মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মহান আল্লাহর যিকির করার উপকারিতা

১৫টি হাদীস

“মানুষ যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে (‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে: ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ».
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “মানুষ যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে (‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে: ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।’ যখন সে বাড়ি প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম না নেয় , তখন শয়তান বলে: ’তোমরা রাতের খাবার পেলে।’ আর যখন সে খাবার সময়েও আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান বলে: ’তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং খাবারও পেলে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়িতে প্রবেশ এবং খাবার খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে (‘বিসমিল্লাহ’ বলতে) আদেশ করেছেন। যখন কেউ নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে, তখন শয়তান তার সঙ্গীদেরকে বলে: ’তোমাদের জন্য এ বাড়িতে রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।’ এ বাড়িতে এর মালিক আল্লাহর নাম স্মরণ করে বাড়িটি সুরক্ষিত করেছে। অন্যদিকে যখন সে ব্যক্তি বাড়ি প্রবেশ করার সময় এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম না নেয় , তখন শয়তান তার সঙ্গীদেরকে সংবাদ দিয়ে বলে: ’তারা এ বাড়িতে রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং রাতের খাবারও পেলে।’

শিক্ষা
  1. বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং খাবার শুরু করার আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা (বিসমিল্লাহ বলা) মুস্তাহাব। কেননা যে বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং যে বাড়িতে খাবার খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়, সে বাড়িতে শয়তান রাত্রিযাপন করে এবং বাড়ির লোকদের সাথে রাতের খাবার খায়।
  2. শয়তান বনী আদমের সকল কাজ পর্যবেক্ষণ করে এবং খবরদারী করে। সুতরাং বনী আদম যখনই আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল হয়ে যায়, তখন শয়তান তার উদ্দেশ্য সাধন করে।
  3. যিকির শয়তানকে বিতাড়িত করে।
  4. প্রত্যেকটি শয়তানের সঙ্গী-সাথী ও অনুসারী আছে, যারা তার কথায় সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং তার আদেশ মান্য করে।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1598) (2018). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 50). تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص467). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 190). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 700).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي، وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُ، وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَيَّ شِبْرًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً».
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ্ ঘোষণা করেন: আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু’ হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আমি আমার বান্দার ধারনার মতই; আমার সম্পর্কে আমার বান্দা আশা ও ক্ষমার যে ধারনা পোষণ করে আমি তার সাথে সেই মোতাবেক আচরণ করি। সে আমার থেকে যে কল্যাণ অথবা অন্য কিছুর আশা করে আমি তার সাথে সেই মোতাবেক আমল করি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে আমি তাকে সমর্থন, হিফাজত, হিদায়াত, তাওফিক ও রহমত দিয়ে তার সাথেই থাকি। সে যদি