আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মু‘আবিয়া (রদিয়াল্লাহু আনহু একবার ) মসজিদের একটি হালাকার কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: কোন কিসে তোমাদেরকে বসালো? তারা জবাব দিলেন: আমরা আল্লাহর যিকরের জন্য বসেছি। তখন তিনি বললেন: এটা ব্যতীত অন্য কোন কিছুই তোমাদেরকে এখানে বসায়নি? তারা বললেন: আল্লাহর কসম! অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদ দেওয়ার জন্য কসম করাইনি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার ন্যায় অবস্থান থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই আমার থেকে কম হাদীস বর্ণনা করেনি: রাসূলুল্লাহ একবার তাঁর সাহাবীদের একটি হালাকার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “কিসে তোমাদেরকে উপবেশন করিয়েছে?” তারা জবাব দিয়েছিলেন: আমরা আল্লাহর যিকির করব ও তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদেরকে এর মাধ্যমে নি‘আমাত প্রদান করেছেন এ কারণে তাঁর প্রশংসা করার জন্য বসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “এটা ব্যতীত অন্য কোন কিছুই তোমাদেরকে এখানে উপবেশন করায়নি?” তারা বলেছিলেন: আল্লাহর কসম! অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে উপবেশন করায়নি। তিনি বলেছিলেন: “আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদ দেওয়ার জন্য কসম করাইনি। বরং আমার নিকটে জিবরীল এসে জানিয়ে গেলেন যে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের ব্যাপারে গর্ব করছেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মু‘আবিয় ইবনু আবী সুফিয়ান রদিয়াল্লাহু আনহুমা মসজিদের একটি হালাকার কাছে এসে উপস্থিত লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তারা কোন কারণে সেখানে একত্রিত হয়েছে। তখন তারা জবাব দিলেন: আমরা আল্লাহর যিকির করব (এ জন্য)। তখন মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে কসম করতে বললেন এ মর্মে যে, তাদের একত্রিত হওয়ার কারণ কি শুধুমাত্র এটাই ছিল। তখন তারা তার কাছে কসম করলেন। তারপরে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদের কারণে অথবা তোমাদের সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ করার কারণে তোমাদেরকে কসম করতে বলিনি। তারপরে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার অবস্থান এবং কেউ যে তার থেকে রাসূলের নিকটবর্তী ছিলেন না এ ব্যাপারে সংবাদ দিলেন; (তার নৈকট্যের) কারণ হচ্ছে- তার বোন উম্মু হাবীবাহ আল্লাহর রাসূলের স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি নিজেও অহী লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কিন্তু এর পরেও তিনি খুব কম হাদীসই বর্ণনা করেছেন। তারপরে তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন যে, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাড়ী থেকে বের হয়ে সাহাবীদেরকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখতে পেলেন, তারা আল্লাহর যিকর করছিলেন এবং তিনি তাদেরকে ইসলামের দিশা দেওয়া এবং এর মাধ্যমে নি‘আমাত প্রদান করার কারণে তাঁর প্রশংসা করছিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাদেরকে কসম করিয়েছিলেন, ঠিক যেভাবে মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথীদেরকে কসম করালেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রশ্ন করা এবং কসম করানোর কারণ বর্ণনা করে বললেন যে: ফেরেশতা জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে জানিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করছেন, তাদের কাছে তোমাদের ফযীলত পেশ করছেন, তোমাদের ভালো আমল তাদেরকে দেখাচ্ছেন এবং তাদের কাছে তোমাদের প্রশংসা করছেন।
শিক্ষা
হাদীসটিতে মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত এবং ইলম প্রচারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুবহু অনুসরণের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহের কথা বর্ণিত হয়েছে।
সংবাদের গুরুত্ব বোঝাতে অপবাদ আরোপ ব্যতীত কসম করানো বৈধ।
ইলম ও যিকিরের মজলিসের ফযীলতের বর্ণনা এছাড়াও এ মজলিসগুলিকে আল্লাহ তা‘আলা ভালোবাসেন এবং ফেরেশতাদের নিকটে এগুলি নিয়ে গর্ব করেন।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2075) (2701).
