عن علي بن الحسين: "أنه رأى رجلا يجيء إلى فُرْجَةٍ كانت عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم فيدخل فيها فيدعو، فنهاه، وقال: ألا أحدثكم حديثا سمعته من أبي عن جدي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:« لا تتخذوا قبري عيدا، ولا بيوتكم قبورا، وصلوا علي، فإن تسليمكم يبلغني أين كنتم».
আলী ইবনুল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একজন লোককে দেখতে পেলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে একটি ছিদ্র পথে প্রবেশ করে সেখানে দু‘আ করছে। তখন তিনি ঐ লোকটিকে এ ধরণের কাজ করতে নিষেধ করলেন। তাকে বললেন, “আমি কি তোমার কাছে সে হাদীসটি বর্ণনা করবো না, যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি এবং তিনি শুনেছেন আমার দাদার কাছ থেকে, আর আমার দাদা শুনেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে? তিনি বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে মেলায় পরিণত করো না আর তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সালাম আমার কাছে পৌঁছে যায়।”
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন।মানএকাধিক সনদ ও শাওয়াহেদ (সমঅর্থে আরও) হাদীস থাকার কারণে সহীহ
ব্যাখ্যা
আলী ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের জানান যে, তিনি একজন লোককে দেখেন, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করছে। তিনি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে তাকে তা করতে নিষেধ করেন। যাতে যিয়ারতের জন্য তার কবরকে ঈদ উৎসব স্থল বানাতে নিষেধ করেন এবং ঘরসমূহকে আল্লাহ ইবদত, তার যিকির এবং কবরসমূহের সাদৃশ করতে নিষেধ করেন। আরো সংবাদ দিয়েছেন যে, সালাম প্রদানকারী যেখানেই থাকুক না কেন তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে যায়।
সূত্র
كتاب التوحيد، للإمام محمد بن عبد الوهاب، ت: د. دغش العجمي، مكتبة أهل الأثر, الطبعة الخامسة, 1435ه.
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد, مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه.
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان, دار العاصمة, الطبعة الأولى، 1422ه.
مصنف ابن أبي شيبة، تحقيق: كمال يوسف الحوت، نشر: مكتبة الرشد - الرياض، الطبعة: الأولى، 1409ه.
تحذير الساجد من اتخاذ القبور مساجد, الألباني, المكتب الإسلامي - الطبعة: الرابعة.
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ».
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদুরী ও আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সকল কষ্ট, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা, দুশ্চিন্তা, অনিষ্ট ও পেরেশানী আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা করেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা, দুশ্চিন্তা, বিপদাপদ, বালা-মুসিবত, ভয়-ভীতি, ক্ষুধা-দরিদ্রতা ইত্যাদি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, ফলে সে তাতে কষ্ট পায়, এ সব কিছু তার গুনাহসমূহের কাফফারা হয় এবং তার পাপসমূহ মুছার কারণ হয়।
শিক্ষা
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক মুমিন বান্দাদের উপর অনুগ্রহ ও রহমত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যেহেতু তারা সামান্য কষ্টে আপতিত হলেও আল্লাহ এর বিনিময় তাদের গুনাহ ক্ষমা করেন।
মুসলিমের উচিত সে যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে আপতিত হবে, তখন এর বিনিময়ে আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা করা। ছোট বড় সব বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা, যাতে এগুলো তার মযার্দা বৃদ্ধি ও গুনাহসমূহের কাফফারার কারণ হয়।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 114) (5641).
صحيح مسلم (4/ 1992) (2572).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 489).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 242).
شرح النووي على مسلم (16/ 126).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص44).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 96).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمصطفى الخِن وغيره (1/ 70).
