عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يَزَالَ المُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ، مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا».
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মু’মিন তার দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ স্বস্তিতে (প্রশস্ততায়) থাকে, যে পর্যন্ত না সে কোন হারাম ঘটায়”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মুমিন ব্যক্তি তার সৎকর্মের প্রশস্ততা ও স্বস্তির মধ্যে থাকে এবং আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং পাপ মোচনের আশায় থাকে, যতক্ষণ না সে কোন ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ উপায়ে হত্যা করে, তাহলে তার আমল তাকে সংকীর্ণ হয়ে যায়। কারণ এটি হত্যার বোঝা এবং এর মহাপাপের দায় বহন করতে পারে না।
শিক্ষা
- অন্যায্য ও ইচ্ছাকৃত হত্যার ভয়াবহতা হলো, এটি মুমিনকে দীনের প্রশস্ততা থেকে সংকীর্ণতার দিকে নিয়ে যায়।
- নিষিদ্ধ রক্ত চার প্রকার: ১- একজন মুসলিমের রক্ত, যা এর মধ্যে সবচেয়ে বড়। ২- জিম্মিদের রক্ত, অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা যারা নিজ ধর্মের উপর জিযিয়া আদায়ের মাধ্যমে ইসলামের ভূমিতে থাকা এবং তাদের উপর ইসলামের বিধান কার্যকর হওয়া মেনে নেয়। ৩- চুক্তিবদ্ধদের রক্ত, যারা তাদের দেশে কাফের, যাদের সাথে আমাদের শান্তি চুক্তি রয়েছে। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব না এবং তারা আমাদের সাথেও যুদ্ধ করবে না। ৪- যে ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে তার রক্ত, অর্থাৎ সে যোদ্ধা কাফির, যার সাথে আমাদের কোন জিম্মাদারী বা চুক্তি নেই, কিন্তু আমরা তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মুসলিমদের দেশে প্রবেশের নিরাপত্তা দিয়েছি, শাসক অথবা তার প্রতিনিধিদের মধ্যে যে কারো অনুমতিতে।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 2) (6862).
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (10/ 41).
تطريز رياض الصالحين (ص: 171).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَجَأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবীজি (সা.) ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মহত্যা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কারণ, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে সে একইভাবে শাস্তি পাবে, যেমনভাবে সে দুনিয়াতে নিজেকে হত্যা করেছিল। যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পাহাড় থেকে উপত্যকায় পড়তে থাকবে, সেখানে চিরকাল থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, তার হাতে বিষ থাকবে এবং সে জাহান্নামের আগুনে তা পান করতে থাকবে, সেখানে চিরকাল থাকবে। আর যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করে আত্মহত্যা করে, তার হাতে সেই লোহার অস্ত্র থাকবে এবং সে জাহান্নামের আগুনে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, সেখানে চিরকাল থাকবে।
শিক্ষা
- মানুষের নিজেকে হত্যা করা হারাম, এবং এটি এমন একটি বড় পাপ যার জন্য সে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রাপ্য।
- হাদীসে আত্মহত্যার কিছু পদ্ধতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যে কোনো পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করলে সে একইভাবে শাস্তি পাবে। সহীহ বুখারিতে নবীজি (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজেকে শ্বাসরোধ করে মারে, সে জাহান্নামে শ্বাসরোধ করবে এবং যে ব্যক্তি নিজেকে ছুরিকাঘাত করে মারে, সে জাহান্নামে ছুরিকাঘাত করবে।”
- ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: নবীজি (সা.)-এর বাণী "সে জাহান্নামে চিরকাল থাকবে" সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। প্রথম মত হলো: এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে এ কাজটি জেনে-শুনে এবং হারাম জেনেও হালাল মনে করে করেছে। এ ধরনের ব্যক্তি কাফির এবং এর শাস্তি হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম। দ্বিতীয় মত হলো: এখানে 'চিরস্থায়ী' বলতে দীর্ঘ সময় এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বোঝানো হয়েছে, প্রকৃত অর্থে চিরস্থায়ী নয়। যেমন বলা হয়: "আল্লাহ সুলতানের রাজত্বকে চিরস্থায়ী করুন।" তৃতীয় মত হলো: এটি মূলত তার উপযুক্ত শাস্তি, কিন্তু আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে জানিয়েছেন যে, কোনো মুসলিম চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না।
- এটি দুনিয়ার অপরাধের সাথে আখিরাতের শাস্তির সামঞ্জস্য বোঝায়। এ থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ নিজের উপর যে অপরাধ করে তা অন্যের উপর অপরাধ করার মতোই পাপ; কারণ তার নিজের জীবন তার মোটেও মালিকানাধীন নয়, বরং তা আল্লাহ তাআলার। তাই সে তার জীবন নিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর অনুমতি অনুযায়ীই কাজ করতে পারে।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 139) (5778).
صحيح مسلم (1/ 103) (109).
البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (3/ 306).
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (8/ 414).
المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 310).
عمدة القاري شرح صحيح البخاري (21/ 291).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَن أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يُشِيرُ أَحَدُكُمْ عَلَى أَخِيهِ بِالسِّلاَحِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي، لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِي يَدِهِ، فَيَقَعُ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন তার অপর কোন ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উত্তোলন করে ইশারা না করে। কেননা সে জানে না, হয়ত শয়তান তার হাতে ধাক্কা দিয়ে বসবে, ফলে (এক মুসলিমকে হত্যার অপরাধে) সে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন যে, কোনো মুসলিম যেন তার মুসলিম ভাই এর দিকে কোনো ধরনের অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করে। কারণ, সে জানে না যে শয়তান তাকে তার হাতে থাকা অস্ত্র নড়াচড়া করতে প্ররোচিত করতে পারে, ফলে সে তার ভাইকে হত্যা করতে পারে বা তার ক্ষতি করতে পারে। এতে সে এমন পাপে জড়িয়ে পড়বে যা তাকে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করবে।
শিক্ষা
- মুসলিমের রক্তের পবিত্রতা বর্ণনা করা হয়েছে।
- একজন মুসলমানের সম্মান রক্ষা করা এবং কথায় বা কাজে তার ক্ষতি করা থেকে সতর্ক থাকা আবাশ্যক। এর মধ্যে আছে লোহার রড বা অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করা, এমনকি মজা করলেও; কারণ শয়তান তার হাতে প্ররোচনা দিতে পারে এবং তাকে তার ভাইকে আঘাত করতে প্রলুব্ধ করতে পারে, অথবা সে অস্ত্রটি তার হাতে থেকে নিয়ে নিতে পারে, ফলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এটি ঘটতে পারে এবং সে তার ভাইকে ক্ষতি করতে পারে।
- যে কাজ হারামের দিকে ধাবিত করে তা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে হারামের পথ বন্ধ করা হয়।
- সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করা, এবং তাদের ভয় দেখানো বা আতঙ্কিত করা থেকে বিরত থাকা, এমনকি ইঙ্গিত বা হুমকি দিয়েও নয়।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 49) (7072).
صحيح مسلم (4/ 2020) (2617).
عمدة القاري شرح صحيح البخاري (24/ 187).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীস