মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

শাস্তিসমূহ

১৬টি হাদীস

“কোন ব্যক্তি হাদযোগ্য অপরাধ করল এবং দুনিয়াতেই তার উপর হাদ্দ কার্যকর হল আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাকে পরকালে আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই ন্যায় বিচারক

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَصَابَ حَدًّا فَعُجِّلَ عُقُوبَتَهُ فِي الدُّنْيَا فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عَلَى عَبْدِهِ العُقُوبَةَ فِي الآخِرَةِ، وَمَنْ أَصَابَ حَدًّا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَفَا عَنْهُ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ».
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “কোন ব্যক্তি হাদযোগ্য অপরাধ করল এবং দুনিয়াতেই তার উপর হাদ্দ কার্যকর হল আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাকে পরকালে আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই ন্যায় বিচারক। আর কোন ব্যক্তি হাদ্দযোগ্য অপরাধ করল, আল্লাহ তা’আলা তার অপরাধ গোপন রাখল এবং ক্ষমা করল তিনি তাকে ক্ষমা করার পর আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই অধিক দয়াপরবশ”।
এটি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন, যে ব্যক্তি এমন পাপ করে যার জন্য শরয়ী শাস্তির প্রয়োজন হয়, যেমন ব্যভিচার এবং চুরি। আর তাকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং এই পৃথিবীতে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সেই শাস্তি তার পাপ মুছে ফেলবে এবং আখেরাতে তার শাস্তি দূর করবে। কারণ আল্লাহ এতটাই উদার ও করুণাময় যে তাঁর বান্দার জন্য দুটি শাস্তি একত্রিত করতে পারেন না। আর যাকে আল্লাহ এই পৃথিবীতে লুকিয়ে রাখেন এবং সেই পাপের জন্য শাস্তি না দেন, আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা এতটাই উদার এবং করুণাময় যে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং মাফ করে দিয়েছেন এমন পাপের জন্য পুনরায় তাকে শাস্তি দিবেন না।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর ন্যায়বিচার, উদারতা এবং করুণা মহান।
  2. এই পৃথিবীতে শাস্তি কার্যকর করলে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়।
  3. যে ব্যক্তি এমন পাপ করে যার জন্য শাস্তি নির্ধারিত, তার উচিত আল্লাহর আবরণে নিজেকে ঢেকে ফেলা এবং আন্তরিকভাবে দ্রুত তওবা করা।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 312) (2626). سنن ابن ماجه (3/ 627) (2604). مرشد ذوي الحجا والحاجة إلى سنن ابن ماجه والقول المكتفى على سنن المصطفى (15/ 224). التيسير بشرح الجامع الصغير (2/ 399). فيض القدير (6/ 65).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কতিপয় বিষয় ফরয করেছেন। তোমরা সেটাকে বিনষ্ট কর না, এবং কতক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তোমরা সেটা লঙ্ঘন কর না এবং কতক বস্তু হারাম করেছেন তোমরা তাতে লিপ্ত হয়ো না, এবং তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে কিছু বস্তু হতে ইচ্ছাকৃত চুপ থেকেছেন, তোমরা তা অনুসন্ধান কর না”।

عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ جُرْثُومِ بن نَاشِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَال: «إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَيِّعُوهَا، وَحَدَّ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا، وَحَرَّمَ أَشْيَاءَ فَلَا تَنْتَهِكُوهَا، وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ رَحْمَةً لَكُمْ غَيْرَ نِسْيَانٍ فَلَا تَبْحَثُوا عَنْهَا».
আবু সা‘লাবাহ আল-খুশানী জুরসুম ইবনু নাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কতিপয় বিষয় ফরয করেছেন। তোমরা সেটাকে বিনষ্ট কর না, এবং কতক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তোমরা সেটা লঙ্ঘন কর না এবং কতক বস্তু হারাম করেছেন তোমরা তাতে লিপ্ত হয়ো না, এবং তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে কিছু বস্তু হতে ইচ্ছাকৃত চুপ থেকেছেন, তোমরা তা অনুসন্ধান কর না”।
এটি দারাকুতনী তার সুনানে এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।মানইমাম নববী বলেছেন: হাদীসটি হাসান।
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ কিছু জিনিসকে ফরয এবং কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তোমরা সেগুলোকে অবশ্যই মেনে চলবে। সেগুলো পরিত্যাগ করে বা শিথিলতা প্রদর্শন করে তাতে কোন প্রকার অবহেলা করবে না। তিনি তোমাদের জন্য এমন বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন যা তোমাদেরকে এমন কাজ থেকে বিরত রাখবে যা তিনি পছন্দ করেন না, তাই শরীয়ত যা আদেশ করেছে তার উপর কোন কিছু বৃদ্ধি করো না। আর কিছু জিনিস হারাম করেছে, সেগুলোতে লিপ্ত হয়ো না বা সেগুলোর কাছে যেয়ো না। এগুলো ছাড়া তাঁর বান্দাদের প্রতি করুণা বশত যা ছেড়ে দিয়েছেন এবং যার সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, সেগুলো তাদের আসল অবস্থায়ই জায়েয থাকবে, সেগুলো সন্ধান করো না।

শিক্ষা
  1. হাদীসটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ-ই হলেন আইন প্রণেতা, শরীয়াতের প্রবর্তক কাজেই সকল বিষয় তাঁর হাতে, তিনি পবিত্র।
  2. আদেশ ও বৈধতার ভিত্তিতে হাদীসটি ইসলামী শরীয়তের নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত। কারণ শরীয়তের হুকুম হয় বর্ণনা না করে চুপ থাকা অথবা বর্ণনা করা। আর তা হয়ত ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে আদেশ কৃত, অথবা হারাম বা মাকরূহ বা বৈধ হিসেবে নিষিদ্ধ।
  3. আল্লাহ যার সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, ফলে তা ফরয, সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করেননি তা জায়েয।
  4. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের বয়ানের সৌন্দর্য, তিনি হাদীসটিকে সুস্পষ্ট প্রকার বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
  5. আল্লাহর ফরযসমূহ রক্ষা করা ওয়াজিব।
  6. আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করা হারাম।
সূত্র

سنن الدارقطني (4396). المعجم الكبير للطبراني (22/221). جامع العلوم والحكم (ص617). شرح الأربعين النووية للعثيمين (ص309). توضيح الأحكام من بلوغ المرام (6/ 210).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com