নির্জনে একাকি তার নফসের ভেতর তাসবীহ, তাহলীল অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে আমার নফসে স্মরণ করি। সে যদি আমাকে জমাতে স্মরণ করে; আমিও তাকে তাদের চেয়ে বড় ও ভালো জামাতে স্মরণ করি। আর যে এক বিঘত আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করবে, আল্লাহ তাকে বৃদ্ধি করবেন এবং তার নিকট এক হাত এগিয়ে যাবেন। যদি সে এক হাত তার নিকটবর্তী হয়, তিনি এক বাহু তার নিকটবর্তী হন। যদি সে আল্লাহর দিকে হেঁটে আসে, তিনি তার নিকট দৌঁড়ে যান। কাজেই বান্দা যখন আল্লাহর আনুগত্য এবং তার প্রতি মনোনিবেশ করে তার রবের নিকটবর্তী হবে, তখন তার আমলের অনুরূপ প্রতিদান হিসাবে তাকে তার নৈকট্য বৃদ্ধি করবেন। যখনই মুমিনের দাসত্য তার রবের প্রতি পরিপূর্ণ হবে আল্লাহ তার নিকটবর্তী হবেন, বস্তুত বান্দার আমল ও মেহনতের চেয়ে আল্লাহর দান ও সাওয়াব অনেক বেশী হবে। সারকথা হল আমলের উপর আল্লাহর প্রতিদান পরিমাণ ও সংখ্যায় প্রাধান্য পাবে। অতএব মুমিন ধারনা সুন্দর করে, সৎকর্ম করে, অগ্রগামী হয়। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করার আগ পর্যন্ত নেক আম বৃদ্ধি করে।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রব আল্লাহ থেকে যা কিছু বর্ণনা করেন এই হাদীসটি তারই অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের হাদীসকে হাদীসে কুদসী বা হাদীসে ইলাহী বলা হয়। এর শব্দ ও অর্থ উভয় আল্লাহর পক্ষ থেকে; তবে এতে আল-কুরআনের বৈশিষ্ট্য নেই, যে সব বৈশিষ্ট্যের কারণে আল-কুরআন অন্য সব কিছু থেকে আলাদা, যেমন এর তিলাওয়াত হল ইবাদত, এর জন্য পবিত্রতার প্রয়োজন হয় এবং এটি একটি চ্যালেঞ্জ, একটি মুজিযা ইত্যাদি।
  2. আজুররি বলেন, “আল্লাহ নিজের নফসকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন, তার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন এবং সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন আহলুল হক সেভাবেই তাকে বিশেষিত করেন। এটিই সেসব আলেমগণের মাযহাব যারা ইত্তেবা করেন, বিদআত করেন না”। অতএব আহলুস সুন্নাহ আল্লাহ নিজের জন্য যেসব নাম ও সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে বিকৃতি, অর্থহীন, আকৃতি ও উদাহরণ বর্ণনা করা ছাড়াই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেন এবং আল্লাহ নিজের নফস থেকে যা অসাব্যস্ত করেছেন তার থেকে তা অসাব্যস্ত করেন তারা। আর যেসব বিষয়ে সাব্যস্ত ও অসাব্যস্ত মর্মে কিছুই বর্ণিত হয়নি তার বিষয়ে চুপ থাকেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (‌لَيْسَ ‌كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ) [তার মত কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা]।
  3. আল্লাহর সাথে সুন্দর ধারনার সাথে অবশ্যই আমল প্রয়োজন। হাসান বসরি বলেন: মুমিন তার রবের সাথে ধারনা সুন্দর করে, ফলে আমলও সুন্দর করে। আর পাপী তার রবের সাথে ধারনা খারাপ করে, ফলে আমলও খারাপ করে।
  4. কুরতুবি বলেন, “আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারনা” এর অর্থ বলা হয়েছে যে, দোয়ার সময় উত্তর প্রাপ্তির ধারনা, তাওবার সময় কবুল হওয়ার ধারনা, ইস্তেগফারের সময় ক্ষমার ধারনা এবং শর্তসহ ইবাদত কর্ম আঞ্জাম দেওয়ার সময় তার সত্য ওয়াদার প্রতি নির্ভর করে বিনিময় পাওয়ার ধারনা করা; কাজেই বান্দার জন্য উচিত হল আল্লাহ কবুল করবেন এবং তাকে ক্ষমা করবেন দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া। কারণ, তিনি এর ওয়াদা করেছেন আর তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। যদি তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তা কবুল করবেন না এবং তাকে কোনো উপকার করবেন না, তাহলে এটিই হল আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হওয়া এবং এটি কবীরা গুণাহ। আর যে এই ধারনার উপর মারা যাবে, তাকে তার ধারনার উপর ন্যস্ত করা হবে, যেমনটি উল্লিখিত হাদীসের কতক সনদে এসেছে “সুতরাং সে যেমন ইচ্ছে আমার সম্পর্কে ধারনা করুক”। তিনি বলেন, বারবার পাপ করে ক্ষমার ধারনা করা হল কেবল মূর্খতা ও ধোকা।
