মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

গোসল

২৫টি হাদীস

উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাহায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন। তিনি (আয়েশা) বলেন, অতঃপর উম্মে হাবিবা প্রতি সলাতের জন্য গোসল করতেন।

عن عائشة رضي الله عنها قالت: "إن أم حبيبة اسْتُحِيضَتْ سبع سنين، فسألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك؟ فأمرها أن تغتسل، قالت: فكانت تغتسل لكل صلاة".
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাহায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন। আয়েশা বলেন, অতঃপর তিনি প্রতি সলাতের জন্য গোসল করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার ইস্তেহাযাতে করনীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন। তখন সে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য গোসল করতেন। আর সাত বছর ধরে সে ইস্তেহাযায় আক্রান্ত ছিলেন।

সূত্র

تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: "لا يَبُولَنَّ أحَدُكم في الماء الدَّائِم الذي لا يجْرِي، ثمَّ يَغتَسِل مِنه". وفي رواية: "لا يغتسل أحدكُم في الماء الدَّائم وهو جُنُب".
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।” অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে, যে অবস্থায় সে অপবিত্র।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। কারণ, এতে পানি নাপাক এবং পেশাবের জীবাণুর সাথে মিশে যাওয়ার ফলে যে এ পানি ব্যবহার করবে তার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় পেশাবকারী নিজেই তা ব্যবহার করবে, যেমন তাতে গোসল করবে। যে জিনিস তার জন্য একটু পরে পবিত্রকারী হবে তাতে সে কীভাবে পেশাব করে। যেমনিভাবে তিনি নিষেধ করেছেন স্থির পানিতে বড় নাপাকী থেকে পবিত্রার জন্য ফরয গোসল করতে। কারণ, তাতে পানির সাথে অপবিত্রতার ময়লা ও আবর্জনার সংমিশ্রণ ঘটে।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, এক ব্যক্তি আলাদা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সলাত আদায় করেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন, আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেন, পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

عن عمران بن حصين رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى رجلًا مُعتزلًا، لم يُصَلِّ في القوم، فقال: (يا فلان، ما منعك أن تصلي في القوم؟) فقال: يا رسول الله أصابتني جنابةٌ، ولا مَاءَ، فقال: (عليك بالصَّعِيدِ، فإنه يَكْفِيَكَ).
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, এক ব্যক্তি আলাদা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সলাত আদায় করেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন, আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেন, পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন দেখেন এক ব্যক্তি তাদের সাথে সালাত আদায় করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের সৌন্দর্য্য ও দয়াদ্রতার পরিপূর্ণতা স্বরূপ ছিল তিনি এর কারণ সম্পর্কে না জেনে তাকে জামা‘আত থেকে বিরত থাকার ওপর কটাক্ষ করেননি। তাই তিনি বলেন, হে অমুক। তোমাকে জামা‘আতে সালাত আদায়ে কোন জিনিষ না করেছে? তারপর সে -তার ধারণা অনুযায়ী-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পারগতার ব্যখ্যা দিয়ে বলেন যে, তার ওপর গোসল ফরয হয়েছে। তার কাছে পানি না থাকার কারণে পানি পেয়ে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সে সালাতকে বিলম্ব করছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বললেন, আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় মেহেবানিতে পবিত্রতা অর্জনে তোমার জন্য পানির স্থলাবিষিক্ত নির্ধারণ করেছেন। আর তা হলো পবিত্র মাটি। তোমার ওপর আবশ্যক হলো তা গ্রহণ করা। কারণ, তা পানির পরিবর্তে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضيَ اللهُ عنه: أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ، فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ، فَتَفَقَّدَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ: «أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سُبْحَانَ اللهِ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একবার মদীনার কোন এক রাস্তায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবূ হুরাইরাহ) তখন (জানাবাত) অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তিনি আস্তে করে পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খোঁজ করলেন। যখন তিনি আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আবূ হুরাইরাহ তুমি কোথায় ছিলে"? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্রাবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মাজলিসে বসা ভাল মনে করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার এক রাস্তায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দেখা করেন। আবু হুরায়রা তখন অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি শ্রদ্ধার কারণে, তিনি তাঁর সাথে বসে থাকা এবং তাঁর সাথে কথা বলা অপছন্দ করতেন, কারণ তিনি মনে করতেন তিনি অপবিত্র। তাই সে গোপনে গিয়ে স্নান করল, তারপর ফিরে এসে বসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে কোথায় গেছে? সে তাঁকে তার অবস্থা এবং জানাবতের কারণে অপবিত্র অবস্থায় তার সাথে বসতে অপছন্দ করেছেন জানালেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে বললেন: মুমিন পবিত্র এবং কোন অবস্থাতেই সে অপবিত্র হয় না; চাই জীবিত হোক বা মৃত হোক।

