মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। (উযূ করার সময়) আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলার জন্য ঝুকলে তিনি বললেন:
ও দু’টো থাক, আমি পবিত্র(ওজু) অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম।" (এই বলে) তিনি তার উপর মাসেহ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। অতঃপর তিনি অযু করলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’পা ধৌত করার পালা আসলো, তখন মুগীরাহ ইবন শু‘বাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর পায়ের মোজা দু’টি খুলতে হাত বাড়িয়ে দিলেন, যাতে তিনি তাঁর পা ধৌত করতে পারেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ও দু’টো থাক, এ দু’টো খুলো না; কারণ আমি ওজু অবস্থায় উভয় পা মোজা দুটিতে প্রবেশ করেছিলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসেহ করলেন।
শিক্ষা
মোজার উপর মাসেহ তখনই শরী‘আহ অনুমোদিত হবে যখন তা ছোট অপবিত্রতা থেকে অযুর মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার জন্যে করা হবে। কিন্তু বড় অপবিত্রতার জন্যে গোসলের প্রয়োজন হলে তখন অবশ্যই পা ধৌত করতে হবে।
মোজার উপর মাসেহ করতে ভিজা হাত পায়ের মোজার উপরিভাগে টেনে নিতে হবে। মোজার নিচের অংশে নয়।
মোজার উপর মাসেহ করার শর্ত হলো,(1) এটি পূর্ণ অযুর পরে পরিধান করা, যে অযুতে পা পানি দ্বারা ধৌত করা হয়েছে। (2)মোজাটি স্বয়ং পবিত্র হওয়া,(3)অযুর জন্যে পা ধৌত করার পূর্ণ অংশ ঢেকে থাকা।(4) এর দ্বারা ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্যে মাসেহ করা; বড় অপবিত্রতা থেকে বা যে কারণে গোসল ফরয হয়, তাতে না করা।(5) শরী‘আহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসেহ করা। আর তা হলো: মুকীমের জন্যে একদিন একরাত এবং মুসাফিরের জন্যে তিনদিন তিনরাত।
চামড়ার মোজার উপর মাসেহের উপরে অন্যান্য মোজাকে কিয়াস করা, যা দ্বারা দু’পা ঢেকে থাকে। সুতরাং সেসব মোজা দ্বারাও মাসেহ করা জায়েয।
হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আখলাক ও শিক্ষা ফুটে উঠেছে। কেননা তিনি মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মোজা খুলতে নিষেধ করেছেন এবং এর কারণও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তা ওজু অবস্থায় পরিধান করেছেন। যাতে তিনি তাকে আত্মিক প্রশান্তি দিতে পারেন এবং বিষয়টির হুকুম জানাতে পারেন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 52) (206).
صحيح مسلم (1/ 230) (274).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص50).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 36).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص27).
হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, তখন তিনি কোন একটি কওমের আবর্জনা স্তুপের কাছে এসে দাঁড়িয়ে প্রসাব করলেন, তখন আমি দূরে সরে দাঁড়ালে তিনি আমাকে বললেন: “কাছে দাঁড়াও”, তখন আমি কাছে এসে একেবারে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম, তারপরে তিনি অযূ করলেন এবং দুটি মোজার উপরে মাসেহ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসাব করার ইচ্ছা করলেন, এরপরে তিনি কোন এক কওমের আবর্জনার স্তুপের কাছে গেলেন, এটি হচ্ছে এমন স্থান যেখানে বাড়ী-ঘরের ময়লা ধুলামাটি ঝাড়ু দিয়ে ফেলা হয়। তারপরে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে প্রসাব করলেন। তবে তার অধিকাংশ সময়ের অভ্যাস ছিল, তিনি বসে প্রসাব করতেন।
তখন হুযাইফা তার থেকে দূরে সরে গেলেন, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: কাছে আস, তখন হুযাইফা কাছে আসতে থাকলেন, এমনকি তিনি তার পিছনে একদম দুই পায়ের গোড়ালীর নিকটে দাঁড়ালেন, যাতে করে ঐ অবস্থায় তাঁকে দেখা যাওয়ার ব্যাপারে তিনি তার জন্য পর্দার ন্যায় হয়ে যান।
এরপরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযু করলেন, আর দুই পা ধোয়ার সময়ে তিনি তার দুই পায়ের মোজা না খুলে তার উপরে মাসেহ করে রেখে দিলেন।
-(خف) তথা মোজা হচ্ছে: পায়ে পরিধান করা হয় এমন বস্তু যা পাতলা চামড়া অথবা অনুরূপ কিছু হতে তৈরী এবং দুই পায়ের টাখনুকে ঢেকে রাখে-।
শিক্ষা
মোজার উপরে মাসেহ করা শরীয়ত সম্মত।
দাঁড়িয়ে প্রসাব করা জায়েয, তবে শর্ত হচ্ছে: প্রসাবের কোন অংশ তার শরীরে যেন না পৌঁছে ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ময়লা-আবর্জনা ও ধুলাবালি ফেলার স্থানকে বেছে নিয়েছিলেন; কারণ সাধারণত এতে প্রসাবকারীর দিকে প্রসাব ফিরে আসে না।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 54) (224).
