মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

পানাহারের আদব

২৯টি হাদীস

যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় তখন সে তার হাত নিজে চাটা অথবা চাটানো ছাড়া হাত মুছবে না।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ««إذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلا يَمْسَحْ يَدَهُ حَتَّى يَلْعَقَهَا، أَوْ يُلْعِقَهَا».
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় তখন সে তার হাত নিজে চাটা অথবা চাটানো ছাড়া হাত মুছবে না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি খাবার খায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ নির্দেশ দেন যে, সে যেন তার হাত নিজে চাটা বা চাটানো ছাড়া না মুছে বা না ধোয়। কারণ, সে জানে না খাবারের কোন অংশে বরকত নিহিত। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল ছাটার নির্দেশ দেন। হতে পারে বরকত খাদ্যের যে অংশ আঙ্গুলের সাথে লেগে আছে তাতেই রয়েছে।

সূত্র

صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ. تأسس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।

عن عائشة رضي الله عنها: «أَنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم سُئِل عن الْبِتْعِ؟ فقال: كل شَرَابٍ أَسْكَر فهو حَرَامٌ».
‘আয়িশাহ রাদয়িাল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মধুর পানীয় মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি একটি সামগ্রিক ও ব্যাপক উত্তর দেন। যার সারমর্ম হলো নামের ভিন্নতার কোন গুরুত্ব নাই যতক্ষণ পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা এক হবে। সুতরাং যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তাই মদ, হারাম। যেখান থেকেই তা নেওয়া হোক। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অল্প শব্দে অনেক অর্থবোধক বাক্যসমূহের একটি বাক্য এবং স্বীয় রবের পক্ষ থেকে তার সুন্দর বর্ণনা। এ কারণেই তার আগমনের সময় এমন ইলমের আর্বিভাব হয় যা দুনিয়া ও আখিরাতে মানবতার জন্য কল্যাণকর ছিল।

সূত্র

- صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه. - صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423 هـ - عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ - تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381ه - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযির হয়েছে। আর তা পাঁচটি জিনিষ থেকে হয়ে থাকে। আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও জব থেকে।

عن عَبْدُ الله بن عمر رضي الله عنهما أن عمر قال -على منبر رسول الله- صلى الله عليه وسلم : "أما بعد، أيها الناس، إنه نزل تحريم الخمر وهي من خمسة: مِنَ العنب، والتمر، والعسل، والحنطة، والشعير. والخمر: مَا خَامَرَ العَقْلَ. ثَلاثٌ وَدِدْتُ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم كَانَ عَهِدَ إلَيْنَا فِيهَا عَهْداً نَنْتَهِي إلَيْهِ: الجَدُّ، والكَلالَةُ، وأَبْوَابٌ مِنَ الرِّبَا".
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বারে আরোহণ করে ওমর বলেন, অতঃপর: হে মানব সকল, মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযির হয়েছে। আর তা পাঁচটি জিনিষ থেকে তৈরি হয়: আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও জব। আর মদ বলা হয় যা আকলকে লুকিয়ে ফেলে। তিনটি বিষয়ে আমি খুব চেয়েছি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে দিতেন, যার দিকে গিয়ে আমরা ক্ষান্ত হতাম: দাদা, সন্তানহীন ব্যক্তি যার কোন মাতা-পিতা নেই এবং সুদের কতক অধ্যায়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উমার উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু রাসূলের মসজিদে তার মিম্বারে আরোহণ করে এ ভাষণ দেন। আর তিনি তাতে বলেন যে, মদ বলা হয় যা আকলকে লুকিয়ে ফেলে। সুতরাং মদ শুধু আঙ্গুরের সাথে খাস নয়, বরং মদ হলো নেশাজাত পানীয় যা খেজুর, মধু ও জব থেকে তৈরি হয়। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু উল্লেখ করেন যে, তিনটি মাস‘আলা তার নিকট অস্পষ্ট। সে আশা করে যে, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তিনটি মাসআলার ক্ষেত্রে কোন সুস্পষ্ট প্রতিশ্রতি প্রদান করতেন যার দিকে উম্মত ফিরে যেত। আর তা হলো দাদার মীরাস, সন্তানহীন ব্যক্তি যার কোন সন্তান বা মাতা-পিতা নেই তার মীরাস এবং সূদের কতক অধ্যায়। আল-হামদুলিল্ললাহ এ তিনটি মাস‘আলার বিধান অবশ্যই জানা। এর অর্থ এ নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর বিধান স্পষ্ট করে বর্ণনা করেননি। বরং তিনি রিসালাতকে পূর্ণ করেছেন এবং আমানতকে আদায় করেছেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এর চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তাও তিনি পৌঁছিয়েছেন। কিন্তু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু চাইলেন, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সরাসরি বর্ণনা যাতে কোন ইজতিহাদের সুযোগ না থাকে।