  5. তোমার মুখ ও জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর অধিক যিকিরের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা, অন্তরে ও নফসে আল্লাহকে ভয় করা, তার বড়ত্ব ও হককে স্মরণ করা, তাকে আশা করা, তাকে বড় জানা, তাকে মহব্বত করা, তার ব্যাপারে ধারনা সুন্দর করা এবং তার জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা আর মুখে উচ্চারণ করা: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله [আল্লাহর পবিত্রতা, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া নেকি করার ক্ষমতা ও পাপ থেকে বিরত থাকার সামর্থ্য নেই।]
  6. ইবনু আবি হামযাহ বলেন, যে ভয় নিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দিবেন, অথবা নির্জনতা অনুভব করবে তিনি তাকে সঙ্গী দিবেন।
  7. الشِّبْر: হল পাঞ্জা প্রসারিত করার সময় কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গলীর মধ্যবর্তী দূরত্ব। الذراع: হল মধ্যমা আঙ্গুলীর মাথা থেকে কনুইর হাড্ডীর মধ্যবর্তী দূরত্ব। আর الباع: হল মানুষের দুই হাত, দুই বাহু ও বক্ষের প্রশস্ততা; তা হল চার হাতের সমান।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 121) (7405). صحيح مسلم (4/ 2067) (2675). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 151). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 516). منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، حمزة محمد (5/ 372). الجواب الكافي لمن سأل عن الدواء الشافي أو الداء والدواء (ص25). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 510). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 983).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গিরা বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গিরায় সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ، فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গিরা বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গিরায় সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও।’ অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকির করে, তাহলে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি ওযু করে, তবে তার আর একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সালাত পড়ে, তাহলে সমস্ত গিরা খুলে যায়। আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তি ও ভালো মনে। নচেৎ সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের অবস্থা এবং এমন একজন ব্যক্তির সাথে তার লড়াই সম্পর্কে বলেন যে রাত বা সকালের সালাতের জন্য উঠতে চায়। যখন একজন মুমিন ঘুমাতে যায়, শয়তান তার মাথায়- অর্থ: তার মাথার পিছনে- তিনটি গিরা বেঁধে দেয়। যদি মুমিন জেগে ওঠে এবং আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করে আর শয়তানের ওয়াসওয়াসাতে সাড়া না দেয়; একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে অযু করে অন্য আরেকটি গিরা খুলে যাবে। যদি সে উঠে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তৃতীয় গিঁটটি খুলে যায় এবং আল্লাহ তাকে যে ইবাদত করার তাওফিক দিয়েছেন তার খুশিতে এবং আল্লাহ তাকে যে পুরষ্কার ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার আনন্দে সে সক্রিয় হয়ে উঠে; অধিকন্তু সে শয়তানের জটিলতা এবং নিরুৎসাহ থেকে মুক্ত হয়, অন্যথায় সে মন্দ আত্মায়, দুঃখী হৃদয়ে এবং ভাল এবং সৎ কাজ করতে অলসতা নিয়ে ভোর করে। কারণ সে শয়তানের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং রহমানের নৈকট্য থেকে অনেক দূরে।

