মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মাসনূন দোয়াসমূহ

৩২টি হাদীস

“হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি পৃথিবী ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন”।

عَنِ العَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، عَلِّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُهُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ. قَالَ: «سَلِ اللَّهَ العَافِيَةَ»، فَمَكَثْتُ أَيَّامًا ثُمَّ جِئْتُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، عَلِّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُهُ اللَّهَ. فَقَالَ لِي: «يَا عَبَّاسُ، يَا عَمَّ رَسُولِ اللهِ، سَلِ اللَّهَ العَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ».
আল-আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু আমাকে শিখিয়ে দিন, যা আল্লাহ তা’আলার নিকট আমি প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বললেনঃ “আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন”। কিছু দিন যাওয়ার পর আবার গিয়ে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমাকে বললেনঃ “হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি পৃথিবী ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন”।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ লি-গাইরিহী
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিতে বললেন যা তিনি আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করবেন। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দ্বীন, দুনিয়া এবং আখেরাতে ত্রুটি ও মুসিবত থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে শিখালেন। আব্বাস বলেন, কিছু দিন পর আমি তার কাছে ফিরে এসে তাকে আবারও আমাকে একটি দোয়া শেখাতে বলি যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুহাব্বত করে বললেন: হে আব্বাস, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা, দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত কল্যাণ ও উপকার হাসিল এবং সকল অনিষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা তলব করুন।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসকে দ্বিতীয়বার যখন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল একই উত্তর পুনরাবৃত্তি করা ইঙ্গিত দেয় যে একজন বান্দা তার রবের কাছে যা চায় তার ভেতর সর্বোত্তম জিনিস হল সুস্থতা-নিরাপত্তা।
  2. নিরাপত্তার ফজিলত এবং এতে রয়েছে ইহকাল ও পরকালের যাবর্তীয় কল্যাণ।
  3. সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অধিক ইলম ও কল্যাণের প্রতি আগ্রহী।
সূত্র

سنن الترمذي (5/ 491) (3514). مسند أحمد (3/ 303) (1783). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين (2/ 1014). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 468). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 566). تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص815). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 40).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নিজেকে সমর্পন করলাম, আপনার প্রতি ঈমান আনলাম, আপনার উপর তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম ও আপনার ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাই, আপনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। আপনি সেই চিরঞ্জীব যে মরবে না। জিন ও মানব সকলেই মারা যাবে।”

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضيَ اللهُ عنهما أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي، أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يَمُوتُونَ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ‍দু‘আ পড়তেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নিজেকে সমর্পন করলাম, আপনার প্রতি ঈমান আনলাম, আপনার উপর তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম ও আপনার ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাই, আপনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। আপনি সেই চিরঞ্জীব যে মরবে না। জিন ও মানব সকলেই মারা যাবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম, এটি সহীহ মুসলিমের শব্দ এবং বুখারী তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার মধ্যে একটি ছিল: (اللهم لك أسلمت) "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি"— অর্থাৎ আমি আত্মসমর্পণ করেছি এবং আনুগত্য করেছি। (وبك آمنت) "এবং আপনার প্রতি ঈমান এনেছি" — অর্থাৎ আমি সত্যায়ন করেছি এবং স্বীকার করেছি। (وعليك توكلت) "এবং আপনার উপরই ভরসা করেছি" — অর্থাৎ আমি আমার সব বিষয় আপনাকে সোপর্দ করেছি এবং আপনার উপর নির্ভর করেছি। (وإليك أنبت) "এবং আপনার দিকেই ফিরেছি" — অর্থাৎ আমি আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনার দিকে মুখ করেছি। (وبك خاصمت) "এবং আপনার সাহায্যেই শত্রুদের সাথে বিতর্ক করেছি" — অর্থাৎ আমি আপনার সাহায্যে শত্রুদের সাথে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। (اللهم إني أعوذ) "হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই"—অর্থাৎ আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (بعزتك) "আপনার শক্তির মাধ্যমে" — অর্থাৎ আপনার ক্ষমতা, প্রতিরোধ ও বিজয়ী শক্তির মাধ্যমে। (لا إله إلا أنت) "আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"— অর্থাৎ আপনি ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই। (أن تضلني) "যাতে আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট না করেন"— অর্থাৎ আপনার সন্তুষ্টি ও হিদায়াত থেকে আমাকে দূরে না রাখেন। (أنت الحي الذي لا يموت) "আপনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না” — অর্থাৎ আপনি চিরস্থায়ী, কখনো ধ্বংস হন না। (والجن والإنس يموتون) "অথচ জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করে" — অর্থাৎ তারা ধ্বংসশীল।"

