عن أبي شُريح خُويلد بن عمرو الخزاعي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ كَان يُؤمِن بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِم ضَيفَه جَائِزَتَه»، قَالوا: وما جَائِزَتُهُ؟ يَا رسول الله، قال: «يَومُهُ ولَيلَتُهُ، والضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلك فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيه».
وفي رواية: «لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يؤْثِمَهُ» قالوا: يَا رَسول الله، وَكَيفَ يُؤْثِمَهُ؟ قال: «يُقِيمُ عِندَهُ ولاَ شَيءَ لَهُ يُقرِيهِ بهِ».
আবূ শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনে আমর আল খুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।” লোকেরা বলল, ‘তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেহমানের ওপর সাদকাহ স্ব¦রূপ।” মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের নিকট এতটা থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গোনাহগার করে ফেলে।” লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কিভাবে গোনাহগার করে ফেলে?’ উত্তরে তিনি বললেন, “মেহমান মেযবানের কাছে অবস্থান করতে থাকে, অথচ ওর এমন কিছু থাকে না, যার দ্বারা সে মেহমানের খাতির করতে পারে।”
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবূ শুরাইহ খুয়াইলিদ ইবনে আমর আল খুযায়ী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস মেহমানের সম্মান ও মেহমানদারি করার প্রমাণ। তার থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।” এটি মেহমানের সম্মান করার ওপর উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করনের পদ্ধতি থেকে। অর্থাৎ, মেহমানের সম্মান করা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানের আলামত এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানের পরিপূর্ণতা। যে সব কর্ম দ্বারা মেহমানের সম্মান করা হয় যেমন: হাসি মুখ, সুন্দর কথা, তিনদিন খাওয়ানো। প্রথম দিন তার সাধ্য অনুযায়ী। আর বাকী দিন কোন প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়া যা উপস্থিত থাকে তা দ্বারা যাতে তার ওপর এবং আত্মার ওপর বোঝা না হয়ে যায়। আর তিনদিন পর হবে সাদকা স্বরূপ, ইচ্ছা করলে করবে না হয় করবে না। আর তার বাণী: “সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে। আর মেহমানদারি তিনদিন।” উলামাগণ পারিতোষিকের অর্থ সম্পর্কে বলেন, একদিন এক রাত মেহমানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সম্ভাব্য কল্যাণকামি পদর্শন ও সৎ ব্যবহার করা। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন তাকে তাই খেতে দেবে যা তার জন্য সহজ হয়। তার সাধারণ খাদ্যের ওপর বাড়তি করতে হবে না। আর তিনদিন পর তা হবে সাদকাহ স্বরূপ ও হিতকামনা, যদি চায় করবে আর যদি না চায় করবে না। মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: “কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের নিকট এতটা থাকা বৈধ নয়, যাতে সে তাকে গোনাহগার করে ফেলে”। এর অর্থ, মেহমানের জন্য তার নিকট তিনদিনের বেশি অবস্থান করা ঠিক হবে না যাতে তাকে গুনাহে ফেলে দেয়। কারণ, অনেক সময় সে লম্বা সময় অবস্থানের কারণে তার সমালোচনা করবে, তার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাবে যা তাকে কষ্ট দেয় অথবা তার প্রতি এমন ধারণা করবে যা অবৈধ। এ গুলো সবই তখন হয় যখন মেজবানের আকাংখা ছাড়া তিনদিনের বেশি অবস্থান করে। জানা থাকা দরকার যে, মেহমানের অবস্থা অনুযায়ী তার সম্মান করা বিভিন্ন হয়ে থাকে। কতক মানুষ আছে কাওমের সরদার এবং মুখপাত্র, তখন তার মেহমানদারি তার অবস্থান অনুযায়ী হবে। আবার কতক আছে মধ্যবৃত্ত তখন তার মেহমাদারি তার অবস্থান অনুযায়ী আবার কতক আছে নিম্ন তাকে তার অবস্থান অনুযায়ী।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423 هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
رياض الصالحين، للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ.
فتح رب البرية بتلخيص الحموية، لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض.
