মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সফরের আদব ও বিধান

১৯টি হাদীস

ও দু’টো থাক, আমি পবিত্র(ওজু) অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম।

عَنْ المُغِيرَةِ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ، فَقَالَ: «دَعْهُمَا، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا.
মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। (উযূ করার সময়) আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলার জন্য ঝুকলে তিনি বললেন: ও দু’টো থাক, আমি পবিত্র(ওজু) অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম।" (এই বলে) তিনি তার উপর মাসেহ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। অতঃপর তিনি অযু করলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’পা ধৌত করার পালা আসলো, তখন মুগীরাহ ইবন শু‘বাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর পায়ের মোজা দু’টি খুলতে হাত বাড়িয়ে দিলেন, যাতে তিনি তাঁর পা ধৌত করতে পারেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ও দু’টো থাক, এ দু’টো খুলো না; কারণ আমি ওজু অবস্থায় উভয় পা মোজা দুটিতে প্রবেশ করেছিলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসেহ করলেন।

শিক্ষা
  1. মোজার উপর মাসেহ তখনই শরী‘আহ অনুমোদিত হবে যখন তা ছোট অপবিত্রতা থেকে অযুর মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার জন্যে করা হবে। কিন্তু বড় অপবিত্রতার জন্যে গোসলের প্রয়োজন হলে তখন অবশ্যই পা ধৌত করতে হবে।
  2. মোজার উপর মাসেহ করতে ভিজা হাত পায়ের মোজার উপরিভাগে টেনে নিতে হবে। মোজার নিচের অংশে নয়।
  3. মোজার উপর মাসেহ করার শর্ত হলো,(1) এটি পূর্ণ অযুর পরে পরিধান করা, যে অযুতে পা পানি দ্বারা ধৌত করা হয়েছে। (2)মোজাটি স্বয়ং পবিত্র হওয়া,(3)অযুর জন্যে পা ধৌত করার পূর্ণ অংশ ঢেকে থাকা।(4) এর দ্বারা ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্যে মাসেহ করা; বড় অপবিত্রতা থেকে বা যে কারণে গোসল ফরয হয়, তাতে না করা।(5) শরী‘আহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসেহ করা। আর তা হলো: মুকীমের জন্যে একদিন একরাত এবং মুসাফিরের জন্যে তিনদিন তিনরাত।
  4. চামড়ার মোজার উপর মাসেহের উপরে অন্যান্য মোজাকে কিয়াস করা, যা দ্বারা দু’পা ঢেকে থাকে। সুতরাং সেসব মোজা দ্বারাও মাসেহ করা জায়েয।
  5. হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আখলাক ও শিক্ষা ফুটে উঠেছে। কেননা তিনি মুগীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মোজা খুলতে নিষেধ করেছেন এবং এর কারণও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তা ওজু অবস্থায় পরিধান করেছেন। যাতে তিনি তাকে আত্মিক প্রশান্তি দিতে পারেন এবং বিষয়টির হুকুম জানাতে পারেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 52) (206). صحيح مسلم (1/ 230) (274). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص50). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 36). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص27).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমার দীন, তোমার সততা এবং তোমার আমলের পরিণাম আল্লাহকে সঁপে দিলাম।

كَانَ ابنُ عمرَ -رضِيَ الله عنهما- يَقُول لِلرَّجُل إِذَا أَرَادَ سَفَرًا: ادْنُ مِنِّي حَتَّى أُوَّدِعَكَ كَمَا كَان رسولُ الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- يُوَدِّعُنَا، فَيقُول: «أَسْتَوْدِعُ الله دِينَكَ، وَأَمَانَتَكَ، وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ». وعن عبد الله بن يزيد الخطمي رضي الله عنه- قال: كَانَ رسُول الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوَدِّعَ الجَيشَ، قال: «أَسْتَودِعُ الله دِينَكُم، وَأَمَانَتَكُم، وخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُم».
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার -রাদিয়াল্লাহু আনহুমা- সফরের ইচ্ছাকারী ব্যক্তিকে বলতেন, আমার নিকটবর্তী হও, তোমাকে ঠিক সেইভাবে বিদায় দেব, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিদায় দিতেন। সুতরাং তিনি বলতেন, ‘আস্তাউদিউল্লা-হা দীনাকা অআমা-নাতাকা অখাওয়াতীমা আমালিক।’ অর্থাৎ, তোমার দীন, তোমার সততা এবং তোমার কাজের পরিণাম আল্লাহকে সঁপে দিলাম। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে য়্যাযীদ খাতমী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সেনাবাহিনীকে বিদায় জানাতেন, তখন এই দু‘আ বলতেন, অর্থাৎ, তোমাদের দীন, তোমাদের আমানত এবং তোমাদের কর্মসমূহের পরিণাম আল্লাহকে সঁপে দিলাম।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

