মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

তাকদীরের উপর ঈমান

২৫টি হাদীস

বিপদাপদ মু’মিন পুরুষ ও নারীর নিজের জান, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদে লেগেই থাকে, যতক্ষণা সে তার ওপর পাপ না থাকাবস্থায় আল্লাহর সাক্ষাত করেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يَزَالُ البَلاَءُ بِالمُؤْمِنِ وَالمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বিপদাপদ মু’মিন পুরুষ ও নারীর নিজের জান, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদে লেগেই থাকে, যতক্ষণা সে তার ওপর পাপ না থাকাবস্থায় আল্লাহর সাক্ষাত করেন।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন: মুমিন পুরুষ ও নারীর উপর থেকে বিপদাপদ ও পরীক্ষা বিচ্ছিন্ন হবে না, তার নিজের জীবনে যেমন, শরীরে সুস্থতা-অসুস্থতা; তার সন্তানদের মধ্যে অসুস্থতা, মৃত্যু, অবাধ্যতা ইত্যাদি এবং তার সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন, দারিদ্র্যতা, ব্যবসায় মন্দা, চুরি, কষ্টের জীবন এবং জীবিকা নির্বাহে সংকীর্ণতা। যতক্ষণ না আল্লাহ এই বিপদাপদের মাধ্যমে তার পাপ ও অপকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করাবেন, যাতে তিনি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবেন তখন তিনি যে সমস্ত পাপ এবং অপকর্ম করেছেন তা থেকে শুদ্ধ হয়ে যান।

শিক্ষা
  1. মুমিন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর করুণার মধ্যে একটি হল, তিনি এই পৃথিবীতে দুর্ভাগ্য ও দুর্দশার মাধ্যমে তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন।
  2. নিছক বিপদই ঈমানের শর্তে পাপের কাফফারা করে দেয়, তাই বান্দা যদি ধৈর্য্যধারণ করে এবং অসন্তুষ্ট না হয় তবে তাকে পুরস্কৃত করা (সাওয়াব দেওয়া) হবে।
  3. এখানে মুমিন (নারী-পুরুষ) যা পছন্দ করেন এবং যা অপছন্দ করেন সকল বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে , আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন না করা পর্যন্ত ধের্য্য ধারন করবেন, আল্লাহ যার থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারন করবেন, আর আল্লাহ সাওয়াব আশা করবেন ও তার শাস্তিকে ভয় করবেন।
  4. তার বক্তব্যঃ “পুরুষ ও নারী মুমিনের উপর” এতে “মুমিন নারী” শব্দটি যোগ করা নারীর প্রতি অধিক গুরুত্বের প্রমাণ। অন্যথায়, তিনি যদি বলতেন: “মুমিনের উপর”, তাহলে নারীও এতে অন্তর্ভুক্ত হতো; কারণ এটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, তাই যদি কোনও মহিলার উপর দুঃখ-কষ্ট আসে, তবে তাকেও পাপ ও গুনাহ মোচন করে অনুরূপ সাওয়াবের (পুরস্কারের) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
  5. বান্দা একের পর এক যেসব কষ্টের সম্মুখীন হয় তার উপর প্রাপ্ত সাওয়াব সেগুলোকে সহজ করে তোলে।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 204) (2399). مسند أحمد (13/ 248) (7859). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 113). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص51). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 273). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 80).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তুমি যদি চাও, ধৈর্য ধারণ করতে পার। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করি, যেন তোমাকে অরোগ্য করেন”

