ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মু‘আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইয়ামানের (শাসক নিয়োগ করে) পাঠানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেনঃ “তুমি আহলে কিতাবের কাছে যাচ্ছ। কাজেই তাদের কাছে যখন পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ কথার দিকে দাওয়াত দিবে- তারা যেন সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয় তবে তাদের বলবে, আল্লাহ তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এ কথাও মেনে নেয় তবে তাদের বলবে, আল্লাহ তাদের উপর সাদাকা (যাকাত) ফরজ করেছেন- যা তাদের ধনীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের ফকীরদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তোমার এ কথা যদি তারা মেনে নেয়, তবে তাদের উত্তম মাল গ্রহণ হতে বিরত থাকবে এবং মযলুমের বদদু‘আকে ভয় করবে। কেননা, তার (বদদু‘আ) এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু‘আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইয়ামেনে আল্লাহর পথে একজন দাওয়াত দানকারী ও শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন তখন তিনি তাকে বর্ণনা দেন যে, তিনি অচিরেই সেখানকার খৃস্টান সম্প্রদায়ের সম্মুখীন হবেন। যাতে তিনি তাদের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে পারেন। অতপর তিনি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শ্রেণীক্রমে বর্ণনা করেন। তিনি সর্বপ্রথম তাদের কে আক্বীদা সংশোধনের দাওয়াত দিবেন। তারা এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। কেননা তারা এ কথার সাক্ষ্য দিয়ে ইসলামে প্রবেশ করবে। তারা যখন এ সাক্ষ্য মেনে নিবে তখন তাদেরকে সালাত কায়েমের আদেশ দিবে। কেননা তাওহীদের পরে সালাত হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যকীয় ইবাদত। তারা যদি সালাত কায়েম করে তবে তাদেরকে তাদের সম্পদের যাকাত তাদের মধ্যকার দরিদ্র মানুষেকে দেওয়ার আদেশ দিবে। অতপর তিনি তাকে তাদের সর্বোত্তম সম্পদ যাকাত হিসেবে গ্রহণ করতে সতর্ক করেন। কেননা ওয়াজিব হলো মধ্যম মানের সম্পদ যাকাত দিবে। অতপর তিনি তাকে যুলুম থেকে বিরত থাকতে অসিয়াত করেন। যাতে মাযলুম ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে বদদু‘আ না করে। কেননা, তার (বদদু‘আ) আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।
শিক্ষা
“আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই’ এ কথার সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো আল্লাহকে ইবাদতের ক্ষেত্রে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে মানা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সকলের ইবাদত ত্যাগ করা।
‘এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ এ কথার সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর প্রতি এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা। তাকে সত্য বলে স্বীকার করা। তিনি মানব জাতির কাছে আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী এ কথা বিশ্নাস করা।
আলেম এবং আলেমের সমতুল্যদের সাথে সম্বোধন জাহেলের সম্বোধনের মতো নয়; এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলেছেন: “তুমি আহলে কিতাবের কাছে যাচ্ছ।”
মুসলিম তার দ্বীনের ব্যাপারে সদা বিচক্ষণ থাকার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; যাতে সন্দেহ পোষণকারীদের সন্দেহ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। আর তা অর্জিত হয় ইলেম অন্বেষণের মাধ্যমে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়াত প্রাপ্তির পরে ইয়াহুদি ও খৃস্টানদের ধর্ম বাতিল হওয়া প্রমাণিত। তারা কিয়ামতের দিন নাজাতপ্রাপ্ত নন; যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনায়ন করবে।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 119) (1458)، (2/ 128) (1496)، (9/ 114) (7372).
صحيح مسلم (1/ 50) (19).
فتح الباري لابن حجر (13/ 349).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح فوزان (ص54).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص64).
তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নাজদবাসীদের মধ্য হতে এলোমেলো কেশ নিয়ে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। আমরা তার ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে তিনি কী বলছেন, এমনকি তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেবারে কাছে চলে আসলেন। তিনি তখন ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: “দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।” তখন তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন সালাত আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না, তবে তুমি নফল সালাত আদায় করতে পারো। আর রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে।” তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন সিয়াম আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “না। তবে চাইলে নফল সিয়াম পালন করতে পারো।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে যাকাতের কথা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: এছাড়া কি আর কোন অতিরিক্ত সাদাকা আমার উপরে আবশ্যক? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না। তবে তুমি নফল সাদাকা আদায় করতে পারো। অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল: আল্লাহর কসম, এর উপর আমি কোন কিছু বৃদ্ধিও করবো না এবং কমও করবো না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তাহলে সফল হয়ে গেল।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নাজদীদের মধ্য হতে অগোছালো চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন, তার কণ্ঠ উঁচু ছিল, তবে তার কথা বোঝা যাচ্ছিল না, এক পর্যায়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলেন এবং ইসলামের ফরয বিধানসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত দিয়ে শুরু করলেন এবং তাকে বললেন: প্রতি দিন-রাত মিলিয়ে তার উপরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয।
তখন তিনি বললেন: এ পাঁচ ওয়াক্ত বাদে কী অন্য কোন সালাত আমার উপর আবশ্যক হবে?
তখন রসূল বললেন: না, তবে যদি তুমি নফল সালাতগুলি আদায় কর, তা করতে পারো।
তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: আল্লাহ যেসব বিধান তোমার উপর ফরয করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে রমাদান মাসের সিয়াম পালন।
তখন লোকটি বললেন: রমাদানের সিয়াম ব্যতীত আমার উপর আর কোন অতিরিক্ত সিয়াম আবশ্যক হবে?
তিনি বললেন: না, তবে নফল সিয়াম পালন করতে পারবে।
তারপরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশ্যে যাকাতের কথা বললেন।
তখন লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন: ফরয যাকাত আদায় করার পর আমার উপর কী আর কোন সাদাকা আবশ্যক হবে?
তিনি বললেন: না, তবে নফল দান-সাদাকা করতে পারো।
এ ফরযসমূহের বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে লোকটি শুনে পিছনে ঘুরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করলেন যে, কোন বাড়তি-কমতি না করেই তিনি এগুলোকে অবশ্যই পালন করবেন। এর পরপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি লোকটির কসম করার বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সে সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
শিক্ষা
ইসলামী আইন বা শরী‘আতের সহনশীলতা এবং যাদের উপরে শরী‘আত কার্যকর তাদের জন্য এর সহজতা।
লোকটির সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আচরণ, তিনি তাকে নিকটে আসতে এবং প্রশ্ন করতে সুযোগ দিয়েছিলেন।
আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহবানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং তারপরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে শুরু করা।
ইসলাম হচ্ছে আকীদা ও আমলের নাম, সুতরাং ঈমান ছাড়া কোন আমল কাজে আসবে না আর আমল ছাড়াও শুধু ঈমানও কাজে আসবে না।
উক্ত আমলসমূহের গুরুত্ব আর এগুলো ইসলামের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
জুমু‘আহর সালাত ফরয পাঁচ সালাতের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটা জুমু‘আহর দিনের যোহরের সালাতের পরিবর্তে প্রযোজ্য ব্যক্তির উপরে ফরয করা হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শাহাদাতাইন (দুটি সাক্ষ্য দান) এর পরে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরযসমূহ তথা রুকনসমূহের মাধ্যমে শুরু করেছেন; যেহেতু ব্যক্তিটি মুসলিম ছিলেন। আর তিনি হজ্জের কথা উল্লেখ করেননি; কেননা এটি হজ্জ ফরয হওয়ার আগের ঘটনা ছিল অথবা হজ্জ আদায়ের সময় তখনও আসেনি।
মানুষ যখন শরী‘আতের আবশ্যক (ফরয) কাজগুলোর উপরে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে, তখন সে সফল হয়ে যাবে। এর অর্থ এই নয় যে, সে নফল আমল আদায় করবে না; কেননা নফলসমূহের মাধ্যমে কিয়ামাতের দিন ফরযের পূর্ণতা দেওয়া হবে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 18) (46).
صحيح مسلم (1/ 40) (11).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين.
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 346).
نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 857).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 242).
ইবনু ‘উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর তাঁরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত প্রদান করবে। যখন তারা এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত (জান) ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করবে; কিন্তু ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ জিহাদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই এবং তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে। আর এ সাক্ষ্যদানের দাবি হলো দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ে যত্নবান হবে, তারা যাকাতের হকদারকে তাদের প্রাপ্য ফরয যাকাত প্রদান করবে। তারা যখন এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন ইসলাম তাদের রক্ত (জান) ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা প্রদান করবে। ফলে তাদেরকে হত্যা করা বৈধ হবে না; তবে তারা যদি কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে অথবা এমন কোন জঘন্য শাস্তিযোগ্য কাজে লিপ্ত হয়, ইসলামী বিধানে যার শাস্তি হলো হত্যা, তখন সেটি ভিন্ন কথা।(১) অতপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন, যেহেতু তিনি তাদের গোপনীয় সকল কিছু অবগত।
শিক্ষা
দুনিয়াবি বিধি-বিধান প্রয়োগ হয় বাহ্যিক অবস্থার উপর বিবেচনা করে। আর আল্লাহ অপ্রকাশ্য ও পোগনীয় বিষয়ের দায়িত্ব নেন।
হাদীসে তাওহীদের দিকে দাওয়াতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে শুরু করতে হবে।
এ হাদীসের অর্থ এ নয় যে, মুশরিকদেরকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হবে; বরং তারা ইসলাম গ্রহণ অথবা জিযিয়া কর প্রদানের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন। যদি তারা ইসলামের এ দাওয়াত (ইসলাম গ্রহণ অথবা জিযিয়া কর প্রদান) অস্বীকার করে, তবেই ইসলামের বিধান মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 14) (25).
صحيح مسلم (1/ 53) (22).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل السعدي (ص23).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص125).
মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোন এক ভ্রমণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন যেতে যেতে আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল এমন একটি কাজ সম্পর্কে আমাকে জানিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম হতে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: “তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অতি সহজ যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা তা সহজ করে দেন। তুমি আল্লাহ তা’আলারই ইবাদাত করবে, কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোযা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে”। তিনি আরো বললেনঃ “আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দিব না? রোযা হলো ঢালস্বরূপ, দান-খাইরাত গুনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং কোন ব্যক্তির মধ্যরাতের নামায আদায় করা”। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} থেকে {يَعْمَلُونَ} পর্যন্ত। [অর্থ: “তাদের দেহপাশ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তারা তাদের প্রভুকে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ"। (সূরা আস-সিজদা ১৬, ১৭) তিনি আবার বলেনঃ “আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না”? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ “সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো নামায এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ”। তিনি আরো বললেন? “আমি কি এসব কিছুর সার সম্পর্কে তোমাকে বলব না”? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী! তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেনঃ “এটা সংযত রাখ”। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা যে কথাবার্তা বলি এগুলো সম্পর্কেও কি পাকড়াও করা (জবাবদিহি) হবে? তিনি বললেনঃ “হে মু’আয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে শুধুমাত্র জিহবার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্রের সমন্বয়ে সহীহ।
ব্যাখ্যা
মুআয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং একদিন হাঁটতে হাঁটতে তাঁর সান্নিধ্য পেলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু বলুন যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি আমাকে আত্মার পক্ষে আঞ্জাম দেওয়া বড় কঠিন আমল (কর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছো তবে এটি তার জন্য সহজ স্বাভাবিক যার জন্য আল্লাহ তা সহজ করে দেন। ইসলামের ফরযগুলো আদায় করুন:
প্রথমটি: তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।
দ্বিতীয়: তুমি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতগুলো তার শর্ত রোকন ও ওয়াজিব সমূহ সহ আদায় করবে: ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা।
তৃতীয়: ফরয যাকাত প্রদান করবে। এটি শরীয়তে নির্ধারিত পরিমাণ প্রত্যেক সম্পদে ওয়াজিব একটি অর্থ সম্পর্কিত ইবাদত, যা তার প্রাপ্যদের দেওয়া হয়।
চতুর্থ: রমজানের রোজা, যা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে পানাহার ও অন্যান্য জিনিস থেকে বিরত থাকা।
পঞ্চম: তুমি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে কা‘বা গৃহের হজ করবে।
অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে সেই পথের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব না যা কল্যাণের দরজায় নিয়ে যায়? আর তা হলো সেই ফরযগুলোর সাথে নফল সালাতসমূহ আদায় করা:
প্রথমত: নফল সিয়াম, যা প্রবৃত্তিকে ভেঙ্গে এবং শক্তিকে দুর্বল করে পাপে পতিত হতে বাধা দেয়।
দ্বিতীয়ত: নফল দান করা, যা কৃত পাপকে নিঃশেষ ও দূর করে দেয় এবং এর প্রভাব মুছে ফেলে।
তৃতীয়ত: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের সালাত। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার বাণী পাঠ করলেন: {تتجافى جنوبهم} অর্থাৎ, তারা নিজেদেরকে {عن المضاجع} বিশ্রামের স্থানগুলো থেকে দূরে রাখে। {يدعون ربهم خوفا وطمعا } তারা ভয় ও আশায় তাদের রবকে ডাকেন সালাত, যিকির, তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে। {ومما رزقناهم ينفقون، فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين} এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, সুতরাং কোন নফস জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন এবং জান্নাতে তাদের চোখকে যা আনন্দিত করবে, {جزاء بما كانوا يعملون} তারা যা করত তার প্রতিদান স্বরূপ।
অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়, তার স্তম্ভ যার উপর তা নির্ভর করে এবং তার কুঁজ (উঁচু ঝাণ্ডা) সম্পর্কে অবহিত করব না?
মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দীনের প্রধান বিষয় হল: ইসলাম, যা হলো দুটি সাক্ষ্য। আর এই দু’টির মাধ্যমে মানুষের সাথে দীনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর তার স্তম্ভ হল সালাত, সালাত ছাড়া ইসলাম নেই, যেভাবে স্তম্ভ ছাড়া ঘর হতে পারে না, কাজেই যে সালাত আদায় করল তার দীন মজবুত ও উন্নত হল। আর আল্লাহর বাণীকে উঁচু করার জন্য দীনের শত্রুদের সাথে লড়াই করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় ও জিহাদের মাধ্যমে তার কুঁজ (উঁচু মর্যাদা) এবং তার উচ্চতা সাব্যস্ত হয়।
অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাকে পূর্বে উল্লেখ করা বিষয়ের নির্ভুলতা এবং পরিপূর্ণতা সম্পর্কে অবহিত করব না? ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জিহ্বা ধরে বললেন: এটিকে বিরত রাখ এবং যা তোমার প্রয়োজন নেই সে বিষয়ে কথা বল না। মুয়াজ বললেন: আমরা যা বলি তার প্রত্যেক বিষয়ে আমাদের রব কি আমাদেরকে জবাবদিহি করবেন এবং শাস্তি দেবেন?
তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! এর দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা তার জন্য বদ-দো‘আ নয়, বরং যে বিষয়ে তার মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল এবং যে বিষয়টি তার জানা জরুরি ছিল সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করার জন্য এটি আরবদের একটি কথা। তারপর তিনি বললেন: মুখের ফসল কুফর, মিথ্যারোপ, গালমন্দ, দোষচর্চা, গীবত, পরনিন্দা, অপবাদ ইত্যাদি ছাড়া আর কিসে তাদেরকে মুখের উপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?
