عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: خَسَفَت الشمس على زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم . فقام فَزِعًا، ويخشى أن تكون الساعة، حتى أتى المسجد، فقام، فصلى بأطول قيام وسجود، ما رأيته يفعله في صلاته قطُّ، ثم قال: إن هذه الآيات التي يُرْسِلُهَا الله عز وجل : لا تكون لموت أحد ولا لحياته، ولكن الله يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بها عباده، فإذا رأيتم منها شيئا فَافْزَعُوا إلى ذكر الله و دُعَائِهِ وَاسْتِغْفَارِهِ.
আবূ মূসা আল আশ‘আরী রাদয়ািল্লাহু আনহু হতে র্বণতি। তিনি বলনে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইইহ ওয়াসাল্লামের যুগে র্সূযগ্রহণ হল, তখন তিনি ভীত অবস্থায় উঠলনে ও কিয়ামত সংঘটিত হবার ভয় করতে লাগলেন, অবশেষে তিনি মাসজিদে আসেন ও দাঁড়িয়ে যান এবং সবচেয়ে দীর্ঘ কিয়াম ও সাজদা দ্বারা সালাত আদায় করেন। আমি কখনো তাকে তার সালাতে এরূপ করতে দেখেনি। অতঃপর তিনি বললেন, এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকির, দু‘আ ও ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
একবার রাসূলের যুগে যখন সূর্যের আলো দূর হয়ে গেল বা কিছু চলে গেল, তিনি ভীত অবস্থায় উঠে দাঁড়ালেন। কারণ, রবের সম্পর্কে তার পুরোপুরি জ্ঞান তাকে বাধ্য করে অধিকাংশ পৃথিবীবাসীর গোমরাহী ও সীমালঙ্ঘনের কারণে রবকে অধিক ভয় পেতে ও কঠিন সতর্ক থাকতে অথবা সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার সময় এসে গেছে এ আশঙ্কা থেকে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। আর লোকদের নিয়ে সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করেন এবং তাওবা ও আল্লাহ মুখীতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। যখন তিনি তার রবের সাথে মুনাজাত ও কথোপকথন থেকে ফারেগ হন, তিনি মানুষদের ওয়াজ করতে তাদের মুখোমুখি হন এবং তাদেরন জন্যে স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের নিদর্শন আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য প্রেরণ করেন তাদের উপদেশ, স্মরণ করানো ও ভয় পদর্শনের জন্য। যাতে তারা দ্রুত দো‘আ, ক্ষমা চাওয়া, যিকির ও সালাতের দিকে অগ্রসর হয়।
সূত্র
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.
الموسوعة الفقهية الكويتية، صادر عن: وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية، الكويت، الطبعة: (من 1404 - 1427 هـ).
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إني أريد سَفَرًا، فَزَوِّدْنِي، فقال: «زَوَّدَكَ الله التقوى» قال: زِدْنِي قال: «وَغَفَرَ ذَنْبَكَ» قال: زِدْنِي، قال: «ويَسَّرَ لك الخيَر حَيْثُمَا كنتَ».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে নিবেদন জানাল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরে যাব, সুতরাং আমাকে পাথেয় দিন।’ তিনি উত্তরে এই দুআ দিলেন, ‘যাউওয়াদাকাল্লা-হুত্ তাকগুওয়া।’ অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন। লোকটি পুনরায় বলল, ‘আমাকে আরো পাথেয় দিন।’ তিনি দুআ দিয়ে বললেন, ‘অগাফারা যামবাকা।’ অর্থাৎ, আল্লাহ তোমার অপরাধ ক্ষমা করুন। লোকটি আবার নিবেদন করল, ‘আমাকে আরো দিন।’ তিনি পুনরায় দুআ দিয়ে বললেন, ‘অয়্যাস্সারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুন্ত্।’ অর্থাৎ, তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণ সহজ ক’রে দেন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানহাসান, গরীব
ব্যাখ্যা
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক লোক সফর করার ইচ্ছা করলে পাথেয় চেয়ে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অনুমতি চাইল, উত্তরে এমন দু‘আ করলেন, যাতে পাথেয়ের মতোই তার উপকার হয়। তার পাথেয় হবে আল্লাহর আদেশসমূহের বাস্তবায়ন এবং নিষেধসমূহ হতে ফিরে থাকা। লোকটি আরো বেশি কল্যাণ ও বরকতের দো‘আ লাভের আশায় আবারও পাথেয় চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অন্তরকে খুশি করার জন্য তাকে এ বলে উত্তর দিলেন, আর তোমার গুনাহকে ক্ষমা করুক। লোকটি বেশি কল্যাণ ও বরকতের দো‘আ লাভের আশায় আবারও পাথেয় চাইল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি সুন্দর দো‘আ যেটি কল্যাণ ও কামিয়াবী উভয়কে একত্র করে তা দ্বারা শেষ করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তাই সে যে কোন জায়গায় অবতরণ করবে এবং যে কোন সময়ে অবতরণ করবে যাতে উভয় জাহানের কল্যাণকে তার জন্য সহজ করা হয় সে দো‘আ করলেন।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الدمام، الطبعة: الأولى 1415هـ.
تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي، محمد عبد الرحمن بن عبد الرحيم المباركفورى، دار الكتب العلمية، بيروت.
سنن الترمذي، محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر، ومحمد فؤاد عبد الباقي، وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ، 1975م.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري بن علان، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، الطبعة: الرابعة 1425هـ.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ.
سنن الدارمي، تحقيق: حسين سليم أسد الداراني، دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى 1412هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشرة 1407هـ.
الكلم الطيب/تقي الدين ابن تيمية -تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني-المكتب الإسلامي - بيروت - الطبعة: الثالثة - 1977م.
সুলাইমান ইবন সুরাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের এক জনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি এ লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তান’’-আমি শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তবে তার রাগ চলে যাবে” তখন তারা তাকে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও”। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি?
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
দু'জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একে অপরকে অভিশাপ ও গাল-মন্দ করছিল, ইতোমধ্যে তাদের একজনের মুখ রাগে-ক্ষোভে লাল হয়ে গেল এবং তার গলার শিরাগুলো ফুলে গেল।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি যদি তা এই রাগান্বিত ব্যক্তি বলে তার গোস্বা অবশ্যই চলে যাবে, যদি সে বলে: أعوذ بالله من الشيطان الرجيم (আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই)।
তারা তাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: তুমি শয়তান থেকে পানাহ চাও।
তখন সে বলল, আমি কী পাগল?! সে ধারনা করেছিল যে, পাগল ছাড়া কেউ শয়তান থেকে পানাহ চায় না।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ ও নসিহত করার উপলক্ষ্য সামনে আসলেই তা প্রদান করতেন।
গোস্বা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়।
গোস্বার সময় শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (وإما ينزغنك من الشيطان نزغ فاستعذ بالله..) الآيةَ. [আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও...]
গাল-মন্দ ও অভিশম্পাত থেকে সতর্ক করা এবং এসব থেকে দূরে রাখা; কারণ এই দু’টি মানুষের মাঝে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে।
যে উপদেশ শুনতে পায়নি তার কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া, যাতে সেও তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোস্বা থেকে সতর্ক করেছেন, কারণ গোস্বা ক্ষতি ও লাগামহীনতার দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন না করা হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোস্বা করতেন না। তার গোস্বাটি ছিল প্রশংসিত গোস্বা।
ইমাম নববী তার কথা: "هل ترى بي مِن جنون" প্রসঙ্গে বলেন, এই ব্যক্তি মুনাফিকদের কেউ হতে পারেন, অথবা অভদ্র বেদুইন ছিল।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 124) (3282).
صحيح مسلم (4/ 2015) (2610).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 110).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص50).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 270).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 78).
عن أبي أمامة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كَانَ إذا رَفَعَ مَائِدَتَهُ، قال: «الحَمْدُ للهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، غَيْرَ مَكْفِيٍّ، وَلَا مُوَدَّعٍ، وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا».
আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দস্তরখানা গুটাতেন, তখন এই দো‘আ পড়তেন: আল্লাহর জন্য অগণিত পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা। এ প্রশংসাই যথেষ্ট নয় এবং এটাই শেষ নয়। হে আমাদের রব! তার থেকে আমরা অমুখাপেক্ষী নয়।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসের অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম স্বীয় কথা ও কর্ম দ্বারা সাহাবীগণকে সুন্নাত শেখাতেন। খানা খাওয়া শেষ করার পর তার থেকে বর্ণিত যিকিরসমূহ হলো, “যখন দস্তরখান উঠানো হতো” অর্থাৎ যখন খাওয়া থেকে অবসর হতেন এবং তার সামনে থেকে খাওয়ার প্লেট উঠানো আরম্ভ করত তখন তিনি বলতেন। “আলহামদু লিল্লাহ’ অর্থাৎ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সবই বাস্তবে একক আল্লাহর জন্য আর কারো জন্য নয়। “অধিক প্রশংসা” অর্থাৎ অধিক প্রশংসা যা তার মহত্ব, সৌন্দর্য ও কামালিয়্যাতের সাথে প্রযোজ্য। এত বেশি কৃতজ্ঞতা তার জন্য যা তার অগণিত নি‘আমত এবং অন্তহীন করুণার সমান হয়। আর যদি তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ গণনা কর, তবে তোমরা তা শেষ করতে পারবে না। আর তার কথা ‘পবিত্র’ অর্থাৎ লৌকিকতা ও সুখ্যাতি মুক্ত। ‘মুবারক’ যা কবুল করা হয় ফিরানো হয় না। কারণ, বরকত অর্থ কল্যাণ। আর যে আমল কবুল করা হয় না তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। “গায়রা মাকফিয়্যিন” অর্থাৎ আমরা তার প্রশংসা করি যে অবস্থায় তিনিই তার বান্দাদের জন্য যথেষ্ট, তার মাখলুক থেকে কেউ তার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। ‘এবং ছেড়ে দেওয়া নয়’ এটি অপর একটি অবস্থা বা হাল। অর্থাৎ আমরা তার প্রশংসা করব যে অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় নি। অর্থাৎ আমাদের কেউ তাকে ছেড়ে দেয় না। কারণ, আমরা সবাই তার প্রতি মুখাপেক্ষী। (খণ্ড ৫/১৫২)।
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي, الدمام, 1415ه.
تطريز رياض الصالحين، لفيصل الحريملي، نشر: دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002م.
تاج العروس من جواهر القاموس، للزبيدي، نشر: دار الهداية.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري لحمزة محمد قاسم، راجعه: الشيخ عبد القادر الأرناؤوط، مكتبة دار البيان، دمشق، مكتبة المؤيد، الطائف ، ط 1410 هـ.
عن علي بن ربيعة، قال: شهدت علي بن أبي طالب رضي الله عنه أتي بدابة ليركبها، فلما وضع رجله في الركاب، قال: بسم الله، فلما استوى على ظهرها، قال: الحمد لله الذي سخر لنا هذا وما كنا له مُقْرِنين، وإنا إلى ربنا لمنقلبون، ثم قال: الحمد لله، ثلاث مرات، ثم قال: الله أكبر، ثلاث مرات، ثم قال: سبحانك إني ظلمت نفسي فاغفر لي إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، ثم ضحك، فقيل: يا أمير المؤمنين، من أي شيء ضحكت؟ قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم فعل كما فعلت ثم ضحك، فقلت: يا رسول الله، من أي شيء ضحكت؟ قال: «إن ربك تعالى يَعجب من عبده إذا قال: اغفر لي ذنوبي، يعلم أنه لا يغفر الذنوب غيري»
আলী ইবন রাবী‘আহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট হাযির ছিলাম। যখন তার নিকট আরোহণ করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হলো এবং যখন তিনি বাহনের পাদানীতে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন। অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাখ্খারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুকরিনীন। অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবূন।’ অতঃপর তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন। তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়লেন। অতঃপর পড়লেন, ‘সুবহানাকা ইন্নী যালামতু নাফ্সী ফাগফিরলী, ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।’ অতঃপর তিনি হাসলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম। অতঃপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, “তোমার মহান রব্ব তাঁর সেই বান্দার প্রতি আশ্চার্যান্বিত হন, যখন সে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ (অর্থাৎ আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও।) সে জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া পাপরাশি আর কেউ ক্ষমা করতে পারে না।