নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। অতঃপর তিনি অযু করলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’পা ধৌত করার পালা আসলো, তখন মুগীরাহ ইবন শু‘বাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর পায়ের মোজা দু’টি খুলতে হাত বাড়িয়ে দিলেন, যাতে তিনি তাঁর পা ধৌত করতে পারেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ও দু’টো থাক, এ দু’টো খুলো না; কারণ আমি ওজু অবস্থায় উভয় পা মোজা দুটিতে প্রবেশ করেছিলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসেহ করলেন।
- মোজার উপর মাসেহ তখনই শরী‘আহ অনুমোদিত হবে যখন তা ছোট অপবিত্রতা থেকে অযুর মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার জন্যে করা হবে। কিন্তু বড় অপবিত্রতার জন্যে গোসলের প্রয়োজন হলে তখন অবশ্যই পা ধৌত করতে হবে।
- মোজার উপর মাসেহ করতে ভিজা হাত পায়ের মোজার উপরিভাগে টেনে নিতে হবে। মোজার নিচের অংশে নয়।
- মোজার উপর মাসেহ করার শর্ত হলো,(1) এটি পূর্ণ অযুর পরে পরিধান করা, যে অযুতে পা পানি দ্বারা ধৌত করা হয়েছে। (2)মোজাটি স্বয়ং পবিত্র হওয়া,(3)অযুর জন্যে পা ধৌত করার পূর্ণ অংশ ঢেকে থাকা।(4) এর দ্বারা ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্যে মাসেহ করা; বড় অপবিত্রতা থেকে বা যে কারণে গোসল ফরয হয়, তাতে না করা।(5) শরী‘আহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসেহ করা। আর তা হলো: মুকীমের জন্যে একদিন একরাত এবং মুসাফিরের জন্যে তিনদিন তিনরাত।
- চামড়ার মোজার উপর মাসেহের উপরে অন্যান্য মোজাকে কিয়াস করা, যা দ্বারা দু’পা ঢেকে থাকে। সুতরাং সেসব মোজা দ্বারাও মাসেহ করা জায়েয।
- হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আখলাক ও শিক্ষা ফুটে উঠেছে। কেননা তিনি মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মোজা খুলতে নিষেধ করেছেন এবং এর কারণও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তা ওজু অবস্থায় পরিধান করেছেন। যাতে তিনি তাকে আত্মিক প্রশান্তি দিতে পারেন এবং বিষয়টির হুকুম জানাতে পারেন।
صحيح البخاري (1/ 52) (206). صحيح مسلم (1/ 230) (274). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص50). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 36). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص27).