আবূ উমামাহ্ বলেন, আমর ইবনু আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা’আলা শেষ রাতে তার বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকর করে (নামায পড়ে ও দু’আ করে), তুমি পারলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেন: মহাপবিত্র রব রাতের শেষ তৃতীয়াংশে বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। হে মুমিন, এই সময়ে যারা সালাত আদায় করেন, ইবাদত আঞ্জাম দেন, তাওবা করেন এবং জিকির করেন, যদি আপনি তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে তাওফিকপ্রাপ্ত এবং সক্ষম হন, তাহলে এটি এমন একটি বিষয় যা আপনার অর্জন করা এবং তাতে চেষ্টা করা জরুরি।
শিক্ষা
এখানে মুসলিমদেরকে রাতের শেষভাগে যিকির করতে উদ্বুদ্ধ করা।
জিকির, দোয়া ও সালাতের জন্য সময়গুলোর ভেতর তারতম্য রয়েছে।
মিরাক বলেছেন: তাঁর বাণী: " أقرب ما يكون الرب من العبد " (রব বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন) এবং তাঁর বাণী: "أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد" (সেজদারত অবস্থায় বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়) এর মাঝে পার্থক্য হলো: এখানে সেই সময়টি বোঝানো হয়েছে যখন রব তার বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন, সেটি হলো মধ্যরাত। আর সেখানে বান্দার সেই অবস্থাটি বোঝানো হয়েছে যখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, সেটি হল সেজদারত অবস্থা।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 537) (3579).
سنن أبي داود (2/ 454) (1277).
سنن النسائي (1/ 279) (572).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1019).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 509).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 535).
مشكاة المصابيح، للتبريزي (1/ 387).
عن جابر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن في الليل لساعة، لا يُوَافِقُهَا رجُلٌ مُسلم يَسأل الله تعالى خيرًا من أمْرِ الدنيا والآخرة، إلا أعْطَاه إِياه، وذلك كُلَّ ليلة».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “রাত্রিকালে এমন একটি সময় রয়েছে যে সময় কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণের প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। আর সে সময়টি রয়েছে প্রতি রাতে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
প্রতি রাতে একটি সময় রয়েছে যখন দো‘আ করলে তা কবুল করা হয়। অতএব, কোনো মুসলিম যদি সে সময়ে হারাম ব্যতীত কোনো দো‘আ করে আল্লাহ অবশ্যই তার দো‘আ কবুল করবেন। আর সেটি হচ্ছে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ- যা অন্যান্য সহীহ হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- كنوز رياض الصالحين»، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين/محمد علي بن محمد بن علان البكري -اعتنى بها: خليل مأمون شيحا- دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان- الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م.
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোক সকল, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা’আলা তার প্রেরিত রাসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।" (সূরা আল মু’মিনূন ২৩ঃ ৫১)
তিনি (আল্লাহ) আরো বলেছেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযক হিসেবে দিয়েছি তা খাও”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, “হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দু’আ কী করে কবুল করা হবে?”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে আল্লাহ পবিত্র, মুক্ত, সমস্ত ত্রুটি এবং দোষের ঊর্ধ্বে এবং পরিপূর্ণতার গুণে বিশেষিত, তিনি পবিত্র আমল, কথা ও বিশ্বাস ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না; আর তা হল একমাত্র আল্লাহ্র জন্য খালিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মোতাবেক আমল। এই আমল ছাড়া আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব নয়। মুমিনের জন্য পবিত্র আমল হাসিল হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল তার পবিত্র খাদ্য এবং তা যেন হালাল হয়। আর এইভাবে তার আমল বিশুদ্ধ হবে। এই কারণে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে যে পবিত্র খাবার খাওয়া ও নেক আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুমিনদেরকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা জানি”। এবং তিনি বললেনঃ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “হে ঈমানদারগণ, আমরা তোমাদেরকে যে উত্তম জিনিস দিয়েছি তা থেকে খাও”।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম জিনিস খাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন যা আমলকে নষ্ট করে এবং তা কবূল হওয়া থেকে বিরত রাখে, কবূল করার যত উপায় গ্রহণ করা হোক না কেনো। তার মধ্যে হল:
প্রথমত: আনুগত্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ দীর্ঘায়িত করা যেমন হজ, জিহাদ, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা ইত্যাদি।
দ্বিতীয়তঃ চিরুনি না করার কারণে এলোমেলো চুল হয়ে যাওয়া এবং ময়লার (মাটির) কারণে তার রং ও তার কাপড়ের রংপরিবর্তিত হওয়া, অধিকন্তু সে অসহায়।
তৃতীয়ত: তিনি দোয়া করতে দু'হাত আকাশে উত্তোলন করেন।
চতুর্থত: সে আল্লাহর নামসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করে এবং এই বলে অনুনয় করে: হে রব, হে রব!