صحيح مسلم (1/ 228) (273).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص51).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 61).
যির ইবনু হুবাইশ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: মোজাদ্বয়ের উপর মসিহ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার উদ্দেশে আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী-এর কাছে আগমন করলাম। তিনি বললেন, হে যির! তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, ইলমের অন্বেষা! তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার ফেরেশতাগণ ইলমের অন্বেষায় খুশি হয়ে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। আমি বললাম, আমার মনে একটা দ্বিধাদ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছে মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে। আর আপনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তাই আপনাকে আমি প্রশ্ন করতে এসেছি যে, এ প্রসঙ্গে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন কি?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি নির্দেশ দিতেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় থাকলে এবং নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত যেন আমাদের মোজাদ্বয় না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ এবং ঘুমানোর কারণে তা খোলার দরকার নেই, বরং শুধু তার উপর মাসেহ করলেই চলবে।
যির বলেন, আমি বললাম, মহব্বত (ভালবাসা) প্রসঙ্গে আপনি কি তাকে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন আমরা তার নিকটেই ছিলাম, এমন সময় এক বেদুঈন উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিয়ে বলে, হে মুহাম্মাদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার ন্যায় একই রকম উচ্চ শব্দে তার ডাকে জবাব দিলেনঃ “আস”। সেই বেদুঈনকে আমরা বললাম, তোমার অমঙ্গল হোক, তোমার কণ্ঠস্বর নীচু কর। কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আছ। নবীর সম্মুখে তোমাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে (কুরআনে)।
লোকটি বলল, আল্লাহর শপথ! আমি নীচু স্বরে কথা বলতে পারি না। এবার সে বলল, এক লোক এক গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “কোন লোক যাকে ভালবাসে কিয়ামতের দিন সে তার সঙ্গেই থাকবে”। তারপর তিনি আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে তিনি পাশ্চাত্যে অবস্থিত একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যা এত দীর্ঘ যে, একটি সওয়ারীর সেই দরজার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পার করতে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছর সময় লাগবে।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যির ইবন হুবাইশ সফওয়ান ইবন আ'স্সাল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকে মোজার ওপর মাসাহ্ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সফওয়ান বললেন, হে যির! কী কারণে তুমি এসেছো? যির বললেন, ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে।
তখন সফওয়ান বললেন, নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্টি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তাদের পাখা বিছিয়ে দেয়। এরপর যির বললেন, মোজার ওপর মাসাহ্ করার বিষয়ে আমার মনে দ্বিধা ছিল, বিশেষ করে পায়খানা ও প্রস্রাবের পর। আর আপনি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবী, তাই আমি জানতে চাচ্ছি — আপনি কি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহকে কিছু বলতে শুনেছেন? সফওয়ান বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, যখন আমরা মুসাফির থাকতাম, তখন যেন ছোট নাপাকির কারণে — যেমন পায়খানা, প্রস্রাব বা ঘুম — তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত মোজা না খুলি। তবে জানাবতের কারণে অবশ্যই মোজা