সূত্র

صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار علماء السلف، الطبعة: الثانية 1414هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ. المعجم الوسيط، مجمع اللغة العربية بالقاهرة، (إبراهيم مصطفى، أحمد الزيات، حامد عبد القادر، محمد النجار)، الناشر: دار الدعوة.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

”তোমাদের কেউ প্রসাব করার সময়ে যেন তার পুরুষাঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে, ডান হাত দ্বারা মলদার পরিষ্কার না করে এবং (পান করার সময়) পানির পাত্রে যেন নিঃশ্বাস না ফেলে।”

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُمْسِكَنَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَهُوَ يَبُولُ، وَلَا يَتَمَسَّحْ مِنَ الْخَلَاءِ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ».
আবূ কাতাদাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "”তোমাদের কেউ প্রসাব করার সময়ে যেন তার পুরুষাঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে, ডান হাত দ্বারা মলদার পরিষ্কার না করে এবং (পান করার সময়) পানির পাত্রে যেন নিঃশ্বাস না ফেলে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসটিতে কতিপয় শিষ্টাচার বর্ণনা করেছেন; এখানে তিনি প্রসাব করা অবস্থায় ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ ধরতে নিষেধ করেছেন এবং পিছন ও সামনের রাস্তার ময়লাও ডান হাত দ্বারা দূর করতে নিষেধ করেছেন; কেননা ডান হাত সম্মানজনক কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে। অনুরূপভাবে যে পাত্রে পানি পান করা হয়, তাতে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।

শিক্ষা
  1. শিষ্টাচার ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ইসলামের অগ্রবর্তিতার বর্ণনা করা হয়েছে।
  2. ময়লা বস্তু থেকে দূরে থাকা, যখন একান্ত বাধ্য হয়, তখন তা বাম হাতে করবে।
  3. বাম হাতের উপর ডান হাতের সম্মানের বর্ণনা করা হয়েছে।
  4. ইসলামী শরী‘আতের পূর্ণতা এবং এর শিক্ষা-দিক্ষার সামগ্রিকতার বর্ণনা করা হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 42) (154). صحيح مسلم (1/ 225) (267). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص41). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 45).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ»، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ، قَالَ: «لَا اسْتَطَعْتَ

عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ»، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ، قَالَ: «لَا اسْتَطَعْتَ»، مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ، قَالَ: فَمَا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ.
সালামা ইবনুল আকওয়া‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ»، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ، قَالَ: «لَا اسْتَطَعْتَ»، مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ، قَالَ: فَمَا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ. এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে বাম হাতে আহার করছিল। তিনি বললেন: “তুমি তোমার ডান হাতে আহার করো।” সে বললো, আমি পারবো না । তিনি বললেন: “তুমি যেন না-ই পারো।” একমাত্র অহংকারই তাকে বাধা দিচ্ছে। সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, সে আর তার ডান হাত মুখের কাছে তুলতে পারেনি।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বাম হাতে আহার করতে দেখলেন। তিনি তাকে ডান হাতে আহার করতে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি অহংকার ও অস্বীকার করে উত্তর দিল যে, সে ডান হাতে আহার করতে পারে না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে বদ-দো‘আ করলেন যে, সে যেন ডান হাতে খেতে না পারে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর দো‘আ কবুল করলেন। তার ডান হাত অবশ হয়ে যায়। এর পর থেকে সে আর ডান হাত দিয়ে খাবার ও পানীয় মুখে তুলতে পারতো না।

শিক্ষা
  1. ডান হাত দিয়ে খাবার খাওয়া ওয়াজিব এবং বাম হাত দিয়ে খাবার খাওয়া হারাম।
  2. ইসলামী শরী‘আহর হুকুম বাস্তবায়নে অহংকারকারী শাস্তির উপযুক্ত।
  3. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দো‘আ কবুল করার মাধ্যমে তাকে সম্মান দিয়েছেন।
  4. সর্বাবস্থায় সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা শরী‘আহ অনুমোদিত এমনকি খাবার গ্রহণের সময়ও।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1599) (2021). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 239). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 183). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (3/ 396).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, শয়তান সে খাদ্যকে হালাল মনে করে

