মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

পোশাক-পরিচ্ছদের আদব

১৩টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি বানালেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما «أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اصْطَنَعَ خَاتَمًا من ذهب، فكان يجعل فَصَّهُ في باطن كَفِّهِ إذا لَبِسَهُ، فصنع الناس كذلك، ثم إنه جلس على المنبر فَنَزَعَهُ فقال: إني كنت أَلْبَسُ هذا الخَاتَمَ ، وأجعل فَصَّهُ من داخل، فرمى به ثم قال: والله لا أَلْبَسُهُ أبدا فَنَبَذَ الناس خَواتِيمَهُمْ». وفي لفظ «جعله في يده اليمنى».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি বানালেন। তিনি যখন তা পরতেন তখন তার নকশাটি তার তালুর ভিতরে রাখতেন। লোকেরাও তাই করতো। তারপর একদিন তিনি মিম্বারে বসলে তা খুলে ফেললেন এবং বললেন, আমি এ আংটিটি পরতাম এবং তার নকশাটি ভিতরের দিকে রাখতাম তারপর তা ফেলে দিলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহর কসম আমি তা আর কখনো পরিধান করবো না। লোকেরাও তাদের আংটিসমূহ নিক্ষেপ করে দিল। অপর শব্দে বর্ণিত, সেটিকে সে তার ডান হাতে রেখে দিল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য একটি স্বর্ণের আংটি বানানোর নির্দেশ দিলেন। আর যখন তিনি তা পরতেন তখন তার নকশাটি তার হাতের কব্জির ভিতরের দিকে রাখতেন। সাহাবীগণ এ বিষয়ে তার অনুসরণ করল এবং তারা তাই করল যা তিনি করলেন। কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের ওপর বসলেন যাতে তাকে মানুষ দেখতে পায়। অতঃপর তিনি বললেন, আমি এ আংটিটি পরিধান করতাম এবং তার নকশা কব্জির নিচে রাখতাম। তারপর তা তিনি ফেলে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম আমি তা আর কখনো পরিধান করবো না। এটি ছিল নিষিদ্ধ হওয়ার পর। তারপর সাহাবীগণও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণে তাদের আংটিসমূহ নিক্ষেপ করে দিলেন।

সূত্র

تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423 هـ. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، نشر: مطبعة السعادة، الطبعة: الثانية 1392هـ 1972م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা হালকা ও মোটা রেশমী কাপড় পরিধান করবে না, আর তোমরা সোনা বা রোপার পাত্রে পানও করবে না, এটা দ্বারা নির্মিত থালা-বাসনে কিছু খাবেও না; কেননা এটা দুনিয়াতে তাদের জন্য আর আমাদের জন্য এটি থাকবে আখিরাতে।”

عَن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّهُمْ كَانُوا عِنْدَ حُذَيْفَةَ، فَاسْتَسْقَى فَسَقَاهُ مَجُوسِيٌّ، فَلَمَّا وَضَعَ القَدَحَ فِي يَدِهِ رَمَاهُ بِهِ، وَقَالَ: لَوْلاَ أَنِّي نَهَيْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ -كَأَنَّهُ يَقُولُ: لَمْ أَفْعَلْ هَذَا-، وَلَكِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لاَ تَلْبَسُوا الحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ، وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَنَا فِي الآخِرَةِ».
আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তারা একদা হুযাইফা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ছিলেন, তখন হুযাইফা পানি চাইলে একজন অগ্নিপূজক তাকে পানি দিল, যখন সে তার পাত্রটি হুযাইফার হাতে দিলেন, তখন তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন, আর বললেন: যদি আমি তাকে একবার বা দুইবারেরও বেশী এ ব্যাপারে নিষেধ না করতাম, -যেমন তিনি বলছিলেন-: তাহলে আমি একাজ করতাম না। কিন্তু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমরা হালকা ও মোটা রেশমী কাপড় পরিধান করবে না, আর তোমরা সোনা বা রোপার পাত্রে পানও করবে না, এটা দ্বারা নির্মিত থালা-বাসনে কিছু খাবেও না; কেননা এটা দুনিয়াতে তাদের জন্য আর আমাদের জন্য এটি থাকবে আখিরাতে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদেরকে সব ধরণের রেশমী পোষাক পরিধান করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর নারী-পুরুষ উভয়কেই সোনা বা রোপার পান-পাত্র অথবা থালা-বাসনে খাবার খেতে অথবা পান করতে নিষেধ করেছেন। এবং তিনি আরো জানিয়েছেন যে, এটা কিয়ামাতের দিনে মুমিনদের জন্য খাস; কেননা তারা দুনিয়াতে আল্লাহর আনুগত্যের কারণে তা থেকে দূরে থেকেছে। অপরপক্ষে আখিরাতে কাফিরদের জন্য এটির অনুমতি থাকবে না; কেননা তারা দুনিয়াতে তাদের জীবদ্দশায় তা আগেই ব্যবহার করেছিল এবং আল্লাহর আদেশের লঙ্ঘন করেছিল।