কোনো ব্যক্তি সফরের ইচ্ছা করলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন, আমার নিকটবর্তী হও, তোমাকে ঠিক সেইভাবে বিদায় দেব, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিদায় দিতেন। ইবন উমারের এ আমল সাহাবীগণের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে জরুরীভাবে গ্রহণ করার আগ্রহের নমুনা। আর তার বাণী: “যখন কোন ব্যক্তি বিদায় দিতেন” অর্থাৎ কোন মুসাফিরকে। “সে তার হাত ধরতো এবং তা ছাড়তো না”। এটি এসেছে কতক বর্ণনায়। অর্থাৎ সবোর্চ্চ বিনয়, সর্বাধিক মহব্বত ও অনুগ্রহ প্রকাশার্থে তিনি লোকটির হাত ছাড়তেন না। সুতরাং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায়ী ব্যক্তিকে বলতেন, ‘আস্তাউদিউল্লা-হা দীনাকা অআমা-নাতাকা অখাওয়াতীমা আমালিক।’ অর্থাৎ, তোমার দীন, অর্থাৎ, তার থেকে তোমার দীনের হিফাযত কামনা করি। “তোমার আমানত” অর্থাৎ তোমার আমানতের হিফাযত। এটি শামিল করে মানুষের ও আল্লাহর সকল হক ও বিধান। ব্যক্তি সফরে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত হওয়া, কারো সাথে লেন-দেন করা ও মানুষের সাথে মু‘আশারা না করে পারে না, তাই তার আমানতের হিফাযত এবং খিয়ানত থেকে বিরত থাকার দো‘আ করেন। তারপর যখন সে তার পরিবারের নিকট ফিরে আসে দীন ও দুনিয়াতে যা কিছু তাকে কষ্ট দেয় তা থেকে সে নিরাপদ থাকবে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের একই আদর্শ যখন তিনি কোন জামা‘আতকে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য বিদায় জানাতেন। তখন তাদেরও এ দো‘আর দ্বারা বিদায় জানাতেন, যাতে তা তাদের সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছা, দুশমনদের ওপর বিজয়ী হওয়া এবং যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহর ফরযসমূহের ওপর অধিক সংরক্ষণকারী হওয়া বিষয়ে আরও অধিক কার্যকর হয়।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ. تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي، للمباركفوري، دار الكتب العلمية، بيروت. تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ. جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر وآخرون، ط2، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، 1395هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ. رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428 هـ. رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ. سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة، للألباني، ط1، دار المعارف، الرياض، 1412هـ. سنن أبي داود ،تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، بيروت. سنن ابن ماجه، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية، فيصل عيسى البابي الحلبي. الشرح الممتع على زاد المستقنع، لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، ط1، دار ابن الجوزي، 1422 - 1428هـ. كشف المشكل من حديث الصحيحين، لابن الجوزي، تحقيق: علي حسين البواب، دار الوطن، الرياض. كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ. مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط1، مؤسسة الرسالة، 1421هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাহনের পিঠে সালাত আদায় করতেন। যেদিকেই তার মুখ হতো সেদিকেই মুখ করতেন। তিনি মাথা দ্বারা ইশারা করতেন। আর ইবন উমার এ কাজটি করতেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُسَبِّحُ على ظَهرِ رَاحِلَتِه حَيثُ كان وَجهُهُ، يُومِئُ بِرَأسِهِ، وكَان ابنُ عُمرَ يَفعَلُهُ». وفي رواية: «كان يُوتِرُ على بَعِيرِه». ولمسلم: «غَيرَ أنَّه لا يُصَلِّي عَليهَا المَكتُوبَة». وللبخاري: «إلا الفَرَائِض».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহ আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাহনের পিঠে সালাত আদায় করতেন। যেদিকেই তার মুখ হতো সেদিকেই মুখ করতেন। তিনি মাথা দ্বারা ইশারা করতেন। আর ইবন উমার এ কাজটি করতেন। অপর বর্ণায়: তিনি তার উটের ওপর বিতির আদায় করতেন। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: তবে তিনি বাহনের উপর ফরয সালাত আদায় করতেন না। আর সহীহ বুখারির বর্ণনায় বর্ণিত: কিন্তু ফরয সালাতসমূহ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আরোহণের ওপর কেবল নফল সালাত আদায় করতেন। বাহনটি যেদিকে ফিরত তিনি সেদিকে মুখ ফিরাতেন যদিও তা কিবলামুখ নয়। রুকু সেজদা করার জন্য তিনি মাথা ঝুকাতেন এবং ইশারায় আদায় করতেন। রুকু সেজদা ও কিবলামুখ হওয়ার জন্য তিনি যমীন নামার চেষ্টা করতেন না। সাধারণ নফল সালাত বা সুন্নাতে রাতেবাহ বা কারণ বিশিষ্ট্য সালাতসমূহের মধ্যে কোন প্রার্থক্য নেই। কিন্তু তিনি ফরয সালাতসমূহে এ কাজটি করতেন না। অনুরূপভাবে তিনি বিতিরের সালাতও বাহনের ওপর আদায় করতেন।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ، 2006م. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: الأولى 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ، 1988م. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়”।