শিক্ষা
  1. জানাবাত কেবল সালাত পড়া, কুরআন স্পর্শ করা এবং মসজিদে অবস্থান করা থেকে বিরত রাখে। এটি মুসলিমদের সাথে উঠবস করতে বা দেখা সাক্ষাত করতে বারণ করে না এবং এর কারণে জুনুবী ব্যক্তি অপবিত্র হয় না।
  2. জীবিত এবং মৃত উভয় হালতে মুমিনের পবিত্রতা।
  3. সৎ, জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যক্তিদের সম্মান করা এবং তাদের সাথে সর্বোত্তমভাবে বসা।
  4. একজন অনুসারীর তার নেতার কাছ থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি চাওয়ার বৈধতা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার অজান্তেই চলে যাওয়ার জন্য নিন্দা করেছেন, কারণ অনুমতি চাওয়া একটি উত্তম শিষ্টাচার।
  5. অবাক হওয়ার সময় বলা: سبحان الله (আল্লাহ পবিত্র)।
  6. স্বার্থের খাতিরে একজন ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে এমন কথা বলা জায়েজ যা লজ্জাজনক।
  7. কাফের অপবিত্র, কিন্তু তার বিশ্বাস খারাপ হওয়ার কারণে তার অপবিত্রতা আধ্যাত্মিক।
  8. আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীসে আরেকটি শিষ্টাচার রয়েছে যে, যদি কোন আলেম তার অনুসারীর এমন কিছু দেখেন যা তিনি আশঙ্কা করছেন যে সঠিক নয়, তাহলে তার উচিত তাকে জিজ্ঞাসা করা, তাকে সঠিক কথা বলা এবং এর বিধান ব্যাখ্যা করা। আল্লাহ ভালো জানেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 65) (285). صحيح مسلم (1/ 282) (371). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 46). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص61). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 74).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

বড় নাপাকী হতে গোসল করার পদ্ধতি

عَنْ مَيْمُونَةُ أُمِّ المؤمِنينَ رضي الله عنها قَالتْ: وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُسْلًا، فَسَتَرْتُهُ بِثَوْبٍ، وَصَبَّ عَلَى يَدَيْهِ، فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ، فَضَرَبَ بِيَدِهِ الأَرْضَ، فَمَسَحَهَا، ثُمَّ غَسَلَهَا، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ، ثُمَّ صَبَّ عَلَى رَأْسِهِ وَأَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَنَحَّى، فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ، فَنَاوَلْتُهُ ثَوْبًا فَلَمْ يَأْخُذْهُ، فَانْطَلَقَ وَهُوَ يَنْفُضُ يَدَيْهِ.
উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম, এরপরে একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে দিলাম। তিনি তার দুই হাতে পানি ঢেলে হাতদুটি ধুলেন, তারপরে তিনি তার ডানহাত দিয়ে বাম হাতের উপরে পানি ঢেলে তার যৌনাঙ্গ ধুলেন, তারপরে তার হাত মাটিতে মাসাহ করে তা ধুয়ে নিলেন। এরপরে গড়গড়ার সাথে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, মুখমণ্ডল ধুলেন, তার দুই হাতের কনুইসহ ধুয়ে নিয়ে তার মাথায় পানি ঢাললেন এবং তার সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। এরপরে সেখান থেকে সরে এসে তার দুই পা ধুলেন। তখন আমি তার দিকে একটি কাপড় এগিয়ে দিলাম, তিনি তা গ্রহণ করলেন না, এরপরে তিনি তার হাত ঝাড়া দিতে দিতে স্থান ত্যাগ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মুমিনীন মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাপাক অবস্থা থেকে গোসলের নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রসূলের জন্য পানি প্রস্তুত করেছিলেন, যাতে সেখান থেকে তিনি গোসল করতে পারেন, এবং তিনি পর্দা দ্বারা তাকে আড়াল করে দিয়েছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজগুলো করেছিলেন, তা নিম্নরূপ: প্রথমত: পাত্রে তার দুই হাত প্রবেশ করানোর আগে তিনি পানি ঢেলে তার হাত দুটি ধুয়ে নিলেন। দ্বিতীয়ত: গোপনাঙ্গে লেগে থাকা নাপাকীর চিহ্নসমূহ পরিষ্কার করার জন্য তিনি তার ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন এবং তার যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেললেন। তৃতীয়ত: হাত মাটিতে ঘষে নিয়ে তা মুছে নিলেন এবং এরপরে তা ধুয়ে নিলেন, যাতে হাত থেকে অপবিত্রতা দূর হয়ে যায়। চতুর্থত: কুলি করলেন, এটি এভাবে: তার মুখের মধ্যে পানি প্রবেশ করিয়ে, তা নাড়াচড়া করিয়ে, চারিদিকে ঘুরিয়ে তা ফেলে দিলেন। এবং নাকে পানি দিলেন, এটা এভাবে: পরিষ্কার করা উদ্দেশ্যে নিঃশ্বাসের সাথে তিনি তার নাকে পানি প্রবেশ করালেন আর এরপরে তিনি তা বের করে দিলেন। পঞ্চমত: তিনি তার মুখমণ্ডল ধুলেন এবং কনুইসহ হাত দুটি ধুলেন। ষষ্টত: তিনি তাঁর মাথায় পানি ঢাললেন। সপ্তমত: শরীরের বাকী স্থানগুলোতে পানি ঢাললেন। অষ্টমত: গোসলের স্থান থেকে সরে অন্য স্থানে এসে তিনি তার দুই পা ধুলেন; যেহেতু তিনি পা ধৌত করার কাজটি আগে করেননি। তারপরে মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু আনহা তার কাছে পানি মোছার জন্য একটি রুমাল নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। বরং তার হাত দিয়ে তিনি তার শরীর থেকে পানি মুছে ফেলছিলেন আর তা গড়িয়ে পড়ছিল।