খুলতে হতো। তখন আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা (মহব্বত) সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সফরে ছিলাম। সে সময় আমরা তাঁর কাছে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ এক বেদুঈন উচ্চ স্বরে ডাক দিল: হে মুহাম্মাদ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কণ্ঠের কাছাকাছি উচ্চ স্বরেই উত্তর দিলেন: এসো। আমরা তাকে বললাম: ধ্বংস হোক তোমার! তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে আছো, আর তাঁর সামনে উচ্চ স্বরে কথা বলার বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। বেদুঈন নিজের রূঢ়তার কারণে বলল: আল্লাহর কসম! আমি কণ্ঠস্বর নিচু করব না।
তারপর বেদুঈন বলল: হে আল্লাহর রাসূল, একজন মানুষ সৎকাজকারী লোকদের ভালোবাসে, অথচ তাদের মতো আমল করে না — তাহলে তার অবস্থা কী হবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের দিনে মানুষ তার সেই প্রিয়জনদের সাথেই থাকবে, যাদের সে ভালোবাসত। যির বললেন: এরপর সাফওয়ান আমাদের বলতে লাগলেন, এমনকি তিনি তাওবার একটি দরজার কথাও উল্লেখ করলেন আল্লাহ তা শামের দিকে সৃষ্টি করেছেন যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।
এই দরজার প্রস্থ এতটাই বিস্তৃত যে একজন আরোহী চলতে থাকলে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছরেও তা পেরোতে পারবে না।
আর এই দরজা বন্ধ হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে ওঠে।
শিক্ষা
ইলম অন্বেষণের ফযীলত, ইলম অনুসন্ধানকারীর উচ্চ মর্যাদা এবং ফেরেশতাগণের তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সাদর অভ্যর্থনা।
তাবিঈগণের সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম) থেকে ইলম অর্জনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ ও আন্তরিকতার বর্ণনা।
মোজার উপর মাসাহ করার অনুমতি রয়েছে এবং এর মেয়াদ হলো: মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত, আর মুকিম-এর জন্য এক দিন এক রাত।
মোজার উপর মাসাহ কেবল ছোট নাপাকির ক্ষেত্রে করা যায়।
প্রশ্নকারী ব্যক্তি আলেমের নিকট প্রমাণ চাইতে পারে যে, তা কি সরাসরি কুরআন-হাদীসের দলীল, না কি তা তার বিশ্লেষণ ও ইজতিহাদ? আর আলেমের উচিত এতে সংকোচ বোধ না করা।
আলেম ও নেককারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং ইলমের মজলিসে কণ্ঠস্বর নিচু রাখা।
অজ্ঞ ব্যক্তিকে সুন্দর আচরণ ও শিষ্টাচারের নিয়ম শেখানো।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ধৈর্য্য, সুস্বভাব এবং মানুষের সঙ্গে তাদের ইলম ও বুদ্ধিমত্তার অনুসারে কথা বলার আদর্শ অনুসরণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
মুবারকপুরী রহ. বলেছেন: নবী করিম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু করেছিলেন কেবল তার প্রতি সহানুভূতির কারণে, যেন আল্লাহ্র এই আয়াতের কারণে — {لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ} (তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের উপরে তুলে নিও না) — তার আমল বাতিল না হয়ে যায়; কারণ তিনি তার অজ্ঞতার জন্য তাকে ক্ষমা করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রতি করুণাময় হয়ে নিজের কণ্ঠস্বর তার কণ্ঠস্বরের সমপরিমাণ বা তারও বেশি উঁচু করেছিলেন।
নেককার মানুষের সঙ্গে বসার প্রতি আগ্রহ এবং তাদের কাছাকাছি থাকা এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা।
ইমাম নববী রহ. বলেছেন: তাদের সঙ্গে থাকা মানেই এটা আবশ্যক নয় যে তার মর্যাদা এবং প্রতিদান তাদের মতো সব দিক থেকে সমান হবে।
আশা এবং প্রত্যাশার দরজা খুলে দেওয়া, নাজাত লাভের সুসংবাদ দেওয়া এবং নরম করে উপদেশ দেওয়া।
আল্লাহ তাআলার দয়ার বিস্তৃতি এবং তাঁর তাওবার দরজা খুলে দেওয়া।
দ্রুত তাওবা করা, নিজের হিসাব কষা এবং আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে আসার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 505) (3535).