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আলী ইবন রাবী‘আহ থেকে বর্ণিত, আর তিনি বিশিষ্ট তাবে‘ঈগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট হাযির ছিলাম। তখন তার আরোহণের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট তার বাহনটি নিয়ে আসা হলো। অভিধানে দাব্বাহ শব্দের অর্থ, যে সব জন্তু যমীনের উপরে বিচরণ করে। তারপর পরিভাষায় চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে এ শব্দটি ব্যবহার নির্ধারিত। যখন তিনি বাহনের পাদানীতে স্বীয় পা রাখলেন তখন (‘বিসমিল্লাহ’) বললেন। অর্থাৎ আল্লাহর নামে আরোহণ করলাম। অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘(আলহামদু লিল্লাহ।) অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এ মহান নি‘আমতের ওপর। আর তা হলো, অপরিচিত পলায়নকারী জন্তুকে আমাদের অনুগত করে দেওয়া। আর তার খারাবী থেকে নিরাপদে আরোহণ করার ক্ষেত্রে তাকে আমাদের অনুগত করা। যেমনটি স্পষ্ট করলেন তার কথা দ্বারা (যিনি আমাদের জন্য এ আরোহণকে অনুগত করলেন) যাকে অনুগত করার কোনো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। (অবশ্যই আমরা আমাদের রবের দিকে ফিরে যাবো।) অতঃপর অর্থাৎ তাকে যে নি‘আমত দান করেছে তার ওপর প্রশংসার পর তিনি তিনবার (‘আলহামদুলিল্লাহ’) পড়লেন। অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত নয়। একাধিকবার বলার মধ্যে আল্লাহ যে মহান তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর বান্দা আল্লাহর যথাযথ সম্মান করতে সক্ষম নয়। তবে তার সক্ষমতা অনুযায়ী তার আনুগত্য করার প্রতি বান্দা নির্দেশিত। অতঃপর তিনবার ‘(আল্লাহু আকবার’) পড়লেন। এখানে বার বার বলা অধিক গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। (তারপর বলল, ‘সুবহানাকা) অর্থাৎ আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (ইন্নী যালামতু নাফ্সী) অর্থাৎ, আমি আমার নিজের ওপর যুলুম করছি। তোমার হক পালন না করার কারণে এবং এত বড় মহান নি‘আমতের শুকরিয়া আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করার কারণে। চাই তা অলসতার কারণে হোক বা অন্য যে কোন কারণেই হোক। (ফাগফিরলী) অর্থাৎ আমার গুনাহগুলোকে গোপন করুন, তার ওপর শাস্তি দেওয়ার জন্য পাকড়াও না করার মাধ্যমে। (ইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্তা) এতে আল্লাহর অনেক নি‘আমত প্রাপ্তি সত্ত্বেও নিজের ত্রুটি স্বীকার করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। (অতঃপর তিনি হাসলেন।) (তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো) ইবন রাবি‘আ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হাসলেন কেন?)’যেহেতু এমন কোনো আশ্চর্য বিষয় প্রকাশ পায় নি যাতে হাসি সৃষ্টি করে। তাই তিনি তার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। প্রশ্ন করার আগে তিনি তাকে সম্বোধন করলেন, যেমনটি কাউকে সম্বোধন করার শিষ্টাচার। (তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম।) তথা আরোহণ করলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় যিকির করলেন। (অতঃপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন?) (তিনি বললেন, “তোমার মহান প্রতিপালক আশ্চর্যান্বিত হন), আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর যখন ঐ কথাটি স্মরণ হলো, তখন তিনি তার অধিক শুকরীয়া জ্ঞাপনকে ওয়াজিব করলেন। ফলে তিনি তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং হাসলেন। তার হাসি শুধু অনুকরণ ছিল না। কারণ, হাসি সাধারণত ইচ্ছাকৃত করা যায় না। যদিও কখনো সময় হাসির ভান করা যায়। (সেই বান্দার প্রতি) এটা সম্মান সূচক সম্পর্ক। (যখন সে জেনে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ অর্থাৎ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও।) অর্থাৎ সে তা জেনে বলে, অমনোযোগী হয়ে নয় (আমি আল্লাহ ছাড়া পাপরাশি আর কেউ মাফ করতে পারে না।)
সূত্র
سنن أبي داود-المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد-الناشر: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
مسند الإمام أحمد بن حنبل-المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي-الناشر: مؤسسة الرسالة-الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
سنن الترمذي- تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر (جـ 1، 2) ومحمد فؤاد عبد الباقي (جـ 3) وإبراهيم عطوة عوض المدرس في الأزهر الشريف (جـ 4، 5) - الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر - الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين, تأليف: محمد علي بن محمد البكري الصديقي, عناية: خليل مأمون شيحا, الناشر: دار المعرفة, ط 4 عام 1425.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين, تأليف: مصطفى الخن ومصطفى البغا ومحي الدين مستو وعلي الشربجي ومحمد لطفي, مؤسسة الرسالة, ط 14 عام 1407 - 1987.
