ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ”নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: “এদের ’আযাব দেয়া হচ্ছে; তবে কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী(একের কথা অন্যজন কে লাগান) করে বেড়াত।” তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেন: “আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব হালকা করা হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: এ কবরবাসী দু’জনকে অবশ্য ’আযাব দেয়া হচ্ছে; তবে তোমাদের দৃষ্টিতে কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না; যদিও তা আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ। তাদের একজন পেশাব হতে নিজের শরীর ও তার পোষাক পরিচ্ছেদকে হেফাযত করতো না। আর অপরজন মানুষের মাঝে চোগলখোরী করে বেড়াত। ফলে সে মানুষের মধ্যে ঝগড়া -বিবাদ ইত্যাদির দ্বারা ক্ষতির মানসে একজনের কথা অন্যের কাছে বর্ণনা করতো।
শিক্ষা
একের কথা অন্যজন কে লাগান(চোগলখোরী) ও পেশাব পায়খানা থেকে সতর্ক না থাকা কবীরাহ গুনাহ এবং কবরের আযাবের কারণ।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর নবুওয়াতের প্রমাণ প্রকাশের জন্যে কতিপয় গায়েব-যেমন কবরের আযাব হওয়া-প্রকাশ করেন।
কাঁচা খেজুরের দুটি ডাল ভেঙ্গে দু’ভাগ করে প্রত্যেক কবরের ওপর গেড়ে দেওয়ার এ কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যেই খাস ছিলো। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে উক্ত কবরবাসীর অবস্থা জানিয়েছেন। সুতরাং এর উপর অন্যদের তুলনা করা যাবে না। কেননা অন্যান্য লোকের কবরের অবস্থা কেউ জানে না।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 53) (218).
صحيح مسلم (1/ 240) (292).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص43).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص22).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 29).
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর সৎ না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসোস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন জানাজা খাটিয়ায় রাখা হয় এবং লোকেরা এটিকে তাদের কাঁধে বহন করে, যদি এটি সৎ হয়, তবে এটি বলে: “আমাকে সামনে এগিয়ে নাও,” কারণ এটি তার সামনে জান্নাতের নেয়ামত দেখতে পায়। আর যদি এটি অসৎ হয়, তবে এটি ভয়ংকর কণ্ঠে চিৎকার করে বলে: “হায় আমার সর্বনাশ! কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তোমরা আমাকে?!” কারণ এটি তার সামনে আজাব দেখতে পায়। এর আওয়াজ সবকিছুই শুনতে পায়, শুধু মানুষ ছাড়া। আর যদি মানুষ তা শুনত, তবে ভয় ও আতঙ্কে অচেতন হয়ে পড়ত
শিক্ষা
সৎ মৃত ব্যক্তি কবরের আগে সুসংবাদ দেখতে পায়, আর কাফির আতঙ্কিত হয় এবং তার বিপরীতটি দেখে।
মৃত ব্যক্তির কিছু শব্দ মানুষ ছাড়া অন্যরা শুনতে পারে, কিন্তু মানুষ তা শুনতে সক্ষম নয়।
সুন্নত হলো জানাযা কাঁধে বহন করা, যা পুরুষদের জন্য নির্ধারিত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের জানাযার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 85) (1314).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 513).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 400).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (7/ 122).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 546).
বারা ইবনু ‘আযিব রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমকে যখন কবরে প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দেবে যে: আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।“ এই অর্থ রয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ তথা: “যারা মুমিন তাদেরকে আল্লাহ সু-প্রতিষ্ঠিত বাণী দ্বারা ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জীবনে প্রতিষ্ঠা দান করেন।” [সূরা ইবরাহীম: ২৭]।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মুমিনকে কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে, এবং এটির জন্য নিযুক্ত দু‘জন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তারা হচ্ছেন: মুনকার এবং নাকির, যেমন অনেক হাদীসে উভয়ের নাম এভাবে এসেছে। তখন ঐ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে” “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটাই হচ্ছে সু-প্রতিষ্ঠিত বাণী, যার কথা আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতে বলেছেন: “আল্লাহ অবিচল রাখেন ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।” [সূরা ইবরাহীম: ২৭]।
শিক্ষা
কবরে প্রশ্ন করার ব্যাপারটি সত্য।
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক মুমিন বান্দাদেরকে সুদৃঢ় বা সুপ্রতিষ্ঠিত কথার উপরে প্রতিষ্ঠিত রাখার মাধ্যমে তাদের উপরে দুনিয়া ও আখিরাতের মর্যাদা প্রদান করা।
তাওহীদের সাক্ষ্য দেওয়া এবং এর উপরে মৃত্যুবরণ করার ফযীলত।
আল্লাহ মুমিন ব্যক্তিকে ঈমানে অটল থাকার মাধ্যমে এবং সরল পথে চলার মাধ্যমে এবং মৃত্যুকালে তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করা এবং কবরে দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসার সময় মুমিনকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন।
সূত্র
صحيح البخاري (6/ 80) (4699).
