আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন ও বলতেনঃ,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ
‘হে আল্লাহ ! আমি আপনার সমীপে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে।
মুসলিমের বর্ণনায় আছে:
«إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الْآخِرِ، فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ».
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাতে তাশাহুদ পড়া শেষ করবে, তখন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে: জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পরে এবং সালাম ফিরানোর আগে নিম্নোক্ত চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি আমাদেরকেও এগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ দিয়েছেন।
প্রথম: কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন।
দ্বিতীয়: কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে।
তৃতীয়: জীবনের ফিতনা থেকে, দুনিয়ার হারাম প্রবৃত্তি এবং বিভ্রান্তিকর সন্দেহজনক বিষয়াদি থেকে এবং এবং মৃত্যুর ফিতনা থেকে, অর্থাৎ মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হবে তখনকার ফিতনা থেকে, যেমন: ইসলাম বা সুন্নাহ থেকে বিপথগামী হওয়া বা কবরের ফিতনা থেকে, যেমন দুই ফিরিশতার জিজ্ঞাসাবাদ পানাহ চাইতেন।
চতুর্থ: মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে, যে আখেরি যামানায় বের হবে। আল্লাহ তার দ্বারা তাঁর বান্দাহদেরকে পরীক্ষা করবেন। তার ফিতনার কথা বিশেষ করে উল্লেখ করার কারণ হলো: দাজ্জালের ফিতনা খুবই ভয়ংকর এবং মারাত্মক পথভ্রষ্টকারী।
শিক্ষা
এ চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ দু‘আ। কেননা এতে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রকারের অকল্যাণ থেকে পানাহ চাওয়া একত্রিত হয়েছে।
হাদীসটি দ্বারা কবরের আযাব প্রমাণিত এবং কবরের আযাব সত্য।
ফিতনার ভয়াবহতা ও আল্লাহর কাছে এসব ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং এর থেকে নাজাতের জন্যে দু‘আ করা।
দাজ্জালের বের হওয়া হাদীসটি দ্বারা প্রমাণিত এবং তার ফিতনা অত্যন্ত ভয়ংকর ফিতনা হবে।
শেষ বৈঠকের শেষে এসব দু‘আ পড়া মুস্তাহাব।
ভালো কাজের পরে দু‘আ পড়া মুস্তাহাব।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 99) (1377).
صحيح مسلم (1/ 412) (588).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 172).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص212).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص96).
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করেন? তিনি বললেন, এ সময় আমি বলি: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ! আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য তাকবীর বলতেন, তখন সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করার আগে কিছুটা সময় চুপ থাকতেন, সেখানে তিনি কতিপয় দু‘আর মাধ্যমে তার সালাত শুরু করতেন। তিনি যেসব দু‘আ এ সময়ে বলতেন তার মধ্যে রয়েছে: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ*، اللهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ্! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ্ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতেন যেন তিনি তার গুনাহ এবং তার মাঝে দূরত্ব তৈরী করে দেন, যাতে তিনি গুনাহে পতিত না হন, এমনভাবে যাতে গুনাহের সাথে সাক্ষাৎও না হয়। যেভাবে মাশরিক ও মাগরিবের মধ্যে কখনোই সাক্ষাৎ হয় না। আর যদিও কখনো গুনাহে পতিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে তাকে যেন পরিচ্ছন্ন করা হয়, আর তার থেকে সেগুলোকে দূরীভুত করা হয় যেমন করে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করা হয়। আর তিনি (আল্লাহ) যেন তাকে (নবী সা.) তার গুনাহসমূহ থেকে গোসল করিয়ে এর প্রভাব ও উষ্ণতাকে যেন পানি, বরফ ও শিলা জাতীয় পবিত্রকারী বস্তু দ্বারা ঠান্ডা করে দেন।
শিক্ষা
সালাত জাহরী (উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা হয় এমন সালাত) হলেও ইস্তিফতাহ তথা প্রারম্ভিক দু‘আ নিঃশব্দে পড়তে হবে।
সাহাবায়ে কেরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চলাফেরা ও নড়াচড়ার অবস্থা জানতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
ইস্তিফতাহ-এর দু‘আর আরো অনেকগুলি বাক্য রয়েছে, কোন ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ও সাব্যস্ত ইস্তিফতাহের দু‘আগুলি হতে একবার একটি পড়বে আর অন্যবার আরেকটি পড়বে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 149) (744).
صحيح مسلم (1/ 419) (598).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 118).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص143).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 186).
মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে মু’আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি”, তিনি বললেন, “হে মু’আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এ দু’আটি কখনো পরিহার করবে নাঃ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ “আল্লাহুম্মা আঈন্নী ’আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ’ইবাদাতিকা” (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার জিকির- স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ’ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)”।
এটি আবূ দাউদ, নাসাঈ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি তোমাকে উপদেশ দিই হে মুআয, তুমি প্রতিটি সালাতের শেষে বলা ছাড়বে না: (اللهم أَعِنّي على ذكرك) (হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির করতে সাহায্য করুন)যা এমন প্রতিটি কথা ও কাজে যা আমাকে ইবাদতের নিকটবর্তী করবে। (وشُكْرِك) (আপনার শোকর আদায়ের জন্য সাহায্য করুন) নিয়ামত অর্জন এবং শাস্তি প্রতিহত করার ফল (কৃতজ্ঞতা) স্বরূপ। (وحُسْن عبادتك) (এবং সাহায্য করুন আপনার উত্তমরূপে ইবাদত করার জন্য) আল্লাহর জন্য ইখলাসের সাথে এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার মাধ্যমে।
শিক্ষা
একজন ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষেত্রে তার ভালবাসা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার বৈধতা।
প্রত্যেক ফরজ ও নফল সালাতের পর এই দুআ করা মুস্তাহাব।
এই কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে প্রার্থনায় ইহকাল ও পরকালের চাহিদাসমূহ রয়েছে।
আল্লাহর ক্ষেত্রে ভালবাসার উপকারিতা হল সত্যের ক্ষেত্রের একে অপরকে উপদেশ দেওয়া, একে অপরকে নসিহত করা এবং নেকি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
ত্বীবী বলেন: আল্লাহর জিকির হল বক্ষ উন্মুক্ত হওয়ার সূচনা এবং তাঁর শোকর হল নিয়ামত হাসিল করার উপায় আর উত্তমরূপে ইবাদতের উদ্দেশ্য হল, যা তাকে আল্লাহ তা‘আলা থেকে ব্যস্ত করে তা থেকে বিরত থাকা।
সূত্র
سنن أبي داود (2/ 630) (1522).
سنن النسائي (3/ 53) (1303).
مسند أحمد (36/ 429) (22119).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 450).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص259).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 264).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 284).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 353).
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খোঁজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তার উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সাজদায় ছিলেন এবং তার পা দু’টো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলছেন: «اللهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ» [হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চায়। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।]
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশেই শুয়েছিলাম, রাতের কোনো এক অংশে তাকে অনুপস্থিত পেলাম, ফলে তিনি হুজরার যে জায়গায় সালাত আদায় করতেন সেখানে আমার হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম। দেখলাম তিনি সাজদার হালতে আছেন এবং তার দু পা খাড়া ছিল। আর তিনি বলতে ছিলেন:
(আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি) এবং উসিলা গ্রহণ করছি (তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির) আমার বা আমার উম্মতের উপর (এবং) পানাহ চাচ্ছি (তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি) ও তোমার মহান ক্ষমার উসিলায়। (আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি) এবং তোমার মহিমাময় গুণাবলি থেকে তোমার সৌন্দর্যের গুণাবলির আশ্রয় প্রার্থনা করি, যেহেতু তোমার থেকে তুমি ছাড়া আর কেউ আশ্রয় দিতে সক্ষম নয় এবং আল্লাহর থেকে কোন মুক্তি ও আশ্রয়স্থল নেই আল্লাহর নিকট সোপর্দ হওয়া ছাড়া। (তোমার প্রশংসার হিসাব করা সম্ভব না) তুমি যেমন হকদার তেমন তোমার নিয়ামত ও অনুগ্রহ গণনা করা ও আয়ত্তে আনা আমার অক্ষমতার কারণে সম্ভব নয়, যদিও আমি তাতে চেষ্টা করি। (তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ) তুমিই তোমার সত্ত্বার প্রশংসা করেছ যেমন তোমার জন্য প্রযোজ্য, তোমার প্রশংসার হক আদায় করতে কে সক্ষম?!
