মরুভূমিতে বসবাসকারী এক বেদুইন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি এর জন্য কী নেক আমল প্রস্তুত করেছো? প্রশ্নকারী বললেনঃ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি ছাড়া এর জন্য কোন বড় আমল প্রস্তুত করিনি এবং তিনি অন্তর, শরীর বা আর্থ সংক্রান্ত কোন ইবাদত উল্লেখ করেননি। কারণ এগুলি সবই মহব্বতের শাখা আর তার ফলেই সৃষ্ট। অধিকন্তু আন্তরিক ভালবাসা একজনকে ভাল কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি যাকে ভালবাসো জান্নাতে তার সাথে থাকবে। এই সুসংবাদের ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ অত্যন্ত খুশি হলেন। অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও ওমরকে ভালোবাসেন এবং তাঁর কাজ তাঁদের মত না হলেও তাঁদের সাথে থাকার আশা করেন।
- প্রশ্নকারীর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিকমত (প্রজ্ঞা); কারণ তিনি তাকে তার গুরুত্বপূর্ণ ও নাজাতদানকারী আমল সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন, যা হল: উপকারী এবং ভাল কাজের মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
- আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কেয়ামতের জ্ঞান লুকিয়ে রেখেছেন যাতে বান্দা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য তৈরি ও প্রস্তুত থাকে।
- আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের মধ্যে সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসার ফজিলত এবং মুশরিকদেরকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: তুমি যাকে ভালবাসো তার সাথে হবে। এর অর্থ স্তর এবং মর্যাদায় সমতা নয়, বরং তারা জান্নাতে এমনভাবে থাকবে যে স্থানটি দূরে থাকলেও তাদের প্রত্যেকে একে অপরকে দেখতে পাবে।
- এখানে মুসলিমকে তার জন্য সর্বোত্তম ও কল্যাণকর বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করতে এবং যা তার উপকারে আসে না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
صحيح البخاري (5/ 12) (3688). صحيح مسلم (4/ 2032) (2639). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 435). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 177). المعجم الأوسط، للطبراني (1/ 131). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 342).