صحيح مسلم (4/ 2201) (2871).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 498).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 386).
عن عائشة رضي الله عنها ، قالت: دخلت عليَّ عجوزان من عُجُز يهود المدينة، فَقَالَتا لي: إنَّ أهلَ القبور يُعذَّبون في قبورهم، فكذَّبتُهما، ولم أُنْعِم أنْ أُصَدِّقهما، فَخَرَجَتَا، ودخل عليَّ النبي صلى الله عليه وسلم ، فقلت له: يا رسول الله، إنَّ عجوزين، وذكرتُ له، فقال: «صَدَقَتَا، إنَّهم يُعذَّبون عذابًا تَسْمَعُه البهائم كلُّها» فما رأيتُه بعْدُ في صلاة إلا تعوَّذ من عذاب القبر.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার ইয়াহুদীদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা আমার নিকট প্রবেশ করল। তারা আমাকে বলল, কবরবাসীদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। আমি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করলাম। তাদের বিশ্বাস করাকে ভালো মনে করলাম না। তারা চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দুইজন বৃদ্ধা এবং তারা যা বলল তা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে, তাদেরকে এমন শাস্তি দেওয়া হয় যা সব চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পায়। তারপর প্রতি সালাতে কবরের শাস্তি থেকে তিনি আশ্রয় চাইতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট মদীনার ইয়াহুদীদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা প্রবেশ করল। তারা তাকে বলল, কবরবাসীদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। তাদের বিশ্বাস করতে সম্মত হলেন না। ইয়াহুদীদের মিথ্যাচার স্পষ্ট হওয়া, দীনের বিষয়ে তাদের মিথ্যাচার এবং আল্লাহর কিতাবে তাদের বিকৃতি করার কারণে তার অন্তর তাদের কথা পছন্দ করেনি। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট থেকে তারা চলে গেল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট প্রবেশ করল। সে ইয়াহুদী দুই মহিলা যা বলল, সে বিষয়ে তাকে অবহিত করল। তখন তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে। অবশ্যই মৃতদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয় যা সব চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পায়। তারপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানান যে, রাসূলু সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম এর পর থেকে প্রতি সালাতে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইতেন।
সূত্র
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري، أحمد بن محمد القسطلاني القتيبي، الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية، مصر، الطبعة: السابعة 1323 هـ.
إكمال المعلم بفوائد مسلم، عياض بن موسى اليحصبي السبتي، المحقق: الدكتور يحيى إسماعيل، الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر، الطبعة: الأولى، 1419 هـ، 1998م.
شرح سنن النسائي المسمى «ذخيرة العقبى في شرح المجتبى»، محمد بن علي الإثيوبي الوَلَّوِي، الناشر: دار المعراج الدولية للنشر، دار آل بروم للنشر والتوزيع، الطبعة الأولى.
عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها قالت: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الفتنةَ التي يُفتن بها المرء في قبره، فلما ذكر ذلك ضَجَّ المسلمون ضَجَّةً حالت بيني وبين أن أفهم كلامَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فلما سَكَنَت ضَجَّتُهم قلتُ لرجل قريب مني: أيْ -بارك الله لك- ماذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في آخر قوله؟ قال: «قد أُوحِيَ إليَّ أنكم تُفتَنون في القبور قريبًا من فتنة الدَّجَّال».
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি ক্ববরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলেন। যথন তিনি তা আলোচনা করতেছেন মুসলমানগণ ভয়ার্ত হয়ে এত বেশি চিৎকার করতে লাগলেন, তা আমার মাঝে এবং রাসূলের কথা বুঝার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। তাদের চিৎকার থামছিল না। আমি আমার পাশের এক লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তোমাকে বরকতময় করুক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তার কথার শেষাংশে কি বলেছেন? সে বলল, তিনি বলেছেন, আমার কাছে ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, “দাজ্জালের ফিতনার মতো কাছাকাছি ফিতনা দ্বারা তোমাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিন দাঁড়িয়ে মানুষের মধ্যে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি তাদের ওয়ায করছিলেন এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। এমনকি তিনি কবর ও কবরের অবস্থা তুলে ধরেন এবং কবরের ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এখানে কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য মুনকার ও নকীর দুই ফিরিশতার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা। একে ফিতনা বলে নামকরণ করা হয়, কারণ এটি একটি মহা ফিতনা যা দ্বারা একজন বান্দার ঈমান ও বিশ্বাস সম্পর্কে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যাকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফীক দেওয়া হবে সে কামিয়াব। আর যে ফেল করবে সে ধ্বংস হবে। যখন তিনি তা আলোচনা করলেন মুসলিমগণ কবরের ফিতনা থেকে ভয়ার্ত হয়ে খুব বেশি চিৎকার করতে লাগলেন। তাদের এ চিৎকার আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলের কথা বুঝাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। তারপর যখন চিৎকার থামল, আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার পাশের এক লোককে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তোমাকে বরকতময় করুক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তার কথার শেষাংশে কি বলেছেন? সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তার কাছে ওহী প্রেরণ করেছেন যে, “মানুষকে দাজ্জালের ফিতনার মতো কাছাকাছি ফিতনা দ্বারা কবরে পরীক্ষা করা হবে। কারণ, দাজ্জালের ফিতনা খুব মারাত্মক ও কঠিন। অনুরূপভাবে কবরের ফিতনা।
সূত্র
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
المجتبى من السنن (السنن الصغرى)، أحمد بن شعيب النسائي، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة، مكتب المطبوعات الإسلامية، حلب، الطبعة: الثانية 1406هـ، 1986م.
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، حمزة محمد قاسم، راجعه: عبد القادر الأرناؤوط، عني بتصحيحه ونشره: بشير محمد عيون، الناشر: مكتبة دار البيان، دمشق، مكتبة المؤيد، الطائف، عام النشر: 1410هـ، 1990م.
شرح سنن النسائي المسمى «ذخيرة العقبى في شرح المجتبى»، محمد بن علي الإثيوبي الوَلَّوِي، الناشر: دار المعراج الدولية للنشر، دار آل بروم للنشر والتوزيع، الطبعة الأولى.
عن أبي سعيد رضي الله عنه قال: ولم أشهده من النبي صلى الله عليه وسلم ، ولكن حدَّثنيه زيد بن ثابت، قال: بينما النبي صلى الله عليه وسلم في حائط لبني النَّجَّار، على بَغْلة له ونحن معه، إذ حادَت به فكادت تُلْقيه، وإذا أقبُر ستة أو خمسة أو أربعة -قال: كذا كان يقول الجريري- فقال: «مَن يعرف أصحاب هذه الأقبُر؟» فقال رجل: أنا، قال: فمتى مات هؤلاء؟ قال: ماتوا في الإشراك، فقال: «إن هذه الأمة تُبْتَلى في قبورها، فلولا أن لا تَدَافنوا لدعوتُ اللهَ أنْ يُسْمِعَكم من عذاب القبر الذي أسمع منه» ثم أقبل علينا بوجهه، فقال: «تعوَّذوا بالله من عذاب النار» قالوا: نعوذ بالله من عذاب النار، فقال: «تعوَّذوا بالله من عذاب القبر» قالوا: نعوذ بالله من عذاب القبر، قال: «تعوَّذوا بالله من الفتن، ما ظهر منها وما بَطَن» قالوا: نعوذ بالله من الفتن ما ظهر منها وما بَطَن، قال: «تعوَّذوا بالله من فتنة الدَّجَّال» قالوا: نعوذ بالله من فتنة الدَّجَّال.
আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনার সাক্ষ্য দিচ্ছি না। তবে যাযেদ ইবন সাবেত আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গাধার ওপর বনী নাজ্জারের বাগানে ছিলেন আমরাও তার সাথে ছিলাম। হঠাৎ গাধাটি তাকে দৌড় দিল যে, তাকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হলো। কারণ সেখানে ছয়টি বা পাঁচটি বা চারটি কবর ছিল। সে বলল, জারীরী এমনই বলতেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কবরসমূহের বাসীন্দাদের কে চিনে? এক লোক বলল, আমি। তিনি বললেন, তারা কবে মারা গেছে? সে বলল, তারা শির্কের যুগে মারা গেছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় এ উম্মতকে কবলে শাস্তি দেওয়া হয়। যদি তোমরা ভয়ে দাফন করবে না এ আশঙ্ক না করতাম তাহলে আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায় যা আমি শুনি। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। বলল, তোমারা আল্লাহর নিকট জাহেরী ও বাতেনী ফিতনা থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহ নিকট প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তোমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাও। তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, একদা তারা রাসূলুল্লাহর সাথে আনসারীদের একটি গোত্র যাকে বনী নাজ্জার বলা হতো তাদের বাগানে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গাঁধার ওপর সাওয়ার ছিলেন। হঠাৎ তার গাঁধাটি রাস্তা থেকে সরে গেল এবং দৌড় দিল। সে তাকে তার পিঠ থেকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হলো। আর সেখানে দেখা গেল ছয়টি বা পাঁচটি বা চারটি কবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কবরসমূহের বাসীন্দাদের কে চিনে? এক লোক বলল, আমি তাদেরকে চিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যদি তাদের চিনে থাকো তবে বলে দেখি তারা কবে মারা গেছে? সে বলল, তারা শির্কের যুগে মারা গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় এ উম্মতকে কবরে পরীক্ষা করা হয়। অতঃপর তাদের পুরষ্কৃত বা শাস্তি প্রদান করা হয়। যদি তোমরা ভয়ে মৃতেদের দাফন করবে না এ আশঙ্ক না করতাম তাহলে আমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায় যা আমি শুনি। কারণ, যদি তোমরা তা শুনতে পাও তবে তোমরা মৃতদের চিৎকারের আওয়াজে তোমার অন্তর প্রকম্পিত হওয়ার ভয়ে অথবা আত্মীয়দের মধ্যে অপমান হওয়ার ভয় তোমরা দাফন করা ছেড়ে দিতে। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট চাও যাতে তিনি তোমাদের থেকে কবরের আযাব দূর করে দেয়। তারা বলল, আমরা আল্লাহকে মজবুত করে পাকড়াও করলাম এবং তার নিকট আশ্রয় চাইলাম যাতে কবরের আযাব আমাদের ঘ্রাস না করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমারা আল্লাহর নিকট কামনা কর যে, তিনি যেন জাহেরী ও বাতেনী ফিতনাকে তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা বলল, আমরা আল্লাহ নিকট প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট চাও যে, তিনি যেন তোমাদের থেকে মাসীহে দাজ্জালের ফিতনাকে প্রতিহত করেন। কারণ, এটি এমন একটি বড় ফিতনা যা কুফরের দিকে নিয়ে যায়। যে কুফর মানুষকে চির জাহান্নামী করে দেয়। তখন তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
সূত্র
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
مرقاة المفاتيح، علي بن سلطان القاري ، دار الفكر، بيروت، لبنان، الطبعة: الأولى 1422هـ، 2002م.
معجم اللغة العربية المعاصرة، أحمد مختار عبد الحميد عمر بمساعدة فريق عمل، الناشر: عالم الكتب، الطبعة: الأولى 1429هـ، 2008م.
عن أبي أيوب رضي الله عنه، قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم وقد وَجَبَت الشمس، فسمع صوتا فقال: «يهودُ تُعذَّب في قبورها».
আবূ আইউব—রাদিয়াল্লাহু আনহু—থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন, তখন সূর্য্য ডুবে গিয়েছিল। তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহুদীদেরকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন যখন সূর্য্য ডুবে গিয়েছিল। তিনি ইহুদীদের আওয়াজ শুনতে পেলেন যখন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল, ফলে তিনি বললেন: ইয়াহুদীদেরকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।
সূত্র
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
عمدة القاري شرح صحيح البخاري، محمود بن أحمد بدر الدين العينى، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، علي بن سلطان الملا الهروي القاري، الناشر: دار الفكر، بيروت، لبنان، الطبعة الأولى، 1422هـ - 2002م.
كشف المشكل من حديث الصحيحين، جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن الجوزي، تحقيق: علي حسين البواب، الناشر: دار الوطن، الرياض.
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, ক্বিয়ামাত দিবসে আল্লাহ্ তোমাকে পুনরুত্থিত করা অবধি”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দা মারা যায়, তখন দিনের শুরুতে এবং শেষে তাকে জান্নাত বা জাহান্নামে তার স্থান এবং বিশেষ আবাসস্থল দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতীদের একজন হয়, তাহলে তার স্থান জান্নাতে এবং যদি সে জাহান্নামী হয়, তাহলে তার স্থান জাহান্নামে। আর তাকে বলা হবে: এটিই তোমার আসন যেখানে তুমি কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে; এটি মুমিনের জন্য সান্ত্বনা এবং কাফিরের জন্য আযাব।
শিক্ষা
কবরের আযাব ও নিআমত সত্য।
ইবনু হাজার বলেন: এই উপস্থাপনাটি মুত্তাকী মুমিন এবং অবিশ্বাসী কাফিরের জন্য স্পষ্ট, তবে পাপ-পূণ্য মিশ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্ভব যে তাকে জান্নাতে তার আসন দেখানো হবে, যেখানে সে যাবে।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 99-100) (1379).
صحيح مسلم (4/ 2199) (2866).
عمدة القاري شرح صحيح البخاري، لبدرالدين العيني (8/ 209).
التنوير شرح الجامع الصغير، لمحمد الصنعاني (2/ 209).
الإفصاح عن معاني الصحاح، ليحيى بن هبيرة (4/ 131).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com