মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

নববী আদর্শ

২৭টি হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরা, মাথা আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন করা এবং তাঁর সকল কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤمنينَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ، فِي تَنَعُّلِهِ، وَتَرَجُّلِهِ، وَطُهُورِهِ، وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরা, মাথা আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন করা এবং তাঁর সকল কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানজনক তাঁর প্রতিটি কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন এবং তা দিয়ে শুরু করাকে প্রধান্য দিতেন, যেমন: তাঁর জুতা পরিধান করায় ডান পা দিয়ে শুরু করা এবং তার মাথার চুল ও দাড়ি আঁচড়ানো ও সিথি এবং তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে ডান দিয়ে শুরু করতেন আর তাঁর অযুতে বাম হাত ও বাম পায়ের ওপর ডান হাত ও ডান পা অগ্রাধিকার দিতেন।

শিক্ষা
  1. নববী বলেন: এটি শরীয়তের একটি চলমান নিয়ম। আর তা হল যা সম্মান ও মর্যাদার বিষয়, যেমন কাপড়, পায়জামা ও মোজা পরিধান করা, মসজিদে প্রবেশ করা, মিসওয়াক করা, সুরমা লাগানো, নখ কাটা, গোঁফ ছোট করা, চুল আঁচড়ানো অর্থাৎ চিরুনি ব্যবহার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, মাথা মুণ্ডন করা, সালাতে সালাম ফেরানো, পবিত্রতার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করা, টয়লেট থেকে বের হওয়া, খাওয়া, পান করা , মুসাফা করা, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা এবং এই অর্থে অন্যান্য কাজে ডানকে প্রাধান্য দেওয়া মুস্তাহাব। আর যা কিছু এর বিপরীত হবে, যেমন টয়লেটে প্রবেশ করা, মসজিদ থেকে বের হওয়া, নাক পরিস্কার করা, প্রস্রাব ও পায়খানার স্থান পরিস্কার , জামাকাপড়, পায়জামা, মোজা এবং এই জাতীয় জিনিস খুলতে বাম পার্শ্বকে প্রাধান্য দেওয়া মুস্তাহাব। এসব হলো ডান পার্শ্বের সম্মান ও মর্যাদা স্বরূপ।
  2. “ডান কে পছন্দ করতেন”। এটি কর্মের ক্ষেত্রে ডান হাত, ডান পা ও পার্শ্ব দিয়ে শুরু করা এবং ডান হাত দিয়ে আদান-প্রদান করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
  3. নববী বলেন: জেনে রাখুন, ওযুর অংশগুলোর মধ্যে এমন কিছু অংশ রয়েছে যেখানে ডান পার্শ্ব মুস্তাহাব নয়; আর তা হলো দুই কান, দুই হাতের তালু এবং দুই গাল, বরং এগুলো এক সাথে পবিত্র করা হবে, যদি তা সম্ভব না হয়, যেমন এক হাত কাটা ও তার মত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডান পার্শ্বকে প্রধান দেওয়া হবে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 45) (168). صحيح مسلم (1/ 226) (268).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত তাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাঁর পেশাব-পায়খানা ও কষ্টদায়ক বস্তু স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হত।

