মূল অংশে যান
কুরআনের আরবি · সব পাঠ
ধাপ ২ · পাঠ ৪

দ্বিতীয় ফর্ম: মাঝের অক্ষর দ্বিত্ব

ক্রিয়ার দ্বিতীয় ফর্ম, তার অতীত, বর্তমান ও ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যে, সঙ্গে আটটি বহুল ব্যবহৃত ক্রিয়া, যাদের একটির অর্থ কোর্স নিজে দেয় না।

এআই-এর লেখা ও যাচাই করা

এই পাঠগুলো এআই লিখেছে এবং এআই-ই যাচাই করেছে; আরবির কোনো শিক্ষক এখনও এগুলো পড়েননি। আয়াত, সেগুলোর অর্থ ও প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ নিজ নিজ উৎস থেকে নেওয়া, আর যেখানে দেখানো হয় সেখানে উৎসের নাম দেওয়া আছে।

পুরোপুরি জানা কুরআনের শব্দ
৬৭.৪%
এ পর্যন্ত শেখানো কুরআনের শব্দাংশ
৮০.২%

Quranic Arabic Corpus থেকে গোনা: কোনো শব্দের প্রতিটি অংশ শেখানো হয়ে গেলে শব্দটি পুরোপুরি জানা ধরা হয়। এই সংখ্যাগুলো বলে আপনি কোন শব্দগুলোর দেখা পেয়েছেন, আপনি কতটা বোঝেন তা নয়।

দ্বিতীয় ফর্ম ধাতুমূলের মাঝের অক্ষর দ্বিত্ব করে। অষ্টাদশ পাঠে কায্যাবা-য় এর দেখা পেয়েছেন। প্রথম ও চতুর্থের পরে কুরআনে এটিই সবচেয়ে বেশি। এই পাঠে শিখবেন অতীত ও বর্তমানে এটি কেমন দেখায়, আর এর ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য কেমন।

নতুন শব্দ

  • نَزَّلَকুরআন যেভাবে লেখে: نَزَّلَ · نَزَّلْ · يُنَزِّلُ

    এখানে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি: এই শব্দটি দ্বীনকে বহন করে, এবং এর অর্থ পড়তে হয় আয়াতগুলোতে, পাশে দেওয়া অর্থসহ।

    ধাতুমূল: ن ز لকুরআনে কতবার: ৬২

  • عَلَّمَকুরআন যেভাবে লেখে: عَلَّمَ · يُعَلِّمُ · عَلَّمْ

    শেখাল

    ধাতুমূল: ع ل مকুরআনে কতবার: ৪১

  • بَيَّنُকুরআন যেভাবে লেখে: يُبَيِّنُ · يُبَيِّنَ · بَيَّ

    স্পষ্ট করল

    ধাতুমূল: ب ي نকুরআনে কতবার: ৩৫

  • قَدَّمَকুরআন যেভাবে লেখে: قَدَّمَتْ · تُقَدِّمُ · قَدَّمْ

    সামনে আনল, আগে পাঠাল

    ধাতুমূল: ق د مকুরআনে কতবার: ২৭

  • زَيَّنَকুরআন যেভাবে লেখে: زُيِّنَ · زَيَّنَ · زَيَّ

    সাজাল, আকর্ষণীয় করল

    ধাতুমূল: ز ي نকুরআনে কতবার: ২৬

  • بَدَّلَকুরআন যেভাবে লেখে: بَدَّلْ · بَدَّلَ · يُبَدِّلُ

    বদলে দিল

    ধাতুমূল: ب د لকুরআনে কতবার: ২৩

  • نَجَّىٰকুরআন যেভাবে লেখে: نَجَّيْ · نَجِّ · نَجَّىٰ

    রক্ষা করল

    ধাতুমূল: ن ج وকুরআনে কতবার: ৩৭

  • نَبَّأَকুরআন যেভাবে লেখে: يُنَبِّئُ · أُنَبِّئُ · نَبِّئْ

    জানাল, খবর দিল

    ধাতুমূল: ن ب اকুরআনে কতবার: ৪৬

এদের একটি, নাযযালা, পঁচিশতম পাঠের আনযালা-র মতো কুরআনের ব্যবহারে দ্বীনের অর্থ বহন করে: কোর্স নিজে থেকে এর কোনো অর্থ দেয় না, আয়াতে পড়ুন, পাশে সংস্করণের অর্থ দেওয়া আছে।

অতীত

অতীতে, "সে" কর্তা হলে, ধাতুমূলের প্রতিটি অক্ষরে আ, আর মাঝেরটি দ্বিত্ব।

عَلَّمَ
এর অংশগুলো
  1. عَلَّمَশেখাল
কুরআন ৯৬:৪

‘আল্লামা ("শেখাল"), ‘-ল-ম ধাতুমূল থেকে। ষষ্ঠ পাঠের ‘আলিমা-র ধাতুমূলও এটি, প্রথম ফর্মে। করপাস ‘আল্লামা-কে দ্বিতীয় ফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে।

قَدَّمْتُ
এর অংশগুলো
  1. قَدَّمْসামনে আনল, আগে পাঠাল
  2. تُআমাকে, আমার; আমি (ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে)
কুরআন ৮৯:২৪

কাদ্দামতু হলো কাদ্দাম আর তু ("আমি"), ক-দ-ম ধাতুমূল থেকে।

زَيَّنَّا
এর অংশগুলো
  1. زَيَّসাজাল, আকর্ষণীয় করল
  2. نَّاআমরা (ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে); আমাদেরকে, আমাদের
কুরআন ৬৭:৫

যাইয়ান্না হলো যাইয়ান আর না ("আমরা")। করপাস ক্রিয়ার অংশ লেখে যাইয়া-, কারণ ধাতুমূলের শেষ অক্ষর ন আর না-র ন একবার, শাদ্দাহ সহ, লেখা হয়।

বর্তমান

বর্তমানে সামনের অক্ষরে উ, চতুর্থ ফর্মের মতো, আর দ্বিত্ব অক্ষরে ই।

وَيُعَلِّمُهُمُ
এর অংশগুলো
  1. وَএবং, ও
  2. يُعَلِّمُশেখাল
  3. هُمُতারা (ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে); তাদেরকে, তাদের
কুরআন ৬২:২

ওয়া-ইউ‘আল্লিমুহুমু হলো ওয়া, তারপর ইউ‘আল্লিমু, তারপর হুমু ("তাদের")।

نُّبَدِّلَ
এর অংশগুলো
  1. نُّبَدِّلَবদলে দিল
কুরআন ৭০:৪১

নুবাদ্দিলা হলো নু- ("আমরা") আর ব-দ-ল ধাতুমূল, মাঝের অক্ষর দ্বিত্ব। করপাস একে মানসূব রূপ হিসেবে চিহ্নিত করে, শেষে আ। এর প্রথম অক্ষরেও শাদ্দাহ আছে: এই আয়াতে আগের শব্দের পরে এভাবেই লেখা, এটি দ্বিতীয় ফর্মের অংশ নয়, আর তা কীভাবে পড়া হয়, সেটি তাজবীদ বইয়ের বিষয়।

وَيُبَيِّنُ
এর অংশগুলো
  1. وَএবং, ও
  2. يُبَيِّنُস্পষ্ট করল
কুরআন ২৪:১৮

ওয়া-ইউবাইয়িনু হলো ওয়া আর ইউবাইয়িনু, বাইয়ানা ("স্পষ্ট করল") থেকে, ধাতুমূল ব-ই-ন। একবিংশ পাঠের মুবীন-এর ধাতুমূলও এটি, চতুর্থ ফর্মে। ওপরের তালিকায় ক্রিয়াটি করপাসের লেমার মতো লেখা, শেষে উ; ষষ্ঠ পাঠে যেমন ক্রিয়ার নাম "সে" কর্তা ধরে দেওয়া হয়, সেভাবে এটি বাইয়ানা।

দীর্ঘ স্বরধ্বনিতে শেষ হওয়া ক্রিয়া

نَّجَّيْنَـٰهُم
এর অংশগুলো
  1. نَّجَّيْরক্ষা করল
  2. نَٰআমরা (ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে); আমাদেরকে, আমাদের
  3. هُمতারা (ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে); তাদেরকে, তাদের
কুরআন ৫৪:৩৪

