আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মু‘আবিয়া (রদিয়াল্লাহু আনহু একবার ) মসজিদের একটি হালাকার কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: কোন কিসে তোমাদেরকে বসালো? তারা জবাব দিলেন: আমরা আল্লাহর যিকরের জন্য বসেছি। তখন তিনি বললেন: এটা ব্যতীত অন্য কোন কিছুই তোমাদেরকে এখানে বসায়নি? তারা বললেন: আল্লাহর কসম! অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদ দেওয়ার জন্য কসম করাইনি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার ন্যায় অবস্থান থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই আমার থেকে কম হাদীস বর্ণনা করেনি: রাসূলুল্লাহ একবার তাঁর সাহাবীদের একটি হালাকার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “কিসে তোমাদেরকে উপবেশন করিয়েছে?” তারা জবাব দিয়েছিলেন: আমরা আল্লাহর যিকির করব ও তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদেরকে এর মাধ্যমে নি‘আমাত প্রদান করেছেন এ কারণে তাঁর প্রশংসা করার জন্য বসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “এটা ব্যতীত অন্য কোন কিছুই তোমাদেরকে এখানে উপবেশন করায়নি?” তারা বলেছিলেন: আল্লাহর কসম! অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে উপবেশন করায়নি। তিনি বলেছিলেন: “আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদ দেওয়ার জন্য কসম করাইনি। বরং আমার নিকটে জিবরীল এসে জানিয়ে গেলেন যে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের ব্যাপারে গর্ব করছেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মু‘আবিয় ইবনু আবী সুফিয়ান রদিয়াল্লাহু আনহুমা মসজিদের একটি হালাকার কাছে এসে উপস্থিত লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তারা কোন কারণে সেখানে একত্রিত হয়েছে। তখন তারা জবাব দিলেন: আমরা আল্লাহর যিকির করব (এ জন্য)। তখন মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে কসম করতে বললেন এ মর্মে যে, তাদের একত্রিত হওয়ার কারণ কি শুধুমাত্র এটাই ছিল। তখন তারা তার কাছে কসম করলেন। তারপরে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে কোন অপবাদের কারণে অথবা তোমাদের সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ করার কারণে তোমাদেরকে কসম করতে বলিনি। তারপরে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার অবস্থান এবং কেউ যে তার থেকে রাসূলের নিকটবর্তী ছিলেন না এ ব্যাপারে সংবাদ দিলেন; (তার নৈকট্যের) কারণ হচ্ছে- তার বোন উম্মু হাবীবাহ আল্লাহর রাসূলের স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি নিজেও অহী লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কিন্তু এর পরেও তিনি খুব কম হাদীসই বর্ণনা করেছেন। তারপরে তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন যে, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাড়ী থেকে বের হয়ে সাহাবীদেরকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখতে পেলেন, তারা আল্লাহর যিকর করছিলেন এবং তিনি তাদেরকে ইসলামের দিশা দেওয়া এবং এর মাধ্যমে নি‘আমাত প্রদান করার কারণে তাঁর প্রশংসা করছিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাদেরকে কসম করিয়েছিলেন, ঠিক যেভাবে মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথীদেরকে কসম করালেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রশ্ন করা এবং কসম করানোর কারণ বর্ণনা করে বললেন যে: ফেরেশতা জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে জানিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করছেন, তাদের কাছে তোমাদের ফযীলত পেশ করছেন, তোমাদের ভালো আমল তাদেরকে দেখাচ্ছেন এবং তাদের কাছে তোমাদের প্রশংসা করছেন।
শিক্ষা
হাদীসটিতে মু‘আবিয়া রদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত এবং ইলম প্রচারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুবহু অনুসরণের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহের কথা বর্ণিত হয়েছে।
সংবাদের গুরুত্ব বোঝাতে অপবাদ আরোপ ব্যতীত কসম করানো বৈধ।
ইলম ও যিকিরের মজলিসের ফযীলতের বর্ণনা এছাড়াও এ মজলিসগুলিকে আল্লাহ তা‘আলা ভালোবাসেন এবং ফেরেশতাদের নিকটে এগুলি নিয়ে গর্ব করেন।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2075) (2701).
نزهة المتقين (2/ 993).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 522).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 271).
আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম আমলসমূহের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের মালিকের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সবচেয়ে মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, সোনা ও রুপা দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে তাদের গর্দান কাটা ও তোমাদের গর্দান কাটানোর চেয়ে শ্রেয়।” তারা সকলে বললেন: “অবশ্যই”, তিনি বললেন: “আল্লাহ তা’আলার যিকির।”
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন:
তোমরা কি চাও যে আমি তোমাদেরকে তোমাদের মালিক আল্লাহ তা‘আলার নিকটে তোমাদের সবচেয়ে উত্তম, সবচেয়ে সম্মানিত, সবচেয়ে উন্নত, সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং সবচেয়ে পবিত্র কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দেব?
আর জান্নাতে তোমাদের অবস্থানের দিক থেকে সর্বোচ্চ স্থান (দানকারী) সম্পর্কে?
এবং যেটি সোনা ও রোপা দান করার থেকেও উত্তম?
আর তোমরা শত্রুদের সাথে লড়াই এর জন্য মিলিত হয়ে তাদেরকে হত্যা করা এবং নিজেরা নিহত হওয়ার থেকেও উত্তম বিষয় সম্পর্কে?
সাহাবারা বললেন: হ্যাঁ, আমরা সেটা চাই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: প্রতিটি সময়, অবস্থান ও পরিস্থিতিতে আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা।
শিক্ষা
প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা নৈকট্যের সবচেয়ে বড় পন্থা এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে উপকারী বিষয়গুলির অন্যতম।
আল্লাহর যিকর কায়েম করার উদ্দেশ্যেই সকল আমল চালু করা হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي “এবং আমার যিকিরের জন্য সালাত কায়েম কর।” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়াতে সায়ী করা, পাথর নিক্ষেপ করা সবগুলোই আল্লাহ তা‘আলার যিকির কায়েমের উদ্দেশ্যে।” আবু দাঊদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ইযয ইবনু আব্দিস সালাম তার কাওয়ায়েদ-এ বলেছেন: এ হাদীসটি ইঙ্গিত করে যে, সাওয়াব সবসময় সকল ইবাদাতের ক্ষেত্রে কষ্টের পরিমাণের উপরে নির্ভর করে না। বরং আল্লাহ তা‘আলা কখনো কখনো অল্প আমলের জন্য এতটা সাওয়াব দেন, যা তার থেকে বেশী আমলের জন্যও দেন না। সুতরাং সাওয়াব মর্যাদাগত পার্থক্যের উপরেও নির্ভর করে।
আল-মুনাউয়ী তার ফাইদুল ক্বাদীর গ্রন্থে বলেছেন: এ হাদীসটি যাদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে তাদের অবস্থার ওপর প্রোয়াগ করা হবে, যদি কোন সাহসী-নির্ভিক বীরকে উদ্দেশ্য করা হয় এবং তার দ্বারা যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসলামের উপকার হয়, তাহলে তাকে জিহাদের কথাই বলা হবে। অথবা যদি কোন ধনী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়, যার সম্পদ দ্বারা গরীবদের উপকার হয়, তাহলে তাকে সদকা করার কথা বলা হবে। যদি হজ্জের সামর্থবানকে উদ্দেশ্য করা হয়, তাহলে বলা হবে হজ্জ। অথবা যার পিতামাতা রয়েছে এমন কাউকে উদ্দেশ্য করা হলে, বলা হবে তাদের উভয়ের প্রতি সদাচরণ বলা হবে। আর এভাবেই [বিভিন্ন] বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হবে।
পরিপূর্ণ যিকির হচ্ছে যা মুখে বলার পাশাপাশি অন্তরের চিন্তাভাবনার সাথে সংযুক্ত থাকে, তারপরে যা শুধুমাত্র অন্তরে থাকে, যেমন: চিন্তা-ভাবনা করা, তারপরে যা শুধুমাত্র মুখের কথায় হয়ে থাকে। এগুলোর প্রতিটির জন্যই পুরষ্কার রয়েছে -ইনশা আল্লাহ-।
মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক যে, সে বিভিন্ন অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট যিকিরগুলোর ওপর আমল করবে, যেমন: সকাল ও সন্ধ্যার যিকির, মসজিদ, বাড়ী, টয়লেট ইত্যাদি স্থানে প্রবেশ করা ও বের হওয়াসহ অন্যান্য যিকিরসমূহ এগুলো একজন মুমিনকে আল্লাহর অধিক যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে তোলে।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 389) (3377).
سنن ابن ماجه (4/ 705) (3790).
مسند أحمد (36/ 33) (21702).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 513).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 985).
كنوز رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين.
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার পথে চলছিলেন, এরপরে তিনি ’জুমদান’ নামক একটি পাহাড় দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এরপর তিনি বললেন: “তোমরা খুব দ্রুত চলো এটি জুমদান পাহাড়। মুফার্রিদগণ অগ্রগামী হয়েছে।” সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন: হে আল্লাহর রসূল, মুফার্রিদ কারা? তিনি বললেন: বেশি বেশি আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারীগণ।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্বরণকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতায় অন্যান্যদের থেকে এককভাবে অগ্রগামী হয়েছে, তিনি তাদেরকে জুমদান পাহাড়ের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন,যা অন্যান্য পাহাড়ের তুলনায় একক ও অনন্য।
শিক্ষা
অধিক হারে যিকির করা এবং তাতে মশগুল থাকা মুস্তাহাব; কেননা আখিরাতে অগ্রগামী হওয়ার ব্যাপারটি আনুগত্য (সৎকর্ম) এবং ইবাদাতের মধ্যে ইখলাসের উপরে নির্ভর করে।
আল্লাহর যিকির শুধু মুখে মুখে, অথবা শুধু অন্তরে অথবা মুখ ও অন্তর উভয় ক্ষেত্রে হতে পারে, আর শেষোক্তটিই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।
শরী‘আতে বর্ণিত নির্দিষ্ট যিকিরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: সকাল-সন্ধ্যার যিকির, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরের যিকির সহ আরো অনুরূপ যিকিরসমূহ।
ইমাম নববী বলেছেন: জেনে রাখ! যিকিরের ফযীলত শুধুমাত্র তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ ও তাকবীর ইত্যাদি যিকিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় , বরং আল্লাহর আনুগত্যকারী প্রতিটি আমলকারী ব্যক্তিই আল্লাহ তা‘আলার যিকিরকারী।
আল্লাহর পথে অবিচল থাকার সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আল্লাহর যিকির, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ “হে ঈমানদারগণ, যখন তোমরা কোন দলের সম্মুখীণ হবে, তখন অবিচল থাকবে আর আল্লাহর যিকির বেশী পরিমাণে করবে, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।” [আল-আনফাল: ৪৫]
যিকিরকারীদের ও জুমদান পাহাড়ের মধ্যে সাদৃশ্যের দিক হচ্ছে স্বাতন্ত্রতা এবং অনন্য হওয়া; কেননা জুমদান পাহাড় অন্যান্য পাহাড়ের থেকে আলাদা, ঠিক অনুরূপভাবে যারা অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করে তারাও। অনন্য বা স্বতন্ত্র বলতে বোঝানো হয়েছে যাদের মুখ ও অন্তর তাদের রবের যিকিরে মশগুল থাকে, যদিও তারা মানুষের মধ্যে অবস্থান করে। আর তারা একাকী সময় কাটানোকে পছন্দ করে এবং অধিক পরিমাণে মানুষের মধ্যে থাকতে অপছন্দ করে। আবার সাদৃশ্য প্রদানের আরো একটি দিক থাকতে পারে তা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার যিকির মানুষকে দীনের উপর অবিচল রাখার মাধ্যম যেভাবে পাহাড় যমীনকে অবিচল রাখার একটি মাধ্যম। আবার এরকমও হতে পারে যে, দুনিয়া ও আখিরাতে ভালোকাজে অগ্রগামী হওয়া, যেভাবে একজন মুসাফির ব্যক্তি মদীনা থেকে মক্কার দিকে যেতে থাকে, যখন সে জুমদান পাহাড়ের কাছে পৌঁছে, তখন এটি তার মক্কায় পৌঁছে যাওয়ার আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়, আর যে ব্যক্তি সেখানে পৌঁছে যায় সে অগ্রগামী হয়ে যায়, ঠিক অনুরুপভাবে আল্লাহ তা‘আলার যিকিরকারী ব্যক্তিও আল্লাহ তা‘আলাকে বেশী বেশী স্বরণ করার কারণে অন্যান্যদের তুলনায় অগ্রগামী হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বোজ্ঞ।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2062) (2676).
نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 983).
تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، لابن سعدي (ص665).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 510).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 516).
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মিরাজের রাতের সফরে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তখন তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং তাদের জানিয়ে দিবেন যে জান্নাতের মাটি উত্তম আর এর পানি সুমিষ্ট। তবে তা ফাঁকা ময়দান। এর বৃক্ষ রোপন হলো سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানহাদিসটি এর শাওয়াহেদ (বিভিন্ন সমার্থক হাদিস) থাকার কারণে হাসান
ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, তিনি ইব্রাহীম খলিল আলাইহিস সালামের সাথে ইসরা ও মি'রাজের রাতে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তিনি তাকে বলেছিলেন, হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার সালাম জানাও এবং তাদের জানিয়ে দিন যে জান্নাতের মাটি উত্তম, পানি মিষ্টি এবং কোন লবণাক্ততা নেই। জান্নাতটি প্রশস্ত, সমতল এবং বৃক্ষবিহীন আর তার বৃক্ষরোপণ হল উত্তম-পবিত্র বাক্যসমূহ; তা হলো বাকিয়াতুস সালিহাত: سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ [আল্লাহ্র পবিত্রতা, আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্ মহান] যখনই একজন মুসলিম এটা বলে এবং বার বার বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি বীজ বপন করা হয়।
শিক্ষা
জান্নাতের গাছপালা বৃদ্ধি করার জন্য ধারাবাহিক যিকিরে উৎসাহিত করা।
মুসলিম উম্মাহর ফযীলত; যেহেতু ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তাদের প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন।
ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে অধিক জিকিরের প্রতি উত্সাহিত করেছেন।
আল্লাম তীবী রহ. বলেছেন: জান্নাত হল বৃক্ষহীন সমতল ভূমি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা নিজ অনুগ্রহে আমলকারীদের আমল মোতাবেক তাতে গাছ এবং প্রাসাদ তৈরি করেন। প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমল মোতাবেক সাওয়াব রয়েছে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা যখন সেই সাওয়াব অর্জনের জন্য তাকে জান্নাতের আমল করার তাওফিক দান করেন, তখন তাকেই সেই বৃক্ষরোপণকারী আখ্যা দেন।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 455) (3462).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي (2/ 512).
الكاشف عن حقائق السنن (شرح المشكاة)، للطيبي (6/ 1831).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 186).
مشكاة المصابيح، للتبريزي (2/ 716).
مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للمباركفوري (7/ 476).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 985).
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো কাওম যখন কোনো মজলিস থেকে আল্লাহর যিকির করা ছাড়া ওঠে, তখন তারা যেন গাধার মর দেহের মতো হয়ে উঠল। আর এটি তাদের জন্য পরিতাপের কারণ হবে”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, কোন কওম কোন সভাতে বসে তারপর যখন তা ত্যাগ করল এবং সেখানে আল্লাহর যিকির করল না, তারা অবশ্যই মৃত গাধার দেহের মত দুর্গন্ধ এবং নাপাক বস্তুর উপর জড়ো হওয়া একটি সভা থেকে উঠে দাঁড়াল; কারণ তারা আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল ছিল। কিয়ামতের দিন এটি তাদের উপর আফসোস, ক্ষতির কারণ এবং অবশ্যই লজ্জার উপকরণ হবে।
শিক্ষা
আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল মর্মে যে সতর্ক বাণী উল্লেখ করা হয়েছে তা কেবল সভাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য কিছুকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ইমাম নববী বলেন, কেউ কোন স্থানে বসলে সেখানে আল্লাহর যিকির করা ছাড়া ওঠা মাকরূহ।
কিয়ামতের দিন তাদের যে আফসোস হবে: হয়তো সেটি আল্লাহর আনুগত্যে সময় থেকে উপকৃত না হওয়ার দরুন সাওয়াব ও বিনিময় থেকে বঞ্জিত হওয়ার মাধ্যমে, অথবা আল্লাহর নাফরমানিতে সময় ব্যয় করার শাস্তি ও পাপের ফলে।
এটি হল যখন এই উদাসীনতা বৈধ জিনিসে হবে, হারাম মজলিসে হলে কী হবে যেখানে গীবত, পরচর্চা প্রভৃতি হয়?!
সূত্র
سنن أبي داود (7/ 221) (4855).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 120).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 654).
আবু যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো বেশী নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। তারা সালাত পড়ছে যেমন আমরা সালাত পড়ছি, তারা সিয়াম রাখছে যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত কাজ এই করছে যে,) নিজেদের প্রয়োজন-অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সাদকাহ করছে।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সাদকাহ করার মত জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবীহ সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল সাদকাহ, ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া সাদকাহ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ এবং তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।” সাহাবাগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন ক’রে নিজের যৌন ক্ষুধা নিবারণ করে, তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে?’ তিনি বললেন, “কি রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কাম-ক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
কিছু দরিদ্র সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাদের অবস্থা, দারিদ্র্য এবং তাদের ধনী ভাইদের প্রাপ্ত মহান সওয়াব অর্জন এবং তাদের মতো সৎকর্ম করার জন্য দান-খয়রাত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছিলেন। কারণ তারা আমাদের মতোই সালাত পড়ে, আমাদের মতোই সিয়াম রাখে এবং তাদের অতিরিক্ত অর্থ দান করে, কিন্তু আমরা তা করতে পারি না! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তারা যা দান-সদকা করতে পারে তা দেখিয়েছেন এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমরা নিজেদের জন্য যা দান করতে পারো, আল্লাহ কি তোমাদের তা দেননি? কারণ তোমাদের কথা: (সুবহানাল্লাহ ) "আল্লাহ পূত-পবিত্র ” তেমাদের জন্য সদকার সাওয়াব হবে। অনুরূপ (আল্লাহু আকবার) “আল্লাহ সবচেয়ে বড়” একটি সদকা। (আল হামদু লিল্লাহ) "আল্লাহর জন্যই সকাল প্রশংসা" বলা একটি সদকা, (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) "আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই" বলা একটি সদকা। (ভালো কাজের আদেশ দেওয়া) হলো একটি সদকা আর (মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা) হলো একটি সদকা, বরং তোমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তবুও তা একটি সদকা। তারা অবাক হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কেউ তার ইচ্ছা পূরণ করবে এবং এর জন্য তার সাওয়াব হবে?! তিনি বললেন: তুমি কি মনে করো যদি সে এটিকে নিষিদ্ধ কাজে, যেমন ব্যভিচার বা অন্য কিছুতে রাখে, তাহলে কি সে এর জন্য গুনাহগার হবে? একইভাবে, যদি সে তা হালাল জায়গায় রাখে তার জন্য সাওয়াব হবে।
শিক্ষা
সাহাবীগণ নেক আমল করার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে মহান প্রতিদান ও অনুগ্রহ অর্জনের জন্য আগ্রহী ছিলেন।
সৎকর্মের অনেক ধরন রয়েছে এবং এর মধ্যে প্রতিটি কাজ অন্তর্ভুক্ত যা একজন মুসলিম ভালো নিয়ত এবং ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে করে।
ইসলাম সহজ এবং সরল, তাই প্রতিটি মুসলিম আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য কিছু না কিছু করার সুযোগ পায়।
আল-নওয়াবী বলেন: এটি প্রমাণ করে যে বৈধ কাজগুলি আন্তরিক নিয়তের কারণে ইবাদতের কাজ হয়ে ওঠে। স্ত্রীর অধিকার পূরণ করা, আল্লাহর আদেশ অনুসারে তার সাথে ভাল আচরণ করা, অথবা একটি নেক সন্তান কামনা করা, অথবা নিজেকে বা তার স্ত্রীকে রক্ষা করা এবং তাদের উভয়কে নিষিদ্ধ জিনিসের দিকে তাকানো থেকে বিরত রাখা, অথবা এটি সম্পর্কে চিন্তা করা, বা এটি সম্পর্কে ইচ্ছা করা, অথবা অন্যান্য সৎ উদ্দেশ্যে সহবাস একটি করে ইবাদত হয়ে ওঠে।
প্রবাদ এবং উপমা বয়ান করা; যেন শ্রোতার মনে আরও স্পষ্ট এবং আরও কার্যকরী হয়।
সূত্র
صحيح مسلم (2/ 697) (1006).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 201).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 161).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (3/ 31).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 150).