عن عائشة رضي الله عنها قالت: "كَانَت يَدُ رسُولِ الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- اليُمنَى لِطُهُورِهِ وطَعَامِهِ، وكَانَت اليُسْرَى لِخَلاَئِهِ، ومَا كَانَ مِنْ أَذَى". عن حفصة رضي الله عنها "أَنَّ رَسُولَ الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- كَانَ يَجْعَلُ يَمِينَهُ لِطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ وَثِيَابِهِ، وَيَجْعَلُ يَسَارَهُ لِمَا سِوَى ذَلِك".
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত তাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাঁর পেশাব-পায়খানা ও কষ্টদায়ক বস্তু স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হত।” হাফসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানাহার ও কাপড় পরার ক্ষেত্রে স্বীয় ডান হাত কাজে লাগাতেন এবং তাছাড়া অন্যান্য (নোংরা স্পর্শ ইত্যাদি) কাজে বাম হাত লাগাতেন।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কর্মে ডান হাত এবং যে সব কর্মে বাম হাত ব্যবহার করেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যাতে নোংরামী রয়েছে যেমন ইস্তেনজা, ঢিলা কুলুপ নাক পরিষ্কার ও মুখ পরিষ্কার ইত্যাদিতে তিনি বামকে ব্যবহার করতেন। যত কর্মে আবর্জনা রয়েছে তাতে তিনি বামকে ব্যবহার করতেন। আর বাকী সব কর্মে তিনি ডানের সম্মানার্থে ডানকে সামনে বাড়াতেন। কারণ, ডান বাম থেকে উত্তম। আর এ হাদীসটি যে সব কর্ম সম্মানিত তাতে ডান হাত বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব হওয়ার অন্তভুর্ক্ত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বাণী: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত তাঁর ওযূ ও আহারের জন্য ব্যবহার হত এবং বাম হাত তাঁর পেশাব-পায়খানা ও নোংরা বস্তু স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হত। তার বাণী: পবিত্রতা জন্য: অর্থাৎ, যখন উযূ করবে তখন ডান হাত দিয়ে শুরু করবে। বাম হাতের আগে ডান হাত ধুইবে আর বাম পায়ের আগে ডান পা ধুইবে। আর দুই কান একটি অঙ্গ যা মাথার অর্ন্তভুক্ত। তাই উভয় কানকে একসাথে মাসেহ করবে। তবে যদি একসাথে দুই কান এক হাত ছাড়া মাসেহ করতে সক্ষম না হয়, তখন ডান কান দিয়ে মাসেহ করা আরম্ভ করবে। আর তার বাণী: আহার, অর্থাৎ আহার করার সময়। আর বাম হাত পেশাব-পায়খানার জন্য। অর্থাৎ, যেহেত তাতে রয়েছে পবিত্রতা অর্জন, ঢিলা ব্যবহার এবং ময়লা দূর করা। আর যাতে রয়েছে নোংরামী। যেমন, থুথু সরানো, নাকের ময়লা এবং মাথার উকুন ইত্যাদি পরিষ্কারে। হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস পূর্বে উল্লেখিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের সমর্থক। যাতে সম্মানসূচক কর্মে ডানকে বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া এবং যে সব কর্ম নোংরামী বা আবর্জনাযুক্ত রয়েছে সে সব কর্মে বামকে বাড়িয়ে দেওয়ার বর্ণনা রয়েছে। যেমন পবিত্রতা অর্জন করা, ঢিলা ব্যবহার করা এবং এ ধরনের আরো যে সব কর্ম রয়েছে।

সূত্র

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى، 1428هـ، 2007م. سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث أبوداود، المحقق: شعَيب الأرنؤوط، محَمَّد كامِل قره بلل، الناشر: دار الرسالة العالمية. صحيح أبي داود، محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت، الطبعة: الأولى، 1423هـ، 2002م. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري بن علان، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، الطبعة: الرابعة، 1425هـ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الدمام، الطبعة: الأولى، 1415هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشر،1407هـ، 1987م. شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، دار الوطن، الرياض، الطبعة: 1426هـ. مسند الإمام أحمد بن حنبل، أحمد بن حنبل أبو عبدالله الشيباني، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى،1421هـ، 2001م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“ঐ সম্প্রদায়ের কি হলো যে, তারা এ ধরনের কথা বলে? কিন্তু আমি সালাত আদায় করি এবং নিদ্রাও যাই, সাওম পালন করি, ইফতার করি এবং নারীদেরও বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلُوا أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَمَلِهِ فِي السِّرِّ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا آكُلُ اللَّحْمَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا أَنَامُ عَلَى فِرَاشٍ، فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، فَقَالَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ قَالُوا كَذَا وَكَذَا؟ لَكِنِّي أُصَلِّي وَأَنَامُ، وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: সাহাবীগণের একটি জামা‘আত নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে তাঁর গোপন ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন? তাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি কখনো বিবাহ করবো না, অপরজন বললেন, আমি কখনো গোস্ত খাবো না, অপর জন বললেন, আমি কখনো বিছানায় ঘুমাবো না। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছলে, তিনি আল্লাহর হামদ ও প্রসংশা করেন এবং বলেন: “ঐ সম্প্রদায়ের কি হলো যে, তারা এ ধরনের কথা বলে? কিন্তু আমি সালাত আদায় করি এবং নিদ্রাও যাই, সাওম পালন করি, ইফতার করি এবং নারীদেরও বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

সাহাবীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের বাড়িতে এসেছিলেন, তাঁর ঘরের ভিতরে তাঁর গোপন ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, যখন তাদের জানানো হল, তখন তারা এটা খুব কম মনে করল এবং বলল: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের মোকাবিলায় কোথায় আছি? আল্লাহ তাঁর অতীত এবং ভবিষ্যতের পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন তার বিপরীতে যে নিজের ক্ষমা প্রাপ্তি জানে না, তাই তাকে ইবাদতে কঠোর হতে হবে এই আশায় যে হয়ত সেও তা হাসিল করবে। তখন তাদের কেউ বলল: আমি নারীদের বিয়ে করব না। কেউ বলল: আমি মাংস খাব না। কেউ বলল: আমি বিছানায় ঘুমাব না। এই কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছালে তিনি রাগান্বিত হয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ও বললেন: যারা অমুক অমুক কথা বলেছে, তাদের কী হয়েছে?! আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু এবং আল্লাহ-সচেতন। কিন্তু আমি রাতে কিয়াম করার শক্তি অর্জনের জন্য ঘুমাই, সিয়ামের শক্তি অর্জনের জন্য সিয়াম ভাঙি। আর আমি নারীদের বিয়ে করি, কাজেই যে আমার পদ্ধতি (সুন্নাত) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অন্য কিছুতে পরিপূর্ণতা দেখে আর আমার ছাড়া অন্য কারো তরিকা গ্রহণ করে, তাহলে সে আমার পক্ষের নয়।

