونَ الصلاة بـ"الحمد لله رب العالمين"».
وفي رواية: « صَلَّيْتُ مع أبي بكر وعمر وعثمان، فلم أسمع أحدا منهم يقرأ "بسم الله الرحمن الرحيم"».
ولمسلم: « صَلَّيْتُ خلف النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وعثمان فكانوا يَسْتَفْتِحُونَ بـ"الحمد لله رب العالمين"، لا يَذْكُرُونَ "بسم الله الرحمن الرحيم" في أول قراءة ولا في آخرها».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সালাত আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা আরম্ভ করতেন। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: আমি আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের সাথে সালাত আদায় করেছি। তাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনিনি। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের পিছনে সালাত আদায় করি, তারা আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন। তারা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কিরাতের শুরুতে এবং শেষে উল্লেখ করতেন না।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর্যে দীঘ সময় থাকা এবং তার ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সান্নিধ্যে জমে থাকা সত্বেও তাদের কারো থেকে সালাতে কিরাতের শুরুতে বা শেষে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনেননি। তারা আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন। আলেমগণ বিছমিল্লাহ-এর প্রচলনের বিধান এবং তা উচ্চ আওয়াজে পড়া সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। আলেমগণের বিশুদ্ধ মত হলো সালাত আদায়কারী সূরা ফাতিহার পূর্বে সালাতের প্রতি রাকা‘আতে বিছমিল্লাহ নিম্ন আওয়াযে পড়বে। চাই জাহরি সালাত হোক বা আস্তে কিরাত পড়া সালাত হোক।
সূত্র
تيسير العلام للبسام، الناشر: مكتبة الصحابة، الغمارات - مكتبة التابعين، القاهرة الطبعة- العاشرة، 1426 هـ - 2006 م .
تنبيه الأفهام للعثيمين -طبعة مكتبة الصحابة الإمارات - مكتبة التابعين- القاهرة- الطبعة الأولى 1426.
الإفهام في شرح عمدة الأحكام –عبد العزيز بن باز-اعتناء سعيد بن علي بن وهف القحطاني –الرياض –الطبعة الأولى -1435.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري -طبعة دار الفكر- دمشق -الأولى 1381.
خلاصة الكلام –فيصل المبارك الحريملي -الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م.
صحيح البخاري -أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر -الناشر : دار طوق النجاة -الطبعة : الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم - المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي - الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com