মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

দুনিয়ার প্রতি মোহের নিন্দা

২৩টি হাদীস

“দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অত:পর তিনি দেখবেন তোমরা কিভাবে আমল করো? সুতরাং তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا، فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ، فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অত:পর তিনি দেখবেন তোমরা কিভাবে আমল করো? সুতরাং তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে। কারণ বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীদের মাধ্যমে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই দুনিয়ার স্বাদ হচ্ছে সুমিষ্ট এবং দেখতে সবুজ-শ্যামল। ফলে মানুষ এর ধোঁকায় পড়ে যায়, এটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এটিকে তার সবচেয়ে বড় অভিপ্রায় বানিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পরস্পরকে এ দুনিয়াতে প্রতিনিধি বানিয়েছেন,যাতে তিনি দেখে নিতে পারেন যে, আমরা কিভাবে আমল করি? আমরা কী তাঁর আনুগত্য করি, নাকি তাঁর অবাধ্য হই? অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও এর সৌন্দর্য তোমাদের কে ধোকায় ফেলা থেকে সতর্ক হও, অন্যথায় আল্লাহ যা আদেশ করেছন তা পরিত্যাগ করা এবং যা নিষেধ করেছেন তাতে পতিত হওয়ার প্রতি তোমাদেরকে তা উৎসাহী করে তুলবে। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে গুরুতর সাবধানতার বিষয় হলো নারী জাতির ফিতনা। কারণ, এটি প্রথম ফিতনা যাতে বনী ইসরাইল লিপ্ত হয়েছিল।

শিক্ষা
  1. হাদীসে সর্বদা তাকওয়া অবলম্বনের ব্যাপারে এবং দুনিয়ার বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যের মধ্যে ব্যস্ত না হতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
  2. নারী জাতির ফিতনা যেমন, তাদের দিকে তাকানো, পর নারী-পুরুষের একত্রে মেলামেশা অথবা এরূপ অন্যান্য ফিতনা থেকে সাবধান করা হয়েছে।
  3. দুনিয়াতে নারী জাতির ফিতনা হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক ফিতনা।
  4. পূর্ববর্তী উম্মতের দ্বারা ওয়াজ ও নসীহাহ গ্রহণ করা। সুতরাং যে ফিতনা বনী ইসরাঈলদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল, সে ফিতনা অন্যদের মধ্যেও সংঘটিত হতে পারে।
  5. স্বামীর জন্যে নারীর ফিতনা হলো সে স্বামীকে তার সাধ্যের বাইরে ভরণপোষণে বাধ্য করে। ফলে তাকে দ্বীনের কাজকর্ম পালন করা থেকে বিরত রাখে এবং তাকে দুনিয়ার সাধনা হাসিলে ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যস্ত রাখে। আর পরনারীর ফিতনা বলতে সে পুরুষদের প্রলোভনে ফেলে এবং তাকে সত্য থেকে তাদেরকে বিচ্যুতিতে প্রলুব্ধ করে, যদি নারীরা ঘরের বাইরে যায় এবং পুরুষদের সাথে মিশে, বিশেষ করে যখন তারা খোলামেলা পোষাকে নিজেকে সুশোভিত করে বাহিরে যায়। এগুলো কখনো কখনো যিনায় পতিত করে। সুতরাং মুমিনদের উচিত আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং নারীর ফিতনা থেকে নাজাত পেতে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2098) (2742). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 146). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 173). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 103).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“দুনিয়া হলো মু’মিনের জেলখানা আর কাফিরের জান্নাত”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়া হলো মু’মিনের জেলখানা আর কাফিরের জান্নাত”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মুমিনের পার্থিব জীবন একটি কারাগারের মতো, কারণ সে শরীয়তের হুকুমগুলো আঁকড়ে ধরে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করে এবং যা নিষিদ্ধ তা এড়িয়ে চলে। যখন সে মারা যাবে, তখন সে এ থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তার জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, সেই অনন্ত সুখে ফিরে যাবে। আর এই জীবন কাফিরদের জন্য জান্নাতের মতো। কারণ সে এখানে তার আত্মা যা চায় এবং তার ইচ্ছা তাকে যা করতে নির্দেশ দেয় তাই করে এবং যখন সে মারা যাবে, তখন সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার জন্য যে স্থায়ী আযাব প্রস্তুত রেখেছেন তার দিকে ফিরে যাবে।