দোয়া কবূলের এই কারণগুলো থাকা সত্ত্বেও তার দোয়া শোনা হয়নি; কারণ তার খাবার, পানীয়, পোশাক সবই হারাম এবং হারাম খাবার খাওয়ানো হয়েছে তাকে, তাই এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কারো ডাকে সাড়া দেওয়া অসম্ভব। আর কিভাবেই তার দোয়া কবূল করা হবে?
শিক্ষা
আল্লাহ তা‘আলার সত্ত্বা, তাঁর গুণাবলী, তাঁর কর্ম এবং তাঁর বিধানাবলীতে তাঁর পরিপূর্ণতা।
একমাত্র আল্লাহর জন্য আমলকে নিবেদিত করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার আদেশ।
যা আমলের প্রতি উৎসাহিত করে তা ব্যবহার করা, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদেরকে তা করতে আদেশ করেছেন যা তিনি রসূলদের আদেশ করেছেন”; যদি এটা মুমিনগণ জানে যে এটি রাসূলদের আদেশগুলির মধ্যে একটি, তখন সে অনুকরণ করতে শক্তিশালী ও উৎসাহিত হবে।
দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম বাধা হল হারাম খাবার খাওয়া।
দোয়া কবুলের পাঁচটি উপায়: একটি হল: দোয়া কবুলের সবচেয়ে বড় উপায় বিনয়, ভঙ্গতা সম্পন্ন ইবাদতে দীর্ঘ সফর করা। দ্বিতীয়: উপায়হীনতার অবস্থা। তৃতীয় হল: আসমানের প্রতি দু’হাত প্রসারিত করা। চতুর্থ: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহকে বারবার উল্লেখ করে আঁকুতি করা, যার ফলে দোয়া কবুল হওয়ার বেশী আশা করা হয় তার ভেতর এটি অন্যমত। পঞ্চম: খাবার ও পানীয় পবিত্র হওয়া।
পবিত্র হালাল খাবার খাওয়া নেক আমল করার জন্য একটি সহায়ক উপায়।
কাজী রহ. বলেন: ভাল (তাইয়্যেব) হল মন্দের (খবিসের) বিপরীত। যখন তিনি এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার বিশেষণ বর্ণনা করেন, তখন তার অর্থ হল তিনি ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং দুর্বলতা থেকে পবিত্র। যখন এর দ্বারা সাধারণভাবে বান্দাকে বিশেষিত করা হবে তখন তার অর্থ হল বান্দা খারাপ আচরণ ও খারাপ আমল থেকে মুক্ত এবং তার বিপরীতে ভালো জিনিসে বিশেষিত। যখন এটি দ্বারা সম্পদকে বিশেষিত করা হবে তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল ভালো সম্পদ থেকে হালাল সম্পদ।
সূত্র
صحيح مسلم (2/ 703) (1015).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص27).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص141).
الأحاديث الأربعين النووية مع ما زاد عليها ابن رجب وعليها الشرح الموجز المفيد (ص22).
عن سهل بن سعد رضي الله عنهما مرفوعاً: «ثنتان لا تُرَدَّانِ، أو قلما تردان: الدعاء عند النداء وعند البأس حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُ بَعْضًا».
সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, দু’সময়ের দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না অথবা খুব কমই প্রত্যাখ্যাত হয়। আযানের সময়ের দো‘আ। যুদ্ধের সময়ের দো‘আ, যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে আল্লাহর পথে জিহাদের ফযীলত বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধের ময়দানে অবস্থিত মুজাহিদের দো‘আ কবুল করেন। এতে আযানেরও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে; কেননা আল্লাহ তা‘আলা আযানের সময় হতে শুরু করে ইকামত পর্যন্ত মুসলিমের দো‘আ কবুল করেন।
সূত্র
سنن أبي داود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
كنوز رياض الصالحين بإشراف حمد العمار, دار كنوز إشبيليا, الطبعة الأولى, 1430ه.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد بن علان الصديقي,تحقيق خليل مأمون شيحا-دار المعرفة-بيروت-الطبعة الرابعة 1425ه.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشرة, 1407ه.
صحيح أبي داود، للشيخ الألباني ، مؤسسة غراس، الكويت. الطبعة : الأولى ، 1423 هـ - 2002 م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। সুতরাং (সিজদায়) তোমরা অধিক দু‘আ করো।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। কেননা মুসল্লী তার সর্বাধিক সম্মানিত অঙ্গগুলো সিজদাবস্থায় জমিনে রেখে মহান আল্লাহর কাছে নিজের বিনয়, হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশ করে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা অবস্থায় অধিক দু‘আ করতে আদেশ করেছেন। ফলে দু‘আ ও আমল উভয়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে বিনয় ও নম্রতা একত্রিত হয়।
শিক্ষা
আনুগত্য বান্দাহকে মহান আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী করে।
সিজদায় বেশি বেশি দু‘আ করা মুস্তাহাব। কেননা সিজদা দু‘আ কবুলের অন্যতম স্থান।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 350) (482).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 509).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص780).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 506).
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান ও ইকামাতের মধ্যে দোয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এই দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না এবং এটি কবুল হওয়ার বেশী উপযোগী । তাই এতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।
শিক্ষা
এ সময় দোয়া করার ফযীলত।
যদি দোয়াকারী দোয়ার আদবে সজ্জিত হয় এবং তার স্থান ও পুণ্যময় সময়কে লক্ষ্য রাখেন আর আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকেন এবং নিজের নফসকে সন্দেহ ও সংশয় থেকে রক্ষা করেন এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন: তাহলে সে উত্তর পাওয়ার বেশী যোগ্য ইনশাল্লাহ।
মুনাবী দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ, দোয়ার শর্ত,রোকন ও আদবসমূহ একত্র হওয়ার পর, যদি এর কোন একটি মিস হয়, তবে সে নিজেকে ব্যতীত অন্য কাউকে দোষ দিবে না।
দোয়া কবুল হওয়া: হয় তার দোয়া তার জন্য দ্রুত কবুল করা হবে, নয়তো তার থেকে অনুরূপ অমঙ্গল দূর করা হবে, অথবা তা তার জন্য পরকালে সংরক্ষণ করা হবে। এটা আল্লাহর হিকমত ও রহমত অনুসারে হয়।
সূত্র
سنن الترمذي (1/ 253) (212).
سنن أبي داود (1/ 392) (521).
السنن الكبرى للنسائي (9/ 32) (9812).
الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب، الألباني (1/ 200).
توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، لعبد الله البسام (1/ 548).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (2/ 309).
فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (1/ 486).
سبل السلام، لمحمد الصنعاني (2/ 707).
عن بريدة رضي الله عنه قال: سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلاً يقول: اللهم إني أسألك بأني أشهد أنك أنت الله لا إله إلا أنت، الأحد الصمد، الذي لم يلد، ولم يولد، ولم يكن له كفوًا أحد.
