মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা

৩টি হাদীস

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন তখন আমি ও আমার মত একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযা’ (এমন লাঠি যার মাথায় লোহা লাগানো থাকে) নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ الْخَلَاءَ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ نَحْوِي إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً فَيَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ.
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন তখন আমি ও আমার মত একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযা’ (এমন লাঠি যার মাথায় লোহা লাগানো থাকে) নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগের জন্য বের হতেন, তখন তিনি এবং তাঁর সমবয়সী একজন খাদেম তাঁর সাথে নিয়ে যেতেন। তারা তাদের সাথে বর্শার মাথার মতো মাথা বিশিষ্ট একটি লাঠি বহন করতেন, যাতে এটিকে একটি সুতরা বানিয়ে তার উপর পর্দা জাতীয় কিছু ঝুলানো যায় অথবা এটিকে একটি সালাতের জন্য সুতরা বানানো যায়। তারা তাদের সাথে পানি ভর্তি একটি ছোট চামড়ার পাত্রও বহন করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগ শেষ করতেন, তখন তাদের একজন তাকে পাত্রটি দিতেন এবং তিনি পানি দিয়ে নিজেকে পরিষ্কার করতেন।

শিক্ষা
  1. একজন মুসলিম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় তার পবিত্রতার বিষয়গুলো প্রস্তুত করে নিবে; যাতে তাকে দাঁড়াতে না হয় যার ফলে সে নোংরা হতে পারে।
  2. পায়খানা-পেশাব করার সময় গোপনাঙ্গ এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে কেউ তা দেখতে না পায়; যেহেতু গোপনাঙ্গ দেখা নিষিদ্ধ, তাই তিনি লাঠি মাটিতে রেখে তার উপর আড়ালকারী কাপড়টি রাখতেন।
  3. শিশুদের ইসলামী আদব শেখানো এবং তার উপর তাদের লালন-পালন করা; যাতে তারা তার উত্তরসূরী হতে পারে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 42) (152). صحيح مسلم (1/ 227) (271). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص40). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 43). الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص84).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ কচলিয়ে পরিষ্কার করতেন।

عَنْ حُذَيْفَةَ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ.
হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ কচলিয়ে পরিষ্কার করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়শই মিসওয়াক করতেন এবং তার আদেশ দিতেন। আর কিছু সময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, যেমন রাতে উঠার সময় মিসওয়াক করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর দাঁত ঘষতেন এবং মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।

শিক্ষা
  1. রাতের ঘুমের পরে মিসওয়াক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের কারণে মুখের গন্ধ পরিবর্তন হয় আর মিসওয়াক হল পরিষ্কারকারী জিনিস।
  2. পূর্বের অর্থ গ্রহণ করে বলা যায় যে, মুখে প্রত্যেকবার দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার সময় মিসওয়াক করা গুরুত্বপূর্ণ।
  3. সাধারণভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বৈধতা এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত এবং একটি মহৎ শিষ্টাচার।
  4. পুরো মুখে মিসওয়াক করার মধ্যে রয়েছে: দাঁত, মাড়ি এবং জিহ্বা।
  5. মিসওয়াক হল আরাক গাছ বা অন্য গাছ থেকে কাটা একটি ডাল। এটি মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়। যা মুখকে সুগন্ধময় করে ও দুর্গন্ধ দূর করে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 58) (245). صحيح مسلم (1/ 220) (255). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص47). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص24).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি নিজেকে স্বপ্নে দাঁতন করতে দেখলাম। অতঃপর দু’জন লোক এল, একজন অপরজনের চেয়ে বড় ছিল। আমি ছোটজনকে দাঁতনটি দিলাম, তারপর আমাকে বলা হল, ‘বড়জনকে দাও।’ সুতরাং আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটিকে (দাঁতন) দিলাম।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ: «أراني في المنام أَتَسَوَّكُ بِسِوَاكٍ، فجاءني رجلان، أحدهما أكبر من الآخر، فَنَاوَلْتُ السِّوَاكَ الأصغرَ، فقيل لي: كَبِّرْ، فَدَفَعْتُهُ إلى الأكبر منهما».
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক মারফু হিসেবে বর্ণিত, “আমি নিজেকে স্বপ্নে দাঁতন করতে দেখলাম। অতঃপর দু’জন লোক এল, একজন অপরজনের চেয়ে বড় ছিল। আমি ছোটজনকে দাঁতনটি দিলাম, তারপর আমাকে বলা হল, ‘বড়জনকে দাও।’ সুতরাং আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটিকে (দাঁতন) দিলাম।”
এটি বুখারী মু‘আল্লাক হাদীসরূপে দৃঢ় বাক্য দ্বারা বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মিসওয়াক দ্বারা দাঁতন করছেন। অতঃপর দু’জন লোক এল, একজন অপরজনের চেয়ে বড়। তিনি ছোটজনকে দাঁতনটি দিতে চাইলেন। তখন তাকে বলা হলো, ‘বড়জনকে দাও।’ সুতরাং তিনি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটিকে (দাঁতন) দিলেন।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1418هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري بن علان، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، الطبعة: الرابعة 1425هـ. رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ. شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، دار الوطن، الرياض، الطبعة: 1426هـ. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com