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য ইসলামের শারী’আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন: “সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা’আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে”।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
একজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করল যে, নফল ইবাদত তার ওপর এতো বেশী হয়ে গেছে যে তিনি তার দুর্বলতার কারণে সেগুলো পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অটল থাকা ও আঁকড়ে ধরার জন্য বেশী সাওয়াব আনয়নকারী কিছু অল্প আমলের নির্দেশ করলেন।
তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের দ্বারা তার জিহ্বা নরম এবং তাজা রাখতে নির্দেশ করেছেন; যেমন তাসবীহ পাঠ করা, তাহমীদ পাঠ করা, ইস্তেগফার করা, দোয়া করা প্রভৃতি।
শিক্ষা
অনবরত আল্লাহ তা‘আলার যিকিরে থাকার ফযীলত।
আল্লাহ তা‘আলার মহান অনুগ্রহের একটি হল সাওয়াবের উপায়গুলো সহজতর করা।
কল্যাণ ও সাওয়াবের ময়দানে বান্দাদের সামর্থ্য লাভের মধ্যে পার্থক্য।
অন্তরের সম্মিলনে জিহ্বা দ্বারা তাসবীহ, তাহমীদ তাহলীল, তাকবীর ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর অধিক যিকির করা অনেক নফল ইবাদতের স্থলাভিশিক্ত হয়।
তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেককে তার উপযুক্ত উত্তর প্রদান করে প্রশ্নকারীদের যত্ন নিয়েছেন।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 388) (3375).
سنن ابن ماجه (4/ 707) (3793).
مسند أحمد (29/ 226) (17680).
جامع العلوم والحكم في شرح خمسين حديثا من جوامع الكلم، لابن رجب الحنبلي (2/ 510).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص104).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، للنووي وابن رجب (ص154).
الأحاديث الأربعون النووية وعليها الشرح الموجز المفيد، لعبد الله بن صالح المحسن (ص93).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আগার (আল মুযানী) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূালুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তাওবা কর ও তাঁর নিকট ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন এক শো বার তাওবা করি”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে বারবার তওবা ও ইস্তেগফার করার নির্দেশ দেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন যে, তিনি দিনে একশবারেরও বেশি আল্লাহ তা‘আলার কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, অথচ তার অতীত ও ভবিষ্যতের পাপসমূহ ক্ষমা করা হয়েছে। এতেই আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিনয় এবং ইবাদতের পরিপূর্ণতা রয়েছে।
শিক্ষা
ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের পদমর্যাদা এবং স্তর নির্বিশেষে সকলেই আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রত্যাবর্তন করা এবং তাওবার মাধ্যমে নিজেদের পরিপূর্ণ করা প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলার অধিকার পূরণে কেউ ত্রুটিমুক্ত নয়: (হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তওবা করো।)
তাওবা সর্বজনীন, তা নিষিদ্ধ কাজ ও পাপের কারণেই হোক বা কর্তব্য পালনে অবহেলার কারণেই হোক।
তওবার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা তার কবুলের শর্ত। কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য পাপ ত্যাগ করে, সে তাওবাকারী না।
আল-নওয়াবী বলেন: তওবার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে: পাপ করা বন্ধ করা, তা করার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আর কখনও তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি পাপটি মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে এর চতুর্থ শর্ত রয়েছে, তা হল: জুলমকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, অথবা তার কাছ থেকে দায়মুক্তি লাভ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা প্রার্থনা করা তার পাপের জন্য হওয়া জরুরি নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ণ দাসত্ব এবং আল্লাহর যিকিরের প্রতি আসক্তি এবং তাঁর মহত্ত্ব এবং আল্লাহ তা‘আলার মহান অধিকার এবং বান্দা তাঁর নিয়ামতের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে যা-ই করুন না কেন নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সচতেনতার কারণে। এটি তাঁর পরবর্তী উম্মতের জন্য পথ দেখানোর একটি প্রক্রিয়া বটে এবং অন্যান্য হিকমত রয়েছে।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2075) (2702).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 33).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 97).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 52).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com