প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’আ হল ইবাদাতের মূল বা সার। এই শব্দে হাদীসটি যঈফ, রাওজুন নায়ীর (২/২৮৯), মিশকাত (২২৩১) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইবনু লাহীআর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি।
নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আই হল ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ) “এবং তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে তোমরা আহবান কর, আমি তোমাদের আহবানে সাড়া দিব। নিশ্চয় যে সকল লোক আমার ইবাদাত করতে অহংকার করে (বিরত থাকে), শীঘ্রই তারা ভৎসনার সঙ্গে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”— (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মানসূর ও আমাশ (রাহঃ) যার-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি কেবল যার-এর সনদেই অবগত হয়েছি। যার ইবনু আবদুল্লাহ আল-হামদানী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি উমার ইবনু যার-এর পিতা।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে যে লোক চায় না, আল্লাহ তা'আলা তার উপর নাখোশ হন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৭)। আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াকী এবং আরো অনেকে হাদীসটি আবূল মালীহ (রাহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি আমরা কেবল এই সূত্রেই অবগত হয়েছি। আবূল মালীহ-এর নাম সাবীহ। আমি মুহাম্মাদকে এ কথা বলতে শুনেছি। তাকে ফারিসীও বলা হয়। ইসহাক ইবনু মানসূর-আবূ আসিম হতে, তিনি হুমাইদ-আবূল মালীহ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহঃ-এর সাথেই ছিলাম। আমরা যখন ফিরে আসলাম এবং মাদীনার উপকণ্ঠে উপস্থিত হলাম তখন কিছু লোক উচ্চস্বরে তাকবীর বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পালনকর্তা বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের সৈন্য দলের সাথেই আছেন। তারপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু কাইস আমি কি তোমাদের জান্নাতের গুপ্তধন শিখিয়ে দিব না? তা হল “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮২৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উসমান আন নাহদী-এর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। আবূ না'আমাহ আস্ সা'দীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা।
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য ইসলামের শারী’আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন: “সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা’আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে”।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকট বান্দাদের মধ্যে কে মর্যাদায় সবোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার অধিক পরিমাণে যিকিরকারীগণ। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারীর চেয়েও অধিক মর্যাদাশালী? তিনি বললেনঃ যদি কেউ নিজের তলোয়ার দিয়ে কাফির ও মুশরিকদের উপর এমনভাবে আঘাত হানে যে, তা ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং নিজেও রক্তাক্ত হয়ে যায়, তবে অধিক পরিমাণে আল্লাহ তা'আলার যিকিরকারী বান্দাগণ মর্যাদায় তার চেয়েও উত্তম। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু দাররাজের রিওয়ায়াত হিসেবে তা জেনেছি।
। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ প্রসঙ্গে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক হতে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খাইরাত করার চেয়েও বেশি ভাল এবং তোমাদের শক্রর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে তোমাদের সংহার করা ও তোমাদেরকে তাদের সংহার করার চাইতেও ভাল? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার যিকর। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলার শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলার যিকরের তুলনায় অগ্রগণ্য কোন জিনিস নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯০)। কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত সনদে এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। কিছু বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে এটিকে মুরসাল হিসেবেও রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখনই কোন এক স্থানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ তা'আলার যিকরে মাশগুল হয়, তখনই ফেরেশতাগণ তাদের আবূত করে রাখে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার রহমত ও করুণা ছেয়ে ফেলে এবং তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। আর আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার সমীপে উপস্থিতদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) মসজিদে গেলেন। তিনি (মসজিদে কিছুলোক বসা দেখে তাদেরকে) বললেন, তোমাদের কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আমরা বসে বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার যিকরই কি বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ আল্লাহ তা'আলার যিকরই আমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেন, শোন! তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে শপথ করাইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারীও কেউ নেই। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের এক দরবারে পৌছে বললেনঃ তোমাদেরকে কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বলেন, এখানে বসে আমরা আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি এবং তার প্রশংসা করছি, কেননা ইসলামের দিকে তিনিই আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন এবং ইসলামের মাধ্যমে আমাদের প্রতি বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এটাই তোমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে কি? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে শুধুমাত্র এটাই বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে কসম দেইনি। জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের সম্মুখে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি। আবূ না'আমাহ্ আস-সাদীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা এবং আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মাল্ল।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعْنَى قَوْلِهِ تِرَةً يَعْنِي حَسْرَةً وَنَدَامَةً . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْعَرَبِيَّةِ: التِّرَةُ هُوَ الثَّأْرُ
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে সমস্ত লোক কোন দরবারে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা’আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তা’আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন”।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি (আল্লাহ তা'আলার কাছে) কোন কিছু দুআ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার পরিপ্রেক্ষিতে তার হতে কোন অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা না করে। হাসানঃ মিশকাত (হাঃ ২২৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ ও উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَطِيَّةَ اللَّيْثِيُّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكُرَبِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিপদাপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায় সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দের সময় বেশি পরিমাণে দুআ করে। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহঃ-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" অতি উত্তম যিকর এবং "আলহামদু লিল্লাহ" অধিক উত্তম দুআ। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮০০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধু মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে অবগত হয়েছি। আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ মূসা ইবনু ইবরাহিম হতে হাদীসটি রিওয়য়াত করেছেন।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিটি সময়েই আল্লাহ তা'আলার যিকর করতেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া ইবনু আবী যাইদার সনদে অবগত হয়েছি। আল-বাহীর নাম ‘আবদুল্লাহ।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখপূর্বক কারো জন্য দু'আ করলে প্রথমে তার নিজের জন্য দুআ করতেন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, গারীব সহীহ। আবূ কাতানের নাম আমর ইবনুল হাঈসাম।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করার সময় যখন তার উভয় হাত উঠাতেন, তিনি তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মর্দন না করা পর্যন্ত নামাতেন না। যঈফ, মিশকাত (২২৪৫), ইরওয়া (৪৩৩) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় আছেঃ তার মুখমণ্ডলে না মোছা পর্যন্ত হাত দু’খানা তিনি সরিয়ে নিতেন না। আবূ ঈসা বলেন; এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাম্মদ ইবনু ঈসার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একাকী। উপরন্ত তিনি অতিঅল্প সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী। লোকেরা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হানজালা ইবনু আবূ সুফিয়ান আল-জুমাহী একজন বিশ্বস্ত রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির দু'আই কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলতে থাকে, দু’আ তো করলাম অথচ আমার দুআ কবুল হয়নি। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৩৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উবাইদের নাম সাদ, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আযহারের মুক্ত খাদিম। তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)-এর খাদিম বলেও কথিত। আবদুর রহমান ইবনু আযহার হলেন আবদুর রহমান ইবনু আওফের চাচাত ভাই। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে নাঃ “বিসমিল্লা-হিল্লায়ী লা ইয়াযুররু মা'আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরযি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম”। (অর্থঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে” যার নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”) আবান (রহঃ)-এর শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। (উক্ত হাদীস রিওয়ায়াতকালে) এক লোক (অধঃস্তন বর্ণনাকারী) তার দিকে তাকাতে থাকলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কি প্রত্যক্ষ করছো? শোন! আমি তোমার কাছে যে হাদীস রিওয়ায়াত করেছি তা অবিকল বর্ণনা করেছি। তবে আমি যেদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছি সেদিন ঐ দু'আটি পাঠ করিনি এবং আল্লাহ তা'আলা ভাগ্যের লিখন আমার উপর কার্যকর করেছেন। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলে, 'আল্লাহ তা'আলা আমার রব, ইসলাম আমার দীন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রাসূল হওয়ায় আমি সর্বান্তকরণে পরিতৃপ্ত আছি", তাকে পরিতৃপ্ত করা আল্লাহ্ তা'আলার করণীয় হয়ে যায়। যঈফ, নাকদুল কিত্তানী (৩৩৩৪) আল-কালিমুত-তায়্যিব (২৪), যঈফা (৫০২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আমরা রাতে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও রাতে উপনীত হল। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই"। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেনঃ “রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসাও তারই। সর্ববিষয়ে তিনি সর্বশক্তিমান। (হে আল্লাহ) তোমার নিকট আমি এ রাতের মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং এ রাতের পরে নিহিত মঙ্গল কামনা করি। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি এ রাতের অমঙ্গল এবং এ রাতের পরে সমস্ত অমঙ্গল হতে। তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই অলসতা ও বার্ধক্যের অনিষ্ট হতে। আমি তোমার কাছে আরো আশ্রয় চাই (জাহান্নামের) আগুনের আযাব ও কবরের শাস্তি হতে।” তিনি ভোরে উপনীত হয়েও একই দুআ করতেনঃ “আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও ভোরে উপনীত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য...। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৮২) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ (রহঃ)-ও উক্ত সনদে ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন ভোরে উপনীত হয় তখন সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার নির্দেশেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নির্দেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হয় তখন যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমেই সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই সকালে উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। আবার তোমার কাছেই পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে যেতে হবে"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছুর হুকুম দিন যা আমি সকালে ও বিকেলে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আকাশ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আমি আমার শরীরের ক্ষতি হতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও শিরকি কার্যকালাপ হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এই দু’আ সকালে, বিকেলে ও শয্যা গ্রহণকালে পাঠ করবে। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২), সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ তোমাকে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ) আমি কি বলে দিব না? তা হলঃ “হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রভু, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমাকে তুমিই সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারে আমি দৃঢ় থাকব। আমি আমার কার্যকলাপের খারাপ পরিণতি হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নি’আমাতের কথা স্বীকার করি। আমি আরও স্বীকার করি আমার গুনাহের কথা। কাজেই আমার গুনাহগুলো তুমি ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সন্ধ্যাবেলায় এ কথাগুলো বললে, তারপর ভোর হওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। একইভাবে তোমাদের কেউ ভোরবেলায় তা বললে, তারপর সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্যও জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৭৪৭), বুখারী হাদীসটি “আমি কি তোমাকে বলে দিব না" অংশটুকু ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ, ইবনু উমার, ইবনু মাসউদ, ইবনু আবূযা ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল আযীয ইবনু আবী হাযিম হলেন আবূ হাযিম আয-যাহিদের ছেলে। এ হাদীসটি শাদদাদ ইবনু আওস হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু দুআ শিখিয়ে দিব না যা তুমি বিছানাগত হওয়ার সময় পাঠ করবে? তাহলে ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হলে ফিতরাতের (ইসলামের) উপরই মৃত্যুবরণ করবে। আর তুমি (জীবিত থাকলে) ভোরে উপনীত হলে মঙ্গল লাভ করবে। তুমি বল, “হে আল্লাহ! নিজেকে আমি তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমি আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। আমার সকল বিষয় আমি তোমার উপর সমর্পণ করলাম, তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় নিয়ে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম। তোমার হতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন আশ্রয়স্থল নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর আমি ঈমান এনেছি।" আল-বারাআ (রাযিঃ) বলেন, আমি (বিনাবিয়্যিকা-এর স্থলে) বিরাসূলিকাল্লায়ী আরসালতা (তুমি যে রাসূল প্রেরণ করেছ) বললাম। সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে নিজের হাত দিয়ে খোঁচা মেরে বললেনঃ ‘ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লায়ী আরসালতা বল। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৪১/২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। অন্যভাবেও আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। মানসূর ইবনুল মু'তামির-সাদ ইবনু উবাইদাহ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এতে উদ্ধৃত্ত আছেঃ “যখন তুমি বিছানাগত হওয়ার ইচ্ছা করবে, সে সময় উযূ অবস্থায় বলবে"। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব হাদীস।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন বিছানায় ডান কাতে শুয়ে বলেঃ “হে আল্লাহ! আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে তোমার নিকট সমর্পন করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পন করলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর ছেড়ে দিলাম, তোমার থেকে আশ্রয় নেয়ার স্থান তুমি ছাড়া আর কোথাও নেই, আমি তোমার কিতাব ও তোমার রাসূলের উপর ঈমান আনলাম", সে ঐ রাতে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। সনদ দুর্বল। “তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম" হাদীসে বর্ণিত এই অংশটুকু সহীহ হাদীসের বিরোধী। সহীহ (৩৩৯৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর হাদীস হিসাবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا وَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানাগত হতেন তখন (ঘুমানোর জন্য) বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, (সৃষ্টির অনিষ্ট হতে) আমাদের রক্ষা করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন (বিছানায়)। কিন্তু অনেক লোক আছে যাদের কোন রক্ষাকারী নেই এবং আশ্রয়স্থলও নেই"। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক (শোয়ার জন্য) বিছানাগত হয়ে তিনবার বলেঃ “আমি আল্লাহ আ'আলার নিকট মাফের আবেদন করি, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, এবং তার নিকট তাওবা করি", আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমতুল্য হয়ে থাকে, যদিও তা গাছের পাতার মত অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলার বালিরাশির সমান হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিনসমূহের সমসংখ্যক হয়। যঈফ, আল-কালিমুত তায়্যিব (৩৯), তা’লীকুর রাগীব (১/২১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উবাইদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফীর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, সে সময় তিনি নিজের (ডান) হাত মাথার নীচে রেখে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্রিত করবে অথবা পুনজীবিত করবে সেদিন আমাকে তোমার আযাব হতে হিফাযাতে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৩৭/৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ঘুমানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাতের উপর মাথা রাখতেন, তারপর বলতেনঃ “হে আমার প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে উত্থিত করবে, আমাকে সেদিন তোমার শাস্তি হতে নিরাপদে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। সাওরী (রহঃ) উপরোক্ত হাদীস আবূ ইসহাক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যখানে অপর কোন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেননি। এ হাদীস শুবাহ (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ উবাইদাহ ও অপর লোক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। ইসরাঈল (রহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাক আবূ উবাইদাহ হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে হুকুম করতেন যে, আমাদের কেউ ঘুমানোর জন্য যখন বিছানাগত হয় সে সময় সে যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলীর প্রভু, মাটিসমূহের প্রভু, আমাদের প্রভু, প্রতিটি বস্তুর প্রভু, শস্যবীজ ও আঁটির অংকুরোদগমনকারী এবং তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর ক্ষতি হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। এগুলো তোমারই আয়ত্তাধীন, তুমিই শুরু, তোমার আগে কিছুই নেই। আর তুমিই শেষ, তোমার পরে কিছুই নেই। তুমিই প্রকাশিত, তোমার উপরে কিছুই নেই। তুমিই লুকায়িত, তোমার হতে কিছুই গোপন নয়। সুতরাং তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দাও এবং দরিদ্রতা হতে আমাকে সাবলম্বী করে দাও"। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার বিছানা হতে উঠার পর আবার বিছানায় প্রত্যাবর্তন করলে সে যেন তার লুঙ্গীর শেষাংশ দিয়ে বিছানাটি তিনবার পরিষ্কার করে নেয়। কারণ সে জানে না, তার অনুপস্থিতিতে তাতে কি পতিত হয়েছে (ময়লা বা ক্ষতিকর কিছু)। আর যখন সে শুয়ে পড়ে সে সময় যেন বলেঃ “হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমার পাশ্বদেশ আমি বিছানায় সোপর্দ করলাম এবং আবার তোমার নামেই তা উঠাব। যদি আমার জান তুমি রেখে দাও (মৃত্যু দান কর) তবে তার প্রতি দয়া কর, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তা সেভাবে প্রতিরক্ষা কর যেভাবে তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের প্রতিরক্ষা কর”। আর ঘুম হতে জেগে উঠে সে যেন বলেঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমার দেহকে হিফাযাত করেছেন এবং আমার জান আবার আমাকে ফেরত দিয়েছেন এবং তাকে স্মরণ করারও অনুমতি (তাওফীক) দান করেছেন”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৩৪), বুখারী ও মুসলিম “আর ঘুম থেকে জেগে” অংশ বাদে। এই অনুচ্ছেদে জাবির ও আয়িশাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর হাদীসটি হাসান। কোন কোন বর্ণনাকারী এই হাদীসের বর্ণনায় বলেছেনঃ “সে যেন তার লুঙ্গির (বিছানার) অভ্যন্তর ভাগ ঝেড়ে নেয়”।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, সে সময় “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযূ বিরব্বিল ফালাক" ও "কুল আউযূ বিরব্বিন নাস" (সূরা তিনটি) পাঠ করে হাত যথাসম্ভব সারা শরীরে মলতেন। তিনি মাথা, চেহারা ও দেহের সম্মুখের অংশ হতে আরম্ভ করতেন। তিনি তিনবার এরূপ করতেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، رضى الله عنه أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَقُولُهُ إِذَا أَوَيْتُ إِلَى فِرَاشِي قَالَ " اقْرَأْْ : ( قلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ " . قَالَ شُعْبَةُ أَحْيَانًا يَقُولُ مَرَّةً وَأَحْيَانًا لاَ يَقُولُهَا . حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَهَذَا أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى زُهَيْرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَهَذَا أَشْبَهُ وَأَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ . وَقَدِ اضْطَرَبَ أَصْحَابُ أَبِي إِسْحَاقَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ قَدْ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ أَخُو فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ .
। ফরওয়াহ ইবনু নাওফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, যা আমি বিছানাগত হওয়াকালে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি "কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন" সূরাটি তিলাওয়াত কর। কারণ তা শিরক হতে মুক্তির ঘোষণা। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২০৯)। শুবাহ (রাহঃ) বলেন, তিনি (আবূ ইসহাক) কক্ষনো মাররাতান (একবার) শব্দটি সংযুক্ত করছেন, আরার কক্ষনো তা যোগ করেননি। তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল হতে, তিনি তার বাবা হতে এই সনদে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসেন.....তারপর উক্ত মর্মে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। এই সনদসূত্র অনেক বেশি সহীহ। এ হাদীস যুহাইর (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ সনদসূত্র শু'বাহর বর্ণিত সনদের তুলনায়, বেশি নির্ভরযোগ্য ও সহীহ। আবূ ইসহাকের শাগরিদগণ এ হাদীসের সনদে গড়মিল করেছেন। এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনু নাওফাল (রাহঃ) তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান হলেন ফরওয়া ইবনু নাওফালের ভাই।
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُونُسَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ بِتَنْزِيلَ السَّجْدَةِ وَبِتَبَارَكَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى سُفْيَانُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَرَوَى زُهَيْرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ قُلْتُ لَهُ سَمِعْتَهُ مِنْ جَابِرٍ قَالَ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ جَابِرٍ إِنَّمَا سَمِعْتُهُ مِنْ صَفْوَانَ أَوِ ابْنِ صَفْوَانَ . وَرَوَى شَبَابَةُ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ نَحْوَ حَدِيثِ لَيْثٍ .
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা তানূয়ীলুস সাজদা ও তাবারাকা (আল-মুলক) না পাঠ করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২১৫৫), সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৫৮৫), রাওবুন নাৰীৰ (হাঃ ২২৭)। সুফইয়ান সাওরী প্রমুখ হাদীসটি লাইস হতে, তিনি আবু্য যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। উক্ত হাদীস যুহাইর আবূয যুবাইরের সনদে আপনি এটি প্রত্যক্ষভাবে জাবির (রাযিঃ)-এর কাছে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, না, প্রত্যক্ষভাবে আমি এটা জাবিরের নিকট হতে শুনিনি। আমি সাফওয়ান অথবা ইবনু সাফওয়ানের কাছে শুনেছি। শাবাবাহ (রাহঃ) মুগীরাহ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আবূয যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাষিঃ) হতে এই সনদে লাইসের হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الزُّمَرَ وَبَنِي إِسْرَائِيلَ . أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ أَبُو لُبَابَةَ هَذَا اسْمُهُ مَرْوَانُ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ وَسَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ سَمِعَ مِنْهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয-যুমার ও বনী ইসরাঈল সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। সহীহঃ ২৯২০ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেছেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদের মুক্তদাস মারওয়ান (রাহঃ) শুনেছেন এবং আবূ লুবাবাহ-এর নাম হল মারওয়ান তার নিকট হতে হাম্মাদ ইবনু যাইদ শুনেছেন।
। আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী " মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। তিনি বলতেনঃ এমন একটি আয়াত তাতে আছে যা হাজার আয়াত হতেও শ্রেষ্ঠ। হাসানঃ ২৯২১ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। বানী হানযালার কোন এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ)-এর সাথী হলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলতে শিখাতেন? “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি কাজে অবিচলতা, সৎপথে দৃঢ়তা, তোমার দেয়া নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা ও নিষ্ঠার সাথে তোমার ইবাদাত করার যোগ্যতা। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহবা ও বিশুদ্ধ অন্তর। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার জানা সকল মন্দ হতে এবং কামনা করি তোমার জানা সকল কল্যাণ। আমি ক্ষমা চাই তোমার জানা সর্বপ্রকারের অপকর্ম হতে। অবশ্যই তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞাত"। যঈফ, মিশকাত (৯৫৫), আল-কালি-মুত তায়্যিব (১০৪/৬৫) রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলতেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি বিছানাগত হওয়ার সময় আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের একটি সূরা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার নিরাপত্তার জন্য একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করেন। ফলে তার ঘুমভঙ্গ হওয়া পর্যন্ত কোন ৷ ক্ষতিকর জিনিস তার নিকট পৌছাতে পারবে না। যঈফ, মিশকাত (২৪০৫), তা’লীকুর রাগীব (১/২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা শুধু উক্ত সনদসূত্রে জেনেছি। জুরাইরীর নাম সাঈদ ইবনু ইয়াস আবূ মাসউদ আল-জুরাইরী। আবূল আ'লার নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর।
। ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার কাছে ফাতিমাহ (রাযিঃ) অভিযোগ করে যে, গম পেষার চাকতি ঘুরানোর ফলে তার প্রত্যেক হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে। আমি বললাম, তুমি তোমার বাবার (রাসূলুল্লাহর) কাছে গিয়ে যদি তার নিকট একটি খাদিম প্রদানের আবেদন করতে। (ফাতিমাহ আবেদন জানানোর পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের দু’জনকে এমন জিনিস কি বলে দিব না যা তোমাদের জন্য দাসের চেয়ে ভাল? তোমরা শয়নকালে ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ", ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ” এবং ৩৪ বার “আল্লাহু আকবার" বলবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। হাদীসে আরও ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং ইবনু আওনের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। এ হাদীসটি আলী (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ السَّمَّانُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَشْكُو مَجَلاً بِيَدَيْهَا فَأَمَرَهَا بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ফাতিমাহ (রাযিঃ) তার দু হাতে ফোস্কা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবর ও আলহামদুলিল্লাহ্ পাঠ করার হুকুম দেন। সহীহঃ যঈফ আদাবুল মুফরাদ (হাঃ ১০০/৬৩৫), বুখারী ও মুসলিম।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি দুইটি অভ্যাসে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারলে সে নিশ্চিয় জান্নাতে প্রবেশ করবে। জেনে রাখ! উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত করা সহজ। সে অনুসারে অনেক অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই তা আমল করে থাকে। (এক) প্রতি ওয়াক্তের (ফরয) নামাযের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার "আলহামদুলিল্লাহ ও দশবার আল্লাহু আকবার বলবে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি নামাযের পর স্বীয় হস্তে গণনা করতে দেখেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (পাঁচ ওয়াক্তে) মুখের উচ্চারণে একশত পঞ্চাশ বার এবং মীযানে (দাড়িপাল্লায়) দেড় হাজার হবে। (দুই) আর (ঘুমাতে) শয্যা গ্রহণকালে তুমি “সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদু লিল্লাহ" এক শত বার বলবে, ফলে তা মীযানে এক হাজারে রূপান্তর হবে। তোমাদের মাঝে কে এক দিন ও এক রাতে দুই হাজার পাঁচশত গুনাহে লিপ্ত হয়? (অর্থাৎ এতগুলো পাপও ক্ষমাযোগ্য হবে)। সাহাবীগণ বলেন, কোন ব্যক্তি সব সময় এরূপ একটি ইবাদাত কেন করবে না! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে অবস্থানরত থাকাকালে তার কাছে শাইতান এসে বলতে থাকে, এটা মনে কর ওটা মনে কর। ফলে সেই নামায়ী (শাইতানের ধোকাবাজির মাঝেই রত থাকা অবস্থায়) নামায শেষ করে। আর উক্ত তাসবীহ আমল করার সে সুযোগ পায় না। পুনরায় তোমাদের কেউ শোয়ার জন্য শয্যা গ্রহণ করলে শাইতান তার নিকট এসে তাকে ঘুম পাড়ায় এবং সে তাসবীহ না পাঠ করেই ঘুমিয়ে পড়ে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৯২৬)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ ও সাওরী (রাহঃ) আতা ইবনুস সায়িব (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীস আমাশ (রাহঃ) আতা ইবনুস সায়িব হতে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে যাইদ ইবনু সাবিত, আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، رضى الله عنهما قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ .
। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। সহীহঃ প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আ'মাশের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের পরে তিলাওয়াত করার মত এমন কিছু বিষয় আছে যে, যার তিলাওয়াতকারী কখনো বঞ্চিত হয় না। প্রতি ওয়াক্তের নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ' এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার' পাঠ করবে। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমর ইবনু কাইস আল-মুলাঈ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয। এ হাদীস শুবাহ (রহঃ) হাকাম (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তা মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। কিন্তু মানসূর ইবনুল মু'তামির (রহঃ) এ হাদীস হাকাম (রাহঃ) হতে মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক নামাযের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করতে আদিষ্ট হলাম। এক আনসারী ব্যক্তি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কোন এক ব্যক্তি তাকে বলছে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, ৩৩ বার তাহমীদ ও ৩৪ বার তাকবীর পাঠ করতে আদেশ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এগুলো তোমরা ২৫ বার করে পাঠ কর। আর তার সাথে ২৫ বার তাহলীল অর্থাৎ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' পাঠ কর। লোকটি সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাই কর। সহীহঃ ইবনু খুযাইমাহ (৭৫২)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ।
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতে জাগ্রত হয়ে যে লোক বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, সার্বভৌমত্ব তার, সকল প্রশংসা তার জন্য এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তা'আলা সম্পূর্ণ পবিত্র, আল্লাহ তা'আলাই সকল প্রশংসার অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ তা'আলা সুমহান। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ছাড়া অন্যায় হতে বিরত থাকার কিংবা ন্যায় কাজ করার শক্তি কারো নেই"। অতঃপর সে বলবে, “হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও”। কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে দু'আ করলে তা কবুল করা হয়। আর যদি সে সাহস করে উযূ করে নামায আদায় করে তবে তার নামাযও কবুল করা হয়। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। মাসলামা ইবনু আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উমাইর ইবনু হাণী প্রত্যেকদিন এক হাজার রাকাআত নামায আদায় করতেন এবং এক লক্ষবার তাসবীহ পাঠ করতেন। সনদ দুর্বল, বিচ্ছিন্ন
। রাবী'আহ ইবনু কাব আল-আসলামী (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের দ্বারদেশে আমি রাত যাপন করতাম এবং তার উয়ুর পানি সরবরাহ করতাম। রাতে আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বলতে শুনতাম, সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ (যে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে, তিনি তা শুনেন)। আমি আরো শুনতে পেলাম যে, দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তিনি আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলারই) বলছেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি ও জীবন লাভ করি"। তিনি ঘুম হতে উঠে বলতেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যিনি মৃত্যুদানের পর আমার এ দেহকে পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তার নিকটই ফিরে যেতে হবে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮০), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাঝরাতে বা গভীর রাতে (তাহাজ্জুদের) নামাযে দাড়াতেন সে সময় বলতেনঃ “হে প্ৰভু! সকল প্রশংসা তোমার জন্য, তুমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো এবং সকল প্রশংসার অধিকারী তুমিই। তুমিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছ। সকল প্রশংসা তোমার। তুমিই আকাশমণ্ডলী, দুনিয়া এবং উভয়ের মাঝখানের সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, তুমি সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য, (আখিরাতে) তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎলাভ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত (সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গটি) সত্য। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াককুল (নির্ভর) করেছি, তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি, তোমার জন্যই যুদ্ধ করি এবং তোমাকেই বিচারক মানি। সুতরাং আমার পূর্বের-পরের এবং লুকায়িত ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমার মা’বুদ, তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায শেষে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হতে রহমত ও দয়া আশা করি, এর দ্বারা তুমি আমার মনকে হিদায়াত দান কর, আমার সকল কাজ গুছিয়ে দাও, আমার অগোছাল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে দাও, আমার অজানা কাজকে সংশোধন করে দাও, আমার উপস্থিতিকে উন্নত কর, আমার কাজকর্ম পরিচ্ছন্ন করে দাও, সরল-সঠিক পথ আমাকে শিখিয়ে দাও, তোমার প্রতি আমার ভালবাসাকে বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খারাপ হতে আমাকে নির্বিঘ্ন রাখ। হে আল্লাহ! আমাকে ঈমান ও দৃঢ় প্রত্যয় দান কর, যার পরে আর যেন কুফর অবশিষ্ট না থাকে। আর তুমি আমাকে রহমত দান কর যার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমার মহান করুণার অধিকারী হতে পারি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দানের ব্যাপারে সাফল্য চাই, আরো আশা করি শহীদদের মত আতিথেয়তা, সৌভাগ্যবানদের জীবন এবং শক্রর বিরুদ্ধে সাহায্য। হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন তোমার নিকটেই পেশ করলাম। আমার বুদ্ধিমত্তা অক্ষম ও ক্রটিপূর্ণ এবং আমার কর্মতৎপরতা দুর্বল হওয়ায় আমি তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। অতএব আমি তোমার নিকটে আশা করি, হে সকল কাজকর্ম ফায়সালাকারী, বক্ষসমূহের আরোগ্যকারী আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হতে এমনভাবে দূরে সরিয়ে রাখ যেমন তুমি দুই সমুদ্রের মিলনকে প্রতিরোধ করে রাখ। তুমি আমাকে ধ্বংসকারী আহবান হতে ও কবরের সংকট হতে বিপদমুক্ত রাখ। হে আল্লাহ আমার ধারণায় যে কল্যাণের কথা আসেনি, আমার ইচ্ছায় ও প্রার্থনা যে পর্যন্ত পৌছাতে পারেনি, যে কল্যাণ তুমি তোমার কোন সৃষ্টিকে দান করার শপথ করেছ অথবা তোমার কোন বান্দাকে যে কল্যাণ তুমি দান করবে, হে বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী! তোমার দয়ার উসীলায় আমি সেই কল্যাণ আশা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মহাভীতির (কিয়ামতের) দিন নিরাপত্তা আশা করি এবং রুকূ-সিজদাকারী, তোমার নৈকট্য লাভকারী ও তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণকারী বান্দাদের সাথে চিরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা করি। নিশ্চয় তুমি অধিক দয়ালু ও অনুগ্রহপরায়ণ বন্ধু। তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হিদায়াতকারীদের ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তৰ্ভুক্ত কর, যারা বিপথগামীও নয় এবং বিপথগামীকারীও নয়, যারা তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে শান্তি স্থাপনকারী এবং তোমার শক্রদের সাথে শক্রতা পোষণকারী। যে তোমায় ভালোবাসে আমরা তোমার মুহাব্বাতে তাকে ভালোবাসি এবং শক্রতা বশতঃ যে তোমার বিরোধিতা করে, আমরা তার সাথে শক্ৰতা রাখি। হে আল্লাহ! এই আমার আরযি এবং এটা কুবুল করা তোমার ইচ্ছাধীন। এই আমার প্রচেষ্টা এবং তোমার উপরই আমার আস্থা। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে একটি নূর ঢেলে দাও। আমার কবরে নূর দাও, আমার সম্মুখে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে (দৃষ্টিশক্তিতে) নূর, আমার পশমে নূর, আমার চামড়ায় নুর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর এবং আমার হাড়ে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার নূরকে বৃদ্ধি কর, আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য স্থায়ী নূরের ব্যবস্থা কর। তিনিই (আল্লাহ) পবিত্র যিনি সম্মান ও মহত্বের চাদরে আবত এবং নিজের জন্য তাকে বিশিষ্ট করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র, যিনি সম্মানের পোষাক পরিহিত এবং মর্যাদার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনিই সুমহান, যিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য তাসবীহ পড়া উচিত নয়। তিনিই পবিত্র, যিনি সমস্ত দানের ও নিয়ামাতের অধিকারী, যিনি সুমহান ও মর্যাদাবান। পবিত্র তিনি যিনি মহিমাময় ও মহানুভব”। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইবনু আবূ লাইলার রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস এরকম জেনেছি। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) সালামা ইবনু কুহাইল হতে, তিনি কুরাইব হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন এবং এত দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেননি।
উৎসে উল্লিখিত মান
Daif IsnaadAhmad Muhammad Shakir
Daif IsnaadAl-Albani
DaifBashar Awad Maarouf
DaifZubair Ali Zai
২৪৪টির মধ্যে ৫০
২৪৪টি বর্ণনা · নম্বর ৩৩৭০–৩৬০৪.১
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।