মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কথা বলা ও চুপ থাকার আদব

২৯টি হাদীস

“যখন কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে ভালোবাসে।”

عن المِقدام بن معدي كرب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَلْيُخْبِرْهُ أَنَّهُ يُحِبُّهُ».
মিকদাম ইবনু মা’দীকারাব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে ভালোবাসে।”
সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও মুসনাদে আহমদমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে মুমিনদের মাঝে সম্পর্ক মজবুত করা ও তাদের মধ্যে পরস্পর ভালোবাসা বৃদ্ধির একটি উপায় বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো: যখন সে তার ভাইকে ভালোবাসবে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয়, সে তাকে ভালোবাসে।

শিক্ষা
  1. একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নিরেট ভালোবাসার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, দুনিয়ার কোন স্বার্থে নয়।
  2. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলে তাকে তা জানিয়ে দেয়া মুস্তাহাব, যাতে তার ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আরো বৃদ্ধি পায়।
  3. মুমিনদের মাঝে ভালোবাসা প্রচার করা ঈমানী ভ্রাতৃত্ব শক্তিশালী করে এবং বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন থেকে সমাজকে রক্ষা করে।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 444) (5124). سنن الترمذي (4/ 199) (2392). السنن الكبرى للنسائي (9/ 87) (9963). مسند أحمد (28/ 408) (17171). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 450). تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص258). رياض الصالحين للنووي، (ص138) (383). سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، للألباني (1/ 777). فيض القدير شرح الجامع الصغير، للمناوي (1/ 247). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 279).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কে আমার ওপর বড়াই করে বলে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি।

عن جندب بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : "قال رجل: والله لا يغفر الله لفلان، فقال الله: من ذا الذي يتألى عليَّ أن لا أغفر لفلان؟ إني قد غفرت له، وأحبطت عملك". وفي حديث أبي هريرة: أن القائل رجل عابد، قال أبو هريرة: "تكلم بكلمة أوبقت دنياه وآخرته".
জুনদাব ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বললেন, কে আমার ওপর বড়াই করে বলে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর অপর একটি হাদীসে বর্ণিত, কথাটি যিনি বললেন, তিনি ছিলেন একজন ইবাদতগুজার। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, তিনি এমন একটি কথা বলেছেন, যা তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবানের বিপদ থেকে সতর্কতা অবলম্বন বিষয়ে আমাদের সংবাদ দেন যে, এক ব্যক্তি শপথ করে বলল, আল্লাহ অমুক অপরাধীকে ক্ষমা করবেন না। লোকটি যেন আল্লাহর ওপর ফয়সালা করল এবং তাকে সংকীর্ণ করে দিল। কারণ, সে অন্তরে বিশ্বাস করল যে, তার জন্যে আল্লাহর সম্মান ও বড়ত্ব রয়েছে, আর ঐ অপরাধীর জন্যে রয়েছে অসম্মান। এটিই হচ্ছে আল্লাহকে পথ দেখানো ও তার সাথে বেআদবির করার শামিল। এ কারণেই তার জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতের হতাশা ও ক্ষতি অবধারিত হয়ে গেলো।

সূত্র

1- فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر، الطبعة: السابعة، 1377هـ - 1957م. 2- القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية, محرم، 1424ه. 3- الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م. 4- الجديد في شرح كتاب التوحيد، مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م. 5- التمهيد لشرح كتاب التوحيد، دار التوحيد، تاريخ النشر: 1424هـ. 6- صحيح مسلم، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

মানুষ বাচ-বিচার না করে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামের ভেতর পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও বেশি দূরত্বে গিয়ে পতিত হয়।