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضيَ اللهُ عنهما: أنَّهُ قَالَ لعَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ: أَلَا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ، أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: إِنِّي أُصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشَّفُ، فَادْعُ اللهَ لِي، قَالَ: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللهَ أَنْ يُعَافِيَكِ» قَالَتْ: أَصْبِرُ، قَالَتْ: فَإِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللهَ أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ، فَدَعَا لَهَا.
ইবনু ’আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি আতা ইবনু আবু রাবাহকে বলেন: আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললামঃ অবশ্যই। তখন তিনি বললেনঃ এই কালো রঙের মহিলাটি, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসেছিল। তারপর সে বললঃ আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তুমি যদি চাও, ধৈর্য ধারণ করতে পার। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করি, যেন তোমাকে অরোগ্য করেন”। স্ত্রীলোকটি বললঃ আমি ধৈর্য ধারণ করব। সে বললঃ ঐ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়, কাজেই আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু’আ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আতা ইবনু আবি রাবাহকে বললেন: আমি কি তোমাকে জান্নাতীদের একজন মহিলা দেখাবো না? আতা' বললেন: হ্যাঁ; তিনি বললেন: এই কৃষ্ণাঙ্গ হাবশী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন: আমার এমন একটি রোগ আছে যার ফলে আমার খিঁচুনি হয় এবং আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই এবং আমার শরীরের কিছু অংশ আমার অজান্তেই বেরিয়ে আসে। তাই আল্লাহর কাছে দোআ করুন যেন তিনি আমাকে সুস্থ করে তোলেন। তিনি বললেন: যদি তুমি চাও সবর কর, তোমার জন্যে জান্নাত রয়েছে। আর যদি চাও তাহলে আমি তোমার রোগ নিরাময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকটে দু‘আ করব। তিনি বললেন: তাহলে ধৈর্য ধরো, তারপর সে বলল: তাই আল্লাহর কাছে দোআ করুন যেন আমার খিঁচুন উঠলে বিবস্ত্র না হই, তাই তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোআ করলেন।

শিক্ষা
  1. এই পৃথিবীতে বিপদের মুখে ধৈর্য জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।
  2. আন-নওয়াবী বলেন: এটি প্রমাণ করে যে মৃগীরোগের উপর পরিপূর্ণ সাওয়াব দান করা হবে।
  3. সাহাবীদের নারীদের সতীত্ব ও বিনয় এবং তাদের নিজেদের ঢেকে রাখার আগ্রহ, যেমন এই মহিলার সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল যে তার শরীরের কিছু অংশ খুলে যাওয়া।
  4. ইবনু হাজার বলেন: যে ব্যক্তি জানে যে তার ক্ষমতা আছে এবং কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ করার সামনে দুর্বল হবে না, তার জন্য ছাড় গ্রহণের চেয়ে কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করা উত্তম।
  5. ইবনু হাজার বলেন: এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সকল রোগের চিকিৎসায় দোয়া এবং আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা ওষুধের চিকিৎসার চেয়ে বেশি কার্যকর এবং উপকারী। এর প্রভাব এবং এর প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া শারীরিক ওষুধের প্রভাবের চেয়েও বেশি। কিন্তু এটি কেবল দুটি জিনিসের মাধ্যমে কার্যকর: একটি রোগীর পক্ষ থেকে, যা হল আন্তরিক নিয়ত এবং অন্যটি চিকিৎসা প্রদানকারীর পক্ষ থেকে, যা হল তার মনযোগের শক্তি এবং তাকওয়া ও তাওয়াক্কুলের ফলে তার অন্তরের শক্তি।
  6. ইবনু হাজার বলেন: এটি চিকিৎসা পরিত্যাগ করার বৈধতার প্রমাণ।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 116) (5652). صحيح مسلم (4/ 1994) (2576). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 95). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 235).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