শিক্ষা
  1. প্রত্যেক দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণবর্ণনা করার নিয়ম শরিয়তে রয়েছে।
  2. আল্লাহ তাআলার উপর একমাত্র ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই নিরাপত্তা চাওয়া আবশ্যক; কারণ তিনি পরিপূর্ণ গুণাবলির অধিকারী, তাই একমাত্র তাঁর উপরই নির্ভর করা যায়। আর সব সৃষ্টি অক্ষম এবং মৃত্যুর দিকে ধাবমান, তাই তাদের উপর ভরসা করা উচিত নয়।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বিস্তৃত এবং পূর্ণাঙ্গ দোয়া অনুসরণ করা, যাতে সত্যিকার ঈমান এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে।
  4. সিন্দী (রহ.) বলেন: রাসূলের বাণী (أنت الحي) "আপনি চিরঞ্জীব: সুতরাং আপনিই একক সত্ত্বা, যার কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়, অন্য কারো নয়।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 117) (7383). صحيح مسلم (4/ 2086) (2717). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص72). فتح رب البرية بتلخيص الحموية، لابن عثيمين (ص79). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 109). مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، عبيد الله المباركفوري (8/ 223).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ«يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো।

عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ: «يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، آمَنَّا بِكَ وَبِمَا جِئْتَ بِهِ فَهَلْ تَخَافُ عَلَيْنَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، إِنَّ القُلُوبَ بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللهِ يُقَلِّبُهَا كَيْفَ يَشَاءُ».
আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ«يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা ঈমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ তা’আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন”।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ দোয়াই ছিল আল্লাহর কাছে দ্বীন ও আনুগত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহী থেকে দূরে থাকার প্রার্থনার ওপর। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি প্রায়শই করতেন, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হৃদয়গুলো হল আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মাঝখানে এবং তিনি সেগুলিকে তার ইচ্ছা মত ঘুরিয়ে দেন। কালব (অন্তর) হল ঈমান ও কুফরের স্থান। আর ঘনঘন পরিবর্তন হওয়ার কারণে কালবকে (হৃদয়কে) কালব (হৃদয়) বলা হয়। এটা পাত্রের চেয়েও বেশি উৎরানশীল। যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং দ্বীনের উপর অটল রাখেন এবং যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তার অন্তরকে হেদায়েত থেকে বিচ্যুতি ও গোমরাহীর দিকে ফিরিয়ে দেন।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের নিকট বিনয়াবনতা এবং তাঁর নিকট তাঁর আঁকুতি এবং উম্মাতকে তা প্রার্থনা করতে নির্দেশ করা।
  2. দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় থাকা ও অবিচলতার গুরুত্ব। আর শেষ পরিণামই এক্ষেত্রে ধর্তব্য ও চুড়ান্ত।
  3. বান্দা চোখের পলক ফেলা পরিমাণও ইসলামের ওপর অটল থাকার জন্য আল্লাহ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।
  4. হাদীসটিতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শ অনুসরণ করে এই দোয়াটি প্রচুর পাঠ করার জন্য উত্সাহিত করা হয়েছে।
  5. ইসলামে অটল থাকাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত যার জন্য বান্দার চেষ্টা করা উচিত এবং সে জন্য তার রবের শোকর আদায় করা উচিত।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 19) (2140). مسند أحمد (19/ 160) (12107). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 476). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 567). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1014). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص808). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 41).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমরা ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে সর্বদা অধিক হারে বলো।