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ.
شرح رياض الصالحين، للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة، (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, “তুমি তার জন্য কী জোগাড় করেছ?” সে বলল, কোন কিছুই জোগাড় করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসি। তখন তিনি বললেন, “তুমি তাঁর সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস”। আনাস বললেন, আমরা আর কোন কিছুর দ্বারা এত খুশি হইনি যে খুশি রাসূলের এ কথা “তুমি তাঁর সঙ্গেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস” দ্বারা হয়েছি। আনাস বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসি এবং আবূ বকর ও ‘উমার-কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার ভালবাসার কারণে তাদের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের ‘আমলের মত ‘আমল আমি করতে পারিনি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মরুভূমিতে বসবাসকারী এক বেদুইন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে?
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি এর জন্য কী নেক আমল প্রস্তুত করেছো?
প্রশ্নকারী বললেনঃ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি ছাড়া এর জন্য কোন বড় আমল প্রস্তুত করিনি এবং তিনি অন্তর, শরীর বা আর্থ সংক্রান্ত কোন ইবাদত উল্লেখ করেননি। কারণ এগুলি সবই মহব্বতের শাখা আর তার ফলেই সৃষ্ট। অধিকন্তু আন্তরিক ভালবাসা একজনকে ভাল কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি যাকে ভালবাসো জান্নাতে তার সাথে থাকবে।
এই সুসংবাদের ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ অত্যন্ত খুশি হলেন।
অতঃপর আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও ওমরকে ভালোবাসেন এবং তাঁর কাজ তাঁদের মত না হলেও তাঁদের সাথে থাকার আশা করেন।
শিক্ষা
প্রশ্নকারীর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিকমত (প্রজ্ঞা); কারণ তিনি তাকে তার গুরুত্বপূর্ণ ও নাজাতদানকারী আমল সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন, যা হল: উপকারী এবং ভাল কাজের মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কেয়ামতের জ্ঞান লুকিয়ে রেখেছেন যাতে বান্দা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য তৈরি ও প্রস্তুত থাকে।
আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের মধ্যে সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসার ফজিলত এবং মুশরিকদেরকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: তুমি যাকে ভালবাসো তার সাথে হবে। এর অর্থ স্তর এবং মর্যাদায় সমতা নয়, বরং তারা জান্নাতে এমনভাবে থাকবে যে স্থানটি দূরে থাকলেও তাদের প্রত্যেকে একে অপরকে দেখতে পাবে।
এখানে মুসলিমকে তার জন্য সর্বোত্তম ও কল্যাণকর বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করতে এবং যা তার উপকারে আসে না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সূত্র
صحيح البخاري (5/ 12) (3688).
صحيح مسلم (4/ 2032) (2639).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 435).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 177).
المعجم الأوسط، للطبراني (1/ 131).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 342).
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে আমি কি এমন কথা বলব না, যা কোন নবীই তাঁর জাতিকে বলেননি? তা এই যে, সে হবে কানা। আর সে নিজের সাথে নিয়ে আসবে জান্নাত ও জাহান্নামের মত কিছু। যাকে সে জান্নাত বলবে, বাস্তবে সেটাই হবে জাহান্নাম। আর আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি যেভাবে নূহ তার জাতিকে সতর্ক করেছিলেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে দাজ্জালের এমন গুণাবলী ও আলামত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যাপারে তার আগে অন্য কোন নবী সংবাদ দেননি। এর মধ্যে রয়েছে:
তার চোখ কানা হবে।
আল্লাহ তা‘আলা তার সাথে এমন কিছু দিবেন, যা চোখে দেখাতে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ মনে হবে।
কিন্তু তার জান্নাতটি হবে জাহান্নাম, আর জাহান্নামটি হবে জান্নাত, যে ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করবে, সে তাকে মানুষের দৃষ্টিতে যেটি জান্নাত সেখানে প্রবেশ করাবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি দাহ্য আগুন। আর যে ব্যক্তি তার অবাধ্যতা করবে, সে তাকে মানুষের দৃষ্টিতে যেটি জাহান্নাম, সেখানে প্রবেশ করাবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে উত্তম জান্নাত। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তার ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন যেভাবে নূহ আলাইহিস সালাম তার কওমকে সতর্ক করেছিলেন।
শিক্ষা
দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা ।
দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিষ্কৃতি মিলবে ঈমানের সত্যতা, আল্লাহ তা‘আলার শরণাপন্ন হওয়া, তাশাহহুদের শেষ বৈঠকে তার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত হিফয করার মাধ্যমে।
উম্মাতের জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগ্রহের তীব্রতা, এখানে তিনি মুসলিমদেরকে দাজ্জালের এমন সিফাত (বৈশিষ্ট্য) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যা সম্পর্কে তার পূর্বে কোন নবী বর্ণনা করেননি।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 134) (3338).
