عَنِ ابْنَ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَفِّي بَيْنَ كَفَّيْهِ، التَّشَهُّدَ، كَمَا يُعَلِّمُنِي السُّورَةَ مِنَ القُرْآنِ: «التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ».
وفي لفظ لهما: «إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ، فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ».
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত তাঁর উভয় হতের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন,তা হলো :
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا
وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্রতা-উত্তমতা আল্লাহরই জন্য। হে নবী ! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।বর্ষিত হোক সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অপর বর্ণনায় বর্ণিত,
«إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ، فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ».
আল্লাহর নামই হলো সালাম। সকল বড়ত্ব-প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্র-উত্তম আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।” যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আসমানে ও জমিনের আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়। (পরে সে বলবে:) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” এরপর তার যা মন চায় দু’আ করবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যা সালাতে পড়া হয়। তিনি শিক্ষা দেওয়ার সময় তাঁর হাত ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর দু হাতের মধ্যে রেখেছিলেন, যাতে ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মনোযোগ সেদিকে থাকে, যেভাবে তিনি তাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন। এ দ্বারা তাশাহুদের শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রমাণ করে। অতঃপর তিনি বলেন: "التَّحِيَّات لله"সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা আল্লাহরই জন্য । আর তা হলো: সকল কথা ও কাজ যা আল্লাহর মহত্ত্ব প্রমাণ করে। সবই আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। "الصَّلَوَاتُ": সালাতসমূহ এ হলো প্রচলিত ফরয ও নফল সালাতসমূহ(এমনকি যাবতিয় ইবাদত) একমাত্র আল্লাহর জন্যে। "الطَّيِّبَاتُ": সকল পবিত্রতা-উত্তমতা। তা হলো: সকল উত্তম কথা, কাজ ও গুণ যা আল্লাহর পরিপূর্ণতার উপর প্রমাণ করে, একমাত্র আল্লাহই এসব কিছুর উপযুক্ত। "السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته":
হে নবী ! আপনার উপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সবধরনের নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে সমস্ত বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সমস্ত কল্যাণের বৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের জন্যে দু‘আ। "السلام علينا وعلى عباد الله ”
আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর প্রশান্তি ও সকল অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা বর্ষিত হোক। মুসল্লী ও আসমান ও জমিনে বিদ্যমান সকল নেক বান্দাহদের শান্তি-নিরাপত্তার জন্যে দু‘আ। "أشهد أن لا إله إلا الله":
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই অর্থাৎ আমি দৃঢ়ভাবে স্বীকার করি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই। "وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ":
এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি তার আল্লাহর বান্দাহ হওয়া এবং শেষ নবী হওয়া স্বীকার করি।
এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীকে ইচ্ছে মতো (হাদীসে বর্ণিত দু‘আ থেকে) দু‘আ করতে উৎসাহিত করেছেন।
শিক্ষা
- তাশাহহুদ পড়ার সময় হলো প্রত্যেক সালাতের শেষ রাক‘আতের সিজদার পরে বসা অবস্থায় এবং তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে দ্বিতীয় রাক‘আত শেষ করে।
- তাশাহহুদে আত্তাহিয়্যাতু পড়া ওয়াজিব। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত অন্যান্য শব্দাবলী দ্বারাও তাশাহহুদ পাঠ করা যায়।
- সালাতে পছন্দমতো দু‘আ করা জায়েয; যতক্ষণ তা গুনাহের জন্যে না হবে।
- দু‘আর ক্ষেত্রে নিজের জন্যে আগে শুরু করা মুস্তাহাব।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 59) (6265).
صحيح مسلم (1/ 301) (402).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 168).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص206).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص94).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীস