মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম [আমার নাম উচ্চারিত হল], অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না”।

عَنِ الحُسَينِ بنِ عَلِيٍّ بنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ».
হুসাইন ইবনু আলী ইবনু আবী তলিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম [আমার নাম উচ্চারিত হল], অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না”।
সুনানে তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা এবং মুসনাদে আহমদমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম, উপনাম বা গুণ শোনার সময় যে তাঁর ওপর সালাত অর্থাৎ দরূদ পড়া ত্যাগ করল তাকে তিনি সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: পরিপূর্ণ কৃপণ ব্যক্তি হল যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম, কিন্তু সে আমার ওপর সালাত-দরূদ পাঠ করল না: এটি কয়েকটি কারণে: প্রথম: এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কৃপণতা করা, যার কারণে সে অল্প বা বেশি কিছু হারায় না এবং কোন অর্থ বা প্রচেষ্টা ব্যয় করে না। দ্বিতীয়: সে নিজের সাথে কৃপণতা করল এবং নিজেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করার সওয়াব থেকে বঞ্চিত করল। কেননা তার জন্য সালাত পাঠ করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সে কৃপণতা করেছে এবং এমন একটি হক আদায় করা থেকে বিরত রয়েছে যা তাকে অবশ্যই আদেশ পালন করা এবং এর মাধ্যমে সওয়াব হাসিল করার জন্য জরুরি ছিল। তৃতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সালাত পাঠ করার ভেতর তাঁর কিছু অধিকার পূরণ জড়িত। কারণ তিনিই আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন; আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন, আমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করেছেন এবং আমাদের জন্য এই ওহী এবং এই শরীয়ত নিয়ে এসেছেন। কাজেই তিনি আমাদের পথনির্দেশের কারণ- আল্লাহ তা‘আলার পরে- যে তা‍ঁর ওপর সালাত পাঠ করল না সে নিজের সাথে কৃপণতা করল এবং নিজের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাঁর একটি হক নিয়ে কৃপণতা করল। এটি তাঁর সবচেয়ে ছোট হক।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ত্যাগ করা কৃপণতার লক্ষণ।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করা সবসময়ের জন্য সবচেয়ে বড় নৈকট্য ও ইবাদত। এটি তাঁর নাম উল্লেখের সময় বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়।
  3. নববী বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করবে, তখন সালাত ও সালাম উভয়কে একত্র করবে এবং একটির ওপর যথেষ্ট করবে না। অতএব শুধু (صلى الله عليه) বলবে না এবং (عليه السلام) বলবে না।
  4. আবুল আলিয়া আল্লাহ তা‘আলার বাণী (إن الله وملائكته يصلون على النبي) -এর ব্যাপারে বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলার নবীর ওপর তাঁর সালাত হল: তাঁর প্রশংসা করা এবং ফেরেশতা ও মানুষের কাছ থেকে সালাত হল: দোয়া করা।
  5. হালীমী বলেছেন: «اللهم صلّ على محمد» এর অর্থ হল: হে আল্লাহ, দুনিয়াতে তাকে মহিমান্বিত করুন তার নামকে উঁচু করে, তার দ্বীনকে প্রকাশ করে এবং তার শরীয়তকে বাকি রেখে। আর পরকালে: তাঁর উম্মতের জন্য তাঁর সুপারিশ করার মাধ্যমে এবং তাকে মহান পুরষ্কার ও মহান সাওয়াব প্রদান করে এবং তাকে মাকামে মাহমুদ দান করে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মাঝে তার ফযীলত প্রকাশ করে এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত উপস্থিত সবার ওপর তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাকে মহিমান্বিত করুন।
সূত্র

السنن الكبرى للنسائي (7/ 291) (8046). سنن الترمذي (5/ 513) (3546). مسند أحمد (3/ 257) (1736). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 486). فيض القدير شرح الجامع الصغير، لعبدالرؤوف المناوي (2/ 404). مشكاة المصابيح، لمحمد التبريزي (1/ 294). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 965).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
আকস্মিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যিকিরসমূহ

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com