عن أبي ذر رضي الله عنه قال: كنت أمشي مع النبي صلى الله عليه وسلم في حَرَّةٍ بالمدينة، فاستقبلنا أُحُدٌ، فقال: «يا أبا ذر» قلت: لبيك يا رسول الله. فقال: «ما يَسُرُّنِي أن عندي مثل أُحُدٍ هذا ذهبًا تمضي علي ثلاثة أيام وعندي منه دينارٌ، إلا شيء أرصده لِدَيْنٍ، إلا أن أقولَ به في عباد الله هكذا وهكذا وهكذا» عن يمينه وعن شماله ومن خلفه، ثم سار، فقال: «إن الأكثرين هم الأَقَلُّونَ يوم القيامة إلا من قال بالمال هكذا وهكذا وهكذا» عن يمينه وعن شماله ومن خَلفه «وقليل ماهم». ثم قال لي: «مكانك لا تَبْرح حتى آتيك» ثم انطلق في سوادِ الليل حتى تَوارى، فسمعت صوتًا، قد ارتفع، فَتَخَوَّفْتُ أن يكون أحدٌ عَرض للنبي صلى الله عليه وسلم فأردت أن آتيه فذكرت قوله: «لا تَبْرَحْ حتى آتيك» فلم أبْرَحْ حتى أتاني، فقلت: لقد سمعت صوتًا تَخَوَّفْتُ منه، فذكرت له، فقال: «وهل سمعته؟» قلت: نعم، قال: «ذاك جبريل أتاني فقال: من مات من أُمتك لا يُشرك بالله شيئًا دخل الجنة»، قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: «وإن زنى وإن سرق».
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার কালো পাথুরে যমীনে হাঁটছিলাম। উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়ল। তিনি বললেন, “হে আবূ যার! এতে আমি খুশী নই যে, আমার নিকট এই উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ থাকবে, এ অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হবে অথচ তার মধ্য থেকে একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে। অবশ্য তা থাকবে যা আমি ঋণ আদায়ের জন্য বাকী রাখব অথবা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এইভাবে এইভাবে এইভাবে নির্দেশ দেওয়ার জন্যে রাখব, অর্থাৎ ডানে, বামে ও পিছনে খরচ করব।” অতঃপর এগিয়ে চললেন, এবং বললেন, “প্রাচুর্যের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে। অবশ্য সে নয় যে সম্পদকে এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে ব্যয় করে। কিন্তু এ রকম লোকের সংখ্যা নেহাতই কম।” তারপর তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।” এরপর তিনি রাতের অন্ধকারে চলতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। হঠাৎ আমি জোরে এক শব্দ শুনলাম। আমি ভয় পেলাম যে, কোনো শত্রু হয়তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পড়েছে। সুতরাং আমি তাঁর নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, কিন্তু তাঁর কথা আমার স্মরণ হলো, “তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।” সুতরাং আমি তাঁর ফিরে না আসা পর্যন্ত বসে থাকলাম। (তিনি ফিরে এলে) আমি বললাম, ‘আমি জোরে এক শব্দ শুনলাম, যাতে আমি ভয় পেলাম।’ সুতরাং যা শুনলাম আমি তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, “তুমি শব্দ শুনেছিলে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ!’ তিনি বললেন, “তিনি জিবরীল ছিলেন। তিনি আমার কাছে এসে বললেন, ‘আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে তবুও কি?’ তিনি বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটির অর্থ আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি একদা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার কালো পাথুরে যমীনে হাঁটছিলাম। তখন প্রসিদ্ধ উহুদ পাহাড় তাদের সামনে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আবূ যার! এতে আমি খুশী নই যে, আমার নিকট এই উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ থাকবে, এ অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হবে অথচ তার মধ্য থেকে একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে।” অর্থাৎ তার থেকে কিছু আমার কাছে বাকী থাকা অবস্থায় আমার ওপর তিনদিন অতিবাহিত হওয়াতে আমি খুশি নই। তবে আমি ঋণ আদায়ের জন্য কিছু বাকী রাখব। অর্থাৎ যদি আমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ নীরেট স্বর্ণের মালিক হই তার সবই আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে দিব। তার থেকে একটু জিনিসও অবশিষ্ট রাখবো না। তবে