শিক্ষা
  1. আন-নওয়াবী বলেন: প্রতিটি মুমিন পৃথিবীতে নিষিদ্ধ ও অপছন্দনীয় কামনা-বাসনা থেকে বিরত কারাবন্দী এবং আনুগত্যের কঠিন কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য। যখন সে মারা যাবে, তখন সে এ থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তার জন্য যে অনন্ত আনন্দ এবং ত্রুটি মুক্ত বিশুদ্ধ আরাম প্রস্তুত করেছেন তাতে ফিরে যাবে। আর কাফির সে কেবল এই পৃথিবীতে যা পেয়েছে তাই তার জন্য, যদিও তা সামান্য এবং কষ্টে ঢাকা। যখন সে মারা যাবে, তখন তাকে চিরস্থায়ী যন্ত্রণা ও দুর্দশার সম্মুখীন হতে হবে।
  2. আস-সিন্দি বলেন: তাঁর উক্তি (মুমিনের কারাগার) এর অর্থ হল, যদিও সে আনন্দের অবস্থায় থাকে, তবুও তার জন্য জান্নাত তার চেয়ে ভালো। আর (কাফিরদের জন্য জান্নাত) হল, যদিও সে দুনিয়ায় ঘৃণ্য অবস্থায় থাকে, তবুও তার জন্য জাহান্নাম তার চেয়েও খারাপ।
  3. আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৃথিবী তুচ্ছ।
  4. এই পৃথিবী ঈমানদারদের জন্য পরীক্ষা ও মুসিবতের স্থান।
  5. কাফির এই পৃথিবীতে তার জান্নাতকে নগদ ভোগ করে ফেলেছে; তাই তাকে জান্নাত এবং পরকালের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2272) (2956). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 535). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 419). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 367). موسوعة فقه القلوب، لمحمد التويجري (4/ 3471). كتاب العلم، لابن عثيمين (ص37).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

দুনিয়া যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফেরকে তার এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।

عن سهل بن سعد الساعدي ـرضي الله عنه- قَالَ رَسُول اللَّه -صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم-: «لو كانت الدنيا تَعدل عند الله جَناح بَعوضة، ما سَقَى كافراً منها شَرْبَة ماء».
সাহাল ইবন সা‘দ আস-সা‘য়েদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “দুনিয়া যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফেরকে তার এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে আল্লাহর নিকট দুনিয়ার নিকৃষ্ট হওয়া এবং তার কোনো মূল্য না থাকার বর্ণনা রয়েছে। যদি আল্লাহর নিকট তার সামান্য মূল্যও থাকতো, তাহলে কাফিরদের জন্য নি‘আমত ভোগ করা ও দুনিয়ার জিনিস দ্বারা স্বাদ উপভোগ করাতো দুরের কথা, একটু পানিও আল্লাহ তাদের পান করাতেন না। কিন্তু আখিরাত মুমিনদের জন্য স্থায়ী নি‘আমতের আবাসস্থল। কাফিররা তাতে যাবে না। এ কারণেই মুমিনদের উচিৎ হলো, এ দুনিয়ার হাকীকতকে উপলব্ধি করা, তার প্রতি ঝুঁকে না পড়া। কারণ, এটি ক্ষণস্থায়ী আবাসভূমি, চিরস্থায়ী নয়। সুতরাং তারা দুনিয়া থেকে ততটুকু গ্রহণ করবে যার দ্বারা আখিরাত, যেটি স্থায়ী আবাসস্থল, তার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা যায়। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদেরকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তাই উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না? আমি যাকে উত্তম ওয়াদা দিয়েছি সে তা পাবেই; সে কি তার মতই যাকে আমি দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী দিয়েছি? তারপর কিয়ামতের দিনে সে উপস্থিতকৃতদের মধ্যে থাকবে। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৬০,৬১]