শিক্ষা
সাজদায় এই দোয়াগুলো পাঠ করা মুস্তাহাব।
মীরাক বলেছেন, নাসাঈর এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি যখন তার সালাত থেকে ফারিগ হতেন এবং তার বিছানা প্রস্তুত করতেন তখন এই দোয়া পাঠ করতেন।
কিতাব ও সুন্নাহে প্রমাণিত আল্লাহর সিফাত দিয়ে প্রশংসা করা এবং তার নাম দিয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব।
এই দোয়ায় রুকু ও সাজদায় স্রষ্টার প্রতি সম্মান প্রদর্শন রয়েছে।
আল্লাহর সিফাতের উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করা জায়েয, যেমন তার পবিত্র নাম-সত্ত্বার উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করা জায়েয।
খাত্তাবি বলেন, এই কথার একটি চমৎকার অর্থ রয়েছে; আর সেটি হল: তিনি আল্লাহর নিকট পানাহ চেয়েছেন যেন তাকে তারই গোস্বা থেকে সন্তুষ্টির দ্বারা এবং তার শাস্তি থেকে তারই নিরাপত্তা দ্বারা আশ্রয় প্রদান করা হয়। সন্তুষ্টি এবং গোস্বা দু’টি বিপরীত বস্তু; অনুরূপভাবে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করা এবং নিরাপত্তা বিধান করা দুু’টি বিপরীত বস্তু। তারপর যখন এমন সত্ত্বাকে উল্লেখ করলেন যার কোনো বিপরীত নেই- অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা- তখন তার কাছেই তার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন অন্য কিছু নয়। আর ইস্তেগফারের অর্থ হল: বান্দার পক্ষ থেকে তিনি যে প্রশংসা ও ইবাদত পাওয়ার হকদার সেই পর্যন্ত না পৌঁছার ত্রুটি থেকে ক্ষমা চাওয়া। তার বাণী: তোমার উপর প্রশংসা গণনা করতে সক্ষম না, অর্থাৎ তার সামর্থ্য রাখি না এবং সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব না।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 352) (486).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص781).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 510).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين 2/ 979).
طريق الهجرتين وباب السعادتين، لابن قيم الجوزية (ص136).
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ সূরাহ অবতীর্ণ হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকু’ ও সিজদাতে) নিম্নোক্ত দু’আটি পাঠ ব্যতীত (রুকু’ ও সিজদাতে অন্য কোন দু’আ দ্বারা) সালাত আদায় করেন নি: (আর তা হচ্ছে): سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ’’হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্ধারিত। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা কর"। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু ও সাজদায় অনেক বেশী «سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللهُمَّ اغْفِرْ لِي» পড়তেন। তিনি কুরআনের হুকুম পালন করতেন। ( বা তার আয়াতের ব্যাখ্যা দিতেন)
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর {إذا جاء نصر الله والفتح} আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, তখন তিনি কুরআনের ব্যাখ্যা করেন এবং {فسبح بحمد ربك واستغفره} আয়াতে ঘোষিত আল্লাহর আদেশ পালনে তৎপর হন। তারপর থেকে তিনি প্রায়শই সালাতে রুকু ও সিজদার সময় «سبحانك» কথা বলতেন। প্রত্যেক ত্রুটি যা আপনার সাথে যায় না তা থেকে আপনার পবিত্র ঘোষণা করছি। «اللهم ربنا وبحمدك» আপনার সত্ত্বা, গুণাবলী এবং কর্মের পরিপূর্ণতার জন্য উত্তম প্রশংসার মাধ্যমে। «اللهم اغفر لي» হে আল্লাহ, আমার সমস্ত পাপ দূর করো এবং তা ক্ষমা করো।
শিক্ষা
রুকু ও সিজদার সময় এই দোয়াটি ঘন ঘন পাঠ করা উচিত।
জীবনের শেষ প্রান্তে ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি সতর্কীকরণ যে, ইবাদতের কাজগুলোও - বিশেষ করে সালাত - ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ করা উচিত, যাতে তার মধ্যে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে তা পূরণ করা যায়।
আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল হওয়ার সর্বোত্তম উপায় হল তাঁর প্রশংসা, মহিমা ঘোষণা এবং তাঁকে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করা।
প্রতিটি হালতে ইস্তেগফার এবং তা তলব করার ফযীলত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাসত্বের পরিপূর্ণতা এবং আল্লাহর আদেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য।
সূত্র
صحيح البخاري (6/ 178) (4968، 4967).
صحيح مسلم (1/ 350-351) (484).
تيسير العلام، للبسام (ص214).
تنبيه الأفهام، للعثيمين (2/ 278).
الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص263).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 176).
خلاصة الكلام، فيصل المبارك (ص97).