تطريز رياض الصالحين, تأليف: فيصل مبارك, دار العاصمة, ط1423 – 2002.
صحيح وضعيف سنن أبي داود- محمد ناصر الدين الألباني - مصدر الكتاب: برنامج منظومة التحقيقات الحديثية - من إنتاج مركز نور الإسلام لأبحاث القرآن والسنة بالإسكندرية، 2002.
হুসাইন ইবনু আলী ইবনু আবী তলিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম [আমার নাম উচ্চারিত হল], অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না”।
সুনানে তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা এবং মুসনাদে আহমদমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম, উপনাম বা গুণ শোনার সময় যে তাঁর ওপর সালাত অর্থাৎ দরূদ পড়া ত্যাগ করল তাকে তিনি সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: পরিপূর্ণ কৃপণ ব্যক্তি হল যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম, কিন্তু সে আমার ওপর সালাত-দরূদ পাঠ করল না: এটি কয়েকটি কারণে:
প্রথম: এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কৃপণতা করা, যার কারণে সে অল্প বা বেশি কিছু হারায় না এবং কোন অর্থ বা প্রচেষ্টা ব্যয় করে না।
দ্বিতীয়: সে নিজের সাথে কৃপণতা করল এবং নিজেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করার সওয়াব থেকে বঞ্চিত করল। কেননা তার জন্য সালাত পাঠ করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সে কৃপণতা করেছে এবং এমন একটি হক আদায় করা থেকে বিরত রয়েছে যা তাকে অবশ্যই আদেশ পালন করা এবং এর মাধ্যমে সওয়াব হাসিল করার জন্য জরুরি ছিল।
তৃতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সালাত পাঠ করার ভেতর তাঁর কিছু অধিকার পূরণ জড়িত। কারণ তিনিই আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন; আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন, আমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করেছেন এবং আমাদের জন্য এই ওহী এবং এই শরীয়ত নিয়ে এসেছেন। কাজেই তিনি আমাদের পথনির্দেশের কারণ- আল্লাহ তা‘আলার পরে- যে তাঁর ওপর সালাত পাঠ করল না সে নিজের সাথে কৃপণতা করল এবং নিজের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাঁর একটি হক নিয়ে কৃপণতা করল। এটি তাঁর সবচেয়ে ছোট হক।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ত্যাগ করা কৃপণতার লক্ষণ।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করা সবসময়ের জন্য সবচেয়ে বড় নৈকট্য ও ইবাদত। এটি তাঁর নাম উল্লেখের সময় বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়।
নববী বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করবে, তখন সালাত ও সালাম উভয়কে একত্র করবে এবং একটির ওপর যথেষ্ট করবে না। অতএব শুধু (صلى الله عليه) বলবে না এবং (عليه السلام) বলবে না।
আবুল আলিয়া আল্লাহ তা‘আলার বাণী (إن الله وملائكته يصلون على النبي) -এর ব্যাপারে বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলার নবীর ওপর তাঁর সালাত হল: তাঁর প্রশংসা করা এবং ফেরেশতা ও মানুষের কাছ থেকে সালাত হল: দোয়া করা।
হালীমী বলেছেন: «اللهم صلّ على محمد» এর অর্থ হল: হে আল্লাহ, দুনিয়াতে তাকে মহিমান্বিত করুন তার নামকে উঁচু করে, তার দ্বীনকে প্রকাশ করে এবং তার শরীয়তকে বাকি রেখে। আর পরকালে: তাঁর উম্মতের জন্য তাঁর সুপারিশ করার মাধ্যমে এবং তাকে মহান পুরষ্কার ও মহান সাওয়াব প্রদান করে এবং তাকে মাকামে মাহমুদ দান করে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মাঝে তার ফযীলত প্রকাশ করে এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত উপস্থিত সবার ওপর তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাকে মহিমান্বিত করুন।
সূত্র
السنن الكبرى للنسائي (7/ 291) (8046).
سنن الترمذي (5/ 513) (3546).
مسند أحمد (3/ 257) (1736).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 486).
فيض القدير شرح الجامع الصغير، لعبدالرؤوف المناوي (2/ 404).