সূত্র

كنوز رياض الصالحين أ. د . حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار - دار كنوز اشبيليا ـ الطبعة الأولى : 1430 هـ. بهجة الناظرين - الشيخ: سليم بن عيد الهلالي - دار ابن الجوزي. نزهة المتقين - د . مصطفى سيعد الخن، د. مصطفى البغا، محي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة ، بيروت - الطبعة الأولى : 1397 هـ 1977 م الطبعة الرابعة عشر 1407هـ 1987م. شرح رياض الصالحين - المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين - الناشر: دار الوطن للنشر، الرياض الطبعة: 1426 هـ. رياض الصالحين د. ماهر بن ياسين الفحل - الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م. صحيح مسلم- مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري - المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت. سنن الترمذي- المؤلف: محمد بن عيسى الترمذي، أبو عيسى - تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر (جـ 1، 2) ومحمد فؤاد عبد الباقي (جـ 3) وإبراهيم عطوة عوض المدرس في الأزهر الشريف (جـ 4، 5) الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر - الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م. صحيح وضعيف سنن الترمذي - المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني- مصدر الكتاب: برنامج منظومة التحقيقات الحديثية - المجاني - من إنتاج مركز نور الإسلام لأبحاث القرآن والسنة بالإسكندرية تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان - المؤلف: عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله السعدي - المحقق: عبد الرحمن بن معلا اللويحق - الناشر: مؤسسة الرسالة -الطبعة: الأولى 1420هـ -2000 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে হাকীম, এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু

عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا حَكِيمُ، إِنَّ هَذَا المَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ، بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ، وَاليَدُ العُلْيَا خَيْرٌ مِنَ اليَدِ السُّفْلَى»، قَالَ حَكِيمٌ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ لاَ أَرْزَأُ أَحَدًا بَعْدَكَ شَيْئًا حَتَّى أُفَارِقَ الدُّنْيَا، فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَدْعُو حَكِيمًا لِيُعْطِيَهُ العَطَاءَ، فَيَأْبَى أَنْ يَقْبَلَ مِنْهُ شَيْئًا، ثُمَّ إِنَّ عُمَرَ دَعَاهُ لِيُعْطِيَهُ، فَيَأْبَى أَنْ يَقْبَلَهُ، فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ المُسْلِمِينَ، إِنِّي أَعْرِضُ عَلَيْهِ حَقَّهُ الَّذِي قَسَمَ اللَّهُ لَهُ مِنْ هَذَا الفَيْءِ، فَيَأْبَى أَنْ يَأْخُذَهُ. فَلَمْ يَرْزَأْ حَكِيمٌ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تُوُفِّيَ رَحِمَهُ اللَّهُ.
হাকীম ইবনু হিযাম রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে পুনরায় দিলেন। তারপর বললেন, “হে হাকীম, এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ছাড়া) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মিটে না। আর উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত (সাওয়াল করে) আমি কাউকে সামান্যতমও বিব্রত করব না। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন; কিন্তু তিনি তাঁর কাছ থেকে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (তার যুগে) তাকে কিছু দেওয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর কাছ থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, মুমিনগণ! হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যাপারে আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি। আমি তার কাছে এই ফাই এর সম্পদ থেকে তার প্রাপ্য পেশ করেছি; কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (সত্য সত্যই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর হাকীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মৃত্যু পর্যন্ত কারো নিকট কিছু চেয়ে কাউকে বিব্রত করেন নি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাকিম ইবনু হিজাম রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু পার্থিব জিনিসপত্র চাইলেন, তাই তিনি তা তাঁকে দিলেন। তারপর সে আবার তাকে জিজ্ঞাসা করল, তাই তিনি তাকে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: হে হাকীম, এই সম্পদ হল লোভনীয় এবং কাঙ্ক্ষিত। এটি যার কাছে না চাইতেই আসে এবং লোভ বা জেদ ছাড়াই তা গ্রহণ করে, তার জন্য এটি বরকতপূর্ণ হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি নফসের অতি আগ্রহ ও লোভের বশে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তা বরকত পূর্ণ হবে না এবং সে এমন ব্যক্তির মতো হবে যে খায় কিন্তু কখনও তৃপ্ত হয় না। আল্লাহর কাছে ব্যয়কারী উপরের হাতটি ভিক্ষাকারী নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। হাকীম বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম, আমি আপনার পরে কারও কাছে কিছু চেয়ে তার সম্পদ কমাব না যতক্ষণ না এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই। আল্লাহর রাসূলের খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাকীমকে উপহার দেওয়ার জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তার কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এরপর আমীরুল মুমেনীন উমর রাদিয়াল্লাহ আনহু তাকে উপহার দেওয়ার জন্য ডাকলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তাই উমর বললেন: হে মুসলিমগণ, আমি তাকে তার অধিকার প্রদান করছি যা আল্লাহ তাকে যুদ্ধের গনীমত থেকে প্রদান করেছেন, যা মুসলিমরা কাফেরদের কাছ থেকে যুদ্ধ বা জিহাদ ছাড়াই অর্জন করেছে, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হাকীম কারো সম্পদ চেয়ে তা কমাতেন না।