শিক্ষা
  1. পুরুষদের জন্য হালকা অথবা মোটা রেশমী কাপড়কে হারাম করা হয়েছে। আর যারা এটি ব্যবহার করবে, তাদেরকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
  2. হালকা ও মোটা রেশমী কাপড় নারীদের জন্য ব্যবহার করা বৈধ।
  3. সোনা ও রোপার থালা-বাসনে এবং পান-পাত্রে পানাহার করা পুরুষ ও নারী সবার জন্য হারাম।
  4. হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান; যার কারণ ছিল, তিনি তাকে একাধিকবার সোনা-রোপার পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তবুও সে তা থেকে বিরত হয়নি।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 77) (5426). صحيح مسلم (3/ 1638) (2067). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام (ص729).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না”।

عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَبِسَ الحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الآخِرَةِ».
উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, পুরুষদের যে দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, তাওবা না করলে আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না, তার শাস্তি স্বরূপ।

শিক্ষা
  1. রেশম বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হল খালিস প্রাকৃতিক রেশম, কিন্তু কৃত্রিম রেশম হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
  2. পুরুষদের জন্য রেশম পরিধান করা হারাম।
  3. রেশম পরিধানের নিষেধাজ্ঞা তা পরিধান করা এবং বিছানো উভয়কে শামিল করে।
  4. পুরুষদের জন্য তাদের কাপড়ে নকশা অথবা কাপড়ের পার্শ্বে কিছু রেশম ব্যবহার করা বৈধ, যা দুই থেকে চার আঙ্গুলের বেশি চওড়া নয়।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 150) (5834). صحيح مسلم (3/ 1641) (2069). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (4/ 207).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন; তবে দুই, তিন কিংবা চার অঙ্গুলি পরিমাণ ছাড়া।

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم «نهى عن لُبُوسِ الحَرِيرِ إلا هكذا، ورَفَعَ لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أُصْبُعَيْهِ: السَّبَّابَةَ، والوُسْطَى». ولمسلم «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لُبْس ِالحَرِيرِ إلا مَوْضِعَ أُصْبُعَيْنِ، أو ثلاثٍ، أو أربعٍ».
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন, তবে এতটুকুই ছাড়া। (বর্ণনাকারী বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে তাঁর মধ্যমা ও শাহাদাত অঙ্গুলি উঠান। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন, তবে দুই, তিন কিংবা চার অঙ্গুলি পরিমাণ।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষকে রেশমী পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তবে যেটুকু তিনি বাদ দিয়েছেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসে বাদ দেওয়ার পরিমাণ দুই আঙ্গুল পরিমাণ। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় তিন কিংবা চার অঙ্গুলি পরিমাণ। সুতরাং সর্বাধিক পরিমাণ গ্রহণ করা হবে, তাই চার আঙ্গুল পরিমাণ রেশমী কাপড় পরিধান করলে কোনো দোষ নেই। দেখুন তা’সীসুল আহকাম।