مشكاة المصابيح، لمحمد التبريزي (1/ 294).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 965).
সাহল ইবনু মু’আয ইবনু আনাস হতে তার পিতার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে লোক আহার করার পর বলল, الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য যিনি আমাকে এটা আহার করিয়েছেন এবং এটা আমাকে রিযক দিয়েছেন, আমার তা লাভ করার কোন শক্তি ও সামর্থ ব্যতীত), তার আগের সকল অপরাধ ক্ষমা করা হয়।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
যে ব্যক্তি কোনো খাবার খেল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আল্লাহর প্রশংসা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।কারণ, খাবার যোগাড় করা এবং সেটি খাওয়া আল্লাহ ও তাঁর সাহায্য ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিয়েছেন, যে এটি বলল সে তার অতীতের ছোটখাট পাপের জন্য আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য।
শিক্ষা
খাবারের শেষে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করা মুস্তাহাব।
আল্লাহ তা‘আলার তাঁর বান্দাদের উপর মহান অনুগ্রহের বর্ণনা যে, তিনি তাদের রিযিক দান করেছেন এবং তাদের জন্য রিযিকের উপকরণগুলো সহজ করেছেন এবং এতে খারাপ কাজের কাফফারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
বান্দাদের বিষয়গুলো সর্বশক্তিমান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। এগুলো তাদের শক্তি বা সামর্থ্যের ফল নয়। বান্দাকে কেবল উপকরণ গ্রহণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 452) (3458).
سنن أبي داود (6/ 138) (4023).
سنن ابن ماجه (4/ 417) (3285).
مسند أحمد (24/ 394) (15632).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 602).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي (2/ 54).
تاج العروس من جواهر القاموس، للزبيدي (28/ 366).
عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أخذ مَضْجَعَهُ نَفَثَ في يديه، وقرأ بالمُعَوِّذَاتِ، ومسح بهما جسده.
وفي رواية: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أَوَى إلى فِرَاشِهِ كل ليلة جَمَعَ كَفَّيْهِ، ثم نَفَثَ فيهما فقرأ فيهما: «قل هو الله أحد، وقل أعوذ برب الفلق، وقل أعوذ برب الناس» ثم مسح بهما ما استطاع من جسده، يبدأ بهما على رأسه ووجهه، وما أَقْبَلَ من جسده، يفعل ذلك ثلاث مرات.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন, তখন নিজ হাত দু’টিতে সূরা নাস ও ফালাক পড়ে ফুঁ দিতেন এবং তার দ্বারা নিজ সমগ্র শরীরে বুলাতেন। এক অন্য বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাতে যখন ঘুমাবার জন্য শয্যা গ্রহণ করতেন তখন দু’ হাতের চেটো একত্রে জমা করতেন এবং তাতে তিন কুল পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর তার দ্বারা দেহের ওপর যতদূর সম্ভব বুলাতেন; মাথা, চেহারা ও দেহের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ তিনি তিনবার করতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
দুনিয়া আখিরাত উভয় জাহানে রাসূলের স্ত্রী উম্মল মু’মিনীন আমাদের জন্য এ নববী সুন্নাতটি বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন, তখন নিজ হাত দু’টি একত্র করতেন তারপর তাতে হালকাভাবে থু থু নিক্ষেপ বিহীন সূরা ইখলাস, নাস ও ফালাক পড়ে ফুঁ দিতেন। প্রথমে ফুঁ দিয়ে তারপর পড়ুক বা আগে পড়ে পরে ফুঁ দিক দুটিই করা যাবে তাতে কোন ক্ষতি নাই। কারণ, হাদীসটি ধারাবাহিকতা রক্ষা বা আগে পরে করার বিষয়ে কোন প্রমাণ বহন করে না। অতঃপর উভয় হাত দ্বারা যথা সম্ভব সমগ্র শরীরের ওপর হাত বুলাবে এবং তার মাথা ও চেহারার দিয়ে শুরু করবে। তারপর শরীরের সম্মুখভাগের ওপর হাত বুলাবে। এরূপ তিনি তিনবার করতেন। সূরা পড়া তিনবার, ফুঁ দেওয়া তিনবার এবং হাত বুলানো তিনবার করতেন।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الدمام، الطبعة: الأولى 1415هـ.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشر 1407هـ.
- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، كنوز إشبيليا، الرياض، الطبعة: الأولى1430هـ، 2009م.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com