عن أم المؤمنين ميمونة بنت الحارث رضي الله عنها : أنها أعتقت وَليدَةً ولم تستأذن النبي صلى الله عليه وسلم فلما كان يَومُها الذي يَدورُ عليها فيه، قالت: أشَعَرْتَ يا رسول الله، أني أعتقت وليدتي؟ قال: «أو فعلت؟» قالت: نعم. قال: «أما إنك لو أعطيتها أخوالك كان أعظم لأجرك».
উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা বিনত আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি না নিয়ে তিনি তাঁর এক দাসীকে স্বাধীন করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি জানেন আমি আমার দাসীকে স্বাধীন করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তুমি অধিক সাওয়াব পেতে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসের অর্থ: উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না জানিয়ে বা তাঁর অনুমতি না নিয়ে আপন দাসীকে স্বাধীন করে দিলেন। যেহেতু তিনি আল্লাহর পথে দাস আযাদ করার ফযীলত জানতেন। তারপর যেদিন তার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের নির্ধারিত দিন আসলো সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাস আযাদের সংবাদ দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তা করেছ? মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হ্যাঁ। তিনি তার অভিমত না নিয়ে করা এ কাজকে অস্বীকার করেননি; তবে তিনি বললেন, “শুনো! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তুমি অধিক সাওয়াব পেতে।”
অর্থাৎ তুমি যা করেছ তা ভালো; তবে বনী হিলাল গোত্রের তোমার মামাদেরকে দাসীটি দান করলে আরো অধিক সাওয়াব হতো। কেননা তখন সেটি আত্মীয়-স্বজনের জন্য দান ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা দুটোই হতো।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- كنوز رياض الصالحين»، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه
مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح - أبو الحسن عبيد الله المباركفوري - إدارة البحوث العلمية والدعوة والإفتاء - الجامعة السلفية - بنارس الهند الطبعة: الثالثة - 1404 هـ، 1984.
عن عائشة رضي الله عنها قالت: يا رسولَ اللهِ، إِنَّ لِي جَارَيْنِ، فإلى أَيِّهِمَا أُهْدِي؟ قال: «إلى أَقْرَبِهِمَا مِنْكِ بَابًا».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। আমি তাদের থেকে কাকে হাদিয়া দিব? তিনি বললেন: তাদের থেকে যার দরজা তোমার অধিক নিকটে তাকে হাদীয়া দাও।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার দু’জন প্রতিবেশী রয়েছে। আমাকে প্রতিবেশীকে সম্মান করতে নির্দেশ করা হয়েছে। অথচ আমি তাদের দু’জনকে এক সঙ্গে হাদিয়া দিতে সক্ষম নই। অতএব আমি তাদের কাকে হাদিয়া দিব, যেন আমি প্রতিবেশীর সম্মানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি? তিনি বললেন: “তোমার থেকে যার ঘর অতি কাছে তাকেই হাদিয়া দাও।”
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الرابعة عشر، 1407ه - 1987م.
رياض الصالحين للنووي، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، ط1، 1428هـ.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، ط4، 1428هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عن سهل بن سعد رضي الله عنه : أن امرأةَ جاءت إلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِبُرْدَةٍ مَنسُوجَةٍ، فقالت: نَسَجتُها بيديَّ لأَكْسُوَكَها، فأخذها النبيُّ صلى الله عليه وسلم محتاجاً إليها، فخرجَ إلينا وإنها إزارُهُ، فقال فلانٌ: اكسُنِيها ما أحسَنَها! فقال: "نعم"، فجلسَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم في المجلسِ، ثم رجع فطَوَاها، ثم أرسلَ بها إليه، فقال له القومُ: ما أحسَنتَ! لبسها النبيُّ صلى الله عليه وسلم محتاجاً إليها، ثم سألته وعَلِمتَ أنه لا يَرُدَ سائلاً، فقال: إني واللهِ ما سألتُهُ لألبِسَها، إنما سألتُهُ لتكُونَ كَفَنِي. قال سهلٌ: فكانت كَفَنَهُ.
সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি (হাতে) বুনা চাদর নিয়ে এল। সে বলল, ‘আপনার পরিধানের জন্য চাদরটি আমি নিজ হাতে বুনেছি।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার মুখাপেক্ষী হয়ে গ্রহণ করলেন। তারপর সেটা তিনি লুঙ্গিরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে আসলেন। তখন অমুক ব্যক্তি বলল, ‘কী সুন্দর এটি! আমাকে এটি পরতে দিন।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, (তাই দিব।)” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে কিছুক্ষণ বসলেন। অতঃপর ফিরে গিয়ে তা ভাঁজ করে ঐ লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকেরা তাকে বলল, ‘তুমি কাজটা ভালো কর নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মুখাপেক্ষী হয়ে পরিধান করেছিলেন, তবুও তুমি চেয়ে বসলে, অথচ তুমি জান যে, তিনি কারো চাওয়া ফেরত দেন না।’ ঐ ব্যক্তি বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি তা পরার উদ্দেশ্যে চাইনি, আমার চাওয়ার উদ্দেশ্য যে, তা আমার কাফন হবে।’ সাহাল বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সেটা তার কাফনই হয়েছিল।’
তার মতই এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটিতে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার বর্ণনা। কারণ, তিনি চাদরটির মুখাপেক্ষী থেকেও লোকটিকে চাদরটি দান করে দেন। তিনি চাদরটি পরিধান করেছিলেন যা প্রমাণ করে চাদরটি তার দরকার ছিল। তার ঘটনা হচ্ছে, একজন মহিলা রাসূলের কাছে এসে তাকে একটি চাদর হাদিয়া দিল। তারপর একলোক রাসূলের দিকে এগিয়ে এসে বলল, চাদরটি কতইনা সুন্দর এবং সে রাসূলের কাছে চাদরটি চাইলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম চাদরটি খুলে ভাঁজ করে তাকে দান করে দিলেন। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেন, এ হাদীসটির শিক্ষনীয় বিষয় হলো, নেককার লোকদের নিদর্শন দ্বারা বরকত হাসিল করা বৈধ। তবে বিষয়টি এমন নয়, এখানে বরকত হাসিল করা হয়েছে রাসূলের সত্ত্বা দ্বারা। ফলে ফযীলত ও যোগ্যতার মাপকাটিতে তার উপর অন্য কাউকে কিয়াস করা যাবে না। এ ছাড়াও সাহাবীগণ অন্য কারও সাথে তার জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যুর পর এ ধরনের কোনো কাজ করতেন না। যদি তাতে কোনো কল্যাণ থাকতো এ ব্যাপারে তারা আমাদের থেকে অগ্রগামী থাকতেন।
সূত্র
بهجة شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
تطريز رياض الصالحين؛ تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبدالعزيز آل حمد، دار العاصمة-الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد؛ للإمام سليمان بن عبدالله بن محمد بن عبدالوهاب، تحقيق أسامة عطايا، دار الصميعي-الرياض، الطبعة الأولى، 1428هـ.
الجمع بين الصحيحين؛ للإمام محمد بن فتوح الحميدي، تحقيق د. علي البواب، دار ابن حزم.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
فتح الباري بشرح صحيح البخاري؛ للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، دار المعرفة-بيروت.
كنوز رياض الصالحين؛ فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا-الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
عن الصعب بن جَثَّامَةَ رضي الله عنه ، قال: أهديتُ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - حماراً وحشياً، فَرَدَّهُ عَلَيَّ، فلما رأى ما في وجهي، قال: «إنا لم نَرُدَّهُ عليك إلا لأنَّا حُرُمٌ».
