عن أبي علي طلق بن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا دعا الرجل زوجته لحاجته فَلْتَأتِهِ وإن كانت على التَّنُور».
আবূ আলী তলক ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার প্রয়োজনে আহবান করবে, তখন সে যেন (তৎক্ষণাৎ) তার নিকট যায়। যদিও সে উনানের কাছে (রুটি ইত্যাদি পাকানোর কাজে ব্যস্ত) থাকে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যখন কোন স্বামী তার স্ত্রীকে সহবাসের জন্য ডাকে, তখন তার ওপর ওয়াজিব হলো তার ডাকে সাড়া দেওয়া। যদিও সে এমন কাজে ব্যস্ত থাকে যে কাজ করার অন্য কেউ নেই, যেমন, সে রুটি বানাচ্ছে বা রান্না-বান্না করছে।
সূত্র
سنن الترمذي، نشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ - 1975م.
صحيح الجامع الصغير وزبادته, تأليف: أبو عبدالرحمن محمد ناصر الدين الألباني, الناشر: المكتب الإسلامي.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح, تأليف: علي بن سلطان القاري, الناشر: دار الفكر, ط1 عام 1422.
تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي, تأليف: أبو العلا محمد عبدالرحمن المباركفوري, الناشر: دار الكتب العلمية.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي.
تحفة الأبرار شرح مصابيح السنة, تأليف: القاضي ناصر الدين عبدالله البيضاوي, تحقيق: لجنة مختصة بإشراف نور الدين طالب, الناشر: وزارة الأوقاف بالكويت, عام 1433.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا، وَخَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِنِسَائِهِمْ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দরতম। তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, যে তার চরিত্রকে সুন্দর করেছে। আর সুন্দর চরিত্র হলো হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, সৎকাজে ব্যয়, উত্তম কথা বলা ও অন্যকে কষ্টদায়ক জিনিস থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।
আর তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা তাদের নারীদের কাছে উত্তম। যেমন তার স্ত্রী, কন্যা, বোন ও তার নিকটাত্মীয় নারীরা। কেননা তারা উত্তম আচরণ পাওয়ার অধিক হকদার।
শিক্ষা
উত্তম চরিত্রের ফযীলত। আর এটি ঈমানেরই অঙ্গ।
আমল করা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমান বাড়ে ও কমে।
হাদীসে ইসলাম নারীকে সম্মান প্রদান ও তাদের প্রতি সদাচারণ করতে উৎসাহ দিয়েছে।
সূত্র
سنن أبي داود (7/ 70) (4682).
سنن الترمذي (2/ 454) (1162).
مسند أحمد ط الرسالة (12/ 364) (7402).
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، للألباني (1/ 573).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 362).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 130).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (5/ 234).
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শাসক দায়িত্বশীল, সে তার প্রজাদের ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। আর সেবক সে তার মুনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল এবং সে তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। বস্তুত তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, সমাজে প্রত্যেক মুসলিমের উপর দায়িত্ব অর্পিত আছে, যা তাকে পালন করতে হবে। ইমাম ও শাসক তাদের রক্ষক, আল্লাহ তাকে যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তার উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদের শরীয়তের হিফাযত করা, তাদের উপর অত্যাচার হওয়া থেকে রক্ষা করা, তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাদের অধিকার নষ্ট না করা। পুরুষ তার পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল। তার উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদের ভরণ-পোষণ করা, উত্তম আচরণ করা এবং তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া ও আদব শেখানো। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক। তার দায়িত্ব হলো ঘর সুন্দরভাবে পরিচালনা করা, সন্তানদের লালন-পালন করা এবং এ বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। চাকর, গোলাম ও শ্রমিক তাদের মালিকের সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীল। তাদের দায়িত্ব হলো তাদের হাতে থাকা সম্পদ রক্ষা করা এবং সেবা করা। সে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং, প্রত্যেকেই তার উপর অর্পিত দায়িত্বের দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
শিক্ষা
মুসলিম সমাজে দায়িত্ব সর্বজনীন, এবং প্রত্যেকেই তার অবস্থান, সামর্থ্য ও দায়িত্ব অনুযায়ী দায়িত্বশীল।
নারীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের প্রতি তার কর্তব্য পালনের মাধ্যমে পালন করতে হবে।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 150) (2554).
صحيح مسلم (3/ 1459) (1829).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 369).
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري، القسطلاني (4/ 326).