কিছু জিনিস যা আমার ওপর ওয়াজিব এমন ঋণ ও বিভিন্ন হক আদায়ে প্রয়োজন পড়ে তা ছাড়া। আর এর ওপর যা অতিরিক্ত থাকবে তা আমার নিকট থাকা অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হওয়াকে আমি পছন্দ করি না। এটি প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার ছিলেন। কারণ, ঋণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যে তিনি সম্পদ একত্র করা ইচ্ছা করেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার থেকে এ অবস্থায় বিদায় নেন যে, তার পরিবারের প্রয়োজনে তার বর্মটি একজন ইয়াহূদীর নিকট বন্দক রাখেন। যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়া প্রিয় হতো তাহলে তিনি তার নবীকে তা থেকে বঞ্চিত করতেন না। সুতরাং দুনিয়া অভিসপ্ত তাতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর যিকির এবং তার আনুসাঙ্গিক বিষয়সমূহ, আলেম এবং তালেবে ইলম ব্যতীত। আর যা আল্লাহর আনুগত্যে হবে। অতঃপর তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন তারাই কম আমলের অধিকারী যারা দুনিয়াতে অধিক সম্পদের অধিকারী। কারণ, দুনিয়াতে যার সম্পদ বেশি তাদের অধিকাংশই আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ, অহংকারী বা হতাশ। কারণ, দুনিয়া তাকে অমনোযোগী বানিয়ে দেয়। তখন সে দুনিয়ার সম্পদ অধিক উপার্জনকারী হয়, আর আখিরাতের বিষয়ে কম আমলের অধিকারী হয়। আর তার বাণী: অথবা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে খরচ করব।” অর্থাৎ সম্পদের বিষয়ে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচা করা বিষয়ে নির্দেশ দেব। তারপর তিনি বলেন, (কতইনা কম তাদের সংখ্যা) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে তাদের সংখ্যা খুবই কম। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনার উম্মতে মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও সে ব্যভিচার ও চুরি করে’ এর অর্থ এ নয় যে, ব্যভিচার ও চুরি করা স্বাভাবিক গুনাহ। বরং তা কঠিন অপরাধ। এ কারণেই আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একে বড় মনে করছে এবং তিনি বলেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে তবুও কি?’ তিনি বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।” এর কারণ হলো যে ব্যক্তি ঈমানের ওপর মারা যাবে অথচ তার ওপর কবীরাহ গুনাহের দায় রয়েছে, তার বিষয়ে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করবেন না এ ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করবেন। [সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮] আল্লাহ কখনো তাকে শাস্তি ছাড়া ক্ষমা করে দেবেন। আর কখনো তাকে শাস্তি দিবেন। কিন্তু যদি শাস্তিও দেন তার শেষ পরিণতি জান্নাত। কারণ যে কোন ব্যক্তি যদি সে শির্ক না করে এবং কাফেরে পরিণত করে এমন কোনো কর্ম না করে তার শেষ পরিণতি অবশ্যই জান্নাত। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে সে চির জাহান্নামী হবে এবং তার সমস্ত আমল নষ্ট। কারণ, মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহকে বলত, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল। সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ১] তারা আল্লাহর স্মরণ করত। তবে তারা খুব কমই আল্লাহর স্মরণ করত। তারা সালাত পড়ত। কিন্তু তারা যখন সালাতে দাড়াতো আলসতার সাথে দাড়াতো। [সূরা নিসা, আয়াত: ১৪০] এতদসত্ত্বেও তারা জাহান্নামের নিম্ন স্তরে। প্রমাণিত হয়, দুনিয়াতে পরহেযগারী কতই জরুরী। একজন মানুষের আত্মা দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিৎ নয়। দুনিয়া তার হাতে থাকবে অন্তরে নয়। যাতে সে অন্তর দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়। কারণ, এটিই হলো পরিপূর্ণ পরহেযগারী। এর অর্থ এ নয় যে, তুমি দুনিয়ার কোনো কিছু গ্রহণ করবে না। বরং তুমি দুনিয়ার যা হালাল তার সবকিছুই গ্রহণ করবে। দুনিয়ার কোনো অংশই তুমি ভুলবে না। কিন্তু তা তুমি তোমার হাতে রাখবে তা তুমি তোমার অন্তরে প্রবেশ করাবে না। এটিই হলো গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه .
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح البخاري ؛ عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه
- المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج /أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي، دار إحياء التراث العربي – بيروت الطبعة: الثانية، 1392
- منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري تأليف- حمزة محمد قاسم مكتبة دار البيان، دمشق - الجمهورية العربية السورية، مكتبة المؤيد، الطائف - المملكة العربية السعودية 1410 هـ - 1990 م
- فتح الباري شرح صحيح البخاري- أحمد بن علي بن حجر العسقلاني الشافعي- دار المعرفة - بيروت، رقم كتبه وأبوابه وأحاديثه: محمد فؤاد عبد الباقي- قام بإخراجه وصححه وأشرف على طبعه: محب الدين الخطيب- عليه تعليقات العلامة: عبد العزيز بن عبد الله بن باز.
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: একবার মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সাওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং আপনার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। এরূপ তিনবার করলেন। এরপর বললেন, “যে কোনো বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।” মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি মানুষকে এ খবর দিবো না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে? তিনি বললেন, তাহলে তারা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে। মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (জীবনভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি) মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন, যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মু‘আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে তাঁর সাওয়ারীতে আরোহী ছিলেন। তখন তিনি তাঁকে ডেকে বললেন: হে মু‘আয! এভাবে তিনি তাকে তিনবার ডাকলেন। তিনি যে বিষয়টি অচিরেই মু‘আযকে বলবেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি এরূপ তিনবার করলেন।
প্রতিবারই মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উত্তরে বললেন: আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং আপনার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত। অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ডাকে প্রতিবারই উত্তর দিচ্ছি যথাযত উত্তর এবং আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি সৌভাগ্য কামনা করছি।
অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ দিলেন: যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে, মিথ্যাবাদী না হয়ে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ অবস্থায় সে মারা গেলে তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।
মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সংবাদ মানুষের মাঝে প্রচার করতে অনুমতি চাইলেন, যাতে তারা আনন্দিত হয় এবং সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশংকা করলেন যে, তাহলে তারা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে এবং আমল কমিয়ে দিবে।
মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জীবনভর এ হাদীসটি কাউকে বর্ণনা করেন নি। তবে মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন, যাতে ইলম গোপন রাখার গুনাহ না হয়।
শিক্ষা
মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারীর পিছনে বসানো তাঁর বিনয় ও নম্রতারই বহি:প্রকাশ।
হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাদান পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে; যেহেতু তিনি মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বারবার সম্বোধন করেছেন, যাতে তিনি যা বলতে চাচ্ছেন সে ব্যাপারে তাকে অত্যন্ত মনোযোগী করতে পারেন।
আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার জন্য শর্ত হলো সাক্ষ্যদাতা দৃঢ়তার সাথে সত্যবাদী হতে হবে, মিথ্যাবাদী কিংবা সংশয়কারী হতে পারবে না।
তাওহীদে বিশ্বাসীগণ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। যদিও তারা তাদের গুনাহের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। তা থেকে পবিত্র হওয়ার পর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।
শাহাদাতাইন তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর ফযীলত তখনই অর্জিত হবে যখন কেউ তা সত্যবাদীতার সাথে বলবে।
কখনো কখনো হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা জায়েয, যখন এটি বর্ণনার কারণে ক্ষতির আশংকা থাকে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 37) (128).
صحيح مسلم (1/ 61) (32).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين (1/ 377).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 487).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 496).
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ছোট বা বড় কোন পাপ করতে আমি ছাড়িনি। তিনি বললেন: “তুমি কী এ সাক্ষ্য দাওনা যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল?” (তিনবার), তখন ঐ ব্যক্তি বললেন: হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এটি ঐসবের (পাপের) উপরে প্রাধান্য পাবে।”
এটি আবু ইয়ালা, তবারানী ও যিয়া আল-মাকদাসী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ছোট-বড় সব ধরণের পাপ ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়েছি। ছোট বা বড় এমন কোন পাপ নেই, যা আমি করিনি। আমাকে কী ক্ষমা করা হবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তুমি কী এ কথার সাক্ষ্য দাওনি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন। তখন ঐ ব্যক্তি জবাব দিলেন: হ্যাঁ, আমি এ কথার সাক্ষ্য দেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাহাদাতাইন (তাওহীদ ও রিসালাতের দুটি সাক্ষ্য)-এর ফযীলতের ব্যাপারে এবং তা দ্বারা পাপসমূহকে ক্ষমা করার বিষয়ে অবহিত করলেন। আর (এটাও অবহিত করলেন যে,) তাওবা তার পূর্বে করা সকল গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
শিক্ষা
হাদীসটিতে শাহাদাতাইনের মর্যাদা এবং যে ব্যক্তি এটিকে মন থেকে সততার সাথে বলবে, তার পাপের উপরে এটি প্রাধান্য পাবে, এর বর্ণনা রয়েছে।
ইসলাম গ্রহণ করা পূর্বের সকল পাপকে ক্ষমা করে দেয়।
আন্তরিক তাওবা পূর্বে করা পাপসমূহকে মুছে দেয়।
শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বারবার বলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত।
শাহাদাতাইনের মর্যাদা বর্ণনা এবং এ সাক্ষ্য দুটি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা থেকে নাজাত দানকারী।
সূত্র
مسند أبي يعلى الموصلي (6/ 155) (3433)، المعجم الصغير للطبراني (2/ 201) (1025)، شعب الإيمان (5/404) (7086)، الأحاديث المختارة للضياء المقدسي (5/ 151) (1773)، غريب الحديث للخطابي (1/255)، الترغيب والترهيب (4/55)، النهاية في غريب الحديث والأثر (1/341)، الزواجر لابن حجر الهيتمي (2/961)، جامع العلوم والحكم (1/305).
মু‘আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে ‘উফাইর নামক গাধার উপরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “হে মু‘আয! তুমি কী বান্দার উপরে আল্লাহর হক (অধিকার) এবং আল্লাহর উপরে বান্দাহর হক সম্পর্কে জান?” আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: “বান্দার উপরে আল্লাহর হক হচ্ছে, তারা তাঁরই ইবাদাত করবে আর কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শিরক করবে না। আর পক্ষান্তরে আল্লাহর উপরে বান্দার হক হচ্ছে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শিরক করবে না, তিনি তাকে আযাব দিবেন না।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী মানুষদেরকে এটার সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন: “তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দিও না, তাতে তারা (শুধু এটার উপরে) নির্ভর করে বসে থাকবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে বান্দার উপরে আল্লাহর হক এবং আল্লাহর উপরে বান্দার হকের বর্ণনা করেছেন। আর বান্দার উপরে আল্লাহর হক হচ্ছে: তারা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করবে এবং তার সাথে কোন বস্তুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপরে বান্দার হক হচ্ছে, তাওহীদপন্থীদের মধ্যে যারা তাঁর সাথে শিরক করবে না তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। তারপরে মু‘আয বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী মানুষকে এ সুসংবাদ দিব না, যাতে তারা খুশি হতে পারে এবং এর ফযিলতে সন্তুষ্ট হতে পারে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন, এ আশঙ্কায়, যেন তারা শুধু এটার উপরেই নির্ভর না করে।