عن أبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ مُسْلِمَةٍ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ لَيْلَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا رَجُلٌ ذُو حُرْمَةٍ مِنْهَا».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন মুসলিম মহিলার জন্য এক রাতের ভ্রমণ হারাম, যদি না তার সাথে তার মাহরাম পুরুষ থাকে।

শিক্ষা
  1. ইবনু হাজার বলেন: মাহরাম ছাড়া কোন মহিলার ভ্রমণ করা জায়েয নয় এবং এটি হজ্জ, ওমরাহ এবং শিরকের দেশ ত্যাগ করা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে উম্মতের ঐক্যমত্য। তাদের কেউ কেউ এটিকে হজ্জের শর্তগুলির মধ্যে একটি গণ্য করেছেন।
  2. ইসলামী শরীয়তের পরিপূর্ণতা এবং নারীদের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য যত্নবান হওয়া।
  3. আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আল্লাহর শরীয়তের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তাঁর সীমা মেনে চলাকে আবশ্যক করে।
  4. একজন মহিলার মাহরাম হলেন তার স্বামী অথবা আত্মীয়তা, স্তন্যপান, অথবা বিবাহের কারণে তার উপর স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ব্যক্তি। তাকে অবশ্যই একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য হতে হবে। কারণ, মাহরামের উদ্দেশ্য হলো নারীদের সুরক্ষা, সংরক্ষণ এবং যত্ন নেওয়া।
  5. সফরের যে সময়কালে একজন মহিলা মাহরাম ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবে না তার সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আল-বায়হাকী বলেন: মুদ্দা কথা যে যাত্রাকে সফর বলা হয় সেটি তিন বা দুই বা একদিন বা কিছু সময় অথবা অন্য কিছু হয় তার থেকে মাহরাম বা স্বামী ছাড়া মহিলাকে নিষেধ করা হবে। ইবনু আব্বাসের সাধারণ বর্ণনা অনুসারে, যা মুসলিমের পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলির মধ্যে শেষ: "কোনও মহিলা মাহরাম ছাড়া সফর করবে না।" এটি সফর নামক সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করে। সমাপ্ত। এই হাদিসটি প্রশ্নকারীর অবস্থা এবং তার স্থান অনুসারে ছিল।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 43) (1088). صحيح مسلم (2/ 977) (1339). تيسير العلام، لعبد الله البسام (ص374). تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، لابن عثيمين (3/ 501). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص178).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

সফর হলো শাস্তির অংশ।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «السفر قطعة من العذاب، يمنع أحدكم طعامه وشرابه ونومه، فإذا قضى أحدكم نَهْمَتَهُ من سفره، فليُعَجِّلْ إلى أهله».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “সফর হলো শাস্তির অংশ। তা তোমাদের কাউকে (অর্থাৎ সফরকারীকে) পানাহার ও নিদ্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সুতরাং তোমাদের সফরের কাজ সমাপ্ত হয়ে গেলেই সে যেন তাড়াতাড়ি তার পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যায়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “সফর হলো শাস্তির অংশ “ অর্থাৎ আযাবের অংশ বিশেষ। এখানে আযাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সফরের কষ্ট থেকে সৃষ্ট ব্যথা-বেদনা; কারণ সফরে যানবাহনে আরোহণ ও পায়ে চলার কারণে অভ্যাসগত অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “সফর তোমাদের প্রত্যেককে তার পানাহার ও নিদ্রায় বিঘ্ন ঘটায়।” এর অর্থ হলো, সফর ব্যক্তিকে পূর্ণ রুচি ও স্বাদের সাথে পানাহার ও নিদ্রায় বাঁধা দেয়। কেননা তাতে রয়েছে কষ্ট, ক্লান্তি, অতি গরম ও অতি ঠাণ্ডা, ভয়-ভীতি, পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং নিরানন্দ জীবন। মুসাফির সর্বদা তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যস্ত থাকে। সে স্বাভাবিকের মতো পানাহার, ঘুম ও বিশ্রাম নিতে পারে না। সুতরাং সফরে যেহেতু এ ধরণের কষ্ট-ক্লেশ রয়েছে তাই কেউ সফরে বের হলে সে যেনো দ্রুত তার প্রশান্তির জন্য পরিবার-পরিজন ও দেশে ফিরে যায়, যাতে সে তার পরিবারের দেখাশুনা ও তাদের আদব-কায়েদা শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজন মিটাতে পারে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তোমাদের সফরের কাজ সমাপ্ত হয়ে গেলে সে যেন তাড়াতাড়ি তার পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যায়।” হাদীসে বর্ণিত ‘আন-নাহমাহ’ অর্থ প্রয়োজন ও লক্ষ্যবস্তু।