শিক্ষা
  1. শয়তান সবসময় মানুষের প্রতিটি পথে চেষ্টা করে; যেন আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য ও তার মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উপায় গ্রহণ করা ছাড়া শয়তানের হাত থেকে বান্দার বাচার আর কোন উপায় নেই।
  2. আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ ও ইবাদত আত্মার মধ্যে উদ্দীপনা এবং হৃদয়ের প্রফুল্লতা সৃষ্টি করে, অলসতা ও কুঁড়েমি দূর করে এবং বিপদ ও অসন্তোষ দূর করে। কারণ এটি শয়তানকে দূর করে এবং এটি তারই প্রবঞ্চনার অংশ।
  3. মুমিনগণ আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য সম্পাদন করার ক্ষেত্রে তাঁর তাওফীক প্রাপ্তির জন্য সন্তুষ্ট হয় এবং মর্যাদা ও পরিপূর্ণতার স্তরগুলোতে ত্রুটির কারণে দুঃখীত হয়।
  4. ইবাদতে গাফিলতি ও স্থবিরতা শয়তানের কাজ ও তার চাকচিক্যকরণ।
  5. আল্লাহর যিকির, অযু ও সালাত এই তিনটি জিনিস শয়তানকে তাড়া করে।
  6. শয়তানের তরফ থেকে মাথার পিছনে গিঁট দেওয়া হয়। কারণ, এটি শক্তির কেন্দ্র এবং তাকে পরিচালনা করার বিন্দু। সুতরাং তার ওপর যখন গিঁট দেয়, তখন তার পক্ষে একজন মানুষের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাকে ঘুম পাড়ানো সম্ভব হয়।
  7. ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন: তার উক্তি: “তোমার ওপর একটি রাত আছে”, এতে রাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর স্পষ্ট অর্থ হল এটি রাতের ঘুমের সাথে খাস।
  8. ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেছেন: যিকিরের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নেই, যা ছাড়া অন্যটি দ্বারা তা আদায় হবে না, বরং যার ওপর আল্লাহর যিকির প্রয়োগ হয় তাই যথেষ্ট হবে। এর মধ্যে রয়েছে আল-কুরআনের তিলাওয়াত, নবীর হাদীস পাঠ এবং শরয়ী ইলম নিয়ে ব্যস্ত হওয়া। তবে যার দ্বারা যিকির আঞ্জাম দেওয়া হয় তার ভেতর উত্তম হল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি: যে ব্যক্তি রাত্রিবেলা জাগ্রত হল এবং বলল: (لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، الحمد لله، وسبحان الله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله،) [একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, তার কোন শরীক নেই। তাঁরই আধিপত্য এবং তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ্‌রই সকল প্রশংসা; আল্লাহ্‌রই সকল পবিত্রতা; আল্লাহ্‌ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই এবং তিনি সবচেয়ে মহান। আল্লাহ ছাড়া ইবাদত করার কোনো শক্তি ও পাপ থেকে বিরত থাকার কোনো সামর্থ্য নেই।] তারপর বলে: (اللهم اغفر لي) [হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন] অথবা দোয়া করল, তার দোয়া কবুল করা হয়। যদি অযু করে, তার সালাত কবুল করা হয়)। সহীহ বুখারী।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 52) (1142). صحيح مسلم (1/ 538) (776). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 328). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 834). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (15/ 305). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لأحمد العسقلاني (10/ 564). طرح التثريب في شرح التقريب، العراقي (3/ 82).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?”

