মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মুরতাদের শাস্তি

২টি হাদীস

“তোমরা আল্লাহর আযাব দ্বারা কাউকে আযাব দিবে না”

عَنْ عِكْرِمَةَ: أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَرَّقَ قَوْمًا، فَبَلَغَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ: لَوْ كُنْتُ أَنَا لَمْ أُحَرِّقْهُمْ لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ»، وَلَقَتَلْتُهُمْ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ».
ইকরামাহ হতে বর্ণিত: ‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এক সম্প্রদায়কে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। এ সংবাদ ইবনু ‘আব্বাস -এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, ‘যদি আমি হতাম, তবে আমি তাদেরকে জ্বালিয়ে ফেলতাম না। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর আযাব দ্বারা কাউকে আযাব দিবে না”। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে লোক তার দ্বীন বদলে ফেলে, তাকে হত্যা করে ফেল”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু একদল মুরতাদ ও যিন্দীক (ইসলাম ত্যাগকারী) লোকের বিরুদ্ধে ইজতিহাদ করেছিলেন এবং তাদের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিয়েছিলেন। এই খবর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে পৌঁছলে, তিনি তাদের হত্যা করার বিষয়ে সমর্থন করেন; তবে আগুনে পোড়ানোকে তিনি অগ্রহণযোগ্য মনে করেন। তিনি বললেন: ‘যদি আমি তাঁর স্থানে থাকতাম, আমি তাদের আগুনে পোড়াতাম না; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে আগুনে শাস্তি দেয়া হবে শুধুই আল্লাহ, আগুনের পালনকর্তা ছাড়া (কেউ) আগুনে শাস্তি দেয় না। তবুও তাদের হত্যা করলেই যথেষ্ট, কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যারা ইসলাম ত্যাগ করে এবং তাদের ধর্ম বদলে অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করে, তাদের হত্যা করো।

শিক্ষা
  1. ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারী (মূর্তেদ)কে হত্যা করা ফরয — এ বিষয়ে আলেমদের ইজমা (ঐকমত্য) আছে; এ কাজটি অবশ্যই নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে কার্যকর হবে এবং এটি কেবল ইমাম/শাসকই করতে পারেন।
  2. তাঁর কথা: ‘যে তার ধর্ম বদলে, তাকে হত্যা করো’ — অর্থাৎ: যে ইসলাম ত্যাগ করে: এটি একটি সর্বজনীন হুকুম, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য।
  3. মুরতাদকে স্থায়ীভাবে তাঁর মুরতাদ হওয়ার রাখা হবে না; বরং তাকে ইসলামে ফেরত আসার জন্য ডাকা হবে; যদি সে সাড়া না দেয়, তাকে হত্যা করা হয়।
  4. এই হাদীসে আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া নিষেধ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে শাস্তি (হদ্দ) আগুন দিয়ে কার্যকর করা যাবে না।
  5. ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর ফজিলত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস সম্পর্কে তাঁর বিশাল ইলম ও গভীর ফিকহ।
  6. এতে ভিন্নমতের ব্যক্তির ভুল সংশোধন করার শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 61) (3017). عمدة القاري شرح صحيح البخاري، لبدر الدين العيني (14/ 264). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (8/ 364). توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، لعبد الله البسام (6/ 204). فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (5/ 218). الإفصاح عن معاني الصحاح، لابن هبيرة (3/ 190). التوضيح لشرح الجامع الصحيح، لابن الملقن (18/ 58). نيل الأوطار، للشوكاني (7/ 225).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

’উকল বা ’উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনা্য় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدِمَ أُنَاسٌ مِنْ عُكْلٍ أَوْ عُرَيْنَةَ، فَاجْتَوَوْا المَدِينَةَ فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلِقَاحٍ، وَأَنْ يَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا، فَانْطَلَقُوا، فَلَمَّا صَحُّوا قَتَلُوا رَاعِيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتَاقُوا النَّعَمَ، فَجَاءَ الخَبَرُ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ، فَلَمَّا ارْتَفَعَ النَّهَارُ جِيءَ بِهِمْ، فَأَمَرَ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، وَسُمِرَتْ أَعْيُنُهُمْ، وَأُلْقُوا فِي الحَرَّةِ، يَسْتَسْقُونَ فَلاَ يُسْقَوْنَ، قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ: فَهَؤُلاَءِ سَرَقُوا وَقَتَلُوا، وَكَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ، وَحَارَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ.
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: ’উকল বা ’উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনা্য় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (সদকার) উটের নিকট যাবার এবং উটের পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তাঁর নিকট) এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হল। অতঃপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি। আবূ কিলাবাহ বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উকল ও উরাইনা গোত্রের কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল মুসলিম হিসেবে। তারা এমন একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার ফলে তাদের পেট ফুলে গিয়েছিল এবং তারা মদীনায় থাকতে অপছন্দ করল। কারণ সেখানকার খাবার এবং বাতাস তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সদকার উটের কাছে যেতে এবং তাদের প্রস্রাব ও দুধ পান করতে নির্দেশ দিলেন, তাই তারা রওনা হলেন। যখন তারা সুস্থ হয়ে উঠল এবং মোটা হয়ে গেল এবং তাদের রঙ ফিরে এলো, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। দিনের শুরুতেই খবরটা এসে পৌঁছাল, তাই তিনি তাদের ডেকে পাঠালেন আর তারা তাদের ধরে ফেলল। যখন সকাল হলো, তখন তাদেরকে বন্দী হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তিনি তাদের হাত-পা কেটে ফেলার আদেশ দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, কারণ তারা রাখালের সাথে এমনটি করেছিল। তাদের খোলা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তারা পানির জন্য প্রার্থনা করছিল কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হয়নি, যতক্ষণ না তারা মারা যায়। আবু কিলাবা বলেন: তারা চুরি করেছে, হত্যা করেছে এবং ঈমানের পর কুফরী করেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।

শিক্ষা
  1. যেসব প্রাণীর মাংস খাওয়া হালাল হয় তাদের প্রস্রাবের পবিত্রতা।
  2. উটের দুধ ও প্রস্রাব দিয়ে ঔষধ ও চিকিৎসার বৈধতা।
  3. কিসাসের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের বৈধতা এবং অঙ্গহানির নিষেধাজ্ঞা বরাবর শাস্তি বা কিসাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
  4. একজন ব্যক্তিকে হত্যা করার দায়ে একটি দলকে হত্যা করা, তারা তাকে বিশ্বাসঘাতকতা বা ডাকাতি যেভাবেই হত্যা করুক না কেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 56) (233). صحيح مسلم (3/ 1296) (1671). إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (1/ 298). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (3/ 154). التوضيح لشرح الجامع الصحيح (4/ 455). النهاية في غريب الحديث والأثر (1/ 318).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com