আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, “তুমি তার জন্য কী জোগাড় করেছ?” সে বলল, কোন কিছুই জোগাড় করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসি। তখন তিনি বললেন, “তুমি তাঁর সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস”। আনাস বললেন, আমরা আর কোন কিছুর দ্বারা এত খুশি হইনি যে খুশি রাসূলের এ কথা “তুমি তাঁর সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস” দ্বারা হয়েছি। আনাস বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসি এবং আবূ বকর ও ‘উমার-কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার ভালবাসার কারণে তাদের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের ‘আমলের মত ‘আমল আমি করতে পারিনি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মরুভূমিতে বসবাসকারী এক বেদুইন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে?
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি এর জন্য কী নেক আমল প্রস্তুত করেছো?
প্রশ্নকারী বললেনঃ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি ছাড়া এর জন্য কোন বড় আমল প্রস্তুত করিনি এবং তিনি অন্তর, শরীর বা আর্থ সংক্রান্ত কোন ইবাদত উল্লেখ করেননি। কারণ এগুলি সবই মহব্বতের শাখা আর তার ফলেই সৃষ্ট। অধিকন্তু আন্তরিক ভালবাসা একজনকে ভাল কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি যাকে ভালবাসো জান্নাতে তার সাথে থাকবে।
এই সুসংবাদের ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ অত্যন্ত খুশি হলেন।
অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও ওমরকে ভালোবাসেন এবং তাঁর কাজ তাঁদের মত না হলেও তাঁদের সাথে থাকার আশা করেন।
শিক্ষা
প্রশ্নকারীর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিকমত (প্রজ্ঞা); কারণ তিনি তাকে তার গুরুত্বপূর্ণ ও নাজাতদানকারী আমল সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন, যা হল: উপকারী এবং ভাল কাজের মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কেয়ামতের জ্ঞান লুকিয়ে রেখেছেন যাতে বান্দা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য তৈরি ও প্রস্তুত থাকে।
আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের মধ্যে সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসার ফজিলত এবং মুশরিকদেরকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: তুমি যাকে ভালবাসো তার সাথে হবে। এর অর্থ স্তর এবং মর্যাদায় সমতা নয়, বরং তারা জান্নাতে এমনভাবে থাকবে যে স্থানটি দূরে থাকলেও তাদের প্রত্যেকে একে অপরকে দেখতে পাবে।
এখানে মুসলিমকে তার জন্য সর্বোত্তম ও কল্যাণকর বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করতে এবং যা তার উপকারে আসে না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সূত্র
صحيح البخاري (5/ 12) (3688).
صحيح مسلم (4/ 2032) (2639).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 435).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 177).
المعجم الأوسط، للطبراني (1/ 131).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 342).
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «أن رجلا زَارَ أخًا له في قرية أخرى، فأَرْصَدَ الله تعالى على مَدْرَجَتِهِ مَلَكًا، فلما أتى عليه، قال: أين تريد؟ قال: أريد أخًا لي في هذه القرية، قال: هل لك عليه من نعمةٍ تَرُبُّهَا عليه؟ قال: لا، غيرَ أني أَحْبَبْتُهُ في الله تعالى ، قال: فإني رسولُ الله إليك بأنَّ الله قد أَحَبَّكَ كما أَحْبَبْتَهُ فيه».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তা‘আলা তার রাস্তায় এক ফিরিশতাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘এ লোকালয়ে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।’ ফিরিশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার প্রতি কি তার কোন অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘না, আমি তার নিকট কেবল এই জন্য যাচ্ছি যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।’ ফিরিশতা বললেন, ‘(তাহলে শোনো) আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ভালবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগেকার উম্মাতদের থেকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেন যে, সে অন্য কোন গ্রামে তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তা‘আলা তার রাস্তায় এক ফিরিশতাকে বসিয়ে দিলেন, যে তাকে হিফাযত ও পর্যবেক্ষণ করবে। তারপর ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ সে তাকে বলল, ‘এ লোকালয়ে তার একজন দীনি ভাই আছে, সে তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।’ ফিরিশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘সে কি তোমার গোলাম বা সন্তান বা এমন কোন লোক যার জন্য খরচা করা বা তার দেখা শোনা করা তোমার ওপর ওয়াজিব বা তাতে তোমার কোন স্বার্থ আছে? যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি তার কাছে যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘না, আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। আর তার সাক্ষাতে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি। তখন ফিরিশতা তাকে জানিয়ে দেন যে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছে, যাতে সে তাকে জানিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভালবাসেন; যেমনিভাবে সে তার ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালবাসেন।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، الدمام، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين، فيصل بن عبد العزيز المبارك، المحقق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002م.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى، 1428هـ.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، الطبعة: الرابعة، 1428هـ.
شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، دار الوطن، الرياض، 1426هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.
আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ«يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা ঈমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ তা’আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন”।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ দোয়াই ছিল আল্লাহর কাছে দ্বীন ও আনুগত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহী থেকে দূরে থাকার প্রার্থনার ওপর। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি প্রায়শই করতেন, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হৃদয়গুলো হল আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মাঝখানে এবং তিনি সেগুলিকে তার ইচ্ছা মত ঘুরিয়ে দেন। কালব (অন্তর) হল ঈমান ও কুফরের স্থান। আর ঘনঘন পরিবর্তন হওয়ার কারণে কালবকে (হৃদয়কে) কালব (হৃদয়) বলা হয়। এটা পাত্রের চেয়েও বেশি উৎরানশীল। যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং দ্বীনের উপর অটল রাখেন এবং যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েত থেকে বিচ্যুতি ও গোমরাহীর দিকে ফিরিয়ে দেন।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের নিকট বিনয়াবনতা এবং তাঁর নিকট তাঁর আঁকুতি এবং উম্মাতকে তা প্রার্থনা করতে নির্দেশ করা।
দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় থাকা ও অবিচলতার গুরুত্ব। আর শেষ পরিণামই এক্ষেত্রে ধর্তব্য ও চুড়ান্ত।
বান্দা চোখের পলক ফেলা পরিমাণও ইসলামের ওপর অটল থাকার জন্য আল্লাহ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।
হাদীসটিতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শ অনুসরণ করে এই দোয়াটি প্রচুর পাঠ করার জন্য উত্সাহিত করা হয়েছে।
ইসলামে অটল থাকাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত যার জন্য বান্দার চেষ্টা করা উচিত এবং সে জন্য তার রবের শোকর আদায় করা উচিত।
সূত্র
سنن الترمذي (4/ 19) (2140).
مسند أحمد (19/ 160) (12107).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 476).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 567).
نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1014).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص808).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 41).
সাহল ইবনু হুনায়ফ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সত্যি কারে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে আল্লাহ তা’আলা তাকে শহীদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন যদিও সে আপন শয্যায় ইন্তিকাল করে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন , যে ব্যক্তি সত্যি করে ইখলাসের সাথে নিয়ত করে আল্লাহর রাস্তায় হত্যা ও শাহাদাত তলব করল, আল্লাহ তাকে তার সত্য নিয়তের জন্য শহীদদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে তার বিছানায় জিহাদ বিহীন মারা যায়।
শিক্ষা
নিয়তের সততার সাথে সামর্থ্যের কাজটি সম্পাদন করা হলে সাওয়াব ও প্রতিদান হাসিল করার উদ্দেশ্য হাসিল হয়, যদিও সে প্রয়োজনীয় কাজটি না করতে পারে।
এখানে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করা এবং শাহাদাত কামনা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আল্লাহ সামান্য আমলের ওপর জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করে এই উম্মত কে সম্মানিত করেছেন।
সূত্র
صحيح مسلم (3/ 1517) (1909).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 123).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 87).
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه مرفوعاً: "ألا أخبركم بما هو أَخْوَفُ عليكم عندي من المسيح الدجال؟ قالوا: بلى يا رسول الله، قال: الشرك الخفي يقوم الرجل فيصلي فَيُزَيِّنُ صلاته لما يرَى من نَظَرِ رَجُلٍ".
