মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কুফরী

৭টি হাদীস

যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকে বা ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।

عن أبي ذر رضي الله عنه مرفوعًا: (ليس من رجل ادَّعَى لغير أبيه -وهو يعلمه- إلا كفر، ومن ادعى ما ليس له، فليس منا وَلَيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ من النار، ومن دعا رجلا بالكفر، أو قال: عدو الله، وليس كذلك، إلا حَارَ عليه).
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, “যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকে বা ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে যে ব্যক্তি এ তিন আমলের থেকে কোন একটি আমলে লিপ্ত হবে তার জন্য রয়েছে কঠিন হুমকি এবং বিশেষ ভয় প্রদর্শন। সুতরাং যে সবগুলোতে লিপ্ত হবে তার অবস্থা কি হবে? প্রথম: “যে ব্যক্তি তার পিতা ও বংশ সম্পর্কে জানে অথচ অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে এবং না জানার বান করে। দুই: যে ব্যক্তি জানা সত্ত্বেও এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, যেমন বংশের দাবী বা মালের দাবী বা কোন পাওনার দাবী, বা কোন আমলের দাবী বা কোন জ্ঞানের দাবী বা নিজের মধ্যে কোন মূল্যবান গুনের দাবী করল যার দ্বারা মানুষকে তার দিকে আকৃষ্ট করল। অথচ সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী তখন তার শাস্তি হবে অনেক বড়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে দায়মুক্ত। আর তার বিষয় হলো সে যেন তার জন্য জাহান্নামের একটি স্থান গ্রহণ করে নেয়। কারণ, সে তাঁরই অধিবাসী। তিন, আর একজন নিরপরাধকে ‘কাফের’ ইয়াহুদী, খৃষ্টান বা সে ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অপবাদ দেওয়া। এ ধরনের ক্ষেত্রে সে যা বলেছে তা তার ওপরই বর্তাবে। কারণ, এ সব খারাপ গুনে গুণান্বিত হওয়ার জন্য সে নিজেই বেশি হকদার তার অপেক্ষা যে একজন মুসলিম যে খারাপ আমল ও কথা থেকে মুক্ত।

সূত্র

صحيح البخاري، دار طوق النجاة، ط 1422هـ. صحيح مسلم، ط دار إحياء التراث العربي، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي. تيسير العلام، للبسام، الناشر: مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة العاشرة، 1426هـ - 2006 م. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط دار الفكر بدمشق، الطبعة الأولى 1381هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“মানুষের মাঝে দুটি স্বভাব রয়েছে, যে দুটি তাদের ভেতর একধরনের(ছোট) কুফর বলে গণ্য: বংশের বদনাম করা এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ: الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ، وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মানুষের মাঝে দুটি স্বভাব রয়েছে, যে দুটি তাদের ভেতর একধরনের(ছোট) কুফর বলে গণ্য: বংশের বদনাম করা এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের ভেতর থাকা জাহিলি চরিত্র ও কাফিরদের দু’টি স্বভাব সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন। আর তা হলো: প্রথমটি: মানুষের বংশে কুৎসা রটনা করা এবং তাদের হেয়ো করা ও তাদের ওপর অহংকার করা। দ্বিতীয়টি: তাকদীরের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে মুসিবতের সময় উচ্চ স্বরে আওয়াজ করা, অথবা কঠিন বিপদে কাপড় ছিড়ে ফেলা।

শিক্ষা
  1. বিনয়াবনতা ও মানুষের ওপর অহংকার না করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।
  2. মুসিবতের সময় সবর করা ও গোস্বা না করা ওয়াজিব।
  3. এসব আমল ছোট কুফর; কুফরের শাখাসমূহ হতে কোনো একটি শাখা কারো ভেতর পাওয়া গেলে সে দ্বীন থেকে বহিস্কারকারী কুফরে লিপ্ত কাফিরে পরিণত হবে না, যে অবধি বড় কুফরিতে লিপ্ত না হবে।
  4. বংশে কালিমা লেপন করার মত যেসব বিষয় মুসলিমদের মাঝে বিবেদ সৃষ্টি করে সেসব থেকে ইসলাম নিষেধ করেছে।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 82) (67). كتاب التوحيد، للإمام محمد بن عبد الوهاب (ص96). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص279). الجديد في شرح كتاب التوحيد، للقرعاوي (ص315).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“একজন অপর জনকে ফাসিক বলে যেন গালি না দেয় এবং একজন অন্যজনকে কাফির বলে অপবাদ না দেয়। কেননা, অপরজন যদি তা না হয়, তবে সে অপবাদ তার নিজের উপরই আপতিত হবে”।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلًا بِالفُسُوقِ، وَلاَ يَرْمِيهِ بِالكُفْرِ، إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ».
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুছেন: “একজন অপর জনকে ফাসিক বলে যেন গালি না দেয় এবং একজন অন্যজনকে কাফির বলে অপবাদ না দেয়। কেননা, অপরজন যদি তা না হয়, তবে সে অপবাদ তার নিজের উপরই আপতিত হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সতর্ক করেছেন যে অপরকে বলল: তুমি ফাসিক, অথবা কাফির, যদি সে তার কথা মত না হয়, তাহলে উল্লিখিত বিশেষণের উপযুক্ত সেই হবে এবং তার কথা তার কাছে ফিরে আসবে, আর যদি যেমন বলেছে তেমন হয় তার কাছে কিছুই ফিরে আসবে না, কারণ সে যা বলেছে সত্য বলেছে।