عن أبي هريرة رضي الله عنه أَنَّهُ سَمِعَ النَّبيَّ -صلّى اللهُ عليه وسَلَّم يقول-: «إن العبد ليتكلم بالكلمة ما يتبين فيها يزلُّ بها إلى النار أبعدَ مما بين المشرق والمغرب».
আবূ হুরায়রা রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, “মানুষ বাচ-বিচার না করে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামের ভেতর পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও বেশি দূরত্বে গিয়ে পতিত হয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম আমাদের সংবাদ দেন যে, কিছু মানুষ এমন আছে যারা কথা বলার সময় কথাটি ভালো কি মন্দ তা চিন্তা করে না। যার ফলে এ ধরনের চিন্তা ফিকির ছাড়া কথা বলার কারণে লোকটি নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যায়। নিজেকে আল্লাহর আযাবের জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করে। নাঊযুবিল্লাহ। অনেক সময় জাহান্নামের এতো গভীরে গিয়ে পতিত হয়, যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থেকে বেশি।

সূত্র

- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة. - صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى، 1430ه. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة. - شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. -التَّنويرُ شَرْحُ الجَامِع الصَّغِيرِ، محمد بن إسماعيل الصنعاني، المحقق: د. محمَّد إسحاق محمَّد إبراهيم، مكتبة دار السلام، الرياض، الطبعة: الأولى، 1432هـ - 2011م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয় তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার কাছে মিনতি প্রকাশ করে এবং বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকি, আর তুমি বক্র হলে আমরাও বক্র হয়ে যাই।

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أصْبَح ابن آدَم، فإن الأعضاء كلَّها تَكْفُرُ اللِّسان، تقول: اتَّقِ الله فِينَا، فإنَّما نحن بِك؛ فإن اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا، وإن اعْوَجَجْت اعْوَجَجْنَا».
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয় তখন তার অঙ্গ-প্রতঙ্গ জিহ্বার কাছে মিনতি প্রকাশ করে এবং বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকি, আর তুমি বক্র হলে আমরাও বক্র হয়ে যাই।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসের অর্থ: শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার প্রতি নত ও অনুগত। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার দ্বারা পরিচালিত। এ কারণে প্রত্যহ সকালে তারা বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। অতএব, জিহ্বার ভূমিকা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চেয়ে অত্যন্ত ভয়ংকর ও গুরুত্বপূর্ণ। সে ঠিক থাকলে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকে এবং যাবতীয় কাজও সঠিক হয়। আর সে বক্র হলে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বক্র হয়ে যায় এবং তার অন্যান্য কাজও বিনষ্ট হয়ে যায়। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ তার অন্তর ঠিক না হবে। আর তার অন্তর ততক্ষণ সঠিক হবে না যতক্ষণ তার জিহ্বা ঠিক হবে না।” জিহ্বার গুরুত্ব সম্পর্কে এ অধ্যায়ে অনেক হাদীস রয়েছে। জিহ্বার কারণেই ব্যক্তির সৌভাগ্য আবার জিহ্বার কারণেই মানুষের দুর্ভাগ্য। ব্যক্তি যদি জিহ্বাকে আল্লাহর আনুগত্যাধীন করতে পারে তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তা তার জন্য সৌভাগ্যের কারণ হবে। আর যদি সে জিহ্বাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে মুক্ত করে দেয় তাহলে তা দুনিয়া ও আখিরাতে আফসোসের কারণ হবে। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহি মিশকাতুল মাসাবীহ, মোল্লা আলী আল-ক্বারী (৭/৩০৪০)।