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আমি কি তোমাদের এমন বিষয় অবহিত করবো না, যা আমার মতে তোমাদের জন্য মসীহ দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, গোপন শির্ক। মানুষ সালাত পড়তে দাঁড়ায় এবং লোকের দৃষ্টির কারণে সুন্দরভাবে সালাত আদায় করে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
সাহাবীগণ দাজ্জালের ফিতনার আলোচনা করত এবং তাকে খুব ভয় করত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেন যে, এখানে এমন একটি বিপদজনক বিষয় রয়েছে যাকে তিনি দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অধিক ভয় করেন। আর তা নিয়ত ও ইচ্ছার মধ্যে শির্ক যা একজন মানুষের নিকট স্পষ্ট নয়। তারপর তিনি তার ব্যাখ্যা করেন যে আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয় সে আমলকে লোক দেখানোর জন্য সুন্দর করাই শির্ক।
সূত্র
فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر، الطبعة: السابعة، 1377هـ - 1957م.
القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية، 1424هـ.
الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة الرياض، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م.
الجديد في شرح كتاب التوحيد، مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م.
التمهيد لشرح كتاب التوحيد، دار التوحيد، تاريخ النشر: 1424هـ.
سنن ابن ماجه، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
صحيح الجامع، طبعة المكتب الإسلامي.
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেন, আমি অংশীদারদের চেয়ে অংশীদারিত্ব [শির্ক] থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। কেউ যদি এমন কাজ করে, যাতে সে আমার সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করে, তাহলে আমি তাকে তার অংশীদারিত্ব [শির্ক] সহ বর্জন করে থাকি।’’ [1]
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেছেন: তিনি অংশীদারদের চেয়ে অংশীদারিত্ব [শির্ক] থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। তিনি সবকিছু থেকেই অমুখাপেক্ষী। মানুষ যখন কোন আনুগত্যের(নেকীর) কাজ করে এবং তাতে যদি সে আল্লাহ ও আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্য করে, তাহলে আল্লাহ তা বর্জন করেন, তিনি তার এ আমল কবুল করেন না এবং তিনি তা আমলকারীর দিকে ফিরিয়ে দেন। সুতরাং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল করা ফরয; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার উদ্দেশ্যে কৃত আমলসমূহ কবুল করেন।
শিক্ষা
শিরকের সকল প্রকারের থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এটি আমল কবুল না হওয়ার কারণ।
আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা ও তাঁর বড়ত্ব অনুভব করা, যা আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস আনায়ন করতে সাহায্য করে।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2289) (2985).
شرح النووي على مسلم (18/ 115).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص287).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص325).
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ : “কোন সংক্রামণ নেই, কোন পাখির গণনা নেই, কোন পেঁচার কুলক্ষণ নেই, সফর মাসের কোন অকল্যাণ নেই। আর কুষ্ঠ রোগী থেকে পালিয়ে যাও, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে পালিয়ে যাও।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় জাহেলী যুগের কাজের বর্ণনা করেছেন এগুলো থেকে সতর্ক করার জন্য এবং এটা জানানোর জন্য যে, সব কিছুই আল্লাহর হাতে আর আল্লাহর আদেশ এবং তাকদীর ছাড়া কোন কিছুই হয় না, আর এগুলো হচ্ছে:
প্রথমত: জাহেলী যুগের লোকেরা ধারণা করত যে, রোগ নিজ থেকেই অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়, এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাদেরকে এ বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছেন যে, রোগ এক রোগী থেকে অন্য রোগীর মধ্যে নিজে থেকেই স্থানান্তর হয়, বরং আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন সমগ্র জগতের মহাপরিচালক; আর তিনিই রোগ দিয়ে থাকেন এবং তিনি এটাকে তুলে নেন, তাঁর লেখা এবং ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই ঘটে না।