عَنْ حُذَيْفَةَ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا لَمْ نَضَعْ أَيْدِيَنَا حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعَ يَدَهُ، وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا، فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ، فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهَا، ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَأَخَذَ بِيَدِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ، وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا، فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِيِّ لِيَسْتَحِلَّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا».
হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূল-এর সঙ্গে আহারে বসতাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারে হাত রেখে শুরু না করা পর্যন্ত আমরা তাতে হাত রাখতাম না (এবং আহার শুরু করতাম না)। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাবারে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে এমনভাবে এল, যেন তাকে (পিছন থেকে) ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে নিজ হাত খাবারে দিতে উদ্যত হয়েছিল, এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে নিলেন। তারপর এক বেদুঈনও (তদ্রূপ দ্রুত বেগে) এল, যেন তাকে ধাক্কা মারা হচ্ছিল (সেও খাবারে হাত রাখতে উদ্যত হলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতও ধরে নিলেন এবং বললেন, “যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, শয়তান সে খাদ্যকে হালাল মনে করে। আর এ মেয়েটিকে শয়তানই নিয়ে এসেছে, যাতে ওর বদৌলতে নিজের জন্য খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর সে বেদুঈনকে নিয়ে এল, যাতে ওর দ্বারা খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি ওর হাতও ধরে নিলাম। সেই মহান সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, শয়তানের হাত তাদের দু’জনের হাতের সঙ্গে আমার হাতে আটকা পড়েছে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাবারে উপস্থিত হতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাতে হাত দিতেন না। একবার আমরা তাঁর সাথে খাবারে হাজির হয়েছিলাম আর একটা ছোট মেয়ে এলো, যেন তাকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, তাই সে খাবারে হাত দিতে গেল, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর একজন বেদুইন এমনভাবে এলো যেন তাকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে এবং খাবার স্পর্শ করার আগে তিনি তার হাত ধরে ফেললেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি কেউ আল্লাহর নাম না নিয়ে খাবার খেতে শুরু করে, তাহলে শয়তান খাবার খেতে সক্ষম হয়। সে এই মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে যাতে তার মাধ্যমে খাবার খেতে সক্ষম হয়। তাই আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর সে এই বেদুইনকে নিয়ে এল যাতে তার মাধ্যমে খাবার খেতে সক্ষম হয়, তাই আমি তার হাত ধরে ফেললাম। যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, শয়তানের হাত তার সাথে আমার হাতেও আছে। তারপর তিনি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলেন এবং খেলেন।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাহাবীদের শ্রদ্ধা এবং তাঁর সাথে তাদের সদাচরণ।
  2. ছোটদের জন্য খাবারের আদবের অংশ হল বয়স্ক এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
  3. শয়তান কিছু গাফিল মানুষকে এমন কাজ করতে বাধ্য করে যা সে পছন্দ করে, যাতে সে তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। এই হাদীসে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ রয়েছে—
  4. ইমাম নববী বলেন: আলেমগণ বলেছেন: বিসমিল্লাহ জোরে বলা মুস্তাহাব যাতে অন্যরা শুনতে পায় এবং সতর্ক হয়।
  5. যদি কেউ খেতে আসে এবং তুমি তাকে বিসমিল্লাহ বলতে না শোনো, তাহলে তার হাত ধরে রাখো যতক্ষণ না সে বিসমিল্লাহ বলে।
  6. আলেমের জন্য মন্দকে পরিবর্তন করা ওয়াজিব এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তির জন্য খারাপ কাজকে হাত দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব।
  7. এই হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি নিদর্শন, কারণ আল্লাহ তাকে এই গল্পে যা ঘটেছিল তা অবহিত করেছেন।
  8. শয়তান মুমিনদের খাবার খেতে সক্ষম হয় না, তবে তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত না হলে তখন সে সক্ষম হয়।
  9. ইসলামে মানুষকে পানাহার ও পানীয়ের আদব শেখানো মুস্তাহাব।
  10. শপথ করা মুস্তাহাব; শ্রোতার কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য।
  11. ইমাম নববী রহ. বলেন: পানি, দুধ, মধু, ঝোল, ঔষধ এবং অন্যান্য সকল পানীয় পান করার সময় বিসমিল্লাহ বলা খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলার মতো।
  12. আন-নওয়াবী বলেন: যদি খাবারের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে, ভুলে, অজ্ঞতাবশত, বাধ্য হয়ে অথবা অন্য কোন কারণে বিসমিল্লাহ বলা বাদ দেয় এবং তারপর খাওয়ার সময় তা করতে সক্ষম হলে মুস্তাহাব হল, بسم الله أوله وآخره বলা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ খাবে, তখন সে যেন আল্লাহর নাম নেয়। যদি সে শুরুতে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বলে: سم الله أوله وآخره “শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর নামে।" আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1597) (2017). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 51). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 192). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (10/ 202). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 600).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