عن أنس رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم : «ألِظُّوا بـ (يَاذا الجَلاَلِ والإكْرامِ)».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে তোমরা সর্বদা অধিক হারে বলো।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে (ألظوا) একটি নির্দেশমূলক বাক্য। অর্থাৎ এ দো‘আটিকে তোমরা বাধ্যতামূলক কর, বেশি বেশি কর। উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমাদের দো‘আয় এ বাক্যটি বেশি বেশি বল এবং তা তোমাদের মুখের বুলিতে পরিণত কর। কারণ, এটি আল্লাহর নামসমূহ থেকে একটি নামকে শামিল করেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি ইসমে আজম বা বড় নাম। কারণ, এটি রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যার সমস্ত গুণাগুণকে শামিল করেছে।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا - الطبعة الأولى، 1430ه. سنن الترمذي - محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض - شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ - 1975م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হেদায়াত, তাকওয়া, অশ্লীলতা হতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করি।”

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضيَ اللهُ عنهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى، وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى».
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হেদায়াত, তাকওয়া, অশ্লীলতা হতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করি।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি দোয়া ছিল: «اللهم إني أسألك الهدى» "হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে হেদায়াত চাই," যা হল সৎপথ, সত্য জানার এবং তার ওপর আমল করার পথ, «والتقى» যা হল আল্লাহর আদেশ পালন এবং নিষেধকৃত কাজ থেকে বিরত থাকা, «والعفاف» যা হল নিষিদ্ধ বা অশোভন কাজ ও কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা, «والغنى» যা হল মানুষের কাছে অভাবী না হওয়া, এমনভাবে যে, সে কেবল তার রব আল্লাহ তাআলার উপর নির্ভরশীল থাকে।

শিক্ষা
  1. এই গুণগুলোর মর্যাদা: হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং স্বনির্ভরতা, এবং এগুলির চরিত্র অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারেন না, এবং যিনি এটি করতে পারেন, তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।
  3. যিনি সৃষ্টির উপকার, ক্ষতি এবং হিদায়াত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তিনি একমাত্র আল্লাহ তা'আলা। কোনো প্রিয় ফেরেশতা, কোনো পাঠানো নবী বা অন্য কেউ নয়।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2087) (2721). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 146). تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص68). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 183). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 528). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 104).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, তোমার প্রতি ঈমান আনলাম, তোমারই উপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি মৃত্যুবরণ করবে।

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللَّهُمَّ لك أَسْلَمْتُ، وبِكَ آمَنتُ، وعَلَيكَ تَوَكَّلْت، وإِلَيكَ أَنَبْتُ، وبك خَاصَمْتُ، اللهم أعُوذ بِعزَّتك؛ لا إله إلا أنت أن تُضلَّني، أنت الحَيُّ الذي لا تموت، والجِنُّ والإنْسُ يَمُوتُونَ».
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলো বলতেন। যার অর্থ: হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, তোমার প্রতি ঈমান আনলাম, তোমারই উপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (দুশমনের বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি মৃত্যুবরণ করবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম”। অর্থাৎ বাহ্যিক আনুগত্য কেবল তোমার জন্য তুমি ছাড়া আর কারো জন্য নয়। “আর তোমার প্রতি ঈমান আনলাম”। অর্থাৎ অন্তরের বিশ্বাস। “আর তোমারই উপর ভরসা করলাম”। অর্থাৎ যাবতীয় বিষয়সমূহ পরিকল্পনার জন্য তোমার ওপর ছেড়ে দিলাম। কারণ, আমি তার উপকার ও ক্ষতি কোন কিছুরই মালিক নই। “হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম”। অর্থাৎ গুনাহ থেকে ভালো কাজের দিকে এবং গাফেলতী থেকে যিকিরের দিকে ফিরে এলাম। “তোমারই সাহায্যে তোমার দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম”। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---অর্থাৎ তোমার প্রাধান্যতা দ্বারা। কারণ, যাবতীয় ইজ্জত কেবল আল্লাহরই। তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---অর্থাৎ তুমি ছাড়া সত্যিকার উপাস্য আর কেই নেই। আপনি ছাড়া আর কারো কাছে কোন কিছু চাওয়ার নেই। আর আপনি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় চাওয়ার নেই। তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। অর্থাৎ, তুমি আমাকে হিদায়াত দেওয়া এবং বাহ্যিক ও বাতেনীভাবে তোমার হুকুম ও ফায়সালার ওপর আনগত্য করার পর আমাকে পথভ্রষ্ট করা থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আর তোমার দরবারে ফিরে আসা, তোমার দুশমনদের সাথে বিবাদ করা এবং যাবতীয় বিষয়ে তোমার ইজ্জত ও সাহায্যের প্রতি আশ্রয় নেওয়ার পর তুমি আমাকে গোমরাহ করা থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করছি। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি সবাই মৃত্যুবরণ করবে।