বিপদ যত বড় হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে। আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে (আল্লাহ্ তা'আলার) সন্তুষ্টি। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য রয়েছে (আল্লাহ তা'আলার) অসন্তুষ্টি।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن عِظَمَ الجزاءِ مع عِظَمِ البلاءِ، وإن الله تعالى إذا أحب قوما ابتلاهم، فمن رَضِيَ فله الرِضا، ومن سَخِطَ فله السُّخْطُ".
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “বিপদ যত বড় হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে। আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে (আল্লাহ্ তা'আলার) সন্তুষ্টি। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য রয়েছে (আল্লাহ তা'আলার) অসন্তুষ্টি।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আমাদের জানাচ্ছেন যে, মুমিন ব্যক্তি কখনো মুসিবতের সম্মুখীন হয় তার নিজের ব্যাপারে, তার সম্পদের ব্যাপারে বা অন্য কোনোভাবে। আর আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ বিপদের বিনিময়ে সাওয়াব দান করেন যদি সে ধৈর্যধারণ করে। বিপদাপদ ও তার ভয়াবহতা যত বড় হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সাওয়াব তত বেশি হবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, অবশ্যই মুনিনের জন্য মুসিবত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ভালোবাসার নিদর্শন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা উভয় বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু যে ধৈর্য ধারণ করবে এবং সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাকে এর প্রতিদান দিবেন। আর প্রতিদান দাতা হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালা ও কুদরতের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তার উপর অসন্তুষ্ট হবেন। আর শাস্তিদাতা হিসেবে তিনিই যথেষ্ট।

শিক্ষা
  1. বিপদাপদে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ওয়াজিব লঙ্ঘন না হয়, যেমন ধৈর্যহারা হওয়া অথবা হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া যেমন পকেট ছিড়ে ফেলা অথবা গালে থাপ্পর দেওয়া, ততক্ষণ পর্যন্ত বিপদ-আপদ গুনাহগুলোর মোচনকারী।
  2. আল্লাহর শান অনুযায়ী আল্লাহর জন্য মহব্বতের গুণটি সাব্যস্ত করা।
  3. মু‘মিনের জন্য বিপদা-আপদ ঈমানের আলামত।
  4. আল্লাহর শান অনুযায়ী আল্লাহর জন্য সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির গুণগুলো সাব্যস্ত করা।
  5. আল্লাহর ক্বাযা ও কাদরের (ফয়সালা) প্রতি সন্তুষ্ট থাকা মুস্তাহাব।
  6. আল্লাহর ক্বাযা ও কাদরের (ফয়সালা) প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা হারাম।
  7. মুসীবতের সময় ধৈর্য ধারণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা।
  8. মানুষ অনেক সময় কোন কিছুকে খারাপ মনে করে; অথচ তা তার জন্য উত্তম।
  9. আল্লাহর জন্য তার কর্মসমূহে হিকমাত সাব্যস্ত করা।
  10. কর্মের বিনিময় কর্মের ধরণ অনুযায়ী হয়ে থাকে।
সূত্র

كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب، ت: د. دغش العجمي، مكتبة أهل الأثر, الطبعة الخامسة, 1435ه. الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد, مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه. الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى 1422هـ - 2001م. جامع الترمذي، ت: أحمد شاكر, شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي, الطبعة: الثانية، 1395هـ. صحيح الجامع الصغير , للألباني , المكتب الإسلامي.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“প্রতিটি বিষয় তাকদীর অনুসারেই হয়, এমনকি অপারগতা এবং যোগ্যতা। অথবা (তিনি বলেছেন:) যোগ্যতা এবং অপারগতা।”

عَنْ طَاوُسٍ أَنَّهُ قَالَ: أَدْرَكْتُ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُونَ كُلُّ شَيْءٍ بِقَدَرٍ، قَالَ: وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ شَيْءٍ بِقَدَرٍ، حَتَّى الْعَجْزِ وَالْكَيْسِ، أَوِ الْكَيْسِ وَالْعَجْزِ».
ত্বাঊস (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি, যারা বলতেন: প্রতিটি বস্তু তাকদীর অনুযায়ীই হয়। তিনি আরো বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিটি বিষয় তাকদীর অনুসারেই হয়, এমনকি অপারগতা এবং যোগ্যতা। অথবা (তিনি বলেছেন:) যোগ্যতা এবং অপারগতা।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, প্রতিটি জিনিস তাকদীর অনুসারেই ঘটবে। এমনকি অপারগতা (العجز), তা হচ্ছে: পছন্দনীয় কাজ ত্যাগ করা, তা বিলম্বে আদায় করা এবং নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরে আদায় করা, হোক তা দুনিয়াবী অথবা আখিরাতের কোন কাজ। আর যোগ্যতা (الْكَيْسُ) হচ্ছে: দুনিয়া হোক বা আখিরাতের যে কোন কাজে তৎপরাতা ও দক্ষতা। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা অপারগতা, যোগ্যতা এবং প্রতিটি বস্তুকে নির্ধারণ করে রেখেছেন, কোন বস্তু শুধুমাত্রে আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুসারেই অস্তিত্বে আসতে পারে।

শিক্ষা
  1. হাদীসে সাহাবী রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের তাকদীর বিষয়ে আক্বীদার বর্ণনা করা হয়েছে।
  2. তৎপরতা ও অপারগতাসহ প্রতিটি বস্তুই আল্লাহর পূর্ব-নির্ধারণ তথা তাকদীর অনুসারে অর্জিত হবে।
  3. সাহাবী রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সঠিকতা যাচাই করা বর্ণনা।
  4. ভালো-মন্দ যাই হোক তাকদীরের প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রাখা।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2045) (2655)، إكمال المعلم (8/143)، شرح النووي على مسلم (16/205)، الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني (1/ 122).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন ভুমিতে কারো মৃত্যুর ফয়সালা করেন, তখন সেখানে তার প্রয়োজন সৃষ্টি করেন।”

عَنْ مَطَرِ بْنِ عُكَامِسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ لِعَبْدٍ أَنْ يَمُوتَ بِأَرْضٍ جَعَلَ لَهُ إِلَيْهَا حَاجَةً».
মাত্বার ইবনু ‘উকামিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন ভুমিতে কারো মৃত্যুর ফয়সালা করেন, তখন সেখানে তার প্রয়োজন সৃষ্টি করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দার মৃত্যু কোন স্থানে নির্ধারণ ও ফয়সালা করেন, যেখানে সে উপস্থিত নাই। সেখানে এমন প্রয়োজন তৈরী করেন, যার কারণে সে সেখানে আগমন করে। তারপর তাতে তার রূহ কবজ করা হয়।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর বাণী: {وما تدري نفس بأي أرض تموت} তথা: “কোন ব্যক্তি জানে না, কোন যমীনে সে মৃত্যুবরণ করবে।”
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 23) (2146)، تحفة الأحوذي (6/ 299).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আপনি বলুন: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তথা: আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তাহলে আমি আপনার জন্য কিয়ামাতের দিন সাক্ষ্য দেব।

عَنْ ‌أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمِّهِ: «قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، أَشْهَدُ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»، قَالَ: لَوْلَا أَنْ تُعَيِّرَنِي قُرَيْشٌ، يَقُولُونَ: إِنَّمَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجَزَعُ لَأَقْرَرْتُ بِهَا عَيْنَكَ. فَأَنْزَلَ اللهُ: {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ } [القصص: 56].
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচাকে বলেছিলেন: “আপনি বলুন: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ তথা: আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তাহলে আমি আপনার জন্য কিয়ামাতের দিন সাক্ষ্য দেব।” তিনি বলেছিলেন: যদি কুরাইশরা আমাকে এ কথা বলে তিরস্কার না করত, তাকে একাজ করতে ভয় তাড়িত করেছে, তাহলে আমি তোমার চোখকে শীতল করতাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন: إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ যার অর্থ: “নিশ্চয় তুমি যাকে চাও, তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে খুশি হিদায়াত দেন।” [সূরা আল-কাসাস: ৫৬]।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় চাচা আবু তালিবের মৃত্যু শয্যায় তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছিলেন যেন সে ‘আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই’ একথাটি উচ্চারণ করেন। যাতে করে তিনি তার জন্য কিয়ামাতের দিনে সুপারিশ করতে পারেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের সাক্ষ্য দিতে পারেন। আবু তালিব তা বলতে অস্বীকার করেছিল, এ ভয়ে যে, কুরাইশরা তাকে গালি-গালাজ করবে একথা বলে- সে দূর্বল হওয়ার কারণে ও মৃত্যুর ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তারপরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: যদি এমনটি না হত, তবে আমি তোমার অন্তরকে খুশি করে দিতে পারতাম শাহাদাত উচ্চারণের মাধ্যমে এবং তোমার সন্তুষ্ট হওয়া পর্যন্ত তোমার আকাঙ্খাকে পূরণ করে দিতাম! তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি নাযিল করলেন, যা স্পষ্ট করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের তাওফিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে হিদায়াত প্রদানের মালিক নন, বরং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা হিদায়াতের তাওফীক দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতকে পথ দেখানো, বর্ণনা করা, পরামর্শ প্রদান এবং সরল-সুদৃঢ় পথের দিকে আহবানের মাধ্যমে হিদায়াতের পথ দেখান।