نزهة المتقين (2/ 993).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 522).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 271).
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان أخوانِ على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وكان أحدُهما يأتي النبي صلى الله عليه وسلم والآخر يَحتَرِف، فَشَكَا الُمحتَرِف أَخَاه للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: «لعَلَّك تُرزَقُ بِهِ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে দুই ভাই ছিল। তাদের মধ্যে একজন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (দ্বীন শিক্ষার জন্য) আসত আরেকজন কোনো পেশায় নিয়োজিত ছিল। অতঃপর উপার্জনশীল (ভাইটা) নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার (শিক্ষার্থী) ভাইয়ের (কাজ না করার) অভিযোগ করল। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সম্ভবতঃ তোমাকে তার কারণেই রুযী দেওয়া হচ্ছে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহর যামানায় দুই ভাই ছিল। তাদের একজন রাসূলের মজলিসে আসা যাওয়া করত এবং সর্বক্ষণ দরবারে পড়ে থাকত যাতে সে তার কথা ও কর্ম অবলোকন করতে এবং তার থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আর অপর ভাই কাজ কর্ম ও কামাই রুজিতে লিপ্ত থাকত। একবার কর্মঠ ভাইটি রাসূলুল্লাহর নিকট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে সান্তনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বললেন, হতে পারে তার বিষয়টা তোমার আঞ্জাম দেওয়া তোমার রিযিক লাভ করার উপায়। কারণ, আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ না সে তার অপর ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ.
جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر وآخرون، ط2، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، 1395هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
صحيح الجامع الصغير وزياداته، للألباني، نشر: المكتب الإسلامي.
رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عن أنس رضي الله عنه مرفوعاً: «من خَرج في طلب العلم فهو في سَبِيلِ الله حتى يرجع».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি ইলম শেখার উদ্দেশ্যে বের হলো, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায়।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
হাদীসটির অর্থ: যে ব্যক্তি তার ঘর বা শহর থেকে শর‘ঈ ইলমের অনুসন্ধানে বের হবে, সে বাড়িতে তার পরিবারের নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হলো। কারণ, দীনকে জীবিত করা, শয়তানকে অপদস্থ করা এবং প্রবৃত্তিকে কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে সে একজন মুজাহিদের মতো।
শিক্ষা
ইলম তলব করা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
তালেবে ইলমের জন্য যুদ্ধের ময়দানে জিহাদকারী মুজাহিদের সমতুল সাওয়াব রয়েছে। কারণ, তারা উভয়ই আল্লাহর দীনকে শক্তিশালী করা এবং যা শরী‘আত না তা প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত।
এতে বলা হয়েছে, যে ইলম শেখার উদ্দেশ্যে বের হয়, তার যাওয়া ও আশার প্রতি কদমে সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয় যতক্ষণ সে তার পরিবারের কাছে ফিরে না আসে।
সূত্র
جامع الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر وآخرون، مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، ط2، مصر، 1395هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425ه.
رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ.
صحيح الترغيب والترهيب، للألباني، ط5، مكتبة المعارف – الرياض.
مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للمباركفوري، الطبعة الثالثة، إدارة البحوث العلمية والدعوة والإفتاء، الجامعة السلفية - بنارس الهند، 1404هـ.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للقاري، ط1، دار الفكر، بيروت، 1422هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে সরল পথ ও ইলম দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা ঐ বৃষ্টি সদৃশ যা যমীনে পৌঁছে। অতঃপর তার উর্বর অংশ নিজের মধ্যে তা শোষণ করে। অতঃপর তা ঘাস এবং প্রচুর শাক-সবজি উৎপন্ন করে এবং তার এক অংশ চাষের অযোগ্য (খাল জমি); যা পানি আটকে রাখে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তার দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন। সুতরাং তারা তা হতে পান করে এবং (পশুদেরকে) পান করায়, জমি সেচে ও ফসল ফলায়। তার আর এক অংশ শক্ত সমতল ভূমি; যা না পানি শোষণ করে, না ঘাস উৎপন্ন করে। এই দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির যে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করল এবং আমি যে হিদায়াত ও জ্ঞান দিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার দ্বারা আল্লাহ তাকে উপকৃত করলেন। সুতরাং সে (নিজেও) শিক্ষা করল এবং (অপরকেও) শিক্ষা দিল। আর এই দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তিরও যে এ ব্যাপারে মাথাও উঠাল না এবং আল্লাহর সেই হিদায়াতও গ্রহণ করল না, যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।’’
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্ময় প্রকাশ করে যে ব্যক্তি তাঁর আনীত পথ, শরীয়তের ইলম এবং যেই নির্দশন লক্ষ্যে পৌঁছায় তার দ্বারা উপকৃত হয় তাকে এমন জমিনের সাথে তুলনা করেছেন যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ফলে তা তিনভাগে বিভক্ত হয়: প্রথমটি: বিশুদ্ধ ভালো জমি যা বৃষ্টির পানি গ্রহণ করে, তাই এটি ভেজা এবং শুকনো উভয় ধরণের গাছপালা জন্মায় এবং মানুষ এর থেকে উপকৃত হয়। দ্বিতীয়ত: এমন জমি যা পানি ধরে রাখে কিন্তু ফসল ফলায় হয় না, এটি পানি ধরে রাখে যাতে মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হয়। তারা নিজেরা পান করেন এবং তাদের গবাদি পশু ও ফসলের জন্য পানীয় সরবরাহ করেন। তৃতীয়ত: সমতল, মসৃণ জমি যা পানি ধরে রাখে না বা ফসল জন্মায় না। সেই জমি নিজে পানি থেকে উপকৃত হয় না এবং মানুষও এর থেকে কোন উপকার পায় না। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইলম ও হেদায়েত দিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তা যারা শোনে, তারাও অনুরূপ। প্রথমত: সেই আলেম যিনি আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে গভীর ইলমের অধিকারী, যিনি নিজের ইলম অনুসারে আমল করেন এবং অন্যদের শিক্ষা দেন; তিনি ভালো মাটির মতো যে পানি পান করে নিজে উপকৃত হয় এবং ফসল উৎপাদন করে ফলে অন্যরাও উপকার হাসিল করে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছেন কিন্তু তার বুঝ ও গবেষণা নেই। সে ইলমের একজন সংগ্রাহক, ইলমের মধ্যেই তার সময় ডুবে থাকে, কিন্তু সে তার নফলের উপর আমল করেনি, অথবা সে যা সংগ্রহ করেছে তা বুঝতে সক্ষম হয়নি। সে অন্যদের জন্য একটি উপায় এবং সে সেই জমির মতো যেখানে পানি স্থির হয় যাতে লোকেরা তার থেকে উপকৃত হয়। তৃতীয়ত: যে ইলম শোনে কিন্তু তা মুখস্থ করে না, তা কাজে লাগায় না এবং অন্যদের কাছে তা পৌঁছায় না; সে এমন লবণাক্ত বা মসৃণ জমির মতো যেখানে কোনও গাছপালা নেই এবং যা পানি গ্রহণ করে না অথবা অন্যদের জন্য তা নষ্ট করে।
শিক্ষা
ইলম অন্বেষণ ও শিক্ষাদানের ফজিলত ব্যাখ্যা করা এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করা।
মানুষের কাছে অর্থ স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণ ব্যবহার করা।
আল-কুরতুবী বলেন: বৃষ্টি যেমন মৃত ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করে, তেমনি ধর্মীয় ইলমও মৃত হৃদয়কে পুনরুজ্জীবিত করে। তারপর তিনি ধর্মীয় ইলম শ্রোতাদের বিভিন্ন জমির সাথে তুলনা করলেন যেখানে বৃষ্টিপাত হয়।
শরীয়তের ইলম গ্রহণে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 27) (79).
صحيح مسلم (4/ 1787) (2282).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 464).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 294).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 950).
