মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

Merit and Significance of Knowledge

৩টি হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন: “সেটা হচ্ছে ইলম উঠে যাওয়ার সময়

عَنْ زِيَادِ بْنِ لَبِيدٍ رضي الله عنه قَالَ: ذَكَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا، فَقَالَ: «ذَاكَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ، وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَنُقْرِئُهُ أَبْنَاءَنَا وَيُقْرِئُهُ أَبْنَاؤُنَا أَبْنَاءَهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ زِيَادُ، إِنْ كُنْتُ لَأُرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رَجُلٍ بِالْمَدِينَةِ، أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَؤونَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ، لَا يَعْمَلُونَ بِشَيْءٍ مِمَّا فِيهِمَا؟!».
যিয়াদ ইবনু লাবীদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন: “সেটা হচ্ছে ইলম উঠে যাওয়ার সময়।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইলম কিভাবে উঠে যাবে? অথচ আমরা কুরআন পড়ছি, আমাদের সন্তানদেরকে তা পড়াচ্ছি এবং আমাদের সন্তানরাও তাদের সন্তানদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত তা পড়াতে থাকবে। তিনি বললেন: “হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক ! যদিও আমি তোমাকে মদীনার সবচেয়ে বড় ফকীহ মনে করতাম। এসব ইহুদী ও নাসারারাও কি তাওরাত-ইনজীল পড়ে না? কিন্তু তারা এই দুটি কিতাবে যা আছে সে অনুযায়ী কোন আমলই করে না।”
এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ লি-গাইরিহী
ব্যাখ্যা

একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহবীদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: এটা এমন সময় যখন মানুষের কাছ থেকে ইলম উঠে যাবে ও ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তখন যিয়াদ ইবনু লাবীদ আল-আনসারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু অবাক হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি বললেন: কিভাবে ইলম উঠে যাবে আর আমাদের থেকে তা বিনষ্ট হবে? আমরা কুরআন পড়েছি এবং হিফয করেছি; আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তার তিলাওয়াত করব, আমাদের স্ত্রী, সন্তান ও সন্তানের সন্তানদেরকে তা পড়াব, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক, হে যিয়াদ! তোমাকে আমি তো মদীনাবাসীদের মধ্যে আলিম হিসেবে গণ্য করতাম। তারপরে তাকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করে বললেন: ইলম হারিয়ে যাওয়ার অর্থ কুরআন হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং ইলম হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ইলম অনুযায়ী আমল হারিয়ে যাওয়া। এই যে তাওরাত ও ইনজিল ইহুদী ও নাসারাদের হাতেই রয়েছে, এ সত্ত্বেও তা তাদেরকে উপকৃত করে না আর তারাও এর উদ্দেশ্য হতে কোন ফায়েদা গ্রহণ করে না; তথা: তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা।

শিক্ষা
  1. কুরআনের মুসহাফ এবং কিতাবসমূহ মানুষের হাতে বিদ্যমান থাকবে তবে সে অনুযায়ী আমল না করলে তা কোন উপকারে আসবে না।
  2. ইলম কয়েকভাবে উঠে যাবে, যার মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুবরণ, আলিমদের মৃত্যু এবং ইলম অনুযায়ী আমল না করা।
  3. কিয়ামতের আলামত হচ্ছে: ইলম উঠে যাওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল না করা।
  4. হাদীসে ইলম অনুযায়ী আমল করার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে; কেননা এটাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
সূত্র

سنن ابن ماجه (5/ 172) (4048)، سنن الترمذي (4/ 328) (2653)، مسند أحمد (39/ 417) (23990)، الكاشف عن حقائق السُّنن (2/721)، المفهم (6/705)، مشارق الأنوار الوهاجة (2/146)، مرشد ذوي الحجا والحاجة إلى سنن ابن ماجه والقول المكتفى على سنن المصطفى (24/ 274).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা আলিমদের সাথে বড়াই করার জন্য ইলম শিখবে না, নির্বোধের সাথে বিতর্ক করার জন্যও নয়,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَلَا لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ، وَلَا تَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ، فَالنَّارُ النَّارُ».
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আলিমদের সাথে বড়াই করার জন্য ইলম শিখবে না, নির্বোধের সাথে বিতর্ক করার জন্যও নয়, আর তা দ্বারা মজলিসে উত্তম স্থান দখল করো না, যে এসব কারণে তা শিখবে, তার জন্য রয়েছে: আগুন, আগুন।”
এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ব ও বড়াই করার উদ্দেশ্যে যেমন: আমিও আপনাদের মত আলিম এটা প্রকাশ করা, অথবা নির্বোধ বা বোকাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করা অথবা অন্যান্যদের থেকে আলাদাভাবে প্রাধান্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মজলিসে প্রধান হিসেবে স্থান অলঙ্কৃত করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জ ন করা থেকে সতর্ক করেছেন। যে ব্যক্তি এ ধরণের কাজ করবে; রিয়া ও ইলম শিক্ষায় এখলাস না থাকার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হবে।

শিক্ষা
  1. যে ব্যক্তি গর্ব করা, তর্ক-বিতর্ক করা অথবা মজলিসে উচ্চ স্থান প্রাপ্তি বা অনরূপ কিছুর জন্য ইলম শিক্ষা করবে, তাকে জাহান্নামের ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছে।
  2. যে ব্যক্তি ইলম শিক্ষা করবে এবং শিক্ষাদান করবে, তার জন্য ইখলাসের গুরুত্ব।
  3. নিয়ত হচ্ছে আমলের ভিত্তি, আর এর উপরেই প্রতিদান নির্ভর করে।
সূত্র

سنن ابن ماجه (1/ 170) (254)، مرشد ذوي الحجا والحاجة (2/378)، مشارق الأنوار الوهاجة ومطالع الأسرار البهاجة في شرح سنن الإمام ابن ماجه (4/ 482).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির আমল তার মৃত্যুর সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়, তার মৃত্যুর পরে তার কোন নেক আমল হাসিল হয় না এই তিনটি জিনিস ছাড়া: যেহেতু সে এগুলোর উপলক্ষ্য হয়েছিল: প্রথমটি: সদকা যার সাওয়াব চলমান এবং স্থায়ী, বন্ধ হয় না যেমন ওয়াকফ করা, মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করা ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি: এমন ইলম যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যেমন ইলমের কিতাব রচনা করা, বা কাউকে শিক্ষা দেওয়া; তারপর সেই ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার ইলম ছড়িয়ে দিল। তৃতীয়: সৎ মুমিন সন্তান যে তার পিতামাতার জন্য দোয়া করে।

শিক্ষা
  1. আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে একমত যে, একজন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর যে সাওয়াব লাভ করে তার মধ্যে রয়েছে সদকা জারিয়াহ, উপকারী ইলম এবং দোয়া। অন্যান্য হাদিসে এসছে: হজও।
  2. এই হাদীসে বিশেষভাবে এই তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে: কারণ এগুলো কল্যাণের ভিত্তি এবং নেককার লোকেরা তাদের মৃত্যুর পর এগুলো অবশিষ্ট থাকুক তা ইচ্ছা করে থাকে।
  3. প্রত্যেক ইলম যা উপকারী তার দ্বারা সাওয়াব হাসিল হবে, কিন্তু এসবের প্রধান এবং শীর্ষে রয়েছে শরয়ী ইলম এবং তার সহযোগী ইলমসমূহ।
  4. এই তিনটির মধ্যে ইলম সবচেয়ে উপকারী; কারণ ইলম এমন যে তা শিখে তার দ্বারা সে উপকৃত হয়, ইলমে রয়েছে শরীয়তের সুরক্ষা এবং সাধারণভাবে মাখলুকের উপকার। ইলম হল সবচেয়ে ব্যাপক এবং ব্যাপ্তীময়। কারণ আপনার জীবনকালে যারা উপস্থিত আছে এবং আপনার মৃত্যুর পর যারা উপস্থিত থাকবে তারা সবাই আপনার ইলম থেকে শিখবে।
  5. উত্তম সন্তান লালন-পালনের জন্য উৎসাহ; তারাই যারা পরকালে তাদের পিতামাতার উপকার করবে। আর তাদের উপকারের মধ্যে একটি হল তারা তাদের জন্য দোয়া করবে।
  6. পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করা, এটিও এক ধরনের দয়া যা থেকে সন্তান উপকৃত হয়।
  7. দোয়া মৃতদের উপকার করে, যদিও তা সন্তান ব্যতীত অন্য কারো থেকে হয়, তবে সন্তানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত সে পিতা-মাতার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে মারা যায়।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1255) (1631)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (28/ 413).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com