শিক্ষা
  1. বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং তা সংগ্রহ করা এই পৃথিবীতে তপস্যার (বৈরাগ্যতার) সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ তপস্যা হলো আত্মার উদারতা এবং অর্থের প্রতি হৃদয়ের আসক্তিহীনতা।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদারতার একটি মহান বয়ান এবং তিনি এমন একজন ব্যক্তির মতো দান করেন যিনি কখনও দারিদ্র্যের ভয় পান না।
  3. সাহায্য প্রদানের সময় ভাইদের উপদেশ দেওয়া এবং উপকার করার জন্য আগ্রহী হওয়া; কারণ আত্মা ভালো কথা থেকে উপকৃত হতে প্রস্তুত।
  4. মানুষের কাছে টাকা চাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং তা এড়িয়ে চলা, বিশেষ করে যদি তা প্রয়োজন না হয়।
  5. এতে অর্থের লোভ এবং অতিরিক্ত যাঞ্চা করার নিন্দা রয়েছে।
  6. যদি যাঞ্চাকারী পীড়াপীড়ি করতেই থাকেন, তাহলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া, হতাশ করা, উপদেশ দেওয়া এবং পবিত্র থাকার ও গ্রহণ করার লোভ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ায় কোনও দোষ নেই।
  7. ইমাম যদি না দেন, কেউই সরকারি কোষাগার থেকে কিছু নেওয়ার অধিকারী নয়। আর গনীমতের মাল বণ্টনের আগে সে তা পাওয়ার অধিকারী নয়।
  8. প্রয়োজনে চাওয়া জায়েজ।
  9. ইবনু হাজার বলেন: এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইমামের উচিত যাঞ্চাকারীর প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তার যাঞ্চার ক্ষতি ব্যাখ্যা না করা, যাতে তার উপদেশ কার্যকর হয়, যাতে সে মনে না করে যে এটি তাকে তার প্রয়োজন থেকে বিরত রাখার একটি কারণ।
  10. হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফজিলত এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার চুক্তি আঁকড়ে ধরা।
  11. ইসহাক ইবনু রাহাওয়াইহ বলেন: হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহু মারা যাওয়ার সময় কুরাইশদের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 5) (2750). صحيح مسلم (2/ 717) (1035). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (8/ 13). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (1/ 584). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (1/ 459). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 386). منار القاري، لحمزة قاسم (3/ 45). المنهاج شرح صحيح مسلم، للنووي (7/ 126). إكمال المعلم بفوائد مسلم، للقاضي عياض (3/ 566).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা রয়েছে। আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।

عن كعب بن عياض رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن لكل أُمَّة فتنة، وفِتنة أُمَّتي: المال».
কা‘ব ইবন ‘আইয়াদ্ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা রয়েছে। আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