عَنْ سَعْدِ بنِ أبي وَقَّاصٍ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ، كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ؟» فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ: كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ؟ قَالَ: «يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ، فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ، أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَةٍ».
সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?” তাঁর সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, “একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন হাজারটা নেকি হাসিল করতে পারে না?! তার এক সাহাবী বললেন: একজন মানুষ খুব সহজে কীভাবে একদিনে হাজারটা নেকি অর্জন করতে পারে? তিনি বললেন: "سبحان الله" একশ বার বলবে, ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে। কারণ একটি নেকির প্রতিদান দশগুণ দেওয়া হয়, অথবা তার এক হাজার পাপ মুছে ফেলা হবে।

শিক্ষা
  1. সদ্গুণকে উৎসাহিত করা; কারণ এটি ইবাদতের সিঁড়ি।
  2. তাসবীহ ও যিকিরের ফজিলত এবং এই সামান্য কাজটি যা ব্যক্তিকে কোন কষ্ট দেয় না, অথচ তাকে এই মহান প্রতিদান এনে দেয়।
  3. সাহাবীরা বিলম্ব না করে সৎকর্ম করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
  4. নেক আমল দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়, যেমন আল্লাহর বাণী: (‌مَنْ ‌جَاءَ ‌بِالْحَسَنَةِ ‌فَلَهُ ‌عَشْرُ ‌أَمْثَالِهَا) "যে ব্যক্তি একটি নেক আমল নিয়ে আসবে, সে তার দশগুণ পাবে" (আল-আন'আম: ১৬০)। এটি বৃদ্ধির সর্বনিম্ন মাত্রা, অন্যথায় সাতশ গুণ বৃদ্ধি করার কথাও রয়েছে।
  5. কিছু বর্ণনায়, أو يحط عنه... বাণীতে أو (অথবা) এর পরিবর্তে و (এবং) এসেছে: মোল্লা আলী আল-ক্বারী বলেন: "ওয়াও" অক্ষরটি "আও" অর্থে আসতে পারে, তাই দুটি বর্ণনার মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। যেন অর্থ হল: যে কেউ এটি বলবে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে, যদি তার কোন পাপ না থাকে, অন্যথায় কিছু পাপ মুছে ফেলা হবে এবং অবশিষ্ট নেকি লেখা হবে। আর এটা সম্ভব যে "আও" এর অর্থ "ওয়াও" অথবা “আও” এর অর্থ بل বরং, তখন তার জন্য উভয় নেকি একত্রিত হবে। আল্লাহর অনুগ্রহ এর চেয়েও বিস্তৃত। উদ্ধৃতি শেষ। অর্থাৎ, তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে এবং তার থেকে এক হাজার পাপ মুছে ফেলা হবে।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2073) (2698). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 507). مرقاة المفاتيح، لعلي القاري (4/ 1594). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 980). مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعبيد الله المباركفوري (7/ 454).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি”

عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُ رَبَّهُ، مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ»، ولفظ مسلم: «مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ».
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি”। আর মুসলিমের শব্দ হলো: “যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় আর যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দুটি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করে না তাদের মধ্যে পার্থক্য বয়ান করেছেন। এটি হল উপকারিতা ও সুন্দর চেহারার দিক থেকে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যের মতো। যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে সে ঐ জীবিত ব্যক্তির মতো যে বাহ্যিকভাবে জীবনের আলোয় সুশোভিত এবং জ্ঞানের আলো দ্বারা অভ্যন্তরীণভাবে সুশোভিত এবং তার ভেতর রয়েছে উপকার; যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে না সে মৃত ব্যক্তির মতো যে বাহ্যিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাতিল এবং তার মধ্যে কোন উপকার নেই। অনুরূপভাবে ঘরকে জীবিত বলা হয় যদি তাতে বসবাসকারীগণ আল্লাহর যিকির করেন, অন্যথায় সেটি মৃত ঘর যেহেতু তাতে বসবাসকারীগণ আল্লাহর যিকির করে না। যদিও ঘরের বিশেষণে জীবিত ও মৃত উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঘরে অবস্থানকারী।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর স্মরণে উৎসাহিত করা এবং তাকে অবহেলা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা।
  2. যিকির হল রূহের জীবন যেমন রূহ শরীরের জীবন।
  3. অর্থকে বুঝার নিকটবর্তী করার জন্য উদাহরণ পেশ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম পদ্ধতি।
  4. নববী বলেন, এতে ঘরে আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় এবং এটি যিকির বর্জিত হওয়া উচিত নয়।
  5. আন-নওয়াবী বলেন: এর অর্থ হল যে, মৃত ব্যক্তি উত্তম গন্তব্যে চলে গেলেও আল্লাহর আনুগত্যে দীর্ঘায়ু হওয়া একটি ফযীলত। এটি এই কারণে যে জীবিত ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হবে এবং সে যেসব ইবাদত করবে তার দ্বারা তার উপর শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 86) (6407). صحيح مسلم (1/ 539) (779). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، (2/ 982). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 516).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি বলবে, (سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) তার জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”