আব্দুর রহমান বিন আবূ লাইলা বলেন, কা’ব বিন ‘উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাত করে বলল, আমি কি তোমাকে হাদিয়া দেবো না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আসলে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কীভাবে আপনাকে সালাম দেব তা জানলাম। তবে কীভাবে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পেশ করবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো:اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ».
অর্থ“হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষন করো। যেমন তুমি রহমত বর্ষন করেছো ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! তুমি বরকত নাযিল করো মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার পরিজনের উপর যেমন বরকত নাযিল করেছো ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, তার উপরে কীভাবে সালাত(দরূদ) পেশ করবে? যেহেতু তারা ইতোপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম দেওয়ার পদ্ধতি ‘আত্তাহিয়্যাতু’তে জেনেছেন এভাবে যে, ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ’ অর্থ: হে নবী ! আপনার উপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সবধরনের নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ)পেশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করালেন। এর অর্থ হলো: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ».
“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর সালাত বর্ষণ করুন।” অর্থাৎ আপনি উচ্চমর্যদা সম্পন্ন ফেরাশ্তাদের সামনে প্রশংসা সহ উত্তমভাবে তাঁকে তার পর তাঁর দ্বীনের অনুসারীদেরকে ও তাঁর মুমিন আত্মীয়-স্বজনদেরকে স্মরণ করুন। "كما صلَّيتَ على آل إبراهيم"
“যেরূপ আপনি ইবরাহীমের বংশের ওপর সালাত বর্ষণ করেছেন।” যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীমের বংশধর, তারা হলেন ইরবাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও তাদের বংশধর এবং তাদের মুমিন অনুসারীদেরকে অনুগ্রহ দান করেছেন, সেভাবে আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরও আপনার অনুগ্রহ দান করুন। "إنك حميد مجيد"
“নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।” অর্থাৎ আপনি আপনার স্বীয় সত্তায়, গুণাবলীতে এ কর্মে প্রশংসিত। আপনি আপনার সম্মান, ক্ষমতা ও অনুগ্রহে মহান, সুপ্রশস্ত। «اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ».
“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর তেমনি বরকত দান করুন যেমনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীমের উপর।” অর্থাৎ তাকে অধিক কল্যাণ ও সম্মান-মর্যাদা দান করুন, তা বৃদ্ধি করুন এবং তা স্থায়ী করুন।
শিক্ষা
সৎপূর্বসূরীরা ইলমী মাসায়েল পরস্পরকে হাদিয়া দিতো।
শেষ বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সালাম ও সালাত(দরূদ) শিক্ষা দিয়েছেন।
এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ পেশ করার সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ অর্থজ্ঞাপক শব্দাবলী।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 77) (6357).
صحيح مسلم (1/ 305) (406).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص208).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 270).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 170).
عن عائشة رضي الله عنها أنّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كانَ يقول في ركوعه وسجودِه: «سبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ».
আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, “সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি অর্রূহ।” অর্থাৎ, অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সালাতের রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ।’ অর্থাৎ, “অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।” অর্থাৎ আপনি অতি পবিত্র ও মহা পবিত্র।” এটি পবিত্রতা বর্ণনা করার চূড়ান্ত শব্দ। মহান আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহা পবীত্র। “ফেরেশতামন্ডলীর রব।” তারা হলো আল্লাহর বাহিনী, যাদের আমরা প্রত্যক্ষ করি না। আর রূহ হলো জিবরীল। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ট ফিরিশতা। সুতরা‘ একজন মানুষের জন্য স্বীয় সালাতের রুকু ও সেজদায় বেশি বেশি করে ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়ারুহ বলা উচিত।
কুদ্দূস আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। এটি কাদ্দাসা শব্দ হতে সংগৃহিত। এর অর্থ হলো, বড়ত্ব ও মহত্ব সহকারে যাবতীয় খারাপী থেকে তার পবিত্রতা ঘোষণা ও তাকে দূরত্বে রাখা।
আর সুব্বুহুন এটি তার সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। অর্থাৎ অসীম পবিত্র।
সূত্র
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426هـ.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق: ماهر الفحل، دار ابن كثير - بيروت، الطبعة الأولى 1428هـ - 2007م.
صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشر, 1407هـ.
كنوز رياض الصالحين، نشر: دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى، 1430هـ - 2009م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
شرح أسماء الله الحسنى في ضوء الكتاب والسُّنَّة، للقحطاني، الناشر: مطبعة سفير، الرياض، توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض.
صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة، علوي بن عبد القادر السَّقَّاف، دار الهجرة، الطبعة الثالثة، 1426 هـ - 2006 م.
আবূ যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: ইবনু যুবায়র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেন: («لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ») অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তিনি একক ও তাঁর কোন শরীক নেই। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রিবর্তন হওয়ার কোন শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না; তাঁরই যত নেয়ামত, তাঁরই অনুগ্রহ ও তাঁরই উত্তম যত প্রশংসা, আল্লাহ
ছাড়া আর সত্য কোন মাবূদ নেই, তাঁরই জন্য খালেস দীন যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।
আর তিনি (ইবনুয যুবায়র) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের সালামের পর এ সব মহান যিকিরসমূহের দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করতেন। এ যিকিরের অর্থ হলো:
(لا إله إلا الله) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।
(وحده لا شريك له) “তিনি একক, তাঁর কোনই শরীক নেই” অর্থাৎ তাঁর উলুহিয়্যাত-ইবাদত সমূহ, রুরুবিয়্যাত - কর্মসমূহ এবং আসমা ওয়াস-সিফাত-নাম ও সিফতসমূহের মধ্যে কেউ অংশীদার নেই।
(له الملك) “তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক” অর্থাৎ সকল প্রকারের পরিপূর্ণ ব্যাপক মালিকানা একমাত্র তাঁরই, তাঁরই রয়েছে আসমান, জমিন ও এ দুভয়ের মধ্যকার সব কিছুর একচ্ছত্র মালিকানা।
(وله الحمد) “সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য।” অর্থাৎ তিনি সর্বময় ব্যাপক পরিপূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। তিনি স্বচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় ভালোবাসা ও সম্মান সহ পূর্ণমাত্রায় প্রশংসিত।
(وهو على كل شيء قدير) “তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” তাঁর ক্ষমতা সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ; কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না, কোন কিছুই তাঁকে কিছু থেকে বাধা দিতে পারে না।
(لا حول ولا قوة إلا بالله) “আল্লাহ ছাড়া কোন পরিবর্তনের সামর্থ ও কোন শক্তি নেই।” অর্থাৎ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনকারী, গুনাহ থেকে আনুগত্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই। তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল ও ভরসা।
(لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إياه) “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তাঁকে ছাড়া আর কারোই ইবাদাত করি না।এতে রয়েছে” একমাত্র তাঁরই ইবাদতের মর্মে সুদৃঢ়তা ও যাবতিয় শিরকের প্রত্যাখ্যান। কেননা নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই।
(له النعمة وله الفضل) “সকল নি‘আমত ও অনুগ্রহ তাঁরই” তিনিই নি‘আমতরাজি সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোর মালিক একমাত্র তিনিই। তিনেই তাঁর বান্দাহদের যাকে ইচ্ছে তাকে সেসব নি‘আমত দ্বারা অনুগ্রহ এবং মর্যাদা প্রদান করেন।
(وله الثناء الحسن) “যাবতীয় উত্তম প্রশংসা তাঁরই” তাঁর সত্বায়, সিফাত, কর্ম ও নি‘আমতসমূহে এবং সর্বাবস্থায়।
(لا إله إلا الله، مخلصين له الدين) “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করি”। অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যে আমরা তাওহীদবাদী (একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি), কোন লৌকিতা ও সুনামের উদ্দেশ্যে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করি না।
(ولو كره الكافرون) “যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর ইবাদতের উপর সুদৃঢ় থাকি; যদিও তা কাফিরগণ অপছন্দ করে।
শিক্ষা
প্রত্যেক ফরয সালাতের পর এ যিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা মুস্তাহাব।
মুসলিম তার দীন নিয়ে আত্মসম্মান বোধ করে এবং দীনের নিদর্শনসমূহ তুলে ধরে; যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
হাদীসে (دُبر الصلاة) “প্রত্যেক সালাতের পরে” শব্দটি যখন বর্ণিত হবে, তখন যদি হাদীসে যিকির বুঝাই, তবে মূল হলো তা সালাম ফিরানোর পর হবে। আর দু‘আ বুঝালে তা সালাম ফিরানোর পূর্বে সালাতের মধ্যেই হবে।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 415) (594).
سبل السلام شرح بلوغ المرام، للصنعاني (1/ 293).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 61).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمصطفى الخِن وغيره (2/ 973).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 499).
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (2/ 762).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 492).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com