কা‘ব ইবন ‘আইয়াদ্ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা ছিল।” যেসব ফিতনার কারণে তারা ভ্রষ্টতা ও গুনাহে পতিত হয়েছিল। “আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।” কেননা সম্পদ একদিকে যেমন যাবতীয় আশা-আকাঙ্খা পূরণকারী অপরদিকে তা পূর্ণাঙ্গ শুভ পরিণাম অর্জনে বাধাদানকারী। ধন-সম্পদের দ্বারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিরত রাখে এবং আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، أ.د. حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار، دار كنوز اشبيليا، الطبعة الأولى : 1430 هـ. بهجة الناظرين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي. نزهة المتقين، د. مصطفى سعيد الخن، د. مصطفى البغا، محي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الأولى: 1397 هـ 1977 م، الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ 1987م. التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه، مؤلف الأصل: محمد بن حبان أبو حاتم الدارمي البُستي، ترتيب: الأمير أبو الحسن علي بن بلبان بن عبد الله، علاء الدين الفارسي الحنفي، مؤلف التعليقات الحسان: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: دار با وزير للنشر والتوزيع، جدة - المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م. رياض الصالحين، د. ماهر بن ياسين الفحل، الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت، الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م. صحيح مسلم، المؤلف: مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري النيسابوري، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت. سنن الترمذي، المؤلف: محمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر (جـ 1، 2) ومحمد فؤاد عبد الباقي (جـ 3) وإبراهيم عطوة عوض المدرس في الأزهر الشريف (جـ 4، 5)، الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر، الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م. صحيح وضعيف سنن الترمذي، المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني، مصدر الكتاب: برنامج منظومة التحقيقات الحديثية - المجاني - من إنتاج مركز نور الإسلام لأبحاث القرآن والسنة بالإسكندرية. مسند الإمام أحمد بن حنبل، المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني، المحقق: شعيب الأرناؤوط - عادل مرشد، وآخرون، إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م. مشكاة المصابيح، المؤلف: محمد بن عبد الله الخطيب العمري أبو عبد الله التبريزي، المحقق: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت الطبعة: الثالثة، 1985. صحيح الجامع الصغير وزياداته، المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমার বিশ্বাস তোমরা শুনেছ, আবূ উবাইদাহ বাহরাইন থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছেন।”

عن عمرو بن عوف الأنصاري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث أبا عبيدة بن الجراح رضي الله عنه إلى البحرين يأتي بِجِزْيَتِهَا، فَقدِم بمالٍ من البحرين، فسمعت الأنصار بقدوم أبي عبيدة، فَوَافَوْا صلاة الفجر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف، فَتَعَرَّضُوا له، فتَبسَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رآهم، ثم قال: «أَظُنُّكُمْ سَمِعتم أن أبا عبيدة قَدِم بشيءٍ من البحرين؟» فقالوا: أجل، يا رسول الله، فقال: «أبشروا وأمِّلوا ما يَسُرُّكُم، فوالله ما الفَقرَ أخشى عليكم، ولكني أخَشى أن تُبْسَط الدنيا عليكم كما بُسِطَت على من كان قبلكم، فتَنَافسوها كما تَنَافسوها، فَتُهْلِكَكُم كما أهْلَكَتْهُمْ».
‘আমর ইবনু আউফ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বাহরাইনে সেখানকার জিযিয়া নিয়ে আসার জন্য পাঠালেন। আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বাহরাইন থেকে অর্থ সম্পদ নিয়ে এলেন। আনসারগণ আবূ উবাইদার আগমনের সংবাদ শুনলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই উপস্থিত হন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তাদের দিকে ফিরলেন, তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, “আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবূ উবাইদা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন, তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তার আশা রাখ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের আশঙ্কা করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়া লাভে প্রতিযোগিতা করবে, যেমন তারা প্রতিযোগিতা করেছিল। আর তা তোমাদের ধ্বংস করবে, যেমন তাদের ধ্বংস করেছিল।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বাহরাইনে জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠালেন। আবূ উবাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বাহরাইন থেকে যখন মদীনায় আসলেন আনসারগণ তা শুনতে পেলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই উপস্থিত হন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে মুখ ফিরালেন, তখন তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন। কেননা তারা সম্পদের আশায় এসেছিলেন। ফলে তিনি তাদের বললেন, আমার মনে হয় তোমরা বাহরাইন থেকে আবূ উবাইদার আগমনের কথা শুনেছ। তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তা শুনেছি অর্থাৎ আমরা আমাদের অংশ বুঝে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এমন সু-সংবাদ দিলেন, যা তাদেরকে খুশি করে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আরও জানিয়ে দিলেন যে, তিনি তাদের ব্যাপারে দারিদ্রতার ভয় করছেন না। কারণ, দরিদ্রগণ ধনীদের চেয়ে অধিকাংশ সময় সত্যের কাছাকাছি থাকে। কিন্তু তিনি তাদের ব্যাপারে এ ভয় করেন যে, তাদের উপর দুনিয়াকে অধিকহারে প্রসারিত করা হবে। তখন তারা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। তখন যত বেশি সম্পদই মানুষ উপার্জন করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না। বরং সে আরও বেশি আরও বেশি চাইতে থাকবে। হারাম হালাল যাচাই করা ছাড়া যে কোনো উপায়ে সম্পদ উপার্জন করতে লেগে যাবে। নিঃসন্দেহে এটিই নিন্দনীয় প্রতিযোগিতা; যা দুনিয়া অভিমুখী করবে এবং আখিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দিবে। তখন তারা ধ্বংস হবে, যেমন ধ্বংস হয়েছিল তাদের পূর্বে যারা ছিল তারা।