ইয়াস ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যুবাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে মারবে না”। অতঃপর উমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, মহিলারা তাদের স্বামীদের অবাধ্য হচ্ছে। এরপর তিনি তাদেরকে মৃদু আঘাত করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর অনেক মহিলা এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “মুহাম্মাদের পরিবারে কাছে অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। সুতরাং যারা স্ত্রীদেরকে প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়”।
এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। তারপর আমির মুমিনীন ওমর ইবনু আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, নারীরা তাদের স্বামীদের সাথে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে এবং তাদের চারিত্রিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রহার করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু কঠোরভাবে নয়, যদি এর কোন কারণ থাকে, যেমন স্বামীর অধিকার পূরণে অস্বীকৃতি, তার অবাধ্যতা ইত্যাদি। এরপর কিছু মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে এসে তাদের স্বামীদের প্রচণ্ড মারধর এবং এই অনুমতির অপব্যবহারের অভিযোগ করলেন। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এই পুরুষরা যারা তাদের স্ত্রীদের প্রচণ্ড মারধর করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়।
শিক্ষা
নারীদের সাথে ভালো আচরণ করার ফজিলতের বয়ান এবং তাদের প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া এবং তারা যা করে তা উপেক্ষা করা তাদের প্রহার করার চেয়ে ভালো।
আল্লাহ তা‘আলা অবাধ্যতার চিকিৎসার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রহার রেখেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: "যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও এবং বিছানায় একা রেখে দাও এবং তাদের প্রহার করো। কিন্তু যদি তারা তোমাদের কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বদা উচ্চ ও মহান।" (আন-নিসা: ৩৪) এই তিনটি ক্রমানুসারে আছে এবং একসাথে একত্রিত করা যাবে না। তিনি উপদেশ, নসিহত এবং স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুরু করবেন। যদি এটি উপকার করে, তাহলে আল-হামদুলিল্লাহ্। যদি তাতে লাভ না হয়, তাহলে সে তাকে বিছানায় ত্যাগ করবে; যদি তাতেও উপকার না হয়, তাহলে সে প্রতিশোধ হিসেবে নয়, বরং শাসন হিসেবে তাকে প্রহার করবে।
একজন মানুষ তার বাড়িতে একজন জিম্মাদার, তাই তাকে অবশ্যই হিকমত এবং সদুপদেশ দিয়ে তাদের লালন-পালন এবং শাসন করতে হবে।
ফতোয়ার ব্যাপারে কোন আলেমের সাথে পরামর্শ করা জায়েজ। এর পরিণতি এবং পরিণাম জানতে।
অভিযোগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজা বা আলিমের কাছে অভিযোগ করা জায়েজ।
সূত্র
سنن أبي داود (3/ 479) (2146).
سنن ابن ماجه (3/ 152) (1985).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 363).
مرقاة المفاتيح، لعلي القاري (5/ 2127).
عن معاذ بن جبل رضي الله عنه مرفوعاً: «لا تؤذي امرأةٌ زوجَها في الدنيا إلا قالت زوجته من الحُورِ العِينِ لا تُؤْذِيهِ قاتلك الله! فإنما هو عندك دَخِيلٌ يُوشِكُ أن يفارقَكِ إلينا».
মু‘আয ইবন জাবাল কর্তৃক মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখনই কোনো মহিলা দুনিয়াতে নিজ স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই তার সুনয়না হূর স্ত্রী (অদৃশ্যভাবে) ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে বলে, ‘আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তাকে কষ্ট দিও না। সে তো তোমার নিকট সাময়িক মেহমান মাত্র। অচিরেই সে তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে এসে যাবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদেরকে দুনিয়াতে তাদের স্বামীদের কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। কারণ, এ স্বামী দুনিয়াতে তার কাছে মেহমান ও অতিথি মাত্র। অচিরেই সে এ দুনিয়া থেকে আখিরাতের দিকে স্থানান্তরিত হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন সে আখিরাতের নারীদের হয়ে যাবে।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- مرقاة المفاتيح :علي بن سلطان القاري -دار الفكر، بيروت – لبنان الطبعة -الأولى، 1422هـ - 2002م.
- سنن الترمذي - محمد بن عيسى ، الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض -شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر-الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م.
- سنن ابن ماجه : أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي- دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
- مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي مؤسسة الرسالة الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
- سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها/محمد ناصر الدين، الألباني مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض-الطبعة: الأولى، (مكتبة المعارف).
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «لو كنت آمِرًا أحدًا أن يسجد لأحد لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমি যদি কাউকে কারো জন্য সাজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সাজদাহ করে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কাউকে অন্য কারো উদ্দেশ্যে সাজদাহ করার আদেশ করতেন, তাহলে নারীকে আদেশ করতেন, সে যেন তার স্বামীকে সাজদাহ করে। তার ওপর তার অধিকারের সম্মানার্থে। কিন্তু গাইরুল্লাহর জন্য সাজদাহ করা হারাম; কোনোক্রমেই তা বৈধ নয়।
সূত্র
الجامع الكبير (سنن الترمذي), تأليف: محمد بن عيسى الترمذي, تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض -شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر - الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م.