سنن ابن ماجه (1/ 302) (478).
مسند أحمد (30/ 18) (18095).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 36).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 107).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 57).
المعجم الوسيط (2/ 968).
عن عبد خير، عن علي رضي الله عنه ، قال: لو كان الدين بالرأي لكان أسفل الخُفِّ أولى بالمسح من أعلاه، وقد «رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح على ظَاهر خُفَيْهِ».
আবদে খাইর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, যদি দীন যুক্তি দ্বারা হতো তাহলে মোজার নীচের অংশ মাসেহ করা উত্তম হতো উপরের অংশ থেকে। অথচ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি তার মোজার উপরিভাগের ওপর মাসেহ করেন”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সংবাদ দেন যে, দীন যদি নকল (বর্ণনা) ছাড়া কেবল যুক্তি দ্বারা হতো তাহলে মোজার নিচের দিক মাসেহ করা উপরের দিক মাসে করা থেকে উত্তম হতো। কারণ, মোজার নিচের অংশ যমীনের সাথে মিশে, ময়লা আবর্জনা মাড়ায় যুক্তির দিক দিয়ে নিচের অংশ মাসেহ করাই উত্তম হওয়া চাই। কিন্তু শরী‘আত তার বিপরীত নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে শরী‘আতের নির্দেশ অনুযায়ী আমল করতে এবং নসের বিপরীত যুক্তি ছাড়তে হবে। কারণ, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মোজার উপরিভাবে মাসেহ করতে দেখেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন অপর দিক দিয়ে তা যৌক্তিকও বটে। কারণ, তিনি যদি পানি দ্বারা মোজার তলায় মাসেহ করেন, তা নাপাকী বহন করার কারণ হবে। তাই তিনি মোজার সাথে যে সব ধুলাবালি সম্পৃক্ত হয়েছে তা দূর করতে মোজার উপরিভাবে মাসেহ করেন। কারণ, মোজার উপরি ভাগই দেখা হয়ে থাকে। তাই উপরি ভাগে মাসেহ করাই উত্তম। ইসলামী শরী‘আতের কোন বিধানই সুস্থ মস্তিস্কের বিরোধিতা করে না। কিন্ত তা কোন কোন সময় জ্ঞানীদের নিকট অস্পষ্ট থাকে।
সূত্র
سنن أبي داود، تأليف: سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: علي بن سلطان القاري، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
مشكاة المصابيح، تأليف: محمد بن عبد الله التبريزي، تحقيق : محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي، الطبعة: الثالثة، 1985م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
سبل السلام شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن إسماعيل بن صلاح الصنعاني، الناشر: دار الحديث الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ.
شرح سنن أبي داود، تأليف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية.
عن ثوبان رضي الله عنه ، قال: «بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً، فأصابهم البَرْد فلما قَدِموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم أمَرَهُم أن يَمْسَحوا على الْعَصَائِب والتَّسَاخِين».
সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যদল পাঠান যাদের ঠান্ডা পেয়ে বসল। তারপর যখন তারা রাসূলুল্লাহর নিকট গমন করলো, তিনি তাদের আদেশ দিলেন যে, তারা যেন তাদের মোজা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করে।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের একটি জামাতকে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের চলার পথে অধিক ঠান্ডার কারণে মোজা ও পাগড়ী খোলা কষ্টকর ছিল। তারপর তারা যখন মদীনায় গমন করলেন বিষয়টি তারা আল্লাহর রাসূলকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাদের জন্য মোজা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করাকে বৈধ করলেন। চাই মোজা চামড়ার হোক বা পশমের হোক বা কাপড়ের টুকরার হোক। সুতরাং এটি একটি প্রমাণিত সুন্নাত। সফর অবস্থায় হোক বা মুকীম অবস্থায় হোক এবং অপারগতার কারণে হোক বা অপারগতা ছাড়া হোক। সর্বাবস্থায় তা বৈধ।
সূত্র
سنن أبي داود، تأليف: سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا.
مسند الإمام أحمد، تأليف: أحمد بن محمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرناؤوط وغيره، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ.
صحيح أبي داود - الأم، للألباني، نشر: مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت، الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2002 م.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة.
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن صالح الفوزان، الناشر: دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى ، 1427 هـ - 1431 هـ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ অযু করে তার দু’টি মোজা পরিধান করে সে যেন তাতে সালাত আদায় ও তার ওপর মাসেহ করে তারপর তা জানাবত ছাড়া খুলবে না”।
এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করছেন যে, মুসলিম অযু শেষে যখন তার দু’টি মোজা পরিধান করে, তারপর অযু ভেঙ্গে যায় ও অযু করার ইচ্ছে করে, তখন তার জন্য মোজার ওপর মাসেহ করার অনুমতি রয়েছে যদি সে তা চায় এবং তাতে সালাত আদায় করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা খুলবে না, তবে জানাবত হলে তার ওপর আবশ্যক হল মোজা খুলে গোসল করা।
শিক্ষা
পরিপূর্ণ পবিত্রতার পর মোজা পরিধান করা ছাড়া তাদের ওপর মাসেহ করা বৈধ নয়।
মুকিমের জন্য মাসেহ করার সময়: একদিন ও একরাত মাসেহ করা আর মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিন রাত মাসেহ করা।
মোজার ওপর মাসেহ করা ছোট নাপাকের সাথে খাস, তবে বড় নাপাকের পর মাসেহ করা বৈধ নয়, বরং দু’টি মোজা খুলে দুই পা ধৌত করা জরুরি।
ইহুদীদের বিরোধিতা করে জুতা, মোজা ও এই জাতীয় জিনিসের ওপর সালাত আদায় করা মুস্তাহাব, যদি তাতে মুসলিমদের অথবা কার্পেট বিছানো মসজিদের মত মসজিদের কষ্ট না হয়, তখন তা নিয়ে সালাত আদায় করবে না।
দুই মোজার ওপর মাসেহ করা এই উম্মতের ওপর সহজ ও শিথিলতা করণ।
সূত্র
سنن الدارقطني (1/ 376) (781).
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، لعبد الله البسام (1/ 274).
سبل السلام شرح بلوغ المرام، للصنعاني (1/ 86).
عن جابر رضي الله عنه قال: خرجنا في سَفَر فأصاب رجُلا مِنَّا حَجَرٌ فَشَجَّهُ في رأسه، ثم احتلم فسأل أصحابه فقال: هل تجدون لي رُخْصَة في التَّيمم؟ فقالوا: ما نَجِد لك رُخْصَة وأنت تَقْدِرُ على الماء فاغْتَسَل فمات، فلمَّا قَدِمْنَا على النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك فقال: «قَتَلُوه قَتَلَهُم الله ألا سَألُوا إذ لم يعلموا فإنَّما شِفَاء العِيِّ السؤال، إنما كان يَكفيه أن يَتيمَّم ويَعْصِر-أو يَعْصِب- على جُرحِه خِرقَة، ثم يمسح عليها، ويَغسل سائر جسده».