দ্বিতীয়ত: জাহেলী যুগের মানুষেরা যখন কোন সফর অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হত তখন তারা পাখি উড়িয়ে দিত, যদি সেটি ডানে উড়ে যেত, তাহলে তারা সুসংবাদ মনে করত, আর যদি সেটি বামে উড়ে যেত, তাহলে তারা তাকে কুলক্ষণ মনে করত এবং ফিরে যেত, এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাখির মাধ্যমে কুলক্ষণ বিচার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এটি একটি বাতিল বিশ্বাস।
তৃতীয়ত: জাহেলী যুগের লোকেরা বলত: যখন কোন পেঁচা কারো বাড়িতে উড়ে আসে, তখন তা ঐ বাড়ির জন্য মুসীবত নিয়ে আসে। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেঁচার মাধ্যমে অমঙ্গল নির্ণয় নিষিদ্ধ করেছেন।
চতুর্থত: সফর মাসে অকল্যাণ রয়েছে এমন বিশ্বাস থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, সফর হচ্ছে চন্দ্র মাসের দ্বিতীয় মাস। বলা হত যে, সফর হচ্ছে পেটে থাকা এক ধরণের সাপ, যা মানুষ ও গবাদি পশুকে আক্রান্ত করে, তারা ধারণা করত যে, এটি খোস-পাঁচড়া থেকেও অধিক সংক্রামক; এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিশ্বাসকে নাকচ করেছেন।
পঞ্চমত: তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে একজন ব্যক্তি সিংহ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। আর এটি হচ্ছে মানুষের জন্য সতর্কতা অবলম্বন, উক্ত রোগ থেকে রক্ষা চাওয়া এবং আল্লাহ উপকরণগত যেসব বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন, সেই কাজ সম্পাদন করা। কুষ্ঠ রোগ হচ্ছে: এমন একটি রোগ যাতে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষা
আল্লাহর উপরে তওয়াক্কুল ও নির্ভর করা এবং বৈধ উপকরণসমূহ গ্রহণ করা।
আল্লাহর ফয়সালা এবং তাকদীরের উপরে ঈমান রাখা আবশ্যক। আর উপকরণের বিষয়ও আল্লাহর হাতে, তিনিই এটির কার্যকারিতা বহাল রাখেন অথবা এর প্রভাবকে নষ্ট করে দেন।
কতিপয় মানুষ কিছু রঙ যেমন কালো এবং লাল, অথবা কতিপয় সংখ্যা, নাম বা বিকলাঙ্গ ব্যক্তির মাধ্যমে যে অশুভ বা কুলক্ষণ নির্ণয় করে থাকে, তা বাতিল করা হয়েছে।
হাদীসটিতে কুষ্ঠরোগী এবং অনুরূপ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্তদের নিকটে যাওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি এমন একটি কারণ বা উপকরণ যা আল্লাহ তা‘আলা স্বাভাবিকভাবে চালু রেখেছেন যে, এটি কারণসমূহের দিকে মানুষকে পৌছে দেয়, সুতরাং উপকরণগুলি নিজে থেকে স্বয়ং সম্পন্ন নয়, বরং আল্লাহই সেই সত্তা যিনি ইচ্ছা করলে তার শক্তি নষ্ট করে দিতে পারেন ফলে তার প্রভাব অকার্যকর হয়ে পড়ে আর যদি তিনি ইচ্ছা করেন তা বহাল রাখেন ফলে তার প্রভাব কার্যকর হয়।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 126) (5707).
صحيح مسلم (4/ 1742) (2220).
فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، لعبد الرحمن التميمي (ص307).
القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 565).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص228).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص253).
التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص77).
عن عَمْرُو بن تَغْلِبَ ـ رضي الله عنه ـ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بمالٍ أو سَبْيٍ فَقَسَّمه، فأعطى رجالا، وترك رجالًا، فبَلغَه أن الَّذِين تَرَك عَتَبُوا، فحمد الله، ثم أثنى عليه، ثم قال: «أما بعد، فوالله إني لأُعطي الرجل وأدَعُ الرجلَ، والذي أدعُ أحبُّ إلي من الذي أُعطي، ولكني إنما أُعطي أقوامًا لما أرى في قلوبهم من الجَزَع والهَلَع، وَأَكِلُ أقواما إلى ما جَعَلَ الله في قُلُوبِهم من الغِنَى والخَيْر، منهم عَمْرُو بن تَغْلِبَ» قال عمرو بن تغلب: فوالله ما أُحبُّ أن لي بكلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم حُمْرَ النَّعَم.