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের কোনো পার্থিব দুর্ভোগ দূরীভূত করবে, আল্লাহ তার থেকে কিয়ামতের দিনের দুর্ভোগসমূহের মধ্যে কোনো একটি দুর্ভোগ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো সংকটে পতিত ব্যক্তির প্রতি সহজ করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রতি সহজ করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতা করতে থাকে, আল্লাহও সে বান্দার সাহায্য করতে থাকেন। যে ব্যক্তি এমন পথে চলে- যাতে সে (দ্বীনের) বিদ্যা অর্জন করে, তার জন্য আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে ও নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তখনই (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, তাদেরকে (আল্লাহর) রহমত আচ্ছাদিত করে নেয়, ফিরিশতারা তাদেরকে ঘিরে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী (ফিরিশতা)দের মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যাকে তার আমল পশ্চাদ্গামী করেছে (অর্থাৎ নেকীর কাজ করে নি) তার বংশ তাকে অগ্রগামী করতে পারবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর কাছে একজন মুসলিমের প্রতিদান সেই ধরণেরই হয় যা একজন মুসলিম অপর মুসলিমের সাথে করে। যে ব্যক্তি কোন মুমিনের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দূর করে, লাঘব করে ও প্রতিহত করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে কষ্ট দূর করে পুরস্কৃত করবেন। যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ ও তার উপর শিথিল করে দেয় এবং তার কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সহজ করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, যেমন যদি সে তার ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারে যা প্রকাশ করা উচিত নয়, তাহলে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যকারী হবেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের ধর্মীয় ও পার্থিব স্বার্থে সাহায্য করতে থাকবে। দোয়া, শারীরিক সহায়তা, অর্থ এবং অন্যান্য জিনিসের দ্বারা সাহায্য হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে পথ চলে; আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। কোন দল আল্লাহর ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তবে তাদের উপর প্রশান্তি ও মর্যাদা অবতীর্ণ হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ঢেকে রাখে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের মধ্যে তাদের প্রশংসা করেন। আর আল্লাহর সর্বোচ্চ সমাবেশে বান্দার উল্লেখ করা সম্মানের জন্য যথেষ্ট। যার আমল অসম্পূর্ণ, তাকে সৎকর্মশীলদের স্তরে উন্নীত করবে না। অতএব, বংশের সম্মান এবং পূর্বপুরুষদের গুণাবলীর উপর নির্ভর করে কাজকে অবহেলা করা উচিত নয়।
শিক্ষা
ইবনু দাকীক আল-ঈদ বলেন: এটি একটি মহান হাদিস, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ইলম, নিয়মকানুন এবং আদব রয়েছে। এতে মুসলিমদের চাহিদা পূরণ এবং যা কিছু সম্ভব হয় তা দিয়ে তাদের উপকার করার ফজিলত রয়েছে, হোক তা ইলম, অর্থ, সাহায্য, কল্যাণের পথ দেখানো, উপদেশ প্রদান অথবা এর বাইরে অন্য কিছু।
অভাবীদের উপর সহজ করতে মানুষকে উৎসাহিত করা।
মুসলিম বান্দাকে সাহায্য করার জন্য লোকদের আহ্বান জানানো এবং আল্লাহ সাহায্যকারীকে সাহায্য করেন যেভাবে সে তার ভাইকে সাহায্য করে।
একজন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখার একটি অংশ হলো: তার দোষ-ত্রুটি তলাশ না করা। পূর্বসূরীদের কেউ কেউ বলেছেন: আমি এমন লোকদের সাথে দেখা করেছি যাদের কোন দোষ-ত্রুটি ছিল না, তাই তারা মানুষের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করেছে আর লোকেরা তাদের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করেছে। আর আমি এমন লোকদের সাথে দেখা করেছি যাদের দোষ-ত্রুটি ছিল, ফলে তারা মানুষের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতেন, ফলে তাদের দোষ-ত্রুটি ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে ।
