মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

রক্তপণ

২টি হাদীস

উমার ইবনুল খাত্তাব নারীকে অকালে গর্ভপাত করানো সম্পর্কে মানুষের কাছে পরামর্শ চাইলেন।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَنَّهُ اسْتَشَارَ النَّاسَ فِي إمْلاصِ الْمَرْأَةِ، فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ: «شَهِدْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيهِ بِغُرَّةٍ- عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ- فَقَالَ: ائتني بِمَنْ يَشْهَدُ مَعَك، فَشَهِدَ مَعَهُ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ».
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নারীকে অকালে গর্ভপাত করানো সম্পর্কে মানুষের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তখন মুগীরাহ ইবন শু‘বা বললেন, এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোলাম অথবা একটি বাঁদি দ্বারা ফায়সালা করার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। তখন সে বলল, তোমার সাথে আরও যারা উপস্থিত ছিল তাদের নিয়ে আসো। তখন তার সাথে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামহ সাক্ষী দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

একজন মহিলার ওপর নির্যাতন করার ফলে সে নিজের গর্ভের সন্তান প্রসবের সময় আসার আগেই মৃত অবস্থায় প্রসব করে। ন্যায় পরায়ণ খলীফা উমার ইবনুল খাত্তাব তার যাবতীয় কর্মে ও বিচার কার্যে সিদ্ধান্ত নিতে সাহাবীগণ ও উলমাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এ মহিলাটি যেহেতু তার গর্ভজাত সন্তানকে অসম্পূর্ণ অবস্থায় মৃত গর্ভপাত করল তার দিয়্যতের বিধানটি তার কাছে অস্পষ্ট রইল। তাই তিনি সাহাবীগণের পরামর্শ নিলেন। তখন মুগীরাহ ইবন শু‘বা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভজাত সন্তানের দিয়ত একটি গোলাম অথবা একটি বাঁদি দ্বারা ফায়সালা করেন। তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হুকুমটি সম্পর্কে নিশ্চিত হইতে চাইলেন যা কিয়ামত পর্যন্তের জন্য একটি সামগ্রিক আইনে পরিণত হবে। তখন তিনি মুগীরাহকে তাগীদ দিলেন যেন সে তার কথার সত্যতার ওপর ও তার বর্ণনার বিশুদ্ধতার ওপর সাক্ষী উপস্থিত করে। তখন মুহাম্মাদ ইবন মুসলামাহ আল-আনসারী সে যা বলেছে তার সত্যতার ওপর সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)،1422ه. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমাদের কেউ কি অপর ভাইকে এমনভাবে চিবাতে পারে যেমন উট চিবায়, তোমার কোন ক্ষতিপূরণ নেই

عن عمران بن حصين رضي الله عنهما «أن رجلا عَضَّ يَدَ رجل؛ فَنَزَعَ يَدَهُ من فِيهِ؛ فوقعت ثَنِيَّتُهُ؛ فاختصما إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يَعَضُّ أحدُكم أخاه كما يَعَضُّ الفَحْلُ؛ لا دِيَةَ لك».
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। আর সে তার হাত তার মুখ থেকে টেনে বের করল, ফলে তার সামনের দাঁত পড়ে গেল। তারা দুইজন (অভিযোগ নিয়ে) নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাদের কেউ কি অপর ভাইকে এমনভাবে চিবাতে পারে যেমন উট চিবায়, তোমার কোন ক্ষতিপূরণ নেই?”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির ওপর সীমা লঙ্ঘন করল এবং দাঁত দিয়ে তার হাতকে কামড়ে ধরল, ফলে আহত ব্যক্তি কর্তনকারী ব্যক্তির মুখ থেকে হাত টেনে বের করল, ফলে তার সামনের দু’টি দাঁত পড়ে যায়। তারা দুইজন (অভিযোগ নিয়ে) নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল। যে কামড় দিল সে তার পড়ে যাওয়া দুটি দাঁতের দিয়্যতের দাবি করল। আর যাকে কামড় দেওয়া হলো সে তাকে এ বলে প্রতিহত করছে যে, সে তার হাতকে তাদের দাঁতের থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কেবল। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কামড় দাতার দাবীকে প্রত্যাখ্যান করলেন। হিংস্র জন্তু যে কাজ করে তা কীভাবে মানুষ করতে পারে? তিনি বলেন, তোমাদের কেউ তার অপর ভাইকে কামড় দেয় অতঃপর সে আসে তার অপরাধী দাঁতসমূহের দিয়ত চাইতে। তোমার জন্য কোন ক্ষতিপূরণ নেই। যে শুরুকারী সেই অন্যায়কারী।

সূত্র

1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. 2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. 3- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. 4- عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ. 5- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com