শিক্ষা
আল্লাহ তা‘আলার এমন হকের বর্ণনা, যা তিনি তাঁর বান্দাদের উপরে আবশ্যক করেছেন। তা হচ্ছে: তারা তাঁরই ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শিরক করবে না।
এ হাদীসে আল্লাহর উপরে বান্দার এমন হকের বর্ণনা করা হয়েছে, যা আল্লাহ তাঁর নিজের উপরে আবশ্যক করে নিয়েছেন, তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নি‘আমাত হিসেবে। আর তা হলো তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাদেরকে শাস্তি দিবেন না।
এ হাদীসে তাওহীদপন্থী তথা যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করে না তাদের জন্য অনেক বড় একটি সুসংবাদ রয়েছে, তা হচ্ছে: তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ইলম গোপন করা হবে এ ভয়ে মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার মৃত্যুর আগে তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন।
হাদীসে এ মর্মে সতর্কতা রয়েছে যে, অর্থ বুঝে আসবে না এ ভয়ে কতিপয় হাদীস কতিপয় মানুষের কাছে প্রকাশ না করা। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে: ঐ হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন (অত্যাবশ্যক) আমল থাকবে না এবং শরী‘আতের নির্ধারিত কোন শাস্তি বিধানের সাথেও সম্পর্কিত হবে না।
তাওহীদপন্থীদের পাপী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার অধীন। তিনি যদি চান, তাহলে তাদেরকে আযাব দিবেন, আর যদি চান তাদেরকে ক্ষমা করবেন। সবশেষে তাদের স্থান হবে জান্নাতে।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 29) (2856)، صحيح مسلم (1/ 58) (30)، المحكم لابن سيده (10/26)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 203)، فتح الباري (11/340، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (1/ 623)، (1/ 627)، عمدة القاري شرح صحيح البخاري (14/ 148).
জাবির রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! দুটি আবশ্যককারী বিষয় কী কী? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি দুটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: প্রথমটি হচ্ছে: যা জান্নাতে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে: যা জাহান্নামে প্রবেশ করাকে আবশ্যক করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন: যে গুণটি জান্নাতকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: মানুষ মারা যাবে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা অবস্থায়। আর যে দোষ জাহান্নামকে আবশ্যক করে, তা হচ্ছে: একজন মানুষ এমন অবস্থায় মারা যাবে যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে। ফলে সে আল্লাহর উলূহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত, সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও সাদৃশ্য নির্ধারণ করবে।
শিক্ষা
হাদীসে তাওহীদের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি মুমিন হিসেবে মারা যাবে এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
অনুরূ এতে শিরকের ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
তাওহীদপন্থীদের পাপী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার অধীন। তিনি যদি চান, তাহলে তাদেরকে আযাব দিবেন, আর যদি চান তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। সবশেষে তাদের স্থান হবে জান্নাতে।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 94) (93)، إكمال المعلم بفوائد مسلم (1/ 363)، شرح النووي على مسلم (2/96) المفهم للقرطبي (1/290)، تطريز رياض الصالحين (ص 281)، الكوكب الوهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج (3/63).