শোনো! যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত।

عن عائشة رضي الله عنها كان رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ طَعَامًا في سِتَّةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ، فَأَكَلَهُ بِلُقْمَتَيْنِ، فقال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَمَا إِنَّهُ لَوْ سَمَّى لَكَفَاكُمْ».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছয়জন সাহাবীর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হলো এবং সে দু’গ্রাসেই সমস্ত খাদ্য খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “শোনো! যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়জন সাহাবীর সাথে খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হলো এবং সে দু’গ্রাসেই অবশিষ্ট খাদ্য খেয়ে ফেলল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত। কিন্তু সে আল্লাহর না নেয় নি। ফলে সে অবশিষ্ট সব খাদ্য দুই লুকমায় খেয়ে ফেলল। অথচ তা তার জন্য যথেষ্ট হলো না। এতে প্রমাণিত হয়, যখন কোনো মানুষ খাওয়াতে আল্লাহর নাম না নেয়, তার খাদ্য থেকে বরকত ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

সূত্র

- سنن الترمذي لمحمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض -شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م - سنن ابن ماجه لابن ماجه أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي- دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي. - مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي مؤسسة الرسالة الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - نزهة المتقين بشرح رياض الصالحين، تأليف مصطفى سعيد الخن-مصطفى البغا-محي الدين مستو-علي الشربجي-محمد أمين لطفي-مؤسسة الرسالة-بيروت –لبنان-الطبعة الرابعة عشرة 1407. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم بن عيد الهلالي دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى 1418. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين -المؤلف: محمد علي بن محمد بن علان الصديقي-اعتنى بها: خليل مأمون شيحا-دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان-الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م. -المعجم الوسيط-المؤلف: مجمع اللغة العربية بالقاهرة- (إبراهيم مصطفى / أحمد الزيات / حامد عبد القادر / محمد النجار)-الناشر: دار الدعوة. - مختصر الشمائل المحمدية- محمد بن عيسى الترمذي، الناشر: المكتبة الإسلامية - عمان – الأردن- اختصره وحققه محمد ناصر الدين الألباني.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে”।

عَنْ وَحْشِيِّ بْنِ حَرْبٍ رَضيَ اللهُ عنه: أَنَّهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَأْكُلُ وَلَا نَشْبَعُ، قَالَ: «فَلَعَلَّكُمْ تَأْكُلُونَ مُتَفَرِّقِينَ؟» قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: «فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ، يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ».
ওয়াহশী ইবন হারব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বললেনঃ “হয় তো তোমরা বিচ্ছিন্নভাবে খাও”। তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে”।
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

কিছু সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা খাই কিন্তু পেট ভরে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: হয়তো খাওয়ার সময় তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাও; সবাই কি একা খায়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন: অতএব তোমরা একত্রিত হও এবং আলাদা না হয়ে খাও আর খাওয়ার সময় بسم الله বলে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো।তিনি তোমাদের জন্য তাতে বরকত দান করবেন এবং তোমাদের পেট ভরে যাবে।

শিক্ষা
  1. খাবারের জন্য একত্রিত হওয়া এবং খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা খাবারে বরকত লাভের এবং তা খেয়ে তৃপ্ত হওয়ার একটি কারণ।
  2. সকল বিচ্ছেদই মন্দ, সকল ঐক্যই ভালো।
  3. খাবার সময় সমবেত হওয়া এবং বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করা।
  4. আস-সিন্দি বলেন: একত্রিত হলে রিযিকের উপর বরকত নেমে আসে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলে শয়তান খাবারের কাছে পৌঁছাতে পারে না।
সূত্র

