মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

“হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীনকে শুধরে দিন যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي، وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীনকে শুধরে দিন যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী। আমার পার্থিব জীবনকে শুধরে দিন যাতে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার পরকালকে শুধরে দিন যাতে আমার প্রত্যাবর্তনস্থল রয়েছে। আমার জন্য হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি করুন এবং মৃত্যুকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণদায়ক করুন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি দোয়া করেছেন যাতে তিনি উত্তম চরিত্রের নীতিগুলি একত্রিত করেছেন যা সম্পূর্ণ করার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে; তা হল দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের শুদ্ধতা। এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি পরিপূর্ণ অর্থবোধক এই তিনটির শুদ্ধতাকে বাছাই করেছেন এবং তিনি দ্বীনের শুদ্ধতা দিয়ে শুরু করেছেন। বস্তুত এর মাধ্যমে দু’টি জগত পরিশুদ্ধ হয়। তিনি বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি আমার দীনকে শুধরে দিন), যেমন আমাকে এর আদবসহ সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে পালন করতে তাওফিক দান করুন। (যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী) এবং আমার সমস্ত বিষয় রক্ষাকারী, যদি আমার দ্বীন কলুষিত হয়, আমার সকল বিষয় কলুষিত হবে এবং আমি ব্যর্থ হব এবং হেরে যাব। কারণ দুনিয়ার শুদ্ধতা ছাড়া দ্বীনের কাঙ্খিত শুদ্ধতা অর্জন করা যায় না, তিনি বলেন: (আমার পার্থিব জীবনকে শুধরে দিন) আমাকে দান করে শরীরের সুস্থতা, নিরাপত্তা, রিযক, নেককার স্ত্রী, নেক সন্তান, আমার যা প্রয়োজন, যা হালাল হবে এবং আপনার ইবাদতে যা সাহায্যকারী হবে। অতঃপর তার শুদ্ধতা প্রার্থনা করার ওযর বয়ান করেছেন; যেমন বলেছেন: (যাতে আমার জীবিকা রয়েছে) এবং আমার বসবাসের স্থান ও জীবনের মুহূর্তগুলো। (আমার পরকালকে শুধরে দিন যাতে আমার প্রত্যাবর্তনস্থল) এবং আপনার সাক্ষাতের জন্য আমার প্রত্যাগমন রয়েছে আর তা হল নেক আমলের শুদ্ধতা এবং ইবাদত ও ইখলাসের ওপর বান্দার জন্য আল্লাহর তাওফিক এবং সুন্দর পরিসমাপ্তি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার পর আখিরাতকে উল্লেখ করেছেন। কারণ, দুনিয়া পরকাল শুধরানোর উপায়। যে নিজের দুনিয়াকে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক সঠিক রাখল তার আখিরাত তার জন্য ঠিক থাকবে এবং সে তাতে সুখী হবে। (আমার হায়াত) বয়স দীর্ঘ করে দিন (প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি করুন) যেখানে অনেক নেক আমল করব, (এবং মৃত্যুকে) তার দ্রুত আসাকে (প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণদায়ক করুন) যেমন ফিতনা, কষ্ট, পাপ দ্বারা পরীক্ষা ও গাফিলতি থেকে মুক্তি এবং দুনিয়ার কষ্ট ও তাঁর চিন্তা থেকে পরিত্রাণ এবং আরাম হাসিলের উপায় করুন।

শিক্ষা
  1. দ্বীন হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; এই কারণে তার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া আরম্ভ করেছেন।
  2. দ্বীন হল মানুষের জন্য রক্ষাকবচ যা তাকে সমস্ত মন্দ থেকে বিরত রাখে।
  3. দ্বীন এবং পরকাল শোধরানোর জন্য পার্থিব বিষয়ের জন্য দোয়া করা।
  4. দ্বীনের ভেতর ফিতনার ভয়ে মৃত্যু কামনা করা বা শাহাদাতের জন্য আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করা মাকরুহ নয়।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2087) (2720). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، لعبد الله البسام (7/ 581). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 471). فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 512). سبل السلام بشرح بلوغ المرام، لمحمد الصنعاني (2/ 715).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
মাসনূন দোয়াসমূহ

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com