সূত্র

- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة. - صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - كنوز رياض الصالحين»، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة -الطبعة الرابعة 1425ه. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج /أبو زكريا يحيى بن شرف النووي: دار إحياء التراث العربي – بيروت الطبعة: الثانية، 1392.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন”।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضيَ اللهُ عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «اللهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْشُ الْآخِرَهْ، فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ».
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত এবং জান্নাতে বসবাস ছাড়া আর কোন প্রকৃত জীবন নেই। কারণ পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর পরকালের জীবন চিরস্থায়ী। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাজিরদের আশ্রয়দানকারী, সাহায্যকারী এবং নিজেদের সম্পদ তাদের সাথে বন্টন করে গ্রহণকারী আনসারদের জন্য ক্ষমা, সম্মান এবং পরিশুদ্ধতার দোয়া করেন এবং সেই মুহাজিরদের জন্যও যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির জন্য তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্পদ ত্যাগ করেছেন।

শিক্ষা
  1. দুনিয়ার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনাগ্রহ এবং পরকালের প্রতি তাঁর মনোযোগ।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতকে এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী আনন্দ ত্যাগ করার আহ্বান জানিছেন।
  3. মুহাজির ও আনসারদের ফজিলতের বয়ান, কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমার দোআ লাভ করে ভাগ্যবান হয়েছেন।
  4. বান্দা এই পৃথিবীতে যা অর্জন করে তা নিয়ে আনন্দ করা উচিত নয়, কারণ এটি ক্ষণস্থায়ী এবং কষ্টে পূর্ণ। বরং, স্থিতিশীলতার আবাসস্থল এবং স্থায়ী স্থান হলো পরকাল।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 88) (6413). صحيح مسلم (3/ 1431) (1805). مرقاة المفاتيح، لعلي القاري (7/ 3016). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لابن حجر (11/ 231). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 362). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (7/ 223). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 529). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 412).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নিশ্চয়ই এই পৃথিবী অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা অভিশপ্ত, আল্লাহর স্মরণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি ছাড়া এবং আলিম বা ছাত্র ছাড়া।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضيَ اللهُ عنهُ سمعتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقولُ: «أَلاَ إِنَّ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، مَلْعُونٌ مَا فِيهَا، إِلاَّ ذِكْرُ اللهِ وَمَا وَالاَهُ وَعَالِمٌ أَوْ مُتَعَلِّمٌ».
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এই পৃথিবী অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা অভিশপ্ত, আল্লাহর স্মরণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি ছাড়া এবং আলিম বা ছাত্র ছাড়া।"
এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা আল্লাহর গোস্বার বস্তু, নিন্দিত, পরিত্যক্ত এবং নির্বাসিত। এর মধ্যে যা কিছু আছে তা পরিত্যক্ত প্রশংসার যোগ্য নয়। কারণ এটি এবং এর মধ্যে থাকা সবকিছুই আল্লাহর থেকে বিচ্যুত করে এবং তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে আল্লাহর স্মরণ এবং তার নিকটবর্তী এবং এর অনুরূপ জিনিসগুলি যা আল্লাহ পছন্দ করেন, অথবা ইসলামী জ্ঞানের একজন আলিম যিনি মানুষকে তা শিক্ষা দেন, অথবা এর একজন ছাত্র।