সূত্র

دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425 ه. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415ه. كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ. تطريز رياض الصالحين للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ. رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ. رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ. شرح رياض الصالحين للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ. صحيح البخاري، ط1، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه. صحيح الجامع الصغير وزيادته للألباني، ط3، المكتب الإسلامي، بيروت، 1408هـ. مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح للقاري، ط1، دار الفكر، بيروت، 1422هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ. سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها للألباني، مكتبة المعارف، ط1، الرياض، 1422هـ. صحيح الترغيب والترهيب للألباني، ط5، مكتبة المعارف - الرياض. جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر وآخرون، مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، ط2، مصر، 1395 هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেনঃ “তুমি তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাসস্থান যেন তোমাকে বেষ্টন করে নেয় (অর্থাৎ তুমি তোমার বাড়ীতে অবস্থান কর) এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ৰন্দন কর”।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا النَّجَاةُ؟ قَالَ: «امْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ».
উকবাহ ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেনঃ “তুমি তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাসস্থান যেন তোমাকে বেষ্টন করে নেয় (অর্থাৎ তুমি তোমার বাড়ীতে অবস্থান কর) এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ৰন্দন কর”।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উকবাহ ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিনের মুক্তির উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন,? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তিনটি কাজকে আঁকড়ে ধর: প্রথমত: যেখানে কল্যাণ নেই তার থেকে ও প্রত্যেক ক্ষতিকর কথা থেকে তোমার মুখকে সংরক্ষণ কর এবং ভালো কথা ছাড়া মুখ খুলবে না। দ্বিতীয়: নির্জনে আল্লাহর ইবাদত করার সুবিধার্থে তোমার ঘরকে আকঁড়ে ধর এবং আল্লাহর আনুগত্যে ব্যাপৃত হও আর ফিতনা থেকে নিরাপত্তার জন্য তোমার ঘরে একাকি থাক। তৃতীয়: আর তুমি যেসব পাপ করেছো তার জন্য লজ্জা বোধ কর, তাওবা কর ও ক্রন্দন কর।

শিক্ষা
  1. সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মুক্তির উপায়গুলো জানার আগ্রহ।
  2. ইহকাল ও পরকালে মুক্তির উপায়গুলো বর্ণনা করা।
  3. মানুষ যখন অপরকে উপকার করতে পারবে না, অথবা মানুষের সাথে মিশে থাকলে নিজের দীন ও নফসের ক্ষতির আশংকা করবে তখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা।
  4. ঘরের প্রতি নজর দেওয়ার ইঙ্গিত, বিশেষ করে ফিতনার সময়; এটি দীন হিফাজত করার একটি উপায়।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 208) (2406). مسند أحمد (28/ 654) (17452). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (3/ 15). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1039). مرقاة المفاتيح، لعلي القاري (7/ 3039).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা কি জান, গীবত কী?” তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:“ (গীবত হল) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟»، قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ»، قِيلَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কি জান, গীবত কী?” তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:“ (গীবত হল) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে।” প্রশ্ন করা হল, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই এর মধ্যে থাকে? তিনি বললেন: “তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা না থাকে তা হলে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে হারাম গীবতের প্রকৃতি ও ধরন বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো: কোন অনুপস্থিত মুসলিমের এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে। চাই সে দোষ তার দৈহিক হোক বা চারিত্রিক। যেমন: অন্ধ, প্রতারক, মিথ্যাবাদী ইত্যাদি খারাপ দোষ। যদিও সেসব দোষ তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে। আর যদি সেসব দোষ উক্ত ব্যক্তির মধ্যে না থাকে, তবে এটি গীবতের চেয়েও নিকৃষ্ট, যাকে অপবাদ বলে। অর্থাৎ কোন মানুষকে এমনসব দোষের মিথ্যা আরোপ করা যা তার মধ্যে নেই।

শিক্ষা
  1. হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্দর শিক্ষাদান পরিস্ফুটিত হয়েছে, যেহেতু তিনি প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে মাস‘আলা শিক্ষা দান করেছেন।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাহাবীদের উত্তম শিষ্টাচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যখন সাহাবীগণ বলেছেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ বিষয়ে ভালো জানেন।
  3. জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি কোন বিষয় না জানলে বলা উচিত: আল্লাহই ভালো জানেন।
  4. ইসলামী শারী‘য়ত সমাজে মানুষের অধিকার ও ভ্রাতৃত্ববোধ হেফাযতের মাধ্যমে তাদের অধিকারকে সংরক্ষণ করেছে।
  5. গীবত করা হারাম; তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের ব্যাপক কল্যাণের বিষয় জড়িত থাকলে তা ভিন্ন ব্যাপার। এ ধরনের উদাহরণ হলো: জুলুম প্রতিরোধ করাতে কারো গীবত করা, যেমন এমন কারো কাছে উক্ত ব্যক্তির গীবত করা যে ব্যক্তি তার থেকে গীবতকারীর হক আদায় করে দিতে সক্ষম। সুতরাং সে বলতে পারে: অমুকে আমার প্রতি জুলুম করেছে অথবা আমার সাথে এমন আচরণ করেছে। এরূপ গীবতের আরেকটি উপমা হলো: বিবাহ বা অংশীদারী ব্যবসা বা প্রতিবেশি ইত্যাদির ব্যাপারে পরামর্শ করা এবং সে ক্ষেত্রে তার দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2001) (2589). فتح ذي الجلال والاكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 378). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 237). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 428).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য মীযানের পাল্লায় সদ্ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভারি আর কিছু হবে না। আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।”