‘আমর ইবন তাগলিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী উপস্থিত করা হলে তিনি তা বন্টন করে দিলেন। বন্টনের সময় কিছু লোককে দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন। তারপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছলো যে, যাদের তিনি দেন নি তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন, তারপর (কথা হলো), আল্লাহর শপথ! আমি কোনো লোককে দেই আর কোনো লোককে দিই না। যাকে আমি দিই তার চেয়ে যাকে আমি দিই না সে আমার কাছে অধিক প্রিয়। তবে আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও সম্পদের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই; আর আল্লাহ যেসব লোকের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদেরকে সে অবস্থার উপর ন্যস্ত করি। তাদের মধ্যে ‘আমর ইবন তাগলিব একজন। বর্ণনাকারী ‘আমর ইবন তাগলিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও পছন্দ করি না (যদিও লাল উট আরবদের কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়)।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
‘আমর ইবন তাগলিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শত্রুদের থেকে গনীমত হিসেবে কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী দাস-দাসী উপস্থিত করা হলে তিনি তা বন্টন করে দিলেন। বন্টনের সময় কিছু লোকের অন্তর জয় করতে তা দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন, তাদের ওপর তাঁর দৃঢ় আস্থা ছিল যে, তাদেরকে আল্লাহ যে শক্তিশালী ঈমান ও ইয়াকীন দান করেছেন তাতে তারা সন্তুষ্ট থাকবে। তারপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছলো যে, যাদের তিনি দেন নি তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। তারা ভেবেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদেরকে দান করেছেন তাদেরকে বেশি দীনদারীতার কারণে দিয়েছেন। তখন তিনি লোকদেরকে একত্রিত করে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন, অতঃপর আল্লাহর শপথ! আমি কোনো লোককে দিই আর কোনো লোককে দিই না। যাকে আমি দিই তার চেয়ে যাকে আমি দিই না সে আমার কাছে অধিক প্রিয়। অর্থাৎ যাদেরকে আমি দিই এর অর্থ এ নয় যে, তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা বেশি আর যাদেরকে আমি দিই না তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা কম। রবং আমি যাদেরকে দিই না তারা আমার কাছে সেসব লোকের চেয়ে বেশি প্রিয় যাদেরকে আমি দান করি। অতঃপর তিনি তাঁর দান করার কারণ বর্ণনা করে বলেছেন, আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও সম্পদের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই। অর্থাৎ তাদেরকে গনীমতের মাল না দিলে তাদের অন্তর অতি অধৈর্য ও তীব্র কষ্ট পাবে। ফলে তাদের অন্তর জয় ও মনবাসনা পূরণ করতে আমি তাদেরকে সম্পদ দান করে থাকি। আর আল্লাহ যেসব লোকের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদেরকে সে অবস্থার উপর ন্যস্ত করি। অর্থাৎ তাদেরকে না দিয়ে তাদের অন্তরের পরিতুষ্টি, অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণের ওপর ছেড়ে দেই। অর্থাৎ ঈমানের শক্তি ও ইয়াকীনের উপর ছেড়ে দেই। তাদের মধ্যে ‘আমর ইবন তাগলিব একজন। অর্থাৎ যেসব লোকদেরকে আমি না দিয়ে তাদের ঈমানী শক্তি ও ইয়াকীনের উপর ছেড়ে দেই তাদের মধ্যে বর্ণনাকারী ‘আমর ইবন তাগলিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অন্যতম। অন্য হাদীসে এসেছে, “নিশ্চয় আমি কোনো লোককে দান করি যদিও তার থেকে অন্য কেউ আমার কাছে অধিক প্রিয়। যাকে দিই তাকে তো শুধু মুখ-মণ্ডলের উপর উপুড় হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এ আশঙ্কায় প্রদান করি। হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে তার প্রশংসা শুনে বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও পছন্দ করি না। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ব্যাপারে যে প্রশংসা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন তাতে এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও পছন্দ করি না; যদিও লাল উট আরবদের কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় ও আকর্ষনীয়।
সূত্র
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، نسخة الكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشرة 1407 هـ
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428 هـ
منار القاري، تأليف: حمزة محمد قاسم ، الناشر: مكتبة دار البيان، عام النشر: 1410 هـ
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، تأليف: محيي الدين يحيى النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392 هـ.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com