সা’আব ইবনে জাস্সামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (শিকার করা) এক জংলী গাধা উপঢৌকন দিলাম। কিন্তু তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আমার চেহারায় (বিষণ্ণতার চিহ্ন) দেখে বললেন, “আমরা ইহরামের অবস্থায় আছি, তাই আমরা এটি তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট হলো সে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে মানুষকে ছাড় দিতেন না এবং তাদের অন্তরকে খোশ করাও তার থেকে ছুটতো না। সা‘আব ইবন জুসামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতিক্রম করলেন। তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। সা‘আব ইবন জুসামাহ ছিলো তীর নিক্ষেপে পারদর্শী। যখন রাসূল তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে তার জন্য একটি জঙ্গলি গাঁধা শিকার করল এবং তার নিকট নিয়ে আসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ফিরিয়ে দিলেন। বিষয়টি সা‘আবের নিকট খুব কষ্টকর ঠেকল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তার হাদীয়া ফেরত দিল? ফলে তার চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তারপর যখন তিনি তার চেহারা দেখলেন তার অন্তরকে খুশি করে দিলেন। আর তাকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি তার হাদীয়া ফেরত দিয়েছেন কারণ, তিনি ইহরাম অবস্থায় আছেন। আর মুহরীম ব্যক্তি তার উদ্দেশ্যে শিকার করা জন্তু ভক্ষণ করেন না।
সূত্র
بهجة شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
تطريز رياض الصالحين؛ تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبدالعزيز آل حمد، دار العاصمة-الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن-الرياض، 1426هـ.
صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
فتح الباري بشرح صحيح البخاري؛ للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، دار المعرفة-بيروت.
كنوز رياض الصالحين؛ فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا-الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ.
আবূ হুমায়দ সা’ঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুতাবিয়্যা নামে এক লোককে বানী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন সে ফিরে আসল তখন তিনি তার নিকট হতে হিসাব-নিকাশ নিলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) হাদিয়া। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে হাদিয়া পৌঁছে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্ আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল আর এ হলো আমাকে দেয়া হাদিয়া।
তাহলে সে কেন তার মা-বাবার ঘরেই বসে থাকল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে তার হাদিয়া পৌঁছে যেত? আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অন্যায় পন্থায় কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চিনব যে, সে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে উট বহন করে; আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বক্রী বহন করে, আর সেটা পায়খানা করতে থাকবে। তারপর তিনি আপন হাত দু’টি এতদূর উত্তোলন করলেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমার দু’চোখ সে অবস্থা দেখেছে এবং আমার কান শুনেছে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সালিম গোত্র থেকে যাকাত আদায়ের জন্য ইবনে আল-লাতিবিয়া নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ করেছিলেন। যখন তিনি মদিনায় ফিরে আসেন, তখন তিনি যা গ্রহণ করেছেন এবং যা ব্যয় করেছেন তার হিসাব গ্রহণ করলেন। ইবনু আল-লাতিবিয়া বলেন: এটা আপনাদের সম্পদ যা আমি যাকাত থেকে সংগ্রহ করেছি আর এই সম্পদ আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি কেন তোমার পিতামাতার ঘরে বসে থাকলে না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে দেখতে পেতে তোমাদের হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? তুমি যে হকের (যাকাতের) জন্য কাজ করেছো, সেটাই হলো তোমাকে উপহার দেওয়ার কারণ। আর যদি তুমি তোমার ঘরে থাকতে, তাহলে তোমাকে কিছুই দেওয়া হতো না, তাই শুধু উপহার হিসেবে তোমার কাছে পৌঁছেছে বলেই এটাকে জায়েয মনে করা উচিত নয়। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে আরোহণ করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানালেন, তারপর বললেন: অতঃপর, আমি তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে যাকাত ও গণিমতের সম্পদ আদায়ে কর্মী ও দায়িত্বশীল হিসেবে নিযুক্ত করি, যার ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, তারপর সে তার কাজ থেকে ফিরে এসে বলে: এটা তোমাদের জন্য আর এটা আমার আমার হাদীয় যা আমাকে হাদীয় হিসেবে দেয়া হয়েছে! সে তার বাবা-মায়ের বাড়িতে বসে থাকল না কেন? যাতে তার হাদিয়া ঘরে চলে আসতো? আল্লাহর কসম, কেউ যদি অন্যায়ভাবে কিছু গ্রহণ করে, তবে কিয়ামতের দিন সে তা ঘাড়ে বহন করে আল্লাহর সাথে দেখা করবে, তার গ্রহণ করা প্রাণী যদি উট হয় তার গর্জন থাকবে, অথবা গরু হয় তার হুংকার থাকবে, অথবা ভেড়া হয় তার চিৎকার থাকবে। তারপর তিনি তাঁর হাত এত উঁচু করলেন যে সেখানে বসে থাকা লোকেরা তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পেল, তারপর বললেন: হে আল্লাহ, আমি আপনার হুকুম তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এরপর আবু হামিদ আস-সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: এটা এমন সংবাদ যা তার চোখ দেখেছে এবং তার কান শুনেছে।
শিক্ষা
শাসক তার কর্মচারীদের ব্যাখ্যা করবেন যে তাদের কাজের ক্ষেত্রে কী কী আবশ্যক এবং কী কী নিষিদ্ধ।
যারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করেন তাদের প্রতি হুমকি।
এমন কোন জালিম নেই, যে তার জুলম নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে না।
যেকোনো রাষ্ট্রীয় চাকরিতে কর্মচারীর কর্তব্য হলো তার প্রতি যা অর্পিত হয়েছে তা পালন করা। তার কাজের সাথে সম্পর্কিত উপহার গ্রহণ করা তার জন্য নিষিদ্ধ এবং যদি সে তা গ্রহণ করে, তবে তার উচিত তা সরকারি কোষাগারে জমা করা। তার নিজের জন্য তা গ্রহণ করতে পারবে না, কারণ এগুলো মন্দ কাজ এবং আমানত ভঙ্গের মাধ্যম।
ইবনু বাত্তাল বলেন: হাদীসটি ইঙ্গিত করে যে, একজন শ্রমিককে উপহার দেওয়া হলো তার অনুগ্রহের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো, অথবা তার প্রিয়ভাজন হওয়া, অথবা সে তার প্রাপ্যে হ্রাস করবে আশা করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করলেন যে, তাকে যা হাদিয়া পেশ করা হয় তার মালিকানায় সে অন্যান্য মুসলিমদের মতো একজন। এতে তাদের উপর তাঁর কোন অগ্রাধিকার নেই এবং এটি একচেটিয়াভাবে তার দখল করা জায়েয নয়।
আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীসে বলা হয়েছে যে শ্রমিকদের উপহার হারাম এবং আত্মসাৎ (খিয়ানত)। কারণ, সে তার কর্তৃত্ব এবং আমানতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই কারণেই হাদীসে তার শাস্তি এবং কিয়ামতের দিন তাকে যা দেওয়া হয়েছে তা বহন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন খিয়ানতকারীর ব্যাপারে একই কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই হাদীসে তাঁকে উপহার দেওয়া হারাম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন যে এই হাদিয়া হল কর্তৃত্বের কারণে, এটি কর্মচারী নন এমন কাউকে উপহার দেওয়ার মত নয়, কারণ তা মুস্তাহাব।
ইবনু আল-মুনির বলেন: তার বক্তব্য "هلا جلس في بيت أبيه وأمه" "কেন সে তার বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকেনি?" থেকে বোঝা যায়: যে ব্যক্তি পূর্বে তাকে উপহার দিত, তার কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা জায়েয। ইবনু হাজার বলেন: এটা অস্পষ্ট নয় যে, এর জায়গা হলো যদি এটি পূর্বের রীতির বাইরে না যায়।
নববী উপদেশের পদ্ধতি হল ব্যাপককরণ, মানহানি নয়।
ইবনু হাজার বলেন: এতে আমানতদারকে জবাবদিহি করা জায়েয প্রমাণ হয়।
ইবনু হাজার বলেন: ভুল করলে তাকে তিরস্কার করা জায়েয।
দুআয় হাত তুলা মুস্তাহাব।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 28) (6979).
صحيح مسلم (3/ 1463) (1832).
جمهرة اللغة، أبوبكر الأزدي (2/ 1067).
المعجم الوسيط، مجمع اللغة العربية (2/ 1065).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 305).
تطرز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص166).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 234).