শিক্ষা
  1. কল্যাণের প্রতি সাহাবীদের ভালোবাসা এবং তাতে ও তাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করার জন্য তাদের আগ্রহ।
  2. এই শরীয়তের উদারতা ও সহনশীলতা, যা এর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম ও নির্দেশনা থেকে গৃহীত।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর মহৎ পথ অনুসরণ করাই কল্যাণ ও বরকত।
  4. ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের উপর অতিরিক্ত কঠোর হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ, কারণ এই অবস্থা বিদআতীদের।
  5. ইবনু হাজার বলেন: ইবাদতে কঠোরতা অবলম্বন করলে একঘেয়েমি আসে যা মূল ইবাদত পরিত্যাগ করা এবং উদাহরণস্বরূপ কেবল ফরজ কাজগুলিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখার দিকে নিয়ে যায়। অথচ নফল সালাত ত্যাগ করা ইবাদতে অলসতা ও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ধাবিত করে। আর সর্বোত্তম জিনিস হল মধ্যপন্থা।
  6. এর মধ্যে রয়েছে মহান ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড অনুকরণ করার জন্য তাদের অবস্থা অন্বেষণ করা এবং যদি পুরুষদের কাছ থেকে তা জানা অসম্ভব হয়, মহিলাদের কাছ থেকে তা জানা বৈধ।
  7. এর মধ্যে রয়েছে ওয়াজ, ইলমী বিষয় নিয়ে আলোচনা, দায়িত্বশীলদের কাছে বিধান ব্যাখ্যা করা ও ইবাদতে পরিশ্রমিদের সন্দেহ দূর করা।
  8. ইবাদতের ক্ষেত্রে কোমলতা অবলম্বন করার নির্দেশ, একই সাথে তা সংরক্ষণ করা এবং ফরজ ও নফল ইবাদতসমূহও সংরক্ষণ করার নির্দেশ, যেন মুসলিম অন্যের অধিকার রক্ষা করতে পারে।
  9. হাদিসটি বিবাহের ফজিলত নির্দেশ এবং তাতে উৎসাহিত করে।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 2) (5063). صحيح مسلم (2/ 1020) (1401). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص566). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص282).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ একদিনে দু’বেলা খানা খাননি যার একবেলা খুর্মা ছিল না।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا أَكَلَ آلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْلَتَيْنِ فِي يَوْمٍ إِلَّا إِحْدَاهُمَا تَمْرٌ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ একদিনে দু’বেলা খানা খাননি যার একবেলা খুর্মা ছিল না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার একদিনে দুটি খাবার খাননি যার মধ্যে একটি খাবার খেজুর ছিল না।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের বিনম্রতা এমন ছিল যে, কখনো তারা একদিনে একটির বেশী খাবার খেতে পেতেন না।
  2. খেজুর তাদের জন্য অন্যান্য খাবারের তুলনায় সহজ ছিল।
  3. দুনিয়া ত্যাগ এবং কম সামগ্রীতে যথেষ্ট করার ফযীলত, যা নবী-রাসূলদের চরিত্রের অংশ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত।
  4. একদিনে দু’বার খাবার খাওয়া একটি বৈধ ও অনুমোদিত কাজ এবং এটি আরবদের পরিচিত অভ্যাস ছিল। তারা দিনে দুটি খাবার খেত, একটি মধ্যাহ্নভোজন এবং একটি রাতের খাবার।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 97) (6455). صحيح مسلم (4/ 2282) (2971). فتح الباري لابن حجر (11/ 292).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকেরা এক নাগাড়ে তিন রাত গমের রুটি পেট পুরে খাননি।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْذُ قَدِمَ المَدِينَةَ مِنْ طَعَامِ البُرِّ ثَلاَثَ لَيَالٍ تِبَاعًا، حَتَّى قُبِضَ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকেরা এক নাগাড়ে তিন রাত গমের রুটি পেট পুরে খাননি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আগমনের পর থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবার কখনো তিন দিন ধারাবাহিকভাবে গমের রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি—এমনকি তাঁর ওফাত পর্যন্তও না।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের জীবনে অল্প সম্পদের বর্ণনা, কারণ পরকালের জীবনই জীবন।
  2. ইবনু হাজার বলেন: বাহ্যত তাঁদের না খাওয়ার প্রধান কারণ ছিল তাঁদের কাছে সামগ্রীর অভাব, যদিও কখনো কখনো তারা পেতেন, তবে তারা নিজের উপর অন্যদের প্রাধান্য দিতেন।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 75) (5416). صحيح مسلم (4/ 2282) (2970). المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (7/ 129). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (45/ 129).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ فِرَاشُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَدَمٍ، وَحَشْوُهُ مِنْ لِيفٍ، وَلِمُسلمٍ: كَانَ وِسَادَةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّتِي يَتَّكِئُ عَلَيْهَا مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল। আর মুসলিমের বর্ণনা হল, যে বালিশের উপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দিতেন সেটি ছিল চর্মের। এর অভ্যন্তরে খেজুর গাছের ছাল ছিল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেই বিছানায় শুতেন, তা চামড়ার তৈরি ছিল এবং তাতে খেজুরের আঁশ ভর্তি ছিল। তেমনি তাঁর বালিশ, যার উপর তিনি সপে থাকতেন।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে দুনিয়ার বিলাসিতা ও উপভোগ থেকে বিরত ছিলেন তার বর্ণনা, যদিও আল্লাহ তাআলা তাকে এর সামর্থ দিয়েছেন, তিনি চাইলে এসব উপভোগ করতে পারতেন।
  2. বিছানা এবং বালিশ ব্যবহার করা, সেগুলোর উপর শোয়া এবং সেগুলির সাহায্য নেওয়া জায়েয।
  3. মুসলিমের উচিত তার জীবনযাপন ও অবস্থাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সাথে তুলনা করা, কারণ তিনি হলেন উত্তম আদর্শ এবং যে ব্যক্তি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, সে পৃথিবী এবং পরকালে সফল ও সাফল্যমণ্ডিত হবে।
  4. আখেরাতের জন্য প্রস্তুতির আগ্রহ থাকা উচিত এবং একজন মুমিনের জন্য পৃথিবী থেকে শুধু তাই গ্রহণ করা উচিত যা আল্লাহর আনুগত্যে সহায়ক, যাতে সে দুনিয়ার অধিকতা এবং মাল-মত্তের প্রতি বিভ্রান্ত না হয়। আল্লাহ একদল মানুষ সম্পর্কে বলেছেন: {أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ} [التكاثر:1- 2]. “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে রেখেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরের সাক্ষাত করবে”। [সূরা তাকাসুর: ১-২]।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 97) (6456). صحيح مسلم (3/ 1650) (2082). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (34/ 662). إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (9/ 264). المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (5/ 403). النهاية في غريب الحديث والأثر (971).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