صحيح مسلم (4/ 2250) (2936).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قالَ: قالَ رَسُولُ اللَّه -صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم-: «والذي نفسي بيده لا تذهب الدنيا حتى يمر الرجل على القبر، فَيَتَمَرَّغَ عليه ويقول: يا ليتني كنت مكان صاحب هذا القبر، وليس به الدِّينُ، ما به إلا البلاء».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া বিনাশ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো ব্যক্তি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে উক্ত কবরের উপর গড়াগড়ি দিবে আর বলবে, ‘হায়! যদি আমি এই কবরবাসীর স্থানে হতাম!’ এরূপ উক্তি সে দীন রক্ষার মানসে বলবে না, বরং তা বলবে পার্থিব বালা-মুসীবতে অতিষ্ঠ হওয়ার কারণে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দেন যে, শেষ যামানার অবস্থা এমন হবে যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে উক্ত কবরের মাটিতে গড়াগড়ি দিবে। পার্থিব বালা-মুসীবত, অধিক ফিতনা ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অতিষ্ঠ হওয়ার কারণে সে চাইবে এ কবর যেন তার অবস্থান হয়। কারণ, মৃত ব্যক্তি দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ ও শাস্তি হতে মুক্ত। হাদীসটিতে মৃত্যু কামনাকে সমর্থন করা হয় নি বরং এখানে শেষ যামানায় যা সংঘটিত হবে সে সম্পর্কে শুধু সংবাদ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, 1422ه.
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن حجاج النيسابوري, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين, تأليف: محمد علي بن محمد البكري الصديقي, عناية: خليل مأمون شيحا, الناشر: دار المعرفة, ط 4، 1425ه.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين, تأليف: مصطفى الخن ومصطفى البغا ومحي الدين مستو وعلي الشربجي ومحمد لطفي, مؤسسة الرسالة, ط 14، 1407ه - 1987م.
تطريز رياض الصالحين, تأليف: فيصل مبارك, دار العاصمة, 1423ه – 2002م.
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «لا تقوم الساعة حتى يحسر الفرات عن جبل من ذهب يُقْتَتَلُ عليه، فَيُقْتَلُ من كل مائة تسعة وتسعون، فيقول كل رجل منهم: لعلي أن أكون أنا أنجو».
وفي رواية: «يوشك أن يحسر الفرات عن كنز من ذهب، فمن حضره فلا يأخذ منه شيئا».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন পর্যন্ত ফুরাত নদী একটি সোনার পাহাড় বের না করবে, যা নিয়ে যুদ্ধ বাঁধবে। ফলে যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী প্রত্যেক শ থেকে নিরানব্বই জনই মারা যাবে! তাদের প্রত্যেকে বলবে যে, ‘সম্ভবতঃ আমি বেঁচে যাব।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “অদূর ভবিষ্যতে ফুরাত নদী স্বর্ণের খনি বের করে দিবে। সুতরাং যে সেখানে উপস্থিত হবে, সে তার থেকে কিছুই গ্রহণ করবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ফুরাত নদী স্বর্ণের খনি বা স্বর্ণের পাহাড় বের করে দিবে। অর্থাৎ পাহাড়ের ন্যায় স্বর্ণ বের হবে। আর লোকেরা তার জন্য মারামারি করবে। কারণ, এটা ফিতনা। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে কেউ সেখানে উপস্থিত থাকবে তাকে তা থেকে গ্রহণ করতে নিষেধ করছেন। কারণ, তার থেকে কেউ নাজাত পাবে না। হতে পারে, যে তখন উপস্থিত থাকবে সে এ হাদীসটির অপব্যাখ্যা করবে ও হাদীসের প্রকৃত অর্থকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবে; যাতে নিজে সেখান থেকে কিছু গ্রহণ করার সুযোগ পায়। আমরা আল্লাহর কাছে যাবতীয় ফিতনা থেকে আশ্রয় কামনা করছি।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه مرفوعاً: «يكون خليفة من خلفائكم في آخر الزمان يحثُو المالَ ولا يَعُدُّهُ».