عَنْ جَابِرٍ رَضيَ اللهُ عنهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ، غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الجَنَّةِ».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি বলবে, (سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) তার জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যক্তি বলে: «سبحان الله» অর্থাৎ আল্লাহকে সকল দোষ ও ত্রুটি থেকে পবিত্র, «العظيم» অর্থাৎ যিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কাজে মহান , «وبحمده» অর্থাৎ তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলির প্রশংসার সাথে, তার জন্য জান্নাতে প্রতিবার বলার সময় একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।

শিক্ষা
  1. আল্লাহ তাআলার যিকির বেশি করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যেমন: তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলা।
  2. জান্নাত প্রশস্ত, এবং এর বৃক্ষরোপণ হলো তাসবিহ ও তাহমিদ, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নিয়ামত।
  3. হাদীসে অন্যান্য গাছের পরিবর্তে খেজুর গাছকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এর অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং এর ফল সুস্বাদু। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুমিন ও তার ঈমানের উদাহরণ হিসেবে খেজুর গাছের কথা উল্লেখ করেছেন।
সূত্র

سنن الترمذي (5/ 456) (3464). مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للمباركفوري (7/ 464). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 985). مشكاة المصابيح، للتبريزي (2/ 713).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“কতক জিকির রয়েছে প্রতিটি ফরয সালাতের পর, যে ব্যক্তি এগুলো পাঠ করবে সে বঞ্চিত হবে না। তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আল হামদু লিল্লাহ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলা।”

عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مُعَقِّبَاتٌ لَا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ -أَوْ فَاعِلُهُنَّ- دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ، ثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ تَسْبِيحَةً، وَثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ تَحْمِيدَةً، وَأَرْبَعٌ وَثَلَاثُونَ تَكْبِيرَةً».
কা‘ব ইবন ‘উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কতক জিকির রয়েছে প্রতিটি ফরয সালাতের পর, যে ব্যক্তি এগুলো পাঠ করবে সে বঞ্চিত হবে না। তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আল হামদু লিল্লাহ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলা।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু যিকির সম্পর্কে জানিয়েছেন, যা বললে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুশোচনাগ্রস্ত হবে না; বরং এই বাক্যগুলোর জন্য সে সওয়াব পাবে। এই যিকিরগুলো একের পর এক বলা হয় এবং ফরয সালাতের পরে বলা হয়। সেগুলো হলো: তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ", অর্থাৎ আল্লাহকে সব ধরনের অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র ঘোষণা করা। তেত্রিশ বার "আলহামদুলিল্লাহ", অর্থাৎ আল্লাহর পরিপূর্ণ প্রশংসা করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও মহব্বত প্রকাশ করা। চৌত্রিশ বার "আল্লাহু আকবার", অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সবকিছুর চেয়ে বড় এবং মর্যাদাবান।

শিক্ষা
  1. তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এর ফযীলত। এগুলো হলো স্থায়ী সৎকর্ম, যা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 418) (596). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 501). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 976). مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (2/ 766). تيسير العلام، للبسام (ص227). فيض القدير شرح الجامع الصغير، لزين الدين المناوي (5/ 525).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কেউ যখন বলে, (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، وَأَنَا أَكْبَرُ) হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান।