‘রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুকালে তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর হাতিয়ার এবং সে জমিন যা তিনি সাদাকা করেছিলেন, তাছাড়া কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, কোন দাস-দাসী কিংবা কোন জিনিস রেখে যাননি।’

عَنْ عَمْرِو بْنِ الحَارِثِ خَتَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخِي أُمِّ المؤمِنين جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم، قَالَ: مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ مَوْتِهِ دِرْهَمًا وَلاَ دِينَارًا وَلاَ عَبْدًا وَلاَ أَمَةً وَلاَ شَيْئًا، إِلَّا بَغْلَتَهُ البَيْضَاءَ، وَسِلاَحَهُ، وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্যালক অর্থাৎ উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া বিনতু হারিসের ভাই ‘আমর ইবনুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুকালে তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর হাতিয়ার এবং সে জমিন যা তিনি সাদাকা করেছিলেন, তাছাড়া কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, কোন দাস-দাসী কিংবা কোন জিনিস রেখে যাননি।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু তিনি কোন রূপার দিরহাম, সোনার দিনার, দাস-দাসী, গবাদি পশু বা কোনো ধরনের ধন-সম্পদ কিছুই রেখে যাননি, একমাত্র তাঁর সাদা গাধাটি যা তিনি চলাচলের জন্য ব্যবহার করতেন, তাঁর অস্ত্র যা তিনি ধারণ করতেন এবং কিছু জমি যা তিনি জীবিত অবস্থায় পথযাত্রীদের জন্য ব্যয় করার উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু তিনি কিছুই রেখে যাননি—না সোনার দিনার, না রূপার দিরহাম, না কোনো দাস বা দাসী, না গবাদি পশু বা অন্য কোনো সম্পদ। একমাত্র তিনি রেখে গেছেন তাঁর সাদা গাধাটি, যা তিনি চলাচলের জন্য ব্যবহার করতেন, তাঁর অস্ত্র যা তিনি বহন করতেন এবং কিছু জমি, যা তিনি জীবিত অবস্থায় পথযাত্রীদের উপকারের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন।

শিক্ষা
  1. নবীগণ উত্তরাধিকারী করেন না।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর পর যা কিছু রেখে গেছেন তার বর্ণনা।
  3. তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন, তাঁর দান, খরচ এবং দয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোন সম্পদ রেখে যাননি।
  4. কিরমানি বলেন: "وجعلها" সর্বনামের অর্থ তিনটি বিষয়—গাধা, অস্ত্র এবং জমি, শুধু জমি নয়।
  5. খাতান: স্ত্রীর ভাই এবং নারীর পক্ষ থেকে দুই বোন।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 2) (2739). النهاية في غريب الحديث والأثر (254). فتح الباري لابن حجر (5/ 360). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (14/ 31).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমি তো অভিসম্পাতকারীরূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ ادْعُ عَلَى المُشْرِكِينَ قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিতত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি মুশরিকদের উপর বদদু’আ করুন। তিনি বললেন, “আমি তো অভিসম্পাতকারীরূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার অনুরোধ করা হলে, তিনি বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে লানতকারী হিসেবে প্রেরিত হইনি, যে মানুষের বিরুদ্ধে বদদোয়া করব, তাদের আল্লাহর রহমত থেকে দূরে ঠেলে দেব এবং তাদের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করব। আমি এ উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইনি। বরং আমি প্রেরিত হয়েছি যাতে আমি মানুষের জন্য, বিশেষ করে মু’মিনদের জন্য, কল্যাণ ও রহমতের কারণ হতে পারি।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রের পরিপূর্ণতা।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করে গালি ও অভিশাপ থেকে জিহ্বাকে পবিত্র রাখার গুরুত্ব।
  3. এতে অভিশাপ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  4. মানুষের উপর দয়া প্রদর্শনের প্রতি উৎসাহ প্রদান।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2006) (2599). المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (6/ 582). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (40/ 683).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com