মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

বিবাহ এবং পরিবারের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা

৩টি হাদীস

”নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি দশ রাক‘আত সালাত আমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: حَفِظْتُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ رَكَعَاتٍ: رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ فِي بَيْتِهِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ، وَكَانَتْ سَاعَةً لاَ يُدْخَلُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا، حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ وَطَلَعَ الفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، وَفِي لَفْظٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ.
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ”নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি দশ রাক‘আত সালাত আমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দু’রাক‘আত, পরে দু’ রাক‘আত, মাগরিবের পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে, ‘ইশার পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে এবং দু’রাক‘আত সকালের (ফজরের) সালাতের পূর্বে। আর সময়টি ছিল এমন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (সচরাচর) কোন লোককে প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। তবে উম্মুল মু’মিনীন হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুআয্‌যিন আযান দিতেন এবং ফজর (সুবহে-সাদিক) উদিত হতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। অপর বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম‘আর পরে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।
এর সকল বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নফল সালাত নিয়মিত আদায় করতেন, তা দশ রাক‘আত। এগুলোকে ‘সুনানুর রাওয়াতিব’ তথা নিয়মিত আদায়কৃত সুন্নাত সালাত বলা হয়। যুহরের ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত, পরে দু’ রাক‘আত। মাগরিবের পরে তাঁর ঘরে দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায়। ‘ইশার ফরয সালাতের পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে আদায়। আর দু’রাক‘আত ফজরের(ফরজ) সালাতের পূর্বে। এভাবে সর্বমোট দশ রাক‘আত নফল সালাত পরিপূর্ণ হয়। অন্যদিকে জুমু‘আর ফরয সালাতের পরে তিনি দু’রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।

শিক্ষা
  1. ফরয সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট এসব সুন্নত সালাতসমূহ নিয়মিত পড়া মুস্তাহাব।
  2. সুন্নাত সালাত ঘরে আদায় করা শরী‘আহসম্মত।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 58-59) (1180، 1181). صحيح مسلم (2/ 601) (882). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص112).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই) আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে”।

عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْها أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعًا يَقُولُ: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ، فُتِحَ اليَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ» وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا، قَالَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟ قَالَ: «نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الخَبَثُ».
যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন: “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই) আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে”। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, “হ্যাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব বিনতে জাহাশের নিকট ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রবেশ করলেন। আর কোনো খারাপ ঘটনা অতিশীঘ্র সংঘটিত হবে তার সংবাদ স্বরূপ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছিলেন, যার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ছাড়া মুক্তির কোনো উপায় নেই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর, যেটি যুল কারনাইন নির্মাণ করেছেন, এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত তৈরি করলেন। যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: আমাদের মধ্যে সৎ ঈমানদার থাকাবস্থায় আল্লাহ কীভাবে আমাদের উপর ধ্বংস চাপিয়ে দিতে পারেন? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যদি অনৈতিকতা, অশ্লীলতা, পাপ, ব্যভিচার, মদ প্রভূতি বৃদ্ধি পায়, তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

শিক্ষা
  1. ভয়ের সময় আতঙ্ক মুমিনের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্ছুত করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর জিকিরে (স্মরণে) অন্তর প্রশান্ত হয়।
  2. পাপকে নিষেধ করা এবং তা ঘটতে বাধা দেওয়ার জন্য উত্সাহিত করা।
  3. ভালো লোক বেশি থাকা সত্তে যদি অনেক পাপ সংঘটিত হয় এবং তার বিস্তার ঘটে এবং তার থেকে নিষেধ করা না হয়, তাহলে সাধারণ ধ্বংস ঘটবে।
  4. বিপর্যয়সমূহ ভালো-মন্দ সব মানুষকে শামিল করে নেয়, তবে তারা তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে।
  5. তিনি তাঁর বাণীতে আরবদের নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: "আরবদের জন্য নিকটবর্তী ধ্বংস রয়েছে"; কারণ যখন তিনি এটি বলেছেন তখন আরবরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 138) (3346). صحيح مسلم (4/ 2208) (2880). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 280). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (4/ 54). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 437). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 212).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি নিম্নাংশে ইযার পরে নিতাম। আর আমার মাসিক স্রাব অবস্থায় তিনি আমার শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে শয়ন করতেন।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤمنينَ رضي الله عنها قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ كِلاَنَا جُنُبٌ، وَكَانَ يَأْمُرُنِي، فَأَتَّزِرُ، فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ، وَكَانَ يُخْرِجُ رَأْسَهُ إِلَيَّ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি নিম্নাংশে ইযার পরে নিতাম। আর আমার মাসিক স্রাব অবস্থায় তিনি আমার শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে শয়ন করতেন। তাছাড়া তিনি ই‘তিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন, আর আমি হায়েয অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এ হাদীসে তার ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যকার একান্ত কিছু অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো: তিনি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে একত্রে গোসল করতেন। তার হায়েয অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কাছে যেতেন, তখন তিনি তাকে তার নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত ইযার- কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিতেন। অতপর তিনি তার সাথে সহবাস ছাড়া শরীরের জড়াজড়ি করতেন। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে ই‘তিকাফ করতেন, তখন তাঁর মাথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার দিকে বের করে দিতেন। আর তিনি ঘর থেকে হায়েয অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতেন।

শিক্ষা
  1. স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করা জায়েয।
  2. হায়েয অবস্থায় যৌনাঙ্গ ব্যতীত শরীরের সাথে জড়াজড়ি করা জায়েয। হায়েযগ্রস্ত নারীর শরীর পবিত্র।
  3. হায়েয অবস্থায় শরীরের সাথে জড়াজড়ি করার সময় স্ত্রীর ইযার পরিধান করা মুস্তাহাব।
  4. হায়েয অবস্থায় যেন হারামে পতিত না হয়, সে জন্যে লজ্জাস্থানে প্রতিরোধক গ্রহণ করা উচিত ।
  5. হায়েযগ্রস্ত নারীর মসজিদে অবস্থান করা নিষেধ।
  6. হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্যে ভেজা অথবা শুকনো জিনিস স্পর্শ করা জায়েয। যেমন কারো চুল ধুয়ে দেওয়া, মাথা আঁচড়িয়ে দেওয়া।
  7. স্ত্রীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর আচরণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 67) (299 - 301). صحيح مسلم (1/ 244) (297)، (1/ 255) (319). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 66). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص79). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 76).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com