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি সফরে বের হলাম। আমাদের এক ব্যক্তি মাথায় পাথরের আঘত পেল এবং সে আহত হলো, অতঃপর তার স্বপ্নদোষ হলো। তারপর সে সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, তোমরা কি আমার তায়াম্মুম করার অনুমতি পাও? তারা বলল, আমরা তোমার জন্য কোনো অনুমতি দেখতে পাচ্ছি না, তুমিতো গোসল করতে সক্ষম। ফলে সে গোসল করলো। অতঃপর মারা গেল। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করলে বিষয়টি সম্পর্কে তাকে সংবাদ দেওয়া হলো। তখন তিনি বললেন, তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের হত্যা করুন। যখন তারা জানত না তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না। অবশ্যই অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে জিজ্ঞেস করা। তার জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সে তার জখমের উপর একটি পট্টি বেঁধে নিত, অতঃপর তার উপর মাসাহ করত এবং পুরো দেহ ধুয়ে নিত।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান লিগাইরিহী
ব্যাখ্যা
জাবের রাদিয়াল্লাহু সংবাদ দেন যে, তারা একটি সফরে বের হলে তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি পাথরের আঘাত পেল ফলে তার মাথা ফেটে যায়। তারপর লোকটির ওপর গোসল ফরয হলে সে সাহাবীগণকে শরীর ধোয়ার পরিবর্তে তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে কিনা সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তারা বলল, আমরা তোমার জন্য কোনো অনুমতি দেখতে পাচ্ছি না, তুমিতো গোসল করতে সক্ষম। ফলে সে গোসল করলো। অতঃপর মারা গেল। অর্থাৎ পানি বিদ্যমান থাকাবস্থায় তায়াম্মুম করা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে না; তায়াম্মুমের অনুমতি যার কাছে পানি নেই তার জন্য। পানি পাওয়া যাওয়া সত্ত্বেও তোমার জন্য অনুমতি নেই। তারপর সে গোসল করল এবং পানির কারণে তার আঘাতটি বেড়ে গেল। ফলে তিনি (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) মারা গেলেন। তারপর যখন তারা মদীনায় ফিরে আসল ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জানালে তিনি তাদের এ বলে ভর্ৎসনা করেন যে, তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের হত্যা করুন। তাদের ওপর বদ-দো‘আ করেন। কারণ, তাদের ভুল ফাতওয়া দেওয়ার কারণে তার হত্যার কারণ হলো। “যখন তারা জানত না তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না।” তাদের ওপর ওয়াজিব ছিল তারা জিজ্ঞাসা করবে এবং ফাতওয়া দেওয়াতে তাড়াহুড়া করবে না। কারণ, তাতে রয়েছে অন্যের প্রতি ক্ষতি করা যা হয়েই গেল। “অবশ্যই অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে জিজ্ঞেস করা।” অর্থাৎ যখন তারা বিষয়টি জানত না তাহলে তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না? কারণ, অজ্ঞতার প্রতিশেধক হলো জিজ্ঞাসা করা। যখন কোনো মানুষ শর‘ঈ বিধান সম্পর্কে না জানে তখন এ অজ্ঞতা থেকে বাচার উপায় হলো জিজ্ঞাসা করা। এমন কোনো ফাতওয়া দিবে না যা ক্ষতির দিকে নিয়ে যায় বা মানুষকে ধ্বংস করে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে দেন “তার জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সে তার জখমের উপর একটি পট্টি বেঁধে নিত, অতঃপর তার উপর মাসাহ করত এবং পুরো দেহ ধুয়ে নিত।” এটিই তার জন্য জরুরি ছিল এবং এটিই শরী‘আতের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ। কিন্তু তাকে গোসল করতে বাধ্য করা যার ফলে তার শরীরের ক্ষতি হয় বা সে মারা যায় বা তার সুস্থ হতে বিলম্ব হয়, শরী‘আতের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরীপন্থী। এরই ভিত্তিতে বলা যায় যে, আক্রান্ত বা আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি তার পুরো দেহ পানি দ্বারা ধুইবে এবং পট্টির উপর মাসাহ করবে তাই যথেষ্ট হবে। পট্টি লাগানোর পর তায়াম্মুম করা শরী‘আতসম্মত নয়। কারণ, একই অঙ্গের জন্য দু’টি পবিত্রতা অর্জনে বাধ্য করা শরী‘আতের মূলনীতির পরিপন্থী। আল্লাহ ভালো জানেন। হাদীসটি জখমের অতিরিক্ত পট্টির উপর প্রয়োগ করা হবে, যা খোলা বা উঠানো কষ্টকর। এ জন্যেই অতিরিক্ত পট্টির উপর তায়াম্মুমের প্রচলণ রাখা হয়েছে অথবা হাদীসটি প্রয়োগ করা হবে যে, যখমটি অযুর অঙ্গের উপর ছিল। ফলে তাতে পানি পৌঁছানো কঠিন ছিল। তাই অঙ্গগুলো ধোয়ার পরিবর্তে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছেন।
সূত্র
سنن أبي داود، تأليف: سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا.