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا شَيْءٌ أَثْقَلُ فِي مِيزَانِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ خُلُقٍ حَسَنٍ، وَإِنَّ اللَّهَ لَيُبْغِضُ الفَاحِشَ البَذِيءَ».
আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য মীযানের পাল্লায় সদ্ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভারি আর কিছু হবে না। আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।”
এটি আবূ দাঊদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন মুমিনের কাজ ও কথার মধ্যে মীযানের পাল্লায় অধিকতর ভারি হবে সদ্ব্যবহার। আর তা হলো হাস্যোজ্জল চেহারায় কারো সাথে সাক্ষাত করা, কষ্টদেয়া থেকে বিরত থাকা ও অন্যের ভালো করা। আর আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল কথা ও কাজ এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।

শিক্ষা
  1. হাদীসটিতে সচ্চরিত্রের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। কেননা এর কারণে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসা পায়, তাঁর বান্দারও ভালোবাসা লাভ করতে পারে। এটি কিয়ামতের দিনে মীযানে সবচেয়ে ভারি আমল।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 177) (4799). سنن الترمذي (3/ 535) (2002). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، لعبد الله البسام (7/ 487). منحة العلام شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 264). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 673). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص410). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 526).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে, তার জন্য রয়েছে ধ্বংস, অতঃপর তার জন্য ধ্বংস।

عن معاوية بن حيدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ويل للذي يحدث فيكذب؛ ليضحك به القوم، ويل له، ثم ويل له».
মু‘আবিয়া ইবন হাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে, তার জন্য ধ্বংস, তারপর তার জন্য ধ্বংস।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে মিথ্যা থেকে মানুষকে কঠিনভাবে সাবধান করা হয়েছে এবং ঠাট্টা করে কিংবা লোক হাসানোর উদ্দেশ্যে যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি সবচেয়ে খারাপ কর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আর তা নিকৃষ্ট হারামে পরিণত হয়েছে। সুতরাং মুমিনের ওপর কর্তব্য হচ্ছে এই খারাপ চরিত্র থেকে বেঁচে থাকা ও দূরে থাকা। সর্বাবস্থায় জবানকে মিথ্যা থেকে পবিত্র রাখা। তবে যে সব ক্ষেত্রে শরী‘আত অনুমতি দিয়েছে তা ছাড়া। আর যেভাবে ঠাট্টার ছলে মিথ্যা কথা বলা হারাম অনুরূপভাবে শ্রেুাতাদের জন্যও তা শোনা হরাম, যখন তারা জানবে যে তা মিথ্যা, বরং তাদের ওপর কর্তব্য হবে তা অস্বীকার করা।