শিক্ষা
সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইলমের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। এ কারণে তারা প্রায়শই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতেন।
সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফিকহ (বুঝ); কারণ তারা জানতেন যে আমল হল জান্নাতে প্রবেশের একটি মাধ্যম।
মুয়ায রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকে যে প্রশ্নটি এসেছে; খুবই বড় একটি প্রশ্ন। প্রকৃতপক্ষে এটিই হল জীবন ও অস্তিত্বের মূল রহস্য; কারণ এই দুনিয়াতে বিদ্যমান প্রতিটি অস্তিত্বের আদম সন্তান হোক অথবা জিন চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল জান্নাত অথবা জাহান্নাম। অতএব এই প্রশ্নটি খুবই মহান ছিল।
ইসলামের পাঁচটি রোকন আঞ্জাম দেওয়ার ওপর জান্নাতে প্রবেশ করা নির্ভর করে, তা হল: দু’টি সাক্ষ্য, সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজ।
দ্বীনের প্রধান বিষয়, দায়িত্বের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান এবং সর্বোচ্চ কর্তব্য হল এক আল্লাহর ইবাদত সাব্যস্তের মাধ্যমে যার কোনো শরীক নেই তাওহীদ বাস্তবায়ন করা।
বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত যে তিনি তাদের জন্য কল্যাণের দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন যাতে তারা সাওয়াব ও পাপ থেকে ক্ষমা লাভের উপায়সমূহ গ্রহণ করতে পারেন।
ফরয সালাত আদায়ের পর নফল সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করার ফযীলত।
ইসলামে সালাত সেই স্তম্ভের মত যার উপর একটি তাঁবু দাঁড়িয়ে থাকে, যা চলে গেলে ইসলাম অদৃশ্য হয়ে যায়, যেমন একটি তাঁবুর স্তম্ভ পড়ে গেলে তাঁবু পড়ে যায়।
যে সব বস্তু তার দীনের ক্ষতি করে তা থেকে জিহ্বাকে হেফাজত করা আবশ্যক।
জিহ্বাকে সংযত করা এবং তাকে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করাই হল সকল কল্যাণের ভিত্তি।
সূত্র
سنن الترمذي (4/ 362) (2616).
سنن ابن ماجه (5/ 116) (3973).
مسند أحمد (36/ 344) (22016).
التحفة الربانية، لإسماعيل الأنصاري (ص67).
شرح الأربعين النووية، للعثيمين (ص291).
الأحاديث الأربعين النووية مع ما زاد عليها ابن رجب وعليها الشرح الموجز المفيد، لعبد الله بن صالح المحسن (ص57).
মিকদাদ ইবনু ‘আমর কিনদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত: তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন,আপনার কি মত বলুন, কোন কাফিরের সঙ্গে আমার যদি (যুদ্ধক্ষেত্রে) সাক্ষাৎ হয় এবং আমরা পরস্পর লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং তারপর আমার থেকে বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে ‘‘আমি আল্লাহর উদ্দেশে ইসলাম গ্রহণ করলাম’’ এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব? তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তাকে হত্যা করবে না”। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার একখানা হাত কাটার পর এ কথা বলছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, না, তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার আগে তার যে স্তর ছিল তুমি সেই স্তরে পৌঁছে যাবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মিকদাদ ইবন আল-আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে একজন কাফেরের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তারা তরবারি নিয়ে লড়াই করেন, অবশেষে কাফের তার একটি হাতকে আঘাত করে তরবারি দিয়ে তা কেটে ফেলল, অতঃপর কাফের তার কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে একটি গাছে আশ্রয় নিল এবং বলল: لا إله إلا الله আমার হাত কেটে ফেলার পর কি আমার জন্য তাকে হত্যা করা জায়েজ হবে?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে হত্যা করো না।
তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলেছে, তবু আমি তাকে হত্যা করব না?
তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে হত্যা করো না, কারণ তার রক্ত হারাম হয়ে গেছে। যদি তার ইসলাম গ্রহণের পর তাকে হত্যা কর, তাহলে ইসলাম গ্রহণের কারণে সে তোমার জায়গায় নিষ্পাপ রক্তের অধিকারী আর কিসাস হিসাবে তাকে হত্যা করলে তার জায়গায় তুমি হালাল রক্তের অধিকারী।
শিক্ষা
যে ব্যক্তি কথায় বা কাজে তার ইসলাম গ্রহণের প্রমাণ দেয়, তাকে হত্যা করা হারাম।
যুদ্ধের সময় কাফেরদের মধ্যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার রক্ত রক্ষা করা হবে এবং তার থেকে তার বিপরীত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার থেকে বিরত থাকতে হবে।
একজন মুসলিমের প্রবৃত্তি সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিশোধের বাইরে শরীয়তের অনুগত হওয়া ওয়াজিব।
ইবনু হাজার বলেন: ঘটনাটি ঘটেনি এমন সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে সমস্যা তৈরি হওয়ার আগে তার সম্পর্কে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা জায়েয প্রমাণিত হয়। আর কতক পূর্বসূরীদের (সালাফদের) থেকে ঘটার আগে সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা অপছন্দনীয় বর্ণনা করা হয়েছে সেটি যা খুব কম ঘটে এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে যা সচরাচর ঘটে তা জানার জন্য জিজ্ঞাসা করা জায়েজ।
সূত্র
صحيح البخاري (5/ 85) (4019).