“মানুষের দোষ গোপন করা মানে এই নয় যে মন্দ কাজকে অযথা ছেড়ে দিতে হবে কিংবা তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা যাবে না। বরং উচিত হলো — মন্দকে পরিবর্তন করা এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গোপনীয়তাও রক্ষা করা। তবে এটি কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য, যাদেরকে সাধারণত পাপাচারী বা অত্যাচারে লিপ্ত হিসেবে চেনা যায় না। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে অনৈতিক কাজে লিপ্ত এবং অন্যায়ে অবিচল, তাদের ক্ষেত্রে গোপন রাখা প্রশংসনীয় নয়। বরং, যদি এতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তবে তাদের ব্যাপার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা উচিত। কারণ, তাদের দোষ গোপন করা তাদেরকে আরও সাহসী করে তুলবে অপরাধে, মানুষকে কষ্ট দেওয়ায় তারা আরও নির্লজ্জ হবে, এবং অন্য দুষ্ট লোকেরাও এতে উৎসাহিত হবে।”
ইলম অর্জন, কুরআন তেলাওয়াত এবং তা অধ্যয়নের জন্য উৎসাহিত করা।
ইমাম আন-নওয়াবী রহ. বলেন: এটি মসজিদে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য একত্রিত হওয়ার ফযীলত প্রমাণ করে... এবং মাদ্রাসায় ও যুদ্ধে পাহারারত ইত্যাদিতে ইলম অর্জনের জন্য একত্রিত হওয়ার ফযীলত মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত করা যায়।
আল্লাহ বংশের ভিত্তিতে নয়, কর্মের ভিত্তিতে প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2074) (2699).
التحفة الربانية، لإسماعيل الأنصاري (ص82).
الأحاديث الأربعون النووية وعليها الشرح الموجز المفيد، لعبد الله المحسن (ص69).
شرح الأربعين النووية ، لابن عثيمين (ص355).
عن معاوية رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ، وَاللهُ يُعْطِي، وَلَنْ تَزَالَ هَذِهِ الْأُمَّةُ قَائِمَةً عَلَى أَمْرِ اللهِ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ».
মু‘আবিয়াহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা যার দ্বারা কল্যাণ চান, তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন। আল্লাহই দানকারী, আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মত আল্লাহর আদেশ (কিয়ামাত) আসা পর্যন্ত সর্বদা আল্লাহর হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সংবাদ দিয়েছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে তাঁর দীনের বুঝ দান করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যে রিযিক, ইলেম ও অন্যান্য জিনিস দেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বন্টনকারী। প্রকৃতপক্ষে দানকারী হলেন আল্লাহই। তিনি ছাড়া অন্যরা শুধু মাধ্যম। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা কোন উপকার করতে পারে না। আল্লাহ এ উম্মতকে তার আদেশের উপর (হকের) সর্বদা রাখবেন। বিরুদ্ধচারীরা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
শিক্ষা
শরী'য়তের ইলমের গুরুত্ব ও ফযীলত এবং তা শিক্ষা করা ও তার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
এ উম্মতের একদল অবশ্যই হকের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যখনই কোন দল শেষ হয়ে যাবে তখন অন্য দল তার স্থলাভিষিক্ত হবে।
আল্লাহ তাআলার বান্দার জন্য কল্যাণের ইচ্ছার অন্যতম হলো, তাকে দীনের জ্ঞান দান করা।
নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার আদেশে এবং তাঁর ইচ্ছায় দীনের জ্ঞান বন্টন করেন, তিনি কোন কিছুর মালিক নন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 25) (71).
صحيح مسلم (2/ 718) (1037).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 485).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 324).
فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (6/ 424).
سبل السلام بشرح بلوغ المرام، للصنعاني (2/ 688).
আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’জন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন আলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলিমের মর্যাদা একজন আবিদের উপর”। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর ইলম শিক্ষা দেয়”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানহাসান লি-গাইরিহী
ব্যাখ্যা
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দু'জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল, যাদের একজন ছিলেন ইবাদতকারী এবং অন্যজন ছিলেন আলেম। তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ইসলামী ইলমের প্রয়োজনীয়তা জেনেও ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তার উপর ইসলামী ইলমের আলিম ও শিক্ষাদানকারীর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বনিম্ন সাহাবীর উপর রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্মানের মতো। তারপর, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ ব্যাখ্যা করলেন, যা হল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা, আরশ বহনকারী তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমানবাসী অন্যান্য ফেরেশতাগণ এবং পৃথিবীর মানুষ, জিন এবং সমস্ত প্রাণী, এমনকি পৃথিবীর অভ্যন্তরে বসবাসকারী পিঁপড়া, এমনকি সমুদ্রের তিমি এবং মাছ; যেন স্থল ও সমুদ্রের প্রাণী অন্তর্ভুক্ত হয়, এই সমস্তই মানুষের ধর্মীয় ইলমের শিক্ষকের জন্য কল্যাণের দোআ করেন, যে ইলমে মানুষের মুক্তি এবং সাফল্য নিহিত।
শিক্ষা
মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার একটি পদ্ধতি হল উৎসাহ প্রদান এবং উদাহরণ প্রদান।
ইলম অর্জনকারী এবং আমল ও দাওয়াতের মাধ্যমে তার অধিকার পূরণকারী আলিমদের সম্মান মহান।
আলিম এবং ইলমের ছাত্রদের সম্মান করতে এবং তাদের জন্য দোআ করতে জনগণকে আহ্বান জানানো।
মানুষকে কল্যাণ শিখতে উৎসাহিত করা; কারণ কল্যাণই তাদের মুক্তি ও সুখের কারণ।
সূত্র
سنن الترمذي (4/ 416) (2685).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (16/ 481).
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (1/ 298).
فيض القدير شرح الجامع الصغير، للمناوي (4/ 432).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 469).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص758).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 954).
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আমাদের কাছ থেকে কিছু শোনে এবং যেমন শুনেছে তেমনভাবে তা পৌঁছে দেয়, আল্লাহ তাকে তরতাজা করুন, কারণ অনেক বাহক শ্রোতার চেয়ে বেশি জ্ঞানী”।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তাঁর হাদিস শোনে এবং মুখস্থ করে যাতে তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে তার জন্য এই পৃথিবীতে সতেজতা, আনন্দ ও সৌন্দর্য এবং আখিরাতে যাতে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সতেজতা, আনন্দ ও সৌন্দর্যের দিকে পরিচালিত করেন দোয়া করেছেন। সম্ভবত যার কাছে হাদিসটি পৌঁছেছে সে হাদিসটি প্রচারকারীর চেয়ে বেশি জ্ঞানী, বেশি উপলব্ধিশীল এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বেশি সক্ষম। প্রথমজন মুখস্থকরণ ও প্রচারে দক্ষ আর দ্বিতীয়জন বোধগম্যতা ও গবেষণায় দক্ষ।
শিক্ষা
নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণ এবং তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা।
আহলে হাদীসদের ফযীলত এবং তা অন্বেষণ করার মর্যাদা।
আলেমদের গুণাবলী, যারা গবেষক এবং সমঝদার।
সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফজিলত যে, তারাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শুনেছেন এবং আমাদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন।
আল-মুনাওয়ী বলেন: তিনি বর্ণনা করেছেন যে হাদিস বর্ণনাকারীর জন্য হাদীস বুঝার শর্ত আবশ্যক নয়, বরং তার শর্ত হল মুখস্থ করা আর ফকীহের দায়িত্ব হল বুঝা এবং চিন্তা করা।
ইবনু উয়াইনা বলেন: হাদিস অনুসন্ধান করে এমন কেউ নেই যার মুখে এই হাদিসে বর্ণিত উজ্জ্বলতা নেই।
হাদিস বিশারদদের মতে মুখস্থ করা দুই প্রকার: হৃদয় ও বুকে মুখস্থ করা এবং বই ও লিখে মুখস্থ করা। হাদীসের দোয়া উভয়কে শামিল করে।
মানুষের বুঝ বিভিন্ন হয়, অনেক প্রচারকারী শ্রোতার চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হয় এবং অনেক ফিকহ বহনকারী ফকীহ হন না।
সূত্র
سنن الترمذي (4/ 394) (2657).
سنن ابن ماجه (1/ 157) (232).
مسند أحمد (7/ 221) (4157).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 476).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 446).
فيض القدير شرح الجامع الصغير، لعبدالرؤوف المناوي (3/ 206).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (16/ 496).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 956).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com