শিক্ষা
  1. পৃথিবীকে অভিশাপ দেওয়া একেবারেই জায়েয নয়; হাদীসে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু এমন কিছুকে অভিশাপ দেওয়া জায়েয যা আল্লাহ তা‘আলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাঁর আনুগত্য থেকে বিরত রাখে।
  2. এই পৃথিবীর সবকিছুই কেবল খেলা এবং বিনোদন, কেবল আল্লাহর স্মরণ এবং এর উপায় এবং সাহায্যকারী জিনিস ছাড়া।
  3. ইলম, আহলে ইলম ও তালেবে ইলমের ফযীলতের বয়ান।
  4. ইবনু তাইমিয়া বলেন: দুনিয়ার নিন্দিত জিনিসের একটি হল হারাম যা অবৈধভাবে অর্জিত অথবা হালাল যার উদ্দেশ্য প্রাচুর্য ও অহংকার এবং যা লোক দেখানো ও বড়ত্ব প্রকাশের জন্য জমা করা হয়। এগুলো বুদ্ধিমানদের নিকট অপছন্দনীয়।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 151) (2322). سنن ابن ماجه (5/ 231) (4112). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 542). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 424). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (7/ 325). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 374).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
২৩টির মধ্যে ৮
২৩টি হাদীস
  1. “দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অত:পর তিনি দেখবেন তোমরা কিভাবে আমল করো? সুতরাং তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে।
  2. “দুনিয়া হলো মু’মিনের জেলখানা আর কাফিরের জান্নাত”।
  3. দুনিয়া যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফেরকে তার এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।
  4. “হে হাকীম, এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু
  5. নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা রয়েছে। আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।
  6. “আমার বিশ্বাস তোমরা শুনেছ, আবূ উবাইদাহ বাহরাইন থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছেন।”
  7. “আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন”।
  8. নিশ্চয়ই এই পৃথিবী অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা অভিশপ্ত, আল্লাহর স্মরণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি ছাড়া এবং আলিম বা ছাত্র ছাড়া।
  9. যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এতে আনন্দিত হতাম যে, ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না হতেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি।
  10. আখেরাতের মোকাবেলায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় অতঃপর দেখে তা কতটুকু পানি নিয়ে ফিরে।
  11. আল্লাহর কসম, আল্লাহর নিকট দুনিয়া তোমাদের কাছে এটার চেয়েও বেশী মূল্যহীন।
  12. “আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা আশঙ্কা করছি তা হলো এই যে দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য (ধন-সম্পদ) তোমাদের সামনে খুলে দেয়া হবে”
  13. তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে: তার আত্মীয়-স্বজন, তার সম্পদ ও তার আমল। অতঃপর দু’টি জিনিস ফিরে আসে এবং একটি জিনিস রয়ে যায়। তার আত্মীয়-স্বজন ও তার ধন-সম্পদ ফিরে আসে, কিন্তু তার আমল (তার সঙ্গে) রয়ে যায়।
  14. তোমরা কি চাহিদা মতো পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় পাচ্ছ না? অথচ আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিম্নমানের খুরমাও পাননি।
  15. “যদি বানী আদমের স্বর্ণ ভরা দুটো উপত্যকা থাকে, তথাপি সে তার জন্য তৃতীয় উপত্যকা হওয়ার কামনা করবে
  16. “কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে থাকে। কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত।”
  17. “সে ব্যক্তি সফলকাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তাকে পরিমিত রুযী দেওয়া হয়েছে, আর আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তাকে তুষ্ট করেছেন।”
  18. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘আদবা’ নামক একটি উষ্ট্রী ছিল। কোনো উষ্ট্রী তার আগে যেতে পারতো না।
  19. “তোমরা জমি-জায়গা, বাড়ি-বাগান ও শিল্প-ব্যবসায়ে বিভোর হয়ে পড়ো না। তাহলে তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে”।
  20. “দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক দুনিয়াতে আমি এমন একজন পথচারী মুসাফির ছাড়া তো আর কিছুই নই, যে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিল, তারপর তা ছেড়ে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে গেল”।
  21. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল
  22. একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির হৃদয় দুটি জিনিসে তরুণ থাকে: দুনিয়ার মহব্বত এবং আশার দৈর্ঘ্য।
  23. আনন্দ বিনাশকারীকে বেশি বেশি স্মরণ করো," অর্থাৎ মৃত্যু।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com