صحيح مسلم (1/ 95) (95).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 359).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 461).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 345).
المعجم الوسيط، (2/ 815).
عن أسامة بن زيد رضي الله عنهما ، قال: بَعَثَنَا رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إلى الحُرَقَةِ من جُهَيْنَةَ فَصَبَّحْنَا القَوْمَ على مِيَاهِهِم، ولَحِقْتُ أنا ورجلٌ من الأنصارِ رجلًا منهم، فلما غَشِينَاهُ، قال: لا إله إلا الله، فَكَفَّ عنه الأَنْصَارِيُّ، وطَعَنْتُهُ بِرُمْحِي حَتَّى قَتَلْتُهُ، فَلَمَّا قَدِمْنَا المدينةَ، بَلَغَ ذَلِكَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فقال لي: «يا أسامةُ، أَقَتَلْتَهُ بَعْدَ مَا قَالَ: لا إلهَ إلَّا اللهُ؟!» قُلْتُ: يا رسولَ اللهِ، إنما كان مُتَعَوِّذًا، فقال: «أَقَتَلْتَهُ بعد ما قال: لا إلهَ إلَّا اللهُ؟!» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا عَلَيَّ حتى تَمَنَّيْتُ أَنِّي لم أَكُنْ أَسْلَمْتُ قَبْلَ ذَلِكَ اليَوْمِ.
وفي رواية: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «أَقَالَ: لا إلهَ إلا اللهُ وَقَتَلْتَهُ؟!» قُلْتُ: يا رسولَ اللهِ، إنما قَالَهَا خَوْفًا من السِّلَاحِ، قال: «أَفَلَا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ أَقَالَهَا أَمْ لَا؟!» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي أَسْلَمْتُ يَوْمَئِذٍ.
وعن جندب بن عبد الله رضي الله عنه : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بَعَثَ بَعْثًا مِن المسلمينَ إلى قومٍ من المشركينَ، وأنهم الْتَقَوا، فَكَانَ رجلٌ مِن المشركينَ إذا شَاءَ أَنْ يَقْصِدَ إلى رجلٍ مِن المسلمينَ قَصَدَ له فَقَتَلَهُ، وأَنَّ رجلًا مِن المسلمينَ قَصَدَ غَفْلَتَهُ. وكُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّهُ أسامةُ بْنُ زيدٍ، فَلَمَّا رَفَعَ عَلَيْهِ السَّيْفَ، قال: لا إلهَ إلا اللهُ، فَقَتَلَهُ، فجاءَ البَشِيرُ إلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ وأَخْبَرَهُ، حتى أَخْبَرَهُ خَبَرَ الرجلِ كَيْفَ صَنَعَ، فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ، فقال: «لِمَ قَتَلْتَهُ؟» فقال: يا رسولَ اللهِ، أَوْجَعَ في المسلمينَ، وقَتَلَ فُلانًا وفُلانًا، وسَمَّى له نَفَرًا، وإِنِّي حَمَلْتُ عليهِ، فَلَمَّا رَأَى السَّيْفَ، قال: لا إلهَ إلا اللهُ. قال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَقَتَلْتَهُ؟» قال: نعم. قال: «فَكَيْفَ تَصْنَعُ بلا إلهَ إلا اللهُ، إذا جَاءَتْ يَومَ القِيَامَةِ؟» قال: يا رسولَ اللهِ، اسْتَغْفِرْ لِي. قال: «وكَيْفَ تَصْنَعُ بلا إلهَ إلا اللهُ إذا جَاءَتْ يَوْمَ القِيَامَةِ؟» فجعل لا يَزِيدُ على أَنْ يقولَ: «كَيْفَ تَصْنَعُ بلا إلهَ إلا اللهُ إذا جَاءَتْ يَوْمَ القيامةِ».