শিক্ষা
  1. রসূলের জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো উম্মাতের শিক্ষার জন্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
  2. গোসল করার এই পদ্ধতিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নাপাকী থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হওয়ার একটি পদ্ধতি, অন্যথায় নূন্যতম (যথেষ্ট হওয়ার) পদ্ধতি হচ্ছে: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার সাথে পুরো শরীরে পানি প্রবাহিত করা।
  3. গোসল বা অযু শেষে পানি মোছার ক্ষেত্রে রুমাল ব্যবহার করা অথবা না করা একটি মুবাহ বা (ইচ্ছাধীন বৈধ) বিষয়।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 63) (276). صحيح مسلم (1/ 254) (317). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص64). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 78).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ، غَسَلَ يَدَيْهِ، وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المؤمنين رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ، غَسَلَ يَدَيْهِ، وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ، ثُمَّ يُخَلِّلُ بِيَدِهِ شَعَرَهُ، حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّهُ قَدْ أَرْوَى بَشَرَتَهُ، أَفَاضَ عَلَيْهِ المَاءَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ، وَقَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، نَغْرِفُ مِنْهُ جَمِيعًا.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ، غَسَلَ يَدَيْهِ، وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ، ثُمَّ يُخَلِّلُ بِيَدِهِ شَعَرَهُ، حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّهُ قَدْ أَرْوَى بَشَرَتَهُ، أَفَاضَ عَلَيْهِ المَاءَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ، وَقَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، نَغْرِفُ مِنْهُ جَمِيعًا. “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকি হতে ফরয গোসল করতেন তখন দুই হাত ধৌত করতেন। তারপর তিনি সালাতের অযুর মতো করে অযু করতেন। তারপর গোসল করতেন। তারপর তিনি তার হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন। তারপর যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে, তিনি চুলের গোড়ায় চামড়াতে পানি পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি তার ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করতেন। তারপর তিনি সমগ্র শরীর ধৌত করতেন। আর তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ) বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। আমরা উভয়েই তা থেকে পানি উঠাতাম।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকি হতে ফরয গোসল করতে ইচ্ছে করতেন তখন দুই হাত ধৌত করার মাধ্যমে তা শুরু করতেন। অতঃপর তিনি সালাতের অযুর মতো করে অযু করতেন। অতঃপর তাঁর শরীরে পানি প্রবাহিত করে দিতেন। তারপর তিনি তার হাত দিয়ে মাথার চুল খিলাল করতেন। তারপর যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে, তিনি চুলের গোড়ায় চামড়াতে পানি পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি তাঁর মাথার ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর সমস্ত শরীর ধৌত করতেন। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। আমরা উভয়েই তা থেকে পানি উঠাতাম।