সূত্র

- صحيح البخاري -الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، تحقيق خليل مأمون شيحا-دار المعرفة-بيروت-الطبعة الرابعة1425ه. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে গৰ্হিত চরিত্র, গৰ্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই”।

عَن قُطْبَةَ بنِ مَالِكٍ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ».
কুতবাহ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে গৰ্হিত চরিত্র, গৰ্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোআ ছিল: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সেসব মন্দ আখলাক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং কেবল আপনার কাছে পানাহ চাই, যা করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। আপনি ছাড়া আর কারো কাছে নয়, যেমন ঘৃণা, হিংসা ও অহংকার এবং গালাগাল ও বকাঝকার মতো মন্দ কাজ থেকে এবং শরীয়াত বিরোধী সকল কুপ্রবৃত্তি থেকে আত্মা যা কামনা করে।

শিক্ষা
  1. এই দোআর ফযীলত এবং এটি মুস্তাহাব।
  2. মুমিন নিন্দনীয় আখলাক এবং নিন্দনীয় কাজ এড়াতে আগ্রহী হয় এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ ও কামনা-বাসনায় পতিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকে।
  3. আখলাক, কর্ম এবং প্রবৃত্তি ভালো ও মন্দে বিভক্ত হয়।
সূত্র

سنن الترمذي (5/ 544) (3591). فتح ذي الجلال والاكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 389). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 248). توضِيحُ الأحكَامِ مِن بُلوُغ المَرَام، للبسام (7/ 436).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ!আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”

عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قَال: عَادَنِي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْداً، اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْداً، اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْداً».
সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে আসেন। তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ মুসলিমের।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হাদীস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অসুস্থতার মধ্যে তাকে দেখতে এসে তিনবার বললেন, “হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কোনো মুসলিম অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া সুন্নাত। হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের উত্তম চরিত্র ও তার সাহাবীগণের সাথে সুন্দর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি তাদের অসুস্থকে দেখতে যেতেন এবং তাদের জন্য দো‘আ করতেন। হাদীস দ্বারা আরও প্রমাণিত হয় যে, “হে আল্লাহ অমুককে (রোগীর নাম ধরে) আপনি আরোগ্য দান করুন” এ কথাটি তিনবার বলে দো‘আ করা মুস্তাহাব। কেননা, এটি অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভের কারণ হয়।

