মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

ডাকাতির শাস্তি

২টি হাদীস

“যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উঠাবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا».
আবূ মূসা ‘আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উঠাবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের ভীতি প্রদর্শন অথবা তাদের সম্পদ লুটপাট করার জন্যে তাদের ওপর অস্ত্র তাক করা থেকে সতর্ক করছেন। অন্যায়ভাবে যে এরূপ করল সে বড় অপরাধ ও কবিরাহ গুনাহের একটিতে লিপ্ত হলো। আর এই কঠিন শাস্তির অধিকারী হলো।

শিক্ষা
  1. মুসলিম ভাইদের সাথে যুদ্ধ না করতে কঠিনভাবে সাবধান করা হয়েছে।
  2. মুসলিমদের ওপর অস্ত্র তাক করা ও হত্যার মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সবচেয়ে বড় নিকৃষ্ট কাজের অন্তর্ভুক্ত ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
  3. ন্যায় সঙ্গত যুদ্ধের ক্ষেত্রে উল্লিখিত হুশিয়ারি প্রযোজ্য হবে না, যেমন বিদ্রোহী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও অন্যদের সাথে যুদ্ধ করা।
  4. অস্ত্র ও অন্যান্য বস্তু দ্বারা মুসলিমদের ভয় দেখানো হারাম, যদিও তা হাসি-ঠাট্টার ছলে হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 49) (7071). صحيح مسلم (1/ 98) (100). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص406). الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص815). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 195). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص752).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

’উকল বা ’উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনা্য় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدِمَ أُنَاسٌ مِنْ عُكْلٍ أَوْ عُرَيْنَةَ، فَاجْتَوَوْا المَدِينَةَ فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلِقَاحٍ، وَأَنْ يَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا، فَانْطَلَقُوا، فَلَمَّا صَحُّوا قَتَلُوا رَاعِيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتَاقُوا النَّعَمَ، فَجَاءَ الخَبَرُ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ، فَلَمَّا ارْتَفَعَ النَّهَارُ جِيءَ بِهِمْ، فَأَمَرَ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، وَسُمِرَتْ أَعْيُنُهُمْ، وَأُلْقُوا فِي الحَرَّةِ، يَسْتَسْقُونَ فَلاَ يُسْقَوْنَ، قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ: فَهَؤُلاَءِ سَرَقُوا وَقَتَلُوا، وَكَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ، وَحَارَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ.
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: ’উকল বা ’উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনা্য় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (সদকার) উটের নিকট যাবার এবং উটের পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তাঁর নিকট) এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হল। অতঃপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি। আবূ কিলাবাহ বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উকল ও উরাইনা গোত্রের কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল মুসলিম হিসেবে। তারা এমন একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার ফলে তাদের পেট ফুলে গিয়েছিল এবং তারা মদীনায় থাকতে অপছন্দ করল। কারণ সেখানকার খাবার এবং বাতাস তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সদকার উটের কাছে যেতে এবং তাদের প্রস্রাব ও দুধ পান করতে নির্দেশ দিলেন, তাই তারা রওনা হলেন। যখন তারা সুস্থ হয়ে উঠল এবং মোটা হয়ে গেল এবং তাদের রঙ ফিরে এলো, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। দিনের শুরুতেই খবরটা এসে পৌঁছাল, তাই তিনি তাদের ডেকে পাঠালেন আর তারা তাদের ধরে ফেলল। যখন সকাল হলো, তখন তাদেরকে বন্দী হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তিনি তাদের হাত-পা কেটে ফেলার আদেশ দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, কারণ তারা রাখালের সাথে এমনটি করেছিল। তাদের খোলা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তারা পানির জন্য প্রার্থনা করছিল কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হয়নি, যতক্ষণ না তারা মারা যায়। আবু কিলাবা বলেন: তারা চুরি করেছে, হত্যা করেছে এবং ঈমানের পর কুফরী করেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।

শিক্ষা
  1. যেসব প্রাণীর মাংস খাওয়া হালাল হয় তাদের প্রস্রাবের পবিত্রতা।
  2. উটের দুধ ও প্রস্রাব দিয়ে ঔষধ ও চিকিৎসার বৈধতা।
  3. কিসাসের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের বৈধতা এবং অঙ্গহানির নিষেধাজ্ঞা বরাবর শাস্তি বা কিসাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
  4. একজন ব্যক্তিকে হত্যা করার দায়ে একটি দলকে হত্যা করা, তারা তাকে বিশ্বাসঘাতকতা বা ডাকাতি যেভাবেই হত্যা করুক না কেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 56) (233). صحيح مسلم (3/ 1296) (1671). إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (1/ 298). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (3/ 154). التوضيح لشرح الجامع الصحيح (4/ 455). النهاية في غريب الحديث والأثر (1/ 318).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com