শিক্ষা
  1. শরীয়ত সম্মত উপাদান ছাড়া মানুষকে কাফির অথবা ফাসিক বলা হারাম।
  2. মানুষের উপর বিধান জারির ক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়া ওয়াজিব।
  3. ইবনু দাকিক আল-ঈদ বলেন, যে কোন মুসলিমকে যে কাফির নয় কাফির বলল এটি তার জন্য বড় ধমক এবং একটি মহান পদস্খলন।
  4. ইবনে হাজার আল-আসকালানী বলেছেন: কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি পাপী বা কাফের হয়ে যান না তার মানে এই নয় যে, أنت فاسق বলাতে তিনি একজন পাপী নন, বরং এই হালতে একটি বিশদ বিবরণ রয়েছে: যদি সে তার অবস্থা বর্ণনা করে তাকে বা অন্যদের উপদেশ দিতে চায়, তাহলে এটা জায়েয। তবে যদি সে তাকে তিরস্কার করার এবং তাকে পাপে প্রসিদ্ধ করার ও তাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা করে তবে তা জায়েয হবে না। কেননা তিনি তাকে রক্ষা করতে এবং তাকে শিক্ষা দিতে এবং তাকে সুন্দর আচরণের সাথে উপদেশ দিতে আদিষ্ট হয়েছেন, সুতরাং, যখনই তিনি এটিকে নম্রভাবে পূরণ করতে সক্ষম হবেন, তখন তাকে কঠোরভাবে এটি করার অনুমতি দেওয়া হয় না; কারণ সে তাকে প্রলুব্ধ করার এবং তাকে এই ধরনের কাজের জন্য জেদ করার কারণ হতে পারে, যেমনটি অনেক লোকের নফস ও প্রকৃতি, বিশেষ করে যদি আদেশদাতা আদেশকৃত ব্যক্তির চেয়ে নিম্ন মর্যাদার হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 15) (6045). صحيح مسلم (1/ 79) (61). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1073). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (18/ 446). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (3/ 82). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 220). التنوير شرح الجامع الصغير، للصنعاني (9/ 275).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

, যেহেতু সে কোনদিনই বলেনি: “হে আমার রব, বিচার দিনে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।”

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، ابْنُ جُدْعَانَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَصِلُ الرَّحِمَ، وَيُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، فَهَلْ ذَاكَ نَافِعُهُ؟ قَالَ: «لَا يَنْفَعُهُ، إِنَّهُ لَمْ يَقُلْ يَوْمًا: رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ».
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইবনু জুদ‘আন জাহিলী যুগে রক্ত সম্পর্ককে ঠিক রাখত ও মিসকীনদেরকে খাবার দিত। এগুলো কি তার কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন: “এটা তার কোন উপকারেই আসবে না, যেহেতু সে কোনদিনই বলেনি: “হে আমার রব, বিচার দিনে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু জুদ‘আন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, আর সে ছিল ইসলাম-পূর্ব যুগে কুরাইশদের অন্যতম নেতা। তার অন্যতম ভালো কাজ ছিল: সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখত, মিসকীনদেরকে খাবার দিত, এরকম আরো অন্যান্য কাজ যেগুলো করার জন্য ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত করছেন যে, এসব আখিরাতে তার কোন কাজে আসবে না। এর কারণ হচ্ছে: সে আল্লাহর সাথে কুফুরী করেছে এবং সে কোনদিন বলেনি যে, হে আমার রব! বিচারের দিনে আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন।

শিক্ষা
  1. হাদীসটিতে ঈমানের ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। আর ঈমান হচ্ছে আমল কবুল হওয়ার শর্ত।
  2. হাদীসটিতে কুফুরীর খারাপ দিক সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। আর কুফুরী হচ্ছে নেক আমলসমূহকে বিনষ্টকারী।
  3. আল্লাহর উপরে এবং আখিরাতের উপরে ঈমান না থাকার কারণে কাফিরদের আমলসমূহ আখিরাতে তাদের কোন উপকারে আসবে না।
  4. ইসলাম গ্রহণ করলে কুফুরী অবস্থায় করা মানুষের নেক আমলসমূহ সংরক্ষিত হবে এবং সেগুলোর কারণে তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 196) (214)، شرح النووي على مسلم (3/87)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 459)، إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (4/ 170)، التنوير شرح الجامع الصغير (2/364)، فتح المنعم (2/54)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (3/ 455).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন?” তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: “আজকে আমার বান্দারা কেউ মুমিন আবার কেউ কাফির হয়ে সকাল করেছে।

عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ».
যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাতভর আসমান থেকে বৃষ্টি হওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াতে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন: “তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন?” তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: “আজকে আমার বান্দারা কেউ মুমিন আবার কেউ কাফির হয়ে সকাল করেছে। যে বলেছে: আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, সে আমার উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে: অমুক অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যক্তি আমাকে অস্বীকারকারী (কাফির) এবং নক্ষত্রের উপরে ঈমান আনায়নকারী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়া -মক্কার নিকটবর্তী একটি গ্রাম-এ ফজর সালাত আদায় করলেন। আর তা ছিল আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর। যখন তিনি সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি তার চেহারা মানুষের ‍দিকে ফিরালেন। এরপরে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মহান প্রতাপশালী রব কী বলেছেন, তা কি তোমরা জান? তখন তারা জবাব দিলেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, বৃষ্টি হলে মানুষ দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে: একটি দল আল্লাহর উপরে বিশ্বাসী আর অপর দল আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে অবিশ্বাসী। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে: আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, আর বৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলার দিকেই সম্পৃক্ত করবে; সে ব্যক্তি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। পক্ষান্তরে যে বলবে: আমরা অমুক অমুক তারকা বা গ্রহের কারণে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি; সে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকারকারী এবং নক্ষত্রের উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী। কেননা আল্লাহ নক্ষত্রকে শরী‘আতের দিক থেকে অথবা তাকদীরের দিক থেকে কোন রকম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেননি। অন্যদিকে যে ব্যক্তি বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রকৃতির ঘটনাগুলোকে গ্রহ-নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত:জনিত গতিবিধির সাথে সম্পৃক্ত করে, এ বিশ্বাসে যে, সেগুলোই প্রকৃত কর্তা, তাহলে সে বড় ধরণের কাফির।

শিক্ষা
  1. বৃষ্টি হওয়ার পরে এ কথা বলা মুস্তাহাব: “আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।”
  2. যারা বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য নি‘আমাতকে সৃষ্টিগতভাবে গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে, তারা বড় ধরনের কুফরে জড়িত কাফির। আর যদি সেগুলোকে কারণ মনে করে সম্পৃক্ত করে, তাহলে সে ছোট কুফরে জড়িত ব্যক্তি; কেননা সেটি শর‘য়ী অথবা বস্তুগত কোন কারণ নয়।
  3. নি‘আমাত কুফরের কারণ, যদি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আবার তা ঈমানের কারণ, যদি তার শুকরিয়া আদায় করা হয়।
  4. এ কথা বলা নিষিদ্ধ: “অমুক অমুক গ্রহের কারণে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।” যদিও সে তা সময়কে উদ্দেশ্য করে বলে, তবৃুও শিরকের পথ উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় তা বর্জনীয়।
  5. নি‘আমাত প্রাপ্ত হওয়া ও দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার সময়ে অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সংযুক্ত রাখা আবশ্যক।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 169) (846)، صحيح مسلم (1/ 83) (71)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 484)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 260).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।

عن جابرٍ رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাত ত্যাগ করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পতিত হওয়ার মাঝে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া। কারণ, সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় রোকন আর ইসলামে তার গুরুত্ব অনেক বেশী। অতএব যে সালাত ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করে ত্যাগ করবে সে সকল মুসলিমের নিকট কাফির। আর যদি শিথিলতা ও অলসতাবশত একেবারেই তা ত্যাগ করে সেও কাফির। এই মাসআলার ওপর সাহাবীদের ঐক্যমত্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর যদি কখনো ছাড়ে কখনো পড়ে সেও এই কঠিন হুশিয়ারির সম্মুখীন।

শিক্ষা
  1. সালাত ও সালাতের প্রতি যত্নশীল থাকার গুরুত্ব। কারণ তা কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্যকারী।
  2. সালাত ত্যাগ ও নষ্ট করা বিষয়ে কঠিন সতর্ক বাণী।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 88) (82)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 271)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 622).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”

عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْعَهْدَ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ».
বুরায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”
এটি তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ও অমুসলিম কাফির, মুনাফিকদের মাঝে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের কথা বর্ণনা করেছেন। কাজেই যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।

শিক্ষা
  1. সালাতের বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্যকারী।
  2. ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হবে, তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা দ্বারা নয়।
সূত্র

سنن النسائي (1/ 231) (463)، سنن الترمذي (4/ 365) (2621)، سنن ابن ماجه (2/ 181) (1079)، مسند أحمد (38/ 20) (22937)، فيض القدير (4/ 395)، ذخيرة العقبى في شرح المجتبى (6/ 192) (6/ 193).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com