সূত্র

1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. 2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. 3- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. 4- تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار علماء السلف، الطبعة: الثانية 1414هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «إِذَا لَبِسْتُم، وَإِذَا تَوَضَّأتُم، فَابْدَأُوا بَأَيَامِنُكُم».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসটি যাবতীয় ভালো কর্মে ডান দিক মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাই তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমরা পরিধান কর” অর্থাৎ তোমরা পরিধান করার ইচ্ছা কর। “এবং যখন তোমরা ওযু কর” অর্থাৎ ওযু করার ইচ্ছা কর, “তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু কর”। ‘আয়ামান’ আইমান এর বহুবচন অর্থ বামের বিপরীত। সুতরাং জামার পরিধানে তোমরা বামের পূর্বে ডান হাতকে আগে বাড়াবে এবং ওযুর সময় হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে ডানকে আগে বাড়াবে। বিকলাঙ্গ ব্যক্তি ওযূর সব আমলে ডানকে গ্রহন করবে। অতঃপর যেনে রাখা ভালো যে, ওযূর কতক অঙ্গ আছে যাতে ডান দিক মুস্তাহাব নয়। আর তা হলো দুই কান, কব্জি, চেহারা। বরং তা একবারেই করবে। যদি তা কষ্টকর হয়, যেমন বিকলাঙ্গের ইত্যাদির ক্ষেত্রে তখন ডানকে আগে বাড়াবে।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ. تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ. جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر وآخرون، ط2، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي ، مصر، 1395هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ. رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ. رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ. سنن أبي داود ،تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، بيروت. سنن ابن ماجه، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية، فيصل عيسى البابي الحلبي. الشرح الممتع على زاد المستقنع، لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، ط1، دار ابن الجوزي، 1422 - 1428هـ. كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ. مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط1، مؤسسة الرسالة، 1421هـ. مشكاة المصابيح للتبريزي، تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني، ط3، المكتب الإسلامي، بيروت، 1985م. المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، للنووي، ط2، دار إحياء التراث العربي - بيروت، 1392هـ. شرح رياض الصالحين، للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“মুসলিমের লুঙ্গি অর্ধ গোছা পর্যন্ত ঝুলানো উচিত। গাঁটের উপর পর্যন্ত ঝুললে ক্ষতি নেই। যে অংশ লুঙ্গি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলবে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর অহংকারবশত যে ব্যক্তি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে লুঙ্গি পরবে, তার দিকে আল্লাহ (করুণার দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না।”

عَنْ أبي سَعيدٍ الخُدريَّ رضي الله عنه قال: قال رسولُ الله صلَّى الله عليه وسلم ِ: «إزْرَةُ المُسْلمِ إلى نصفِ السَّاق، وَلَا حَرَجَ -أو لا جُنَاحَ- فيما بينَهُ وبينَ الكعبينِ، وما كان أسفلَ منَ الكعبين فهو في النار، مَن جرَّ إزارَهُ بطرًا لم يَنْظُرِ اللهُ إليه».
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের লুঙ্গি অর্ধ গোছা পর্যন্ত ঝুলানো উচিত। গাঁটের উপর পর্যন্ত ঝুললে ক্ষতি নেই। যে অংশ লুঙ্গি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলবে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর অহংকারবশত যে ব্যক্তি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে লুঙ্গি পরবে, তার দিকে আল্লাহ (করুণার দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না।”
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, মুসলিম পুরুষের ইজার (শরীরের নিচের অর্ধেক ঢাকার পোশাক; যেমন, লুঙ্গি পা পাজামা) এর তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথমত: মুস্তাহাব হলো এটি পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত হওয়া। দ্বিতীয়ত: যা জায়েজ এবং মাকরুহ নয়, তা হলো পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত; গোড়ালি হলো সেই দুটি উঁচু হাড় যা পায়ের গোছা এবং পায়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তৃতীয়ত: যা হারাম, তা হলো গোড়ালির নিচে ঝুলে থাকা, এবং এতে আশঙ্কা করা হয় যে তার উপর আগুন (জাহান্নামের) আযাব আসতে পারে। আর যদি এটি অহংকার বা দাম্ভিকতার কারণে হয়, তবে আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।