সূত্র

صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد بن علان الصديقي, دار الكتاب العربي. شرح رياض الصالحين لابن عثيمين , دار الوطن للنشر، الرياض, الطبعة: 1426 هـ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي, دار ابن الجوزي. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشر, 1407ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
৩২টির মধ্যে ৮
৩২টি হাদীস
  1. “হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি পৃথিবী ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন”।
  2. “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নিজেকে সমর্পন করলাম, আপনার প্রতি ঈমান আনলাম, আপনার উপর তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম ও আপনার ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাই, আপনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। আপনি সেই চিরঞ্জীব যে মরবে না। জিন ও মানব সকলেই মারা যাবে।”
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ«يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো।
  4. তোমরা ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে সর্বদা অধিক হারে বলো।
  5. “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হেদায়াত, তাকওয়া, অশ্লীলতা হতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করি।”
  6. হে আল্লাহ! আমি নিজকে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, তোমার প্রতি ঈমান আনলাম, তোমারই উপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম, তোমারই ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! তোমার ইয্যতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি---তুমি ছাড়া কেউ (সত্য) উপাস্য নেই---তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। তুমি সেই চিরঞ্জীব, যে কখনো মরবে না এবং জিন ও মানবজাতি মৃত্যুবরণ করবে।
  7. “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে গৰ্হিত চরিত্র, গৰ্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই”।
  8. “হে আল্লাহ! আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ!আপনি সা‘দকে আরোগ্য দান করুন”
  9. “হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীনকে শুধরে দিন যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী
  10. “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি ও পরে করবো এবং যা আমি গোপনে করেছি ও প্রকাশ্যে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান”।
  11. ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা চাই
  12. “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার জানা-অজানা এখন ও পরে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার জানা-অজানা এখন ও পরে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি
  13. হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নি’আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমার দেয়া সুস্থতা এমনকি নিরাপত্তা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে"।
  14. হে আল্লাহ, আমি ঋণের বোঝা, শত্রুর জয়ী হওয়া এবং শত্রুদের উল্লাস থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
  15. হে আল্লাহ! আমার গঠন কে যেমন সুন্দর করেছেন অনুরূপ আমার চরিত্রকেও সুন্দর করুন।
  16. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বেশি পড়া দো‘আ হলো,«اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ» “হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”
  17. হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, বখিলতা, বার্ধক্যতা এবং কবরের শাস্তি থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে পরহেযগারিতা দান করুন এবং একে সংশোধন করে দিন। আপনি একমাত্র সর্বোত্তম সংশোধনকারী এবং আপনিই একমাত্র তার মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ইলম হতে যা কোন উপকারে আসবে না ও এমন অন্তঃকরণ থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না; এমন আত্মা থেকে যা কক্ষনও তৃপ্ত হয় না। আর এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না।
  18. হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে পানাহ চাচ্ছি। কারণ, সেটা খুব খারাপ সঙ্গী এবং তোমার নিকট খিয়ানত থেকেও পানাহ চাচ্ছি। কারণ, সেটা খুব খারাপ বন্ধু।
  19. তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম হতে বিরত রাখ বা দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ব্যতীত অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া হতে আমাকে আত্মনির্ভরশীল কর”।
  20. হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, স্থবিরতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে, আশ্রয় কামনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে (এবং ঋণের ভার ও মানুষের প্রতাপ থেকে)।
  21. “বল اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي (হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন, আমাকে সোজা পথে পরিচালিত করুন)।” তিনি আমাকে আরও বলেছেন, “আপনার হিদায়াতকে সঠিক পথের মাধ্যমে এবং তীর সোজা করাকে সরলতার মাধ্যমে স্মরণ করুন।
  22. তোমরা আল্লাহর নিকট মুসীবতের কাঠিন্য, অনিষ্টের স্পর্শ, খারাপ তাকদীর ও শত্রুর উপহাস থেকে পানাহ চাও।
  23. নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পড়তেন, اللهم إني أعوذ بك مِنَ البَرَصِ، والجُنُونِ، والجُذَامِ، وَسَيِّيءِ الأسْقَامِ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট শেত, উম্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
  24. হে আল্লাহ, তোমার নিকট আমি জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের শাস্তি এবং সম্পদ ও দারিদ্রতার ফিতনা থেকে সুরক্ষা চাই।
  25. তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে ‘আল্লাহু আকবার’ তথা আল্লাহর তাকবীর বলো।
  26. তুমি পড়বে: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোনই শরীক নেই। আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের রব, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান।”
  27. একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দো‘আ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, বল, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি সাম্য়ী, ওয়া মিন শার্রি বাসারী, ওয়া মিন শার্রি লিসানী, ওয়া মিন শার্রি ক্বালবী, ওয়া মিন শার্রি মানিইয়্যী।
  28. “আদম সন্তানের কলবসমূহ পরম দয়াময় আল্লাহ তা’আলার দু’আঙ্গুলের মধ্যে এমনভাবে আছে যেন তা একটি কলব। তিনি যেভাবে চান সেভাবেই তা উলট পালট করেন।
  29. হে রব! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না, আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না,আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার জন্য হেদায়াতের পথ সহজতর করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমা লংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।
  30. তারা সত্য বলেছে, তাদেরকে এমন শাস্তি দেওয়া হয় যা সব চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পায়।
  31. হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নিচে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার জন্য নূর দান করুন।
  32. তোমরা যখন আল্লাহর কাছে (জান্নাত) চাইবে, তখন তাঁর কাছে জান্নাতুল ফিরদাউস চাও।”

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com