"সে" কর্তা হলে এই ক্রিয়া নাজ্জা: এর ধাতুমূল ন-জ-ও দুর্বল অক্ষরে শেষ, আর ক্রিয়াটি শেষ হয় দীর্ঘ স্বরধ্বনিতে, ছাব্বিশতম পাঠের ক্রিয়াগুলোর মতো। নাজ্জাইনাহুম হলো নাজ্জাই, তারপর না ("আমরা"), তারপর হুম ("তাদের")। ছাব্বিশতম পাঠে ধাতুমূল ও-তে শেষ হলে না-র আগে ছিল আও। দ্বিতীয় ফর্মে ধাতুমূল যে দুর্বল অক্ষরেই শেষ হোক, থাকে আই। এখানে প্রথম অক্ষরের শাদ্দাহ নুবাদ্দিলা-র মতোই: এটি ফর্মের অংশ নয়।

কর্মবাচ্য

অষ্টাদশ পাঠে যেমন শিখেছেন, কর্মবাচ্যের অতীতে প্রথম অক্ষরে উ, দ্বিত্ব অক্ষরে ই।

زُيِّنَ
এর অংশগুলো
  1. زُيِّنَসাজাল, আকর্ষণীয় করল
কুরআন ৪৭:১৪

যুইয়িনা হলো যাইয়ানা-র কর্মবাচ্য। করপাস একে কর্মবাচ্য আর দ্বিতীয় ফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে।

يُنَبَّؤُا۟
এর অংশগুলো
  1. يُنَبَّؤُا۟জানাল, খবর দিল
কুরআন ৭৫:১৩

ইউনাব্বা’উ হলো নাব্বা’আ-র কর্মবাচ্যের বর্তমান, দ্বিত্ব অক্ষরে আ। করপাস একে কর্মবাচ্য আর দ্বিতীয় ফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে। সামনে উ আর দ্বিত্ব অক্ষরে আ: দ্বিতীয় ফর্মের কর্মবাচ্যের বর্তমানে তা-ই থাকে।

ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য: তা-, আর দীর্ঘ ঈ

দ্বিতীয় ফর্মের ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বেশির ভাগ সময় তা-, তারপর ধাতুমূল, শেষ অক্ষরের আগে দীর্ঘ ঈ।

تَنزِيلٌ
এর অংশগুলো
  1. تَنزِيلٌ
কুরআন ৬৯:৪৩

তানযীলুন: করপাস একে দ্বিতীয় ফর্মের ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হিসেবে চিহ্নিত করে, ধাতুমূল ন-য-ল, নাযযালা-র।

একটি বাক্যে

অনুশীলনের জন্য লেখা একটি বাক্য
عَلَّمَ الْمُعَلِّمُ الْوَلَدَ

শিক্ষক ছেলেটিকে শেখালেন।

এই বাক্যটি অনুশীলনের জন্য লেখা। ‘আল্লামা, তারপর কর্তা, তারপর আল-ওয়ালাদা, যাকে শেখানো হলো, কর্মপদে। আল-মু‘আল্লিমু একই ক্রিয়ার কর্তৃবাচক বিশেষ্য, মু- আর দ্বিত্ব অক্ষর সহ।

পড়া

এই পাঠের পর যে শব্দগুলো আপনি পুরোপুরি জানেন, সেগুলো চিহ্নিত করা আছে।

وَمَا (জানা) لَا (জানা) تُبْصِرُونَ (জানা)

এবং যা তোমরা দেখতে পাওনা তারও;

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1
কুরআন ৬৯:৩৯
وَفِىٓ (জানা) أَنفُسِكُمْ (জানা) ۚ أَفَلَا (জানা) تُبْصِرُونَ (জানা)

এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তবুও তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না?

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1
কুরআন ৫১:২১
فَلْيَعْبُدُوا۟ (জানা) رَبَّ (জানা) هَـٰذَا (জানা) ٱلْبَيْتِ (জানা)

অতএব, তারা ‘ইবাদাত করুক এ ঘরের রবের [১],

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1
কুরআন ১০৬:৩

মনে করুন

  • দ্বিতীয় ফর্ম ধাতুমূলের মাঝের অক্ষরকে কী করে?
  • দ্বিতীয় ফর্মের বর্তমানে সামনের অক্ষরে আর দ্বিত্ব অক্ষরে কোন স্বরধ্বনি?
  • এর ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছাঁচ কী?

উত্তর: দ্বিত্ব করে; উ আর ই; তা-, তারপর ধাতুমূল, শেষ অক্ষরের আগে দীর্ঘ ঈ।

পরের পাঠ

পরের পাঠে অষ্টম ফর্ম, যা ধাতুমূলের প্রথম অক্ষরের পরে একটি ত বসায়।