عن أبي سعيد الخدري وأبي هريرة رضي الله عنهما أَنهُما شَهِدَا عَلَى رسول اللَّه -صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم- أَنه قالَ: «من قال: لا إله إلا الله والله أكبر، صَدَّقه ربه، فقال: لا إله إلا أنا وأنا أكبر. وإذا قال: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، قال: يقول: لا إله إلا أنا وَحدِي لا شريك لي. وإذا قال: لا إله إلا الله له الملك وله الحمد، قال: لا إله إلا أنا لي الملك ولي الحمد. وإذا قال: لا إله إلا الله ولا حول ولا قوة إلا بالله، قال: لا إله إلا أنا ولا حول ولا قوة إلا بي» وكان يقول: «من قالها في مرضه ثم مات لم تَطْعَمْهُ النار».
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। তখন আল্লাহ বলেন, একমাত্র আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমার কোনো শরীক নেই। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তারই আর তারই সব প্রশংসা। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, রাজত্ব আমারই আর আমারই সব প্রশংসা। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আমি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই কারো শক্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন, কেউ যদি তার রোগশয্যায় এই কথাগুলো বলে এরপর সে মারা যায় তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ও আবু সা‘ঈদ খুদুরী‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, বান্দা যখন আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে তখন তিনি তার কথা সত্যায়ন করেন। সে যখন বলে, (الله أكبر لا إله إلا الله) আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، وَأَنَا أَكْبَرُ) হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, (الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله) আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই। এভাবে তিনি তার কথার সত্যয়ন করেন। যে ব্যক্তি বলবে: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। অতঃপর সে অবশিষ্ট যিকিরসহ মারা যাবে, তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। অর্থাৎ এ কালেমাগুলো মানুষের জন্য জাহান্নামের আগুন হারামকারী হওয়ার অন্যতম কারণ। অতএব মানুষের উচিৎ এসব যিকির মুখস্ত করা এবং মৃত্যুকালীন সময় বেশি বেশি পরিমাণে উচ্চারণ করা যাতে তার শেষ পরিণাম উত্তম হয়। ইনশাআল্লাহ।

সূত্র

1- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي. 2- الجامع الصحيح –وهو سنن الترمذي-؛ للإمام محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق أحمد شاكر وآخرين، مكتبة الحلبي-مصر، الطبعة الثانية، 1388هـ. 3- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ. 4- سلسلة الأحاديث الصحيحة؛ للشيخ محمد ناصر الدين الألباني، مكتبة المعارف-الرياض، 1415هـ. 5- سنن ابن ماجه؛ للحافظ محمد بن يزيد القزويني، حققه محمد فؤاد عبدالباقي، دار إحياء الكتب العربية. 6- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن-الرياض، 1426هـ. 7- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৫টির মধ্যে ৮
১৫টি হাদীস
  1. “মানুষ যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে (‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে: ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।
  2. আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে
  3. “যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গিরা বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গিরায় সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, ‘তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও
  4. “তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?”
  5. “যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি”
  6. “যে ব্যক্তি বলবে, (سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) তার জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”
  7. “কতক জিকির রয়েছে প্রতিটি ফরয সালাতের পর, যে ব্যক্তি এগুলো পাঠ করবে সে বঞ্চিত হবে না। তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আল হামদু লিল্লাহ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলা।”
  8. কেউ যখন বলে, (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، وَأَنَا أَكْبَرُ) হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান।
  9. শয়তান বলেছে, হে রব! তোমার ইয্যতের শপথ, যতদিন পর্যন্ত তোমার বান্দার রুহসমূহ দেহের মধ্যে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমি তাদের গোমরাহ করতে থাকবো। রাব্বুল আলামীন বলেন, আমি আমার ইয্যত ও মহত্বের শপথ করে বলছি যতদিন পর্যন্ত তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকবো।
  10. যে ব্যক্তি এ দুআ পড়বে, অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। সে ব্যক্তির পাপরাশি মার্জনা করা হবে; যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে (যাওয়ার পাপ করে) থাকে।
  11. “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ মিযান-দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়।
  12. “শয়তান তোমাদের মধ্য হতে একজনের কাছে আগমন করে জিজ্ঞাসা করতে থাকে: এটি কে সৃষ্টি করেছে? এটি কে সৃষ্টি করেছে? এক পর্যায়ে সে বলে: তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? অতএব যখন কেউ এ পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে, সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং বিষয়টি থেকে বিরত থাকে।”
  13. “যে ব্যক্তি لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد، وهو على كل شيء قدير দিনে একশত বার বলবে
  14. “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না।
  15. “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com