سنن أبي داود (5/ 588) (3764). سنن ابن ماجه (4/ 418) (3286). مسند أحمد (25/ 485) (16078). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 217). نزهة المتقين بشرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 607). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 59).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
২৯টির মধ্যে ৮
২৯টি হাদীস
  1. যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় তখন সে তার হাত নিজে চাটা অথবা চাটানো ছাড়া হাত মুছবে না।
  2. যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।
  3. মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযির হয়েছে। আর তা পাঁচটি জিনিষ থেকে হয়ে থাকে। আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও জব থেকে।
  4. ”তোমাদের কেউ প্রসাব করার সময়ে যেন তার পুরুষাঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে, ডান হাত দ্বারা মলদার পরিষ্কার না করে এবং (পান করার সময়) পানির পাত্রে যেন নিঃশ্বাস না ফেলে।”
  5. أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ»، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ، قَالَ: «لَا اسْتَطَعْتَ
  6. “যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, শয়তান সে খাদ্যকে হালাল মনে করে
  7. শোনো! যদি এ ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তাহলে এ খাবারই তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত।
  8. “তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে”।
  9. একসঙ্গে খাবার সময় তোমরা দু’টি খেজুর একসাথে খেয়ো না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে জোড়া করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: তবে কেউ তার ভাইয়ের অনুমতি নিলে সে ভিন্ন কথা।
  10. সে আমাদের অনুসরণ করে চলে এসেছে। তুমি চাইলে তাকে প্রবেশের অনুমতি দিবে, অন্যথায় সে ফিরে যাবে।
  11. আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতে দেখেছি।খাবার শেষে তিনি সেগুলো চেখে খেতেন।
  12. যে ব্যক্তি মানুষকে পান করায় সে সবার শেষে পান করবে।
  13. আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যমযম পান করিয়েছি। তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করেছেন।
  14. আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাঁটা অবস্থায় আহার করেছি এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পান করেছি।
  15. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারের দোষ-ত্রুটি বলেন নি। ভালো লাগলে তিনি খেতেন এবং খারাপ লাগলে বর্জন করতেন।
  16. তোমাদের কেউ দাঁড়িয়ে পান করবে না।
  17. তোমাদের কেউ যেন কখনই দাঁড়িয়ে পান না করে। আর যদি ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বমি করে দেয়।
  18. নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশক অথবা পানির বড় পাত্রের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে বারণ করেছেন।
  19. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ বাঁকিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।
  20. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় বস্তুতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।
  21. একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পানীয় পরিবেশন করা হলে তিনি তা থেকে পান করলেন, আর তাঁর ডান দিকে ছিল একটি বালক
  22. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাবার খেতেন, তখন তার তিন আঙ্গুলই চাটতেন।
  23. “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ঐ বান্দাহর প্রতি সন্তুষ্ট হন, যে খাবার খায়, অতঃপর তার উপর আল্লাহর প্রশংসা করে অথবা পানি পান করে, অতঃপর তার উপর আল্লাহর প্রশংসা করে।”
  24. দু’জনের খাবার তিনজনের জন্যে যথেষ্ট ও তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।
  25. ১৭৯৭- আনাস ইবনে সীরীন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি অগ্নিপূজক সম্প্রদায়ের কিছু লোকের কাছে আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় রূপার পাত্রে ‘ফালূযাজ’ (নামক এক প্রকার মিষ্টান্ন) আনা হল। তিনি (আনাস ইবনে মালেক) তা খেলেন না। তাদেরকে বলা হল যে, ওটার পাত্র পাল্টে দাও। সুতরাং তা পাল্টে কাঠের পাত্রে রাখা হল এবং তা তাঁর নিকট হাজির করা হল। তখন তিনি তা খেলেন।” হাদীসটি বাইহাকী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। আর খালনাজ হচ্ছে জাফনাহ (পাত্র)।
  26. তোমরা পাত্র ঢেকে দাও,পানির মশকের মুখ বেঁধে দাও, দরজাসমূহ বন্ধ ক’রে দাও, প্রদীপ নিভিয়ে দাও। কেননা, শয়তান মুখ বাঁধা মশক খুলে না, বন্ধ দরজাও খুলে না এবং পাত্রের ঢাকনাও উম্মুক্ত করে না।
  27. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারান্তে আঙ্গুল ও থালা চেটে খাবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, “তোমরা জান না যে, এর কোনটিতে বরকত নিহিত আছে।”
  28. হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলো এবং ডান হাতে আহার কর আর তোমার কাছে থেকে খাও
  29. “যখন তোমাদের কেউ খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায় আর যখন পান করে সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ, শয়তান বাম হাতে খায় ও বাম হাতে পান করে”।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com