খুরাইম ইবনু ফাতিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমলসমূহ ছয় প্রকার ও মানুষ চার প্রকার। দুটি আবশ্যককারী কাজ এবং একটি এমন কাজ যা অপরটির সমান। একটি ভালোকাজ তার দশগুণ সমপরিমাণ আবার একটি ভালোকাজ সাতশত গুণ। আবশ্যককারী কাজ দুটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তির আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক করে মারা যাবে, সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। একটি অপরটির সমান কাজ হচ্ছে: যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের সংকল্প করে, এমনকি তার অন্তর তা অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে এ নিয়তের ব্যাপারে অবগত থাকেন, তার জন্য একটি ভালোকাজ লিপিবদ্ধ করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করে, তার উপরে একটি গুনাহ লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজ করে, তার জন্য এর দশগুণ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য সাতশতগুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। আর মানুষ (চার প্রকার): ১) দুনিয়ায় স্বচ্ছল কিন্তু আখিরাতে অস্বচ্ছল, ২) দুনিয়াতে অস্বচ্ছল কিন্তু আখিরাতে স্বচ্ছল, ৩) দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই অস্বচ্ছল এবং ৪) দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই স্বচ্ছল।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, ‘আমল হচ্ছে মোট ছয় ধরণের আর মানুষ হচ্ছে চার শ্রেণির। ছয় ধরণের আমল হচ্ছে:
প্রথমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক না করে মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করে মারা যাবে, তার জন্য চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুন আবশ্যক হয়ে যাবে।
আর এ দুটি হলো আবশ্যককারী।
তৃতীয়ত: নিয়ত সংক্রান্ত ভালোকাজ, যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের নিয়ত করে, আর সে তার নিয়তের ক্ষেত্রে সত্যবাদীও হয়, এমনকি তার অন্তরও এটি অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলাও তার এ নিয়ত সম্পর্কে জানেন। কিন্ত তারপরে তার সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, সে আর উক্ত কাজটি সম্পাদন করতে পারে না, তাহলে এমতাবস্থায় তার জন্য পূর্ণ একটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়।
চতুর্থত: কৃত মন্দকাজ, যে ব্যক্তি কোন একটি মন্দকাজ করে, তার জন্য একটি মন্দকাজই লেখা হয়।
আর এরা হচ্ছে: সমান, সমান কোন প্রকার বৃদ্ধি করা ছাড়া।
পঞ্চমত: একটি ভালোকাজ, যা তার দশগুণ হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে যে ব্যক্তি নিয়ত করে এবং সে অনুযায়ী আমলটি সম্পাদন করে; এতে তার দশটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়।
ষষ্ঠত: সাতশত গুণ বর্ধিত ভালোকাজ। এটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য এ ভালোকাজটি সাতশত গুণ বৃদ্ধি করে লেখা হয়। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার বান্দার উপরে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণা।
আর চার শ্রেণির মানুষ হচ্ছে:
প্রথম: যাকে দুনিয়াতে রিযিকের প্রাচুর্যতা ও নি‘আমাত দান করা হয়েছে, সে এখানে যা চায় সব কিছুই পায়, তবে আখিরাতে সে সংকটে পতিত হবে। আর তার অবস্থান হবে জাহান্নামে, সে হচ্ছে মূলত: ধনী কাফির।
দ্বিতীয়: যার উপরে দুনিয়ার রিযিকের সংকীর্ণতা রয়েছে, কিন্তু আখিরাতে সে প্রাচুর্যতা পাবে আর তার আবাস হবে জান্নাত, সে হচ্ছে: দরিদ্র মুমিন।
তৃতীয়: যার উপরে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সংকীর্ণ, সে হচ্ছে: দরিদ্র কাফির।
চতুর্থ: যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই প্রাচুর্যতা পাবে, সে হচ্ছে: ধনী মুমিন।
শিক্ষা
বান্দার উপরে আল্লাহ তা‘আলার বড় করুণা ও ভালোকাজকে বাড়িয়ে দেয়ার বর্ণনা।
আল্লাহর ন্যায়পরায়নতা ও অনুগ্রহ: যখন আমরা কোন একটি মন্দকাজ করি, তখন ন্যায়বিচার হিসেবে তিনি একটি মন্দকাজের শাস্তি দেন।
আল্লাহর সাথে শিরক করার ভয়াবহতা, তাতে রয়েছে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া।
আল্লাহর পথে ব্যয় করার ফযীলতের বর্ণনা।
আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করলে তা বহুগুণে বর্ধিত হয়, যা শুরু হয় সাতশত গুণ থেকে; কেননা এতে করে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার ওপর সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।
মানুষের বিভিন্নতা ও তাদের মধ্যকার শ্রেণির বর্ণনা।
দুনিয়াতে মুমিন এবং কাফির উভয় ধরণের মানুষকে প্রাচুর্যতা প্রদান করা হলেও আখিরাতে মুমিন ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রাচুর্যতা দেয়া হবে না।
সূত্র
مسند أحمد (31/ 196) (18900)، (31/ 384)، الفتح الرباني لترتيب مسند أحمد بن حنبل الشيباني (19/198).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com