সূত্র

1- فتح الباري لابن حجر (623/3). 2- شرح صحيح مسلم(70/13). 3-كنوز رياض الصالحين(580/12). 4-شرح رياض الصالحين لابن عثيمين(621/4).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُسَافَرَ بالقرآن إلى أرض العدو.
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন নিয়ে কাফিরদের দেশে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন, যারা ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করেনি। কারণ, সেখানে অপমানের সম্মুখীন হতে পারে। আর যদি নিরাপত্তার ধারণা অধিক হয় তাহলে তাদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণে কোনো অসুবিধা নেই।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - صحيح البخاري -للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين/محمد علي بن محمد بن علان البكري -اعتنى بها: خليل مأمون شيحا- دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان- الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م. - فتاوى اللجنة الدائمة: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء- جمع وترتيب: أحمد بن عبد الرزاق الدويش.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“একা (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু’জন আরোহী দু’টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।”

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما مرفوعًا: «الراكب شيطان، والراكبان شيطانان، والثلاثة رَكْب».
আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ সনদে বর্ণিত, “একা (সফররত) যাত্রী একটি শয়তান এবং দু’জন যাত্রী দু’টি শয়তান। আর তিনজন যাত্রী একটি কাফেলা।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি মালেক বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

যে সব জায়গায় জনসাধারণের আনাগোনা না থাকে সে সব জায়গায় একা ভ্রমণ করা বা কেবল দুইজন লোক ভ্রমণ করার বিষয়ে হাদীসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং দলবদ্ধ হয়ে একসাথে ভ্রমণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। একজনের সফরের বিষয়টি স্পষ্ট; যাতে দলবদ্ধ সফরে থাকলে পথে কোনো বিপদ হলে বা সে মারা গেলে অপরের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া যায় এবং যাতে শয়তানের ষড়যন্ত্রে সে আক্রান্ত না হয়। আর দুই জন হলেও সফর করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; কেননা একজন আক্রান্ত হলে অপর জন একা হয়ে যাবে। বর্তমানে দ্রুতগামী গাড়িতে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে ভ্রমণ করাকে একা ভ্রমণ করা হিসাবে গণ্য করা হবে না এবং এভাবে একজন একজন যাত্রীকে শয়তান বলা যাবে না; কারণ এ সব যাত্রীরা দলবদ্ধভাবে সফরকারী একটি কাফেলার মতোই। যেমন, মক্কা থেকে রিয়াদ বা জেদ্দা থেকে মক্কা ভ্রমণ করা। কিন্তু যে সব জনবিচ্ছিন্ন পথে মানুষের যাতায়াত নেই, সে সব পথে ভ্রমণ করা একার ভ্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা এ হাদীসের আওতাভুক্ত বলে গণ্য হবে।

সূত্র

- سنن الترمذي - محمد بن عيسى ، الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض -شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م. - مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي مؤسسة الرسالة الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م. - سنن أبي داود - سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية. صيدا – بيروت. - صحيح أبي داود – الأم -محمد ناصر الدين، الألباني - مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م. - موطأ الإمام مالك- المؤلف: مالك بن أنس بن مالك الأصبحي-صححه ورقمه وخرج أحاديثه وعلق عليه: محمد فؤاد عبد الباقي-دار إحياء التراث العربي، بيروت – لبنان-1406 هـ - 1985 م. - نيل الأوطار- محمد بن علي الشوكاني -تحقيق: عصام الدين الصبابطي- دار الحديث، مصر- الطبعة: الأولى 1413هـ - 1993م عون المعبود شرح سنن أبي داود، ومعه حاشية ابن القيم: تهذيب سنن أبي داود وإيضاح علله ومشكلاته / محمد أشرف بن أمير بن علي بن حيدر، ، العظيم آبادي: دار الكتب العلمية -بيروت الطبعة: الثانية، 1415 هـ. - الاستذكار: أبو عمر بن عبد البر بن عاصم النمري القرطبي -تحقيق: سالم محمد عطا، محمد علي معوض-دار الكتب العلمية – بيروت-الطبعة: الأولى، 1421 - 2000م. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين/محمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي -اعتنى بها: خليل مأمون شيحا- دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان- الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এভাবে উপত্যকা ও গিরিপথে তোমাদের বিক্ষিপ্ত হওয়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে

عن أبي ثَعْلَبَة الخُشَني رضي الله عنه قال: كان الناس إذا نزلوا منزلًا تفرقوا في الشِّعابِ والأَوْدِيَةِ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إن تَفَرُّقَكم في هذه الشِّعاب والأَوْدِية إنما ذلكم من الشيطان». فلم ينزلوا بعد ذلك منزلاً إلا انضم بعضهم إلى بعض.
আবূ সা‘লাবা আল-খুশানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, লোকেরা যখন কোনো স্থানে অবতরণ করত, তখন তারা বিভিন্ন গিরিপথ ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এভাবে উপত্যকা ও গিরিপথে তোমাদের বিক্ষিপ্ত হওয়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে”। এরপর থেকে সাহাবীরা যখন কোনো জায়গায় অবতরণ করত তখন তারা পরস্পর মিলে মিশে থাকত।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

সফর অবস্থায় যখন লোকেরা কোথাও অবতরণ করত, তখন তারা বিভিন্ন স্থানে ও উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেন যে, তোমাদের ছড়িয়ে পড়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে। যাতে সে আল্লাহর ওলীদের ভয় দেখায় এবং তার দুশমনদের উত্তেজিত করে। তারপর তারা যখনই কোনো স্থানে অবতরণ করত, একে অপরের সাথে এমনভাবে মিলে থাকত, যদি তাদের উপর একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়া হতো তা তাদের সবাইকে ঢেকে ফেলত।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - سنن أبي داود، لأبي داود السجستاني، تحقيق محمد محيي الدين، المكتبة العصرية. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - صحيح أبي داود – الأم -محمد ناصر الدين، الألباني -مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৯টির মধ্যে ৮
১৯টি হাদীস
  1. ও দু’টো থাক, আমি পবিত্র(ওজু) অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম।
  2. তোমার দীন, তোমার সততা এবং তোমার আমলের পরিণাম আল্লাহকে সঁপে দিলাম।
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাহনের পিঠে সালাত আদায় করতেন। যেদিকেই তার মুখ হতো সেদিকেই মুখ করতেন। তিনি মাথা দ্বারা ইশারা করতেন। আর ইবন উমার এ কাজটি করতেন।
  4. “যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়”।
  5. সফর হলো শাস্তির অংশ।
  6. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের দেশে কুরআন নিয়ে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন।
  7. “একা (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু’জন আরোহী দু’টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।”
  8. এভাবে উপত্যকা ও গিরিপথে তোমাদের বিক্ষিপ্ত হওয়া অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে
  9. যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও (অর্থাৎ কিছুক্ষণ চরতে দাও)। আর যখন তোমরা ঘাস-পানি বিহীন যমীনে সফর করবে, তখন তাকে দ্রুত চালাও এবং তার দুর্বল হওয়ার আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যাও।
  10. তোমরা রাতে সফর কর। কেননা রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়।
  11. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের কব্জির উপর মাথা রাখতেন।
  12. যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।
  13. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে পিছনে চলতেন। তিনি দুর্বলকে চলতে সাহায্য করতেন, তাকে পিছনে বসিয়ে নিতেন এবং তার জন্য দো‘আ করতেন।
  14. হে মুহাজির ও আনসারের দল! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যাদের কোনো মাল নেই, স্বগোত্রীয় লোকও নেই। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন দুই অথবা তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নেয়।
  15. তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে ‘আল্লাহু আকবার’ তথা আল্লাহর তাকবীর বলো।
  16. আমরা উপরে উঠলে বলতাম, আল্লাহু আকবর। আর নিচে নামলে বলতাম সুবহানাল্লাহ।
  17. হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের ওপর কোমলতা অবলম্বন কর। কেননা, তোমরা কোনো বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।
  18. আমরা ছোট শিশুদের সাথে (মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত) ‘সানিয়াতুল ওদা‘’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম।
  19. “তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া এমন লোকদের আবাস স্থলে প্রবেশ করো না যারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছে

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com