শিক্ষা
  1. মানুষের কথার ভয়ে হক বা সত্যকে পরিত্যাগ না করা উচিত।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ প্রদর্শন এবং নসীহত করার মাধ্যমে হিদায়াত দিতে পারেন, তবে তিনি হিদায়াতের তাওফীকদাতা নন।
  3. ইসলামের দিকে আহবান করার উদ্দেশ্যে অসুস্থ কাফির ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার বৈধতা।
  4. প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহবান করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগ্রহের প্রকাশ।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 55) (25)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (1/ 539)، النهاية في غريب الحديث والأثر (ص 742).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্রিত রাখা হয়

عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ المَصْدُوقُ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرْسَلُ إلَيْهِ المَلَكُ فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ، وَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ: بِكَتْبِ رِزْقِهِ، وَأَجَلِهِ، وَعَمَلِهِ، وَشَقِيٍّ أَوْ سَعِيدٍ؛ فَوَالَّذِي لَا إلَهَ غَيْرُهُ إنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إلَّا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا».
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি ’সত্যবাদী’ এবং ’সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক-রক্তপিন্ড হয়, তারপর তেমনি সময়ে মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ্ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, ’আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ’আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের ’আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত ’আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত ’আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনু মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার বর্ণনার ব্যাপারে সত্যবাদী এবং তিনি সত্যবাদী হিসেবে প্রত্যায়িত, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের যে কোন ব্যক্তির সৃষ্টির ধরন হলো: যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে গমন করে, তখন স্ত্রীর গর্ভে পৃথক হওয়া বীর্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত নুত্বফা হিসেবে (নিষিক্ত অবস্থায় থাকে। এরপরে তা ‘আলাক্বায় পরিণত হয়, আর তা হল- জমাট রক্তপিণ্ড। আর এ অবস্থায় দ্বিতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপর তা চিবানো যাওয়া পরিমাণ মাংসের টুকরাতে পরিণত হয়। আর এ অবস্থায় তৃতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তৃতীয় চল্লিশ দিন পার হওয়ার পরে উক্ত ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন। এবং ফেরেশতাকে চারটি বিষয় লিখার আদেশ দেওয়া হয়: তা হচ্ছে- তার রিযিক, উক্ত ব্যক্তি তার গোটা জীবনে কী পরিমাণ নি‘আমাত ভোগ করবে। এবং তার সময়কাল, তথা- দুনিয়াতে তার অবস্থান কাল। তার আমল: সে কী হবে? দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কসম করেছেন যে, একজন ব্যক্তি জান্নাতীদের আমলই করতে থাকে। তার্গেআমললো মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে নেক আমলই হয়। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র একগজ দূরত্ব বাকী থাকে, অর্থ্যাৎ: জান্নাতে প্রবেশ করা ও তার মধ্যে মাত্র এতটুকু দূরত্ব থাকে, যেভাবে কোন ভুমিতে প্রবেশের সময় একগজ পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, এ সময়ে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করে, আর এটিই তার শেষ অবস্থা হয়, এ কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। কেননা আমল কবূল হওয়ার জন্য তার উপরে সুদৃঢ় থাকা এবং (অবস্থার) পরিবর্তন না করা শর্ত। অপরপক্ষে মানুষের মধ্যে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা জাহান্নামীদের মত আমল করে সেখানে প্রবেশের কাছাকছি চলে যায়, এমনকি তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র একগজ যমীন পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে জান্নাতীদের মত আমল করতে থাকে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।