আবূ সা‘ঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আখেরী যামানায় তোমাদের খলীফাগণের মধ্যে একজন খলীফা এমন হবেন, যিনি হাত ভর্তি দান করবেন; গণনা করবেন না।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সংবাদ দিচ্ছেন যে, শেষ যামানায় খলীফাতুল মুসলিমীন এমন হবেন যে, প্রচুর সম্পদ এবং গণীমতের মাল হস্তগত হওয়ার কারণে উদারতার সঙ্গে অগণিত ও হিসাব ছাড়া সম্পদ ব্যয় করবেন।
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه - 1987م.
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426ه.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيَأْتِيَنَّ على الناس زمانٌ يَطُوفُ الرجلُ فيه بالصدقة من الذهب فلا يجد أحدا يأخذها منه، ويُرَى الرجلُ الواحدُ يَتْبَعُهُ أربعون امرأة يَلُذْنَ به من قِلَّةِ الرجال وكَثْرَةِ النساء».
আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, লোকেদের উপর এমন একটি সময় অবশ্যই আসবে, যখন মানুষ সোনার যাকাত নিয়ে ঘোরাঘুরি করবে; কিন্তু সে এমন কাউকে পাবে না যে, তার নিকট হতে তা গ্রহণ করবে। আর দেখা যাবে যে, পুরুষের সংখ্যা কম ও মহিলার সংখ্যা বেশী হওয়ার দরুন চল্লিশজন মহিলা একজন পুরুষকে আশ্রয় করে থাকবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মানুষের সামনে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। এমনকি তা গ্রহণ করার কোন লোক পাওয়া যাবে না। পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। হয়তো তা তুমুল যুদ্ধের কারণে হবে অথবা কন্যা সন্তান অধিক হারে জন্ম লাভের কারণে। এমনকি একজন ব্যক্তির জন্য মেয়ে, বোন এবং তাদের মতো নিকটাত্মীয় মিলে চল্লিশজন মহিলা হবে যারা তার কাছে আশ্রয় চাইবে এবং তার কাছে সাহায্য চাইবে।
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ - 1987م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
عن مرداس الأسلمي رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ-: «يذهب الصالحون الأول فالأول، ويبقى حُثَالَةٌ كَحُثَالَةِ الشعير أو التمر لا يُبَالِيهُم الله بَالَةً».
মিরদাস আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “নেককার ব্যক্তিরা একে একে চলে যাবেন। আর যব ও খেজুরের অব্যবহার্য অংশের মতো নিকৃষ্ট পড়ে থাকবে। আল্লাহ এদের প্রতি পরোয়া করবেন না।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, শেষ যামানায় আল্লাহ তাআলা নেককার ব্যক্তিগণের রূহসমূহ উঠিয়ে নিবেন। তারপর এমন কতক মানুষ থাকবে যাদের আল্লাহ কোনো মর্যাদা দিবেন না, তাদের জন্য কোনো ওজন স্থাপন করবেন না, তাদের কোন দয়া করবেন না এবং তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করবেন না। আর তারা হলো আল্লাহ তাআলার নিকট নিকৃষ্ট সৃষ্ট এবং তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي.
تطريز رياض الصالحين، لفيصل الحريملي، نشر: دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002م.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com