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل, تأليف: محمد ناصر الدين الألباني, الناشر: المكتب الإسلامي, ط2 عام 1405.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح, تأليف: علي بن سلطان القاري, الناشر: دار الفكر, ط1 عام 1422.
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه : «ذُكِرَ َالعزل لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ولم يفعل ذلك أحدكم؟ -ولم يقل: فلا يفعل ذلك أحدكم؟-؛ فإنه ليست نفس مخلوقة إلا الله خالقها».
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আযলের বিষয়টি আলোচনা করা হলো, তিনি বললেন, তোমাদের কেউ তা কেন করে? এ কথা বলেন নি, তোমাদের কেউ তা করবে না? কারণ, যেটা হওয়ার সেটা আল্লাহ সৃষ্টি করবেনই।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আযলের আলোচনা হলো যে, অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রী ও বাঁদীদের সাথে আযল (স্ত্রীর যোনী পথের বাইরে বীর্য নিক্ষেপ) করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ ধরনের কর্ম করার কারণ অপছন্দনীয় বাক্য দ্বারা জানতে চাইলেন। তারপর তিনি এ কর্ম থেকে বাধাদানকারী সন্তোষ জনক উত্তর তাদেরকে প্রদান করেন। আর তা হলো, আল্লাহ তা‘আলা তাকদীরকে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ যে আত্মা সৃষ্টি করবেন এবং যার দুনিয়াতে আসা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তোমাদের এ কর্মটি তা কখনো ঠেকাতে পারবে না। কারণ, তিনিই কারণ ও বাস্তবতা নির্ধারণকারী। যখন পুরুষের কোন বীর্য থেকে তিনি শুক্রানো সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, তখন তা কোন সময় তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাবে সে বুঝতেই পারবে না।
সূত্র
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: "كنا نعزل والقرآن ينزل".
قال سفيان: لو كان شيئا ينهى عنه؛ لنهانا عنه القرآن.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আযল করতাম অথচ তখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল। সুফিয়ান বলল, যদি বিষয়টি নিষিদ্ধ করার মত কর্ম হতো, তবে কুরআন আমাদের তার থেকে নিষেধ করত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহের যুগে তারা তাদের স্ত্রী ও বাঁদীদের সাথে আযল করতেন। আর তিনি এর ওপর তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করতেন। যদি তা বৈধ না হতো তাহলে এর ওপর তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করতেন না। তাকে যেন প্রশ্ন করা হলো, হতে পারে তোমাদের কর্মটি তার কাছে পৌছে নি? উত্তরে তিনি বললেন, যদি তার কাছে না পৌঁছে আল্লাহ অবশ্যই জানেন। আর তখন কুরআন নাযিল হচ্ছিল। যদি কর্মটি অবৈধ হতো তাহলে কুরআন তা নিষেধ করত এবং শরী‘আত আমাদের স্বীকৃতি দিত না। বিভিন্ন দলীলের মাঝে মীমাংসা: জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস প্রমাণ করে আযল করা বৈধ। কিন্তু কতক হাদীস এমন রয়েছে যেগুলো থেকে বুঝা যায় যে, আযল করা অবৈধ। যেমন জুযামাহ বিনতে ওহাব থেকে সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি কতক লোকসহ রাসূলের দরবারে উপস্থিত ছিলাম। তারা তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, এটি গুপ্ত হত্যা। সুতরাং, এ সব বিরোধপূর্ণ নসের মধ্যে সমাধান কী? এর উত্তর: মূলতঃ আযল বৈধ, যেমনটি জাবের ও আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীস প্রমান করে। যে ব্যক্তি আযল দ্বারা সন্তান থেকে বাঁচতে চায় তার ক্ষেত্রে জুযামাহ বিনতে ওহাবের হাদীসটি প্রযোজ্য। রাসূলের বাণী এটি গুপ্ত হত্যা তারই প্রমাণ অথবা এ দ্বারা আযল করা মাকারূহ প্রমাণিত হবে, হারাম নয়।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب - الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري -مطبعة السعادة- الطبعة الثانية، 1392ه.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق، مكتبة الصحابة، الشارقة، الطبعة العاشرة، 1426ه.
- خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي، الطبعة الثانية، 1412هـ - 1992م.
- منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله الفوزان - طبعة دار ابن الجوزي - الطبعة الأولى، 1428ه.
- توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله البسام- مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة الخامِسَة، 1423هـ - 2003م.
- فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، للشيخ ابن عثيمين، المكتبة الإسلامية، القاهرة، تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي- الطبعة الأولى، 1427ه.
- الإفهام في شرح عمدة الأحكام، عبد العزيز بن عبد الله بن باز، حققه واعتنى به وخرج أحاديثه: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني- توزيع مؤسسة الجريسي.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com