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: «حَمَلْتُ على فرس في سبيل الله، فأضاعه الذي كان عنده، فأردت أن أشتريه، وظننت أنه يبيعه بِرُخْصٍ، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم ؟ فقال: لا تَشْتَرِهِ، ولا تعد في صدقتك؛ فإن أَعْطَاكَهُ بِدِرْهَمٍ؛ فإن العَائِدَ في هِبَتِهِ كالعَائِدِ في قَيْئِهِ».
উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমার একটি ঘোড়া ছিল, যা আমি আল্লাহর রাস্তায় (ব্যবহারের জন্য এক মুজাহিদকে) দান করলাম। যার কাছে এটা ছিল, সে এটাকে নষ্ট করে দিল। ফলে আমি তা কিনে নিতে চাইলাম এবং আমার ধারণা ছিল যে, সে সেটি সস্তা দামে বিক্রি করবে। (এ সম্পর্কে) আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার (দেওয়া) সাদকাহ ফিরিয়ে নিয়ো না; যদিও সে তোমাকে তা এক দিরহামের বিনিময়ে দেয়। কেননা, স্বীয় দান ফেরৎ গ্রহণকারী ব্যক্তি: নিজ বমিকে ভক্ষণকারীর মতো”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক লোককে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে সহযোগীতা করেন। তিনি তাকে যুদ্ধ করার জন্য একটি ঘোড়া দান করেন। লোকটি ঘোড়াটির জন্য খরচ করতে কার্পণ্য করে এবং সে তার ভালোভাবে যত্ন না নিয়ে তাকে কষ্ট দেয়। ফলে ঘোড়াটি রুগ্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার কাছ থেকে তা ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন। দুর্বল ও রুগ্ন হওয়ার কারণে সে ভাবছিল তা সস্তা দামে খরিদ করতে পারবে। ফলে সে রাসূলের পরামর্শ ছাড়া তা ক্রয়ে অগ্রসর হননি। কিন্তু তার অন্তরে সে ব্যাপারে কিছুটা খটকা ছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা ক্রয় করতে নিষেধ করেন যদিও দাম কম হয়। কারণ, এটি এমন একটি বস্তু যা আল্লাহর জন্য একবার বের করা হয়েছে। সুতরাং তোমার আত্মাকে তার অনুগামী ও তার সাথে সম্পৃক্ত কর না। এ ছাড়াও যা তুমি দান করেছে তাতে সে দাম কমিয়ে দিতে পারে। ফলে তুমি তোমার দানের কিছু অংশে প্রত্যাবর্তনকারী বলে গণ্য হবে। এ ছাড়াও এটি তোমার থেকে বের হয়ে গেছে, তোমার গুনাহের কাফফারা হয়েছে এবং তোমার থেকে অপবিত্রতা ও গুনাহগুলো বের করে নিয়ে গেছে। সুতরাং তার প্রতি পুনরায় ফিরে তাকানো ঠিক হবে না। মূল্য দিয়ে ক্রয় করা সত্বেও এ ধরনের ক্রয়কে দান করার পর তাতে ফিরে যাওয়া বলে গণ্য করা হয়।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.
عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما مرفوعاً: "العائد في هِبَتِهِ، كالعائد في قَيْئِهِ".
وفي لفظ: "فإن الذى يعود في صدقته: كالكلب يَقِئ ُثم يعود في قيئه".
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “নিজের দান ফিরিয়ে নেওয়া নিজের বমী ফিরিয়ে নেওয়ার মতোই।” অন্য শব্দে এসেছে: “যে ব্যক্তি নিজের সদাকাহ ফিরিয়ে নেয় সে কুকুরের ন্যায়, যে নিজে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সাদকা ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘৃণিত আকৃতির একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো যে ব্যক্তি তার দানকে ফিরিয়ে নেয় তার দৃষ্টান্ত ওই কুকুরের মতো যে বমি করে অতঃপর সে তার নিজের বমী ভক্ষণ করে। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যা এ ধরনের কর্মকে ঘৃণিত ও রুচিহীন প্রমাণ করতে যথেষ্ট এবং যে এ ধরনের কর্ম করবে সে অনেক নীচু প্রকৃতির।
সূত্র
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.
- منحة العلام في شرح بلوغ المرام:تأليف عبد الله الفوزان-طبعة دار ابن الجوزي-الطبعة الأولى 1428.
- فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام للشيخ ابن عثيمين- المكتبة الإسلامية القاهرة- تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي- الطبعة الأولى 1427.
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: «قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعُمْرَى لمن وهبت له».
وفي لفظ: «من أُعمِر عمرى له ولعقبه؛ فإنها للذي أعطيها، لا ترجع إلى الذي أعطاها؛ لأنه أعطى عطاء وقعت فيه المواريث».
وقال جابر: «إنما العمرى التي أجازها رسول الله صلى الله عليه وسلم ، أن يقول: "هي لك ولعقبك"، فأما إذا قال: "هي لك ما عشت"؛ فإنها ترجع إلى صاحبها».
وفي لفظ لمسلم: «أمسكوا عليكم أموالكم ولا تفسدوها، فإنه من أُعمِر عمرى فهي للذي أُعمِرها حيًّا وميتًا ولعقبه».
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমরার (অর্থাৎ এক প্রকার ওয়াকফের) ব্যাপারে ফায়সালা করেছেন, যার জন্যে দান করা সেটা তার জন্যেই।” অপর শব্দে: “যার জন্যে এবং যার বংশের জন্যে ওয়াকফ করা হয়, সেটা যাকে দেওয়া হয়েছে তার জন্যেই হবে, দানকারীর নিকট কখনো ফিরে আসবে না। কারণ, সে এমনভাবে একটি বস্তু দান করে দিয়েছেন যার মধ্যে উত্তরাধিকার স্থাপিত হয়ে গিয়েছে।” জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ধরনের ওমরা (জীবন ভর ভোগ করার অধিকার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন দিয়েছেন, সেটা হচ্ছে এরূপ বলা যে, “এটা তোমার ও তোমার ওয়ারিশদের।” কিন্তু যদি এ কথা বলে, “তুমি যতদিন বেঁচে থাকবে তা তোমার জন্য।” তখন সেটা মালিকের নিকট ফিরে আসবে। সহীহ মুসলিমের শব্দে বর্ণিত: “তোমরা তোমাদের সম্পদ তোমাদের নিকট সংরক্ষণ কর, তা ধ্বংস করো না। কারণ, যে কাউকে কিছু জীবন ভর ভোগ করতে দেয়, সেটা তার জন্যেই তার জীবিত কালীন অবস্থায়, মৃত অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পর বংশধরের জন্যে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
‘ওমরার’ মতোই ‘রুকবা’ এবং উভয় হেবার দু’টি প্রকার। জাহিলিয়্যাতের যুগে এ দুই প্রকার আদান প্রদান ছিল। তখন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার ঘর ইত্যাদি এ বলে প্রদান করত: তোমাকে এটি জীবন ভর ভোগ করতে দান করলাম অথবা তোমাকে এটি দান করলাম যত দিন তুমি অথবা আমি বেঁচে থাকি। ফলে তারা যাকে দেওয়া হলো তার মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকতো যাতে তারা তাদের দানে ফিরে যেতে পারে। শরী‘আত এ ধরনের হিবাকে স্বীকৃতি দিয়েছে তবে প্রচলিত শর্ত অর্থাৎ দানে ফিরে যাওয়াকে বাতিল করেছেন। কারণ দানে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির দৃষ্টান্ত ওই কুকুরের মতো যে বমী করে অতঃপর সে তার বমিতে ফিরে যায়। এ কারণেই রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দেন যে, যাকে দান করা হয় ওমরা তার জন্যে এবং তার বংশধরের জন্য। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সতর্ক করেন যে, তারা যেন তাদের সম্পদ হিফাযত করে। কারণ তারা ধারণা করত এ ধরনের শর্ত পালন করা জরুরি নয় এবং দান করে সেটা গ্রহণ করা বৈধ। যেমন তিনি বলেন, “তোমরা তোমাদের সম্পদ তোমাদের নিকট সংরক্ষণ কর, তা তোমরা ধ্বংস করো না। কারণ, যাকে জীবন ভর ভোগ করতে দেওয়া হল সেটা তার জন্যেই জীবিত ও মৃত অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের জন্য।”
সূত্র
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com