উসামা ইবনে যায়দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জুহাইনা গোত্রের এক শাখা হুরাকার দিকে পাঠালেন।অতঃপর আমরা সকাল সকাল পানির ঝর্নার নিকট তাদের ওপর আক্রমণ করলাম।(যুদ্ধ চলাকালীন) আমি ও একজন আনসারী তাদের এক ব্যক্তির পিছনে ধাওয়া করলাম। যখন আমরা তাকে ঘিরে ফেললাম, তখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। আনসারী থেমে গেলেন, কিন্তু আমি তাকে আমার বল্লম দিয়ে গেঁথে দিলাম।এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেললাম। অতঃপর যখন আমরা মদীনা পৌঁছলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ খবর পৌঁছল। তিনি বললেন, ‘‘হে উসামা! তার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ পুনরায় তিনি বললেন, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও তুমি তাকে খুন করেছ?’’ তিনি আমার সামনে এ কথা বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আজকের পূর্বে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম (অর্থাৎ এখন আমি মুসলিম হতাম)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘সে কি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তুমি তাকে হত্যা করেছ?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে কেবলমাত্র অস্ত্রের ভয়ে এই (কলেমা) বলেছে।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যে, সে এ (কলেমা) অন্তর থেকে বলেছিল কি না?’’ অতঃপর একথা পুনঃ পুনঃ বলতে থাকলেন। এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আমি আজ মুসলিম হতাম।জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম মুজাহিদীনের একটি দল এক মুশরিক সম্প্রদায়ের দিকে পাঠালেন। তাদের পরস্পরের মধ্যে মুকাবেলা হল। মুশরিকদের মধ্যে একটি লোক ছিল সে যখন কোনো মুসলিমকে হত্যা করার ইচ্ছা করত, তখন সুযোগ পেয়ে তাঁকে হত্যা করে দিত। (এ অবস্থা দেখে) একজন মুসলিম (তাকে খুন করার জন্য) তার অমনোযোগিতার সুযোগ গ্রহণ করলেন। আমরা পরস্পরের মধ্যে বলাবলি করছিলাম যে, উনি হলেন উসামা ইবনে যায়দ। (অতঃপর যখন সুযোগ পেয়ে) উসামা তরবারি উত্তোলন করলেন, তখন সে বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কিন্তু তিনি তাকে হত্যা করে দিলেন। অতঃপর (মুসলিমদের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সংবাদ নিয়ে) সুসংবাদবাহী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। তিনি তাকে (যুদ্ধের ব্যাপারে) জিজ্ঞাসা করলেন। সে তাঁকে (সমস্ত) সংবাদ দিল। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে ঐ ব্যক্তিরও খবর অবহিত করল। তিনি উসামাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ‘‘তুমি কেন তাকে হত্যা করেছ?’’ উসামা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে মুসলিমদেরকে খুবই কষ্ট দিয়েছে এবং অমুক অমুককে হত্যাও করেছে।’ উসামা কিছু লোকের নামও নিলেন। ‘(এ দেখে) আমি তার উপর হামলা করলাম। অতঃপর সে যখন তরবারি দেখল, তখন বলল, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তাকে হত্যা করে দিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’ উসামা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তিনি বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’ (তিনি বারংবার একথা বলতে থাকলেন এবং) এর চেয়ে বেশী কিছু বললেন না, ‘‘কিয়ামতের দিন যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আসবে, তখন তুমি কী করবে?’’
এটি মুসলিম তার দুই রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে এক যুদ্ধে জুহাইনা গোত্রের এক শাখা হুরাকার দিকে পাঠালেন। যখন তারা জুহাইনা গোত্রে পৌঁছলেন এবং তাদেরকে ঘেরাও করে ফেললেন তখন মুশরিকদের এক ব্যক্তি পলায়ন করলে উসামা ও একজন আনসারী তার পিছনে ধাওয়া করল। যখন তারা তাকে ধরে ফেলল, তখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। যখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল আনসারী তাকে ছেড়ে দিল, কিন্তু উসামা তাকে তার বল্লম দিয়ে হত্যা করে ফেলল। অতঃপর যখন তারা মদীনা পৌঁছলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি উসামাকে বললেন, “সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করেছ?” তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল। সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ পুনরায় তিনি বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও কি তুমি তাকে খুন করেছ?” তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল। সে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এরূপ করেছে।’ সে মুসলিমদের কষ্ট দিয়েছে, সে অমুক অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার বক্ষ কেন বিদীর্ণ করনি, যেন তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস কর ও নিশ্চিত হতে পার? কিয়ামতের দিন যখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ নিয়ে আসবে, তখন তুমি কী করবে? কে তোমার জন্যে সুপারিশ করবে, কে তোমার পক্ষে কথা বলবে, কে তোমার পক্ষ নিয়ে ঝগড়া করবে যখন তাওহীদের কালেমা নিয়ে আসা হবে? আর তোমাকে বলা হবে, ‘তুমি কীভাবে তাকে হত্যা করলে যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল। ’উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ বললেন, এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, যদি আজকের পূর্বে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম। কারণ, যদি তিনি কাফির হতেন অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করতেন তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতেন; আজ মুসলিম অবস্থায় এ কাজটি করে ফেললেন।
সূত্র
رياض الصالحين، للنووي، نشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق – بيروت، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428هـ - 2007م.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م.