শিক্ষা
  1. মানব সৃষ্টির পর্যায়গুলোর বিবরণ।
  2. ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান
  3. প্রতিটি কাজের শেষ ও চূড়ান্ত গন্তব্য পূর্ব-নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ও তাকদীরের প্রতিই প্রত্যাবর্তিত হবে।
  4. আমলের আকৃতিতে প্রতারিত হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে; কেননা শেষ আমলই ধর্তব্য।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 135) (7454)، (4/ 111) (3208). صحيح مسلم (4/ 2036) (2643). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (15/ 130). شرح الأربعين النووية للعثيمين (ص: 84).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে বালক! আমি তোমাকে কয়েকটি কালিমা (বাক্য) শিক্ষা দিচ্ছি, তা হচ্ছে: তুমি আল্লাহর (বিধানসমূহের) রক্ষণাবেক্ষণ কর (তাহলে) আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর (অধিকারসমূহ) স্মরণ রাখো, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও

عَنْ أَبِي العَبَّاسِ، عَبْدِ الله بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كُنْت خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: «يَا غُلَامِ! إنِّي أُعَلِّمُك كَلِمَاتٍ: احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ الله تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاَللهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَإِنِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ؛ رُفِعَتِ الأَقْلَامُ، وَجَفَّتِ الصُّحُفُ». وَفِي رِوَايَةِ غَيْرِ التِّرْمِذِيِّ: «احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ أَمَامَكَ، تَعَرَّفْ إلَى اللهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، وَمَا أَصَابَك لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنْ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْرًا».
আবূল আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে ছিলাম, তিনি বললেন: “হে বালক! আমি তোমাকে কয়েকটি কালিমা (বাক্য) শিক্ষা দিচ্ছি, তা হচ্ছে: তুমি আল্লাহর (বিধানসমূহের) রক্ষণাবেক্ষণ কর (তাহলে) আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর (অধিকারসমূহ) স্মরণ রাখো, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। আর এ কথা জেনে রাখ যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।’’ তিরমিযীর বর্ণনা ছাড়া অন্য একটি বর্ণনায় আছে: “তুমি আল্লাহর হেফাজত কর, তাহলে তাঁকে তোমার সামনে পাবে। সুখের সময়ে আল্লাহকে স্মরণ কর, কষ্টের সময়ে তিনি তোমাকে স্মরণ করবেন। জেনে রাখো, যা তোমাকে মিস করেছে তা তোমার উপর আসার কথা ছিল না, আর যা তোমার উপর এসেছে তা তোমাকে মিস করার কথা ছিল না। জেনে রাখো, ধৈর্যের সাথেই আসে সাহায্য, কষ্টের সাথেই আসে স্বস্তি এবং কষ্টের সাথে আসে স্বস্তি।”
তিরিমিযীসহ অন্যান্যরা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি তখন ছোট ছিলেন। একদিন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আরোহী ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিচ্ছি যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন: "আল্লাহর হেফাজত করো" — অর্থাৎ, তাঁর আদেশসমূহ পালন করো এবং নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকো, যাতে তিনি তোমাকে ইবাদত ও নেক কাজের স্থানে পান, আর গোনাহ ও পাপের স্থানে না পান। যদি তুমি এমন করো, তাহলে এর প্রতিদান হবে—আল্লাহ তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল অকল্যাণ থেকে হেফাজত করবেন এবং যেদিকেই তুমি যাও, তোমার কাজগুলোতে তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন। আর যখন তুমি কিছু চাওয়ার ইচ্ছে করবে, তখন আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাইবে না। কেননা তিনিই একমাত্র মাবূদ যিনি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায় সাড়া দেন। আর যদি তুমি সাহায্য চাও, তবে শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও। তোমার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস থাকা উচিত যে, যদি দুনিয়ার সব মানুষ একত্রিত হয়ে তোমার উপকার করতে চায়, তবুও তারা কিছুই করতে পারবে না — তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন। আবার, যদি তারা সবাই একজোট হয়ে তোমার ক্ষতি করতে চায়, তবুও তারা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না — তবে আল্লাহ যা তোমার বিপক্ষে লিখে রেখেছেন। সকল বিষয় মহান আল্লাহ তার হিকমত ও ইলম অনুযায়ী আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ যা লিপিবদ্ধ করেছেন তার কোন পরিবর্তন হয় না। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ মান্য করে ও নিষেধ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর হিফাযত করে, আল্লাহ তাআলা তার পাশে থাকেন—তিনি তার অবস্থা জানেন, তাকে সাহায্য করেন ও শক্তি দেন। মানুষ যদি স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহর আনুগত্য করে, তবে আল্লাহ তার জন্য সংকটের সময় মুক্তি ও উপায় এনে দেন। প্রত্যেক বান্দার উচিত, আল্লাহ যেটুকু ভাগ্যে লিখে দিয়েছেন—সেটি ভালো হোক বা মন্দ—তাতে সন্তুষ্ট থাকা। আর বিপদ ও পরীক্ষার সময় বান্দার কর্তব্য হলো ধৈর্য ধারণ করা, কারণ ধৈর্যই হলো মুক্তির চাবিকাঠি। যখন কষ্ট তীব্র হয়, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে স্বস্তি ও মুক্তি। আর যখন কষ্ট আসে, তখন আল্লাহ তার পরে সহজতা এনে দেন।

শিক্ষা
  1. তাওহীদ, শিষ্টাচার ও দ্বীনের বিষয়াবলী ছোট ও শিশুদেরকে শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
  2. সমজাতীয় কাজের বিনিময় সমজাতীয় হয়ে থাকে।(যেমন কর্ম তেমন ফল)
  3. আল্লাহর উপরই নির্ভর করা, একমাত্র তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ। তিনিই হলেন সর্বোত্তম অভিভাবক।
  4. আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ফয়সালা, তাকদীরের ভালো-মন্দ ও এর উপর সন্তুষ্ট থাকার উপর ঈমান আনা। তিনি সবকিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন।
  5. যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন এবং তিনি তাকে হেফাযত করেন না।
  6. সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো—মানুষ যদি কষ্টে পড়ে, তবে সে যেন আশায় থাকে যে, সহজতা অবশ্যই আসবে।
  7. বান্দার জন্য সান্ত্বনা রয়েছে — যখন তার জীবনে কোনো বিপদ আসে অথবা কোনো প্রিয় জিনিস হাতছাড়া হয় — এ কথার মধ্যে: “জেনে রেখো, যা তোমাকে স্পর্শ করেছে, তা কোনোভাবেই তোমাকে এড়ানোর ছিল না; আর যা তোমাকে স্পর্শ করেনি, তা কখনোই তোমাকে স্পর্শ করার ছিল না। বাক্যের প্রথম অংশটি অপছন্দনীয় কিছু ঘটার ক্ষেত্রে সান্ত্বনা; আর দ্বিতীয় অংশটি প্রিয় কাউকে হারানোর ক্ষেত্রে সান্ত্বনা।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 284) (2516). التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية (ص42). شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص200). فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، للعباد (ص69).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com