শিক্ষা
  1. গোসল দুই প্রকার: যথেষ্ট হয়ে যায় এমন গোসল ও পরিপূর্ণ গোসল। যথেষ্ট গোসল হলো একজন ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করার নিয়ত করবে, তারপর কুলি ও নাকে পানি দেওয়াসহ তার সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করবে। অন্যদিকে পরিপূর্ণ গোসল হলো, এ হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে গোসল করেছেন সেভাবে গোসল করা।
  2. বীর্যপাত ঘটলে বা সহবাস করলে যদিও বীর্য নির্গত না হয়, গোসল ফরয হবে।
  3. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের গুপ্তাঙ্গ দেখা এবং একই পাত্র থেকে তাদের গোসল করা জায়েয।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 63) (272، 273). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 48). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص62). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص33).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: «جاءت أمُّ سُلَيمٍ امرأةُ أَبِي طَلحة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله، إنَّ الله لا يَسْتَحيِي من الحَقِّ، فهل على المرأة من غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَت؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : نعم، إِذَا رَأَت المَاء».
উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবু তালহার স্ত্রী উম্মু সুলায়ম এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মু সুলাইম আল-আনসারী রাদিয়িাল্লাহু আনহা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আসলেন। যেহেতু প্রশ্নটি লজ্জাস্থানের সাথে সম্পৃক্ত যে বিষয়ে প্রশ্ন করতে সাধারণত মানুষ লজ্জাবোধ করে তাই তিনি প্রশ্নটি উত্থাপন করার পূর্বে একটি ভুমিকা পেশ করেন যাতে শ্রোতাদের জন্য তার অবস্থান গোপন থাকে। তাই তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক। তিনি হক প্রকাশ করা থেকে নিবৃত হন না, যদি তার মধ্যে কল্যাণ থাকে, যা উল্লেখ করতে সাধারণত লজ্জাবোধ করা হয়, যখন উম্মে সুলাইম এ ভুমিকা তুলে ধরলেন যার কারণে তার জিজ্ঞাসা করা সহজ হলো এবং আলোচ্য বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করে বললেন, যখন কোন মহিলা ঘুমের ঘোরে দেখে যে সে সহবাস করছে তখন তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব। যখন সে বীর্য / যৌনপানি নির্গত হওয়া দেখতে পাবে।’

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে বীর্যের চিহ্ন ধুয়ে দিতাম পরক্ষণে তিনি সালাতে বের হতেন যে পানির চিহ্ন তার কাপড়ে থাকত।

عن عائشة رضي الله عنها قالت: ((كُنْت أَغْسِلُ الْجَنَابَةَ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَخْرُجُ إلَى الصَّلاةِ، وَإِنَّ بُقَعَ الْمَاءِ فِي ثَوْبِهِ)). وَفِي رواية: ((لَقَدْ كُنْتُ أَفْرُكُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرْكاً، فَيُصَلِّي فِيهِ)).
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে বীর্যের চিহ্ন ধুয়ে দিতাম পরক্ষণে তিনি সালাতে বের হতেন যে পানির চিহ্ন তার কাপড়ে থাকত”। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে তা খুটতাম পরক্ষণে তিনি তাতে সালাত আদায় করতেন”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আলোচনা করেন যে, রাসূলের কাপড়ে জানাবাতের কারণে বীর্য লাগতো। কখনো তা তরল হতো। তখন পানি দিয়ে কাপড় ধুয়ে সালাতে বের হতেন, অথচ কাপড়ের পানি এখনো শুকায়নি। আবার কখনো তা শকনো হতো। তখন তিনি তার কাপড় থেকে খুঁটে দিতেন। তারপর তাতে সে সালাত আদায় করত।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ - 2006م. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ - 2005م. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم-، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408ه - 1988م. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
২০টির মধ্যে ৮
২০টি হাদীস
  1. উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাহায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন। তিনি (আয়েশা) বলেন, অতঃপর উম্মে হাবিবা প্রতি সলাতের জন্য গোসল করতেন।
  2. তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, এক ব্যক্তি আলাদা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সলাত আদায় করেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন, আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেন, পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
  4. “সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না”।
  5. বড় নাপাকী হতে গোসল করার পদ্ধতি
  6. كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ، غَسَلَ يَدَيْهِ، وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ
  7. হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।
  8. আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে বীর্যের চিহ্ন ধুয়ে দিতাম পরক্ষণে তিনি সালাতে বের হতেন যে পানির চিহ্ন তার কাপড়ে থাকত।
  9. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন।
  10. “তোমাদের মধ্যে যে জুমু‘আয় উপস্থিত হয় সে যেন গোসল করে”।
  11. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিজের স্ত্রী) মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতেন।
  12. আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দু’জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো।
  13. তোমার হাতে করে তিনবার মাথায় পানি ঢাললেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। অতঃপর তুমি তোমার সমস্ত দেহে পানি ঢেলে দিবে এবং তাতেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।
  14. আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন এবং মাটিতে তাঁর হাত ঘষলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তাঁর চেহারা ধুলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান হতে সরে গিয়ে দুই পা ধুলেন। অবশেষে তাঁকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না।
  15. যখন তোমাদের কেউ তার পরিবারের নিকট আসে তারপর যখন পুণরায় তার কাছে যেতে চায় সে যেন মাঝখানে একবার অযু করে নেয়।
  16. যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন অযু করল সে যথেষ্ট করল ও ভালো করল, আর যে গোলস করল সে অধিক উত্তম।
  17. পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা আর মেয়েলোকের বীর্য পাতলা হলুদ। উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়।
  18. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রকার পানি স্পর্শ করা ছাড়া নাপাকী অবস্থায় ঘুমাতেন।
  19. “প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সাত দিনে এক দিন গোসল করা। এই দিন সে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে”।
  20. শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com