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426ه.
كنوز رياض الصالحين، نشر: دار كنوز إشبيليا، الطبعة: الأولى، 1430ه 2009م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415ه.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনিদ্রা এবং জ্বরে অংশ নেয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, কল্যাণ কামনা, দয়া, সাহায্য-সহযোগিতা এবং কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে এক মুমিনের সাথে অন্য মুমিনের সম্পর্ক একটি দেহের ন্যায়। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অনিদ্রা এবং জ্বরে ভোগে।
শিক্ষা
মুসলিমদের অধিকারকে সম্মান করা, তাদের মাঝে পরস্পরে সহযোগিতা ও স্নেহ-মমতা করা উচিত ।
ঈমানদারদের মাঝে ভালোবাসা ও সাহায্য-সহযোগিতা থাকা আবশ্যক।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 10) (6011).
صحيح مسلم (4/ 1999) (2586).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 246).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 317).
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (4/ 405).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص173).
المعجم الوسيط (1/ 492).
عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عُمَر رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ».
ইবন `উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»
“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। -এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযানের সাওম পালন করা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে সুদৃঢ় পাঁচটি ভিত্তির উপর তুলনা করেছেন, যা উক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো যেন উক্ত ভিত্তির পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। এসব রুকনের প্রথমটি হলো: দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল -এ কথার সাক্ষ্য দান করা। এ দুটি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া মূলত একটি রুকন। একাংশ আরেক অংশ থেকে আলাদা হয় না। আল্লাহর তাওহীদের-একত্বের স্বীকৃতি ও তিনি একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত ।এ স্বীকৃতি সহকারে বান্দাহ এ কালিমা তার মুখে উচ্চারণ করবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উপর ঈমান আনায়ন ও তাঁর আনুসরণ করবে । দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা। আর তা হলো দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সহকারে আদায় করা। সেগুলো হলো: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা। তৃতীয় রুকন: ফরয যাকাত দেয়া। এটি মূলত ধন-সম্পদের উপর ফরযকৃতএকটি ইবাদত।শরী‘আহ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকলে,যাকাত পাওয়ার হকদারদেরকে প্রদান করা ফরয করেছে। চতুর্থ রুকন: হজ করা। তা হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে হজের কার্যাবলি পালনের জন্যে মক্কায় গমন করা। পঞ্চম রুকন: রমযানের সাওম পালন করা। আর তা হলো ইবাদতের নিয়তে রমযান মাসে ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
শিক্ষা
দু’টি কালিমার সাক্ষ্য একত্রে দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং একটি বাদে অপরটি বিশুদ্ধ হবে না। এ কারণে দু’টি কালিমার সাক্ষ্যকে একটি রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দ্বীনের মূল। সুতরাং কারো কোন কথা ও আমল এ দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া ব্যতীত গ্রহণ করা হবে না।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 11) (8)، صحيح مسلم (1/ 45) (16)، و(1/ 88) (82)، فتح الباري لابن رجب (1/ 22)، جامع العلوم والحكم (1/147)، شرح الأربعين لابن العطّار (ص 62)، شرح الأربعين النووية لعبد الكريم الخضير (ص 87)، فتح القوي المتين في شرح الأربعين للعباد (ص 29)، شرح الأربعين النووية لصالح آل الشيخ (ص 91 - 95)، التحفة الربانية لإسماعيل الأنصاري (ص 12).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com