سنن ابن ماجه، تأليف: محمد بن يزيد بن ماجه القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: الناشر: دار إحياء الكتب العربية.
مشكاة المصابيح، تأليف: محمد بن عبد الله، التبريزي، تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي، الطبعة: الثالثة، 1985م.
معالم السنن، تأليف: حمد بن محمد بن إبراهيم الخطابي، الناشر: المطبعة العلمية، الطبعة: الأولى 1351 هـ.
النهاية في غريب الحديث والأثر، تأليف: مجد الدين أبو السعادات المعروف بابن الأثير، الناشر: المكتبة العلمية - بيروت، 1399هـ - 1979م، تحقيق: طاهر أحمد الزاوى - محمود محمد الطناحي.
معجم اللغة العربية المعاصرة، تأليف: د/ أحمد مختار عبد الحميد عمر، بمساعدة فريق عمل، الناشر: عالم الكتب، الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة.
سبل السلام شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن إسماعيل بن صلاح الصنعاني، الناشر: دار الحديث، الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ.
شرح سنن أبي داود، تأليف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية.
عن شريح بن هانئ، قال: أتيتُ عائشة أسألها عن المسح على الخُفَّين، فقالت: عَلَيْكَ بِابْنِ أبِي طالب، فَسَلْهُ فإِنَّه كان يُسَافِرُ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألناه فقال: «جَعَلَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ للمسافر، ويوما وليلة للمُقيم».
শুরাইহ ইবন হানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশার কাছে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসলাম। তিনি বললেন, তোমার উচিত এ বিষয়ে ইবন আবি তালিবকে জিজ্ঞেস করা। কেননা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত মোজার উপর মাসেহ নির্ধারণ করেছেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
শুরাইহ ইবন হানী ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর একজন বিশিষ্ট সঙ্গী ছিলেন। তিনি আমাদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনাহার কাছে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে জিজ্ঞাসা করতে বললে তিনি (শুরাইহ) তার কাছে মোজার উপর মাসেহ করার মেয়াদ সম্পর্কে জানতে আসেন। যেহেতু ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মোজার উপর মাসেহ এর সুন্নাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা তাকে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম” অর্থাৎ মোজার উপর মাসেহ এর মেয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আর মাসেহ হলো, ভেজা হাত অঙ্গে লাগিয়ে টেনে নেওয়া। আর খুফ হলো চামড়ার তৈরি জুতা যা দু’টাখনু ঢেকে রাখে। আর জাওরাব হলো, পায়ে মোড়ানোর জন্য চুল বা পশমের তৈরি পাতলা বা ঘন মোজা যা শীত নিবারণের জন্য পা থেকে টাখনুর উপর পর্যন্ত পরিধান করা হয়।
‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদেরকে জবাব দিলেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত মোজার উপর মাসেহ নির্ধারণ করেছেন।” এ হাদীস জমহূর আলেমদের দলিল যারা বলেছেন, মোজার উপর মাসেহের সময়সীমা মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একদিন একরাত। মুসাফিরের জন্য সময়সীমা বেশি হওয়ার কারণ হলো সফরের কষ্টের কারণে রুখসাত পাওয়ার ক্ষেত্রে তারাই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
সূত্র
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423 هـ.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة 1423هـ، 2003م.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com