সূত্র

سنن أبي داود، لأبي داود سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد بن عمرو الأزدي السِّجِسْتاني، تحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد، ط المكتبة العصرية، صيدا – بيروت. سنن الترمذي، لمحمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك، الترمذي، أبو عيسى، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر (جـ 1، 2)، ومحمد فؤاد عبد الباقي (جـ 3)، وإبراهيم عطوة عوض (جـ 4، 5)، ط شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر. السنن الكبرى، لأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب بن علي الخراساني، النسائي، تحقق: حسن عبد المنعم شلبي، ط مؤسسة الرسالة – بيروت. صحيح الجامع الصغير وزيادته، لأبي عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الألباني، ط المكتب الإسلامي. سبل السلام بشرح بلوغ المرام، للإمام محمد بن إسماعيل الصنعاني، ط دار الحديث. توضيح الأحكام من بلوغ المرام، الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن البسام، ط مكتبة الأسد الإسلامية، الطبعة الخامسة. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، الشيخ صالح الفوزان بن عبد الله الفوزان، طبعة الرسالة. فتح ذي الجلال والإكرام، الشيخ محمد بن صالح العثيمين، ط المكتبة الإسلامية، الطبعة الأولى.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
২১টির মধ্যে ৮
২১টি হাদীস
  1. “যখন কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে ভালোবাসে।”
  2. কে আমার ওপর বড়াই করে বলে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি।
  3. মানুষ বাচ-বিচার না করে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামের ভেতর পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও বেশি দূরত্বে গিয়ে পতিত হয়।
  4. আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয় তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার কাছে মিনতি প্রকাশ করে এবং বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকি, আর তুমি বক্র হলে আমরাও বক্র হয়ে যাই।
  5. আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেনঃ “তুমি তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাসস্থান যেন তোমাকে বেষ্টন করে নেয় (অর্থাৎ তুমি তোমার বাড়ীতে অবস্থান কর) এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ৰন্দন কর”।
  6. “তোমরা কি জান, গীবত কী?” তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:“ (গীবত হল) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে
  7. “কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য মীযানের পাল্লায় সদ্ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভারি আর কিছু হবে না। আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।”
  8. যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে, তার জন্য রয়েছে ধ্বংস, অতঃপর তার জন্য ধ্বংস।
  9. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করতে শোনেন। আর সে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করছিল। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে ধ্বংস করলে অথবা তিনি বললেন, লোকটির পিট ভেঙ্গে দিলে।
  10. “মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়”।
  11. তোমরা আল্লাহর অভিশাপ, আল্লাহর গযব বা জাহান্নাম দ্বারা অভিশাপ দিও না।
  12. বান্দা যখন কাউকে অভিশাপ করে তখন অভিশাপটি আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। অতঃপর তার জন্য তার দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর যমীনের দিকে নেমে আসে। তখন তার জন্য দুনিয়ার দরজাসমূহও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যখন সে কোথাও সুযোগ না পায় তখন যাকে অভিশাপ করা হয়েছে তার নিকট ফিরে আসে। সে যদি অভিশাপের যোগ্য হয়, তার ওপর পতিত হয়। অন্যথায় অভিশাপকারীর ওপরই পতিত হয়।
  13. আবূ বারযাহ নাধলাহ ইবন উবাইদ আসলামী -রাদিয়াল্লাহ আনহু- বলেন, একবার এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর উপর সওয়ার ছিল। আর তার উপর লোকেদের (সহযাত্রীদের) কিছু আসবাব-পত্র ছিল। ইত্যবসরে মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল। এ দিকে লোকেদের কারণে পাহাড়টি সংকীর্ণ হয়ে আসছিল। মহিলাটি উটনীকে (দ্রুত গতিতে চলাবার উদ্দেশ্যে) বলল, ‘হাল! হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ কর।’ তা শুনে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এমন উটনী আমাদের সাথে থাকবে না, যাকে অভিশাপ করা হয়েছে।”
  14. গালাগালিতে রত দু’জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।
  15. তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কারণ, সে সালাতের জন্যে জাগ্রত করে।
  16. তুমি জ্বরকে গালি দিয়ো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।
  17. “প্রকৃত মুসলিম সে, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সে, যে আল্লাহ যা থেকে নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।”
  18. “মুমীন দোষারোপকারী , অভিশাপ-কারী, নির্লজ্জ ও অশ্লীল-ভাষী হয় না।”
  19. “তাকে লা’নত করো না। আল্লাহর কসম! আমি জানি যে, সে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে”।
  20. “কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে, তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে। যদি সে কাফির হয়, (তাহলে ঠিক আছে) অন্যথায় তা নিজের দিকেই ফিরে আসবে।”
  21. “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। সে যমানাকে গালি দেয়; অথচ আমিই যমানা, আমার হাতেই সকল কর্ম, আমিই রাত-দিনের পরিবর্তন ঘটাই।”

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com