فقال: «لقد سأل الله باسمه الذي إذا سُئِلَ به أعطى، وإذا دُعِيَ به أجاب»
বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ দু‘আ করতে শুনলেন, হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে এ উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি এক ও মুখাপেক্ষীহীন, যিনি কাউকে জন্ম দেন নি, যিনি কারো থেকেও জন্ম নেন নি, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! এ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন ইসমে আযমের মাধ্যমে দু‘আ করছে যার উসিলা দিয়ে দু‘আ করা হলে আল্লাহ তা‘আলা কবুল করেন এবং যার উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ এ দু‘আটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনকে করতে শুনছেন। সে এ দু‘আটি করেছেন এবং আল্লাহর ইসমে আযমের মাধ্যমে উসিলা দিয়েছেন যা আল্লাহর তাওহীদকে এভাবে শামিল করেছে যে, তিনি এক, একক, মুখাপেক্ষীহীন, মানুষ তাঁর কাছে তাদের প্রয়োজন মিটাতে প্রার্থনা করে, তিনি কাউকে জন্ম দেন নি; কেননা তার কোন উপমা ও সাদৃশ নেই। তিনি সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, মুক্ত। তিনি কারো থেকেও জন্ম নেন নি, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। সুতরাং তাঁর জাত, বা সিফাত বা কর্মে কেউ তাঁর সমকক্ষ নেই।
এ মহান অর্থবোধক দু‘আটি তাওহীদের মূলতত্ত্ব ও তাওহীদের সবকিছু এগুলো নিয়েই আবর্তিত। যে কারণে এটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতময় দু‘আ। কোন বান্দা আল্লাহর কাছে এমন দু‘আর (ইসমে আযমের) মাধ্যমে দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং সে যা প্রার্থনা করে তাকে তা দান করেন।
সূত্র
سنن أبي داود، لسليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
سنن الترمذي، لمحمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي -مصر- الطبعة الثانية، 1395 هـ - 1975م.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي - مؤسسة الرسالة - الطبعة الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
السنن الكبرى للنسائي، حققه وخرج أحاديثه: حسن عبد المنعم شلبي، أشرف عليه: شعيب الأرناءوط مؤسسة الرسالة -بيروت- الطبعة الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف: عبد الله الفوزان، طبعة دار ابن الجوزي-الطبعة الأولى 1428
توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله البسام، مكتبة الأسدي -مكة المكرمة - الطبعة الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف الشيخ صالح الفوزان، مؤسسة الرسالة.
فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، للشيخ ابن عثيمين- المكتبة الإسلامية القاهرة، تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي- الطبعة الأولى 1427هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «ثلاثُ دَعواتٍ مُستجابات لا شك فِيهن: دعوةُ المظلومِ، ودعوةُ المسافرِ، ودعوةُ الوالدِ على وَلدِه».
আবূ হুরায়রা -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তিন জনের দো‘আ গৃহীত হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই: (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দো‘আ, (২) মুসাফিরের দো‘আ এবং (৩) ছেলের জন্যে মাতা-পিতার বদ-দো‘আ।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
তিন শ্রেণির তিনটি দো‘আ অবশ্যই আল্লাহ কবুল করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই: অত্যাচারিত ব্যক্তির দো‘আ, যদিও সে কাফির হয়, আর সে অত্যাচারের শিকার হয়ে আল্লাহর কাছে বদ-দো‘আ করে, আল্লাহ অবশ্যই তার দো‘আ কবুল করবেন। মুসাফিরের দো‘আ যখন সে সফর অবস্থায় দো‘আ করে। জন্মদাতার দো’আ: হোক সে পিতা কিংবা মাতা। তারা তার পক্ষে দো‘আ করুক বা বিপক্ষে দো‘আ করুক।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي - الطبعة الأولى، 1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة - بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- سنن أبي داود، لأبي داود السجستاني، تحقيق محمد محيي الدين، المكتبة العصرية.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة.
- شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- سنن الترمذي، لمحمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض - شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر، الطبعة الثانية، 1395هـ - 1975م.
- سنن ابن ماجه، لابن ماجه أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي- دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
- مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م.
- صحيح أبي داود -الأم- لمحمد ناصر الدين الألباني - مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت، الطبعة الأولى، 1423هـ - 2002م.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com