শিক্ষা
  1. এই বিধান এবং শাস্তির কথা শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। মহিলারা এর ব্যতিক্রম; কারণ তাদেরকে তাদের সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  2. পুরুষদের নিচের অর্ধেক শরীর যা ঢেকে রাখে তাকে ইজার বলা হয়; যেমন প্যান্ট, পাজামা, লুঙ্গি ইত্যাদি। এটি এই হাদিসে উল্লিখিত শরঈ বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র

سنن أبي داود (6/ 191) (4093). سنن ابن ماجه (4/ 583) (3573). مسند أحمد (17/ 52) (11010). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 637). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 95). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (10/ 582). المعجم الوسيط، (1/ 16).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন খুলবে, তখন সে বাম পা দিয়ে শুরু করবে। ডান পায়ের জুতা যেন আগে পরা হয় এবং পরে খোলা হয়।

عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه مرفوعاً: «إذا انْتَعَل أحدكم فليبدأ باليمين، وإذا نَزَعَ فليبدأ بالشمال، ولْتَكُن اليُمنى أولَهُما تُنْعَل، وآخِرَهُما تُنْزَع».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন খুলবে, তখন সে বাম পা দিয়ে শুরু করবে। ডান পায়ের জুতা যেন আগে পরা হয় এবং পরে খোলা হয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জুতা পরিধানের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো ডান পা দিয়ে পরিধান আরম্ভ করা, আর খোলার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব তার বিপরীত। আর তা হলো বাম পা দিয়ে আরম্ভ করা। কারণ, এতে ডান পায়ের সম্মান নিহিত আছে।

সূত্র

منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان، دار ابن الجوزي. ط1، 1428هـ. توضِيحُ الأحكَامِ مِن بُلوُغ المَرَام، للبسام. مكتَبة الأسدي، مكّة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. صحيح البخاري, تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, ط 1422هـ. صحيح مسلم, تأليف: مسلم بن حجاج النيسابوري, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার পোশাক টেনে-হেঁচড়ে চলে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ».
ইবনু ‘উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার পোশাক টেনে-হেঁচড়ে চলে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাম্ভিকতা ও অহংকারের বশে নিজের পোশাক বা কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং যে কেউ তা করবে সে কঠোর হুমকির সম্মুখিন হবে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

শিক্ষা
  1. الثوب শব্দটিতে শরীরের নিচের অংশ ঢেকে রাখার মতো সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন প্যান্ট, পোশাক, লুঙ্গি ইত্যাদি।
  2. পোশাক ঝুলিয়ে রাখার নিষেধ কেবল পুরুষদের জন্যই খাস। আন-নওয়াবী বলেন: আলেমগণ একমত যে মহিলাদের জন্য পোশাক ঝুলিয়ে রাখা জায়েয এবং এটি সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পোশাকের নিম্নাংশ এক হাত পর্যন্ত ঝুলতে দেওয়ার অনুমতি দিলেন।
  3. ইবনু বায বলেন: হাদীসের ব্যাপকতা অনুসারে পোশাকের নিম্মাংশ ঝুলিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ ও হারাম; তবে শাস্তির ক্ষেত্রটি বিভিন্ন সব বরাবর হওয়া জরুরি নয়, কারণ যে ব্যক্তি অহংকারের ইচ্ছা করল সে তার মতো নয় যে ইচ্ছা করেনি।
  4. ইবনু বায বলেন: একজন মহিলা হলেন আওরাত (গুপ্তাঙ্গ), তাই তার কাপড় এক বিঘা নীচে ঝুলতে দেওয়ায় কোনও দোষ নেই; যদি তা যথেষ্ট না হয়, তাহলে তিনি গোড়ালি থেকে শুরু করে এক হাত ঝুলিয়ে দিবেন।
  5. আল-কাধী বলেন: আলেমরা বলেছেন: সংক্ষেপে পোশাকের প্রচলিত দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের চেয়ে বেশি যা কিছু হবে তা অপছন্দনীয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
  6. আন-নওয়াবী বলেন: জামা এবং লুঙ্গির শেষ প্রান্ত যে পর্যন্ত পৌঁছায় তার মুস্তাহাব পরিমাণ হলো পায়ের গোছার মাঝখানের অংশ এবং তার ও টাখনুর মাঝখানের অংশে কোন দোষ নেই। এর নীচে যা আছে তা জাহান্নামে যাবে, তাই মুস্তাহাব হল পায়ের গোঝার মাঝখান এবং তার নীচ থেকে টাখনু পর্যন্ত জায়েয, টাখনুর চেয়ে নীচে গেলে তা নিষিদ্ধ।
  7. ইবনু উসাইমিন তার বক্তব্য (لا ينظر الله إليه) (আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না) সম্পর্কে বলেন: অর্থাৎ করুণা ও দয়ার দৃষ্টি। এর দ্বারা সাধারণ দৃষ্টি বুঝানো হয়নি। কারণ আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে কিছুই লুকানো নেই এবং তাঁর দৃষ্টি থেকে কিছুই অদৃশ্য হয় না, বরং এর অর্থ হল রহমত ও করুণার দৃষ্টি।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 141) (5783). صحيح مسلم (3/ 1651) (2085). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 283). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 268). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 313). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 87). فتاوى اللجنة الدائمة - المجموعة الأولى- (17/ 97).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৩টির মধ্যে ৮
১৩টি হাদীস
  1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি বানালেন।
  2. “তোমরা হালকা ও মোটা রেশমী কাপড় পরিধান করবে না, আর তোমরা সোনা বা রোপার পাত্রে পানও করবে না, এটা দ্বারা নির্মিত থালা-বাসনে কিছু খাবেও না; কেননা এটা দুনিয়াতে তাদের জন্য আর আমাদের জন্য এটি থাকবে আখিরাতে।”
  3. “যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না”।
  4. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন; তবে দুই, তিন কিংবা চার অঙ্গুলি পরিমাণ ছাড়া।
  5. যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।
  6. “মুসলিমের লুঙ্গি অর্ধ গোছা পর্যন্ত ঝুলানো উচিত। গাঁটের উপর পর্যন্ত ঝুললে ক্ষতি নেই। যে অংশ লুঙ্গি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলবে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর অহংকারবশত যে ব্যক্তি পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে লুঙ্গি পরবে, তার দিকে আল্লাহ (করুণার দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না।”
  7. তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে, তখন সে ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন খুলবে, তখন সে বাম পা দিয়ে শুরু করবে। ডান পায়ের জুতা যেন আগে পরা হয় এবং পরে খোলা হয়।
  8. যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার পোশাক টেনে-হেঁচড়ে চলে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।
  9. “যে ব্যক্তি মূল্যবান পোশাক পরার ক্ষমতা থাকা সত্বেও বিনয়বশতঃ তা পরিহার করল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের সামনে তাকে ডেকে স্বাধীনতা দেবেন, সে যেন ঈমানের (অর্থাৎ ঈমানদারদের পোশাক) জোড়াসমূহের মধ্য থেকে যে কোন জোড়া বেছে নিয়ে পরিধান করে।”
  10. আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে গেলাম এমতাবস্থায় যে, আমার লুঙ্গি বেশ ঝুলে ছিল। তিনি বললেন, “হে আব্দুল্লাহ! লুঙ্গি উঠিয়ে পর।” অতএব আমি লুঙ্গি তুলে পরলাম। তিনি আবার বললেন, “আরো উঁচু কর।” আমি আরো উঁচু করলাম। এরপর বরাবর আমি এর খেয়াল রাখতে থাকলাম; যেন লুঙ্গি নীচে না নামে। কিছু লোক (আব্দুল্লাহকে) জিজ্ঞাসা করল, ‘কতদূর পর্যন্ত?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘অর্ধ গোছা পর্যন্ত।’
  11. “এক পুরুষ আরেক পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না এবং এক নারীও আরেক নারীর সতরের দিকে তাকাবে না।
  12. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিষেধ করেছেন।
  13. তোমরা সাদা পোশাক পরো, কারণ এটি তোমাদের পোশাকের মধ্যে সর্বোত্তম